📄 ক. মূল্যের অধিকারী হওয়ার বিবেচনায়
হানাফীগণ সম্পদের কোনো প্রকারকে শরীয়তের দিক থেকে ব্যবহারের বৈধতা প্রদান করেন নাই। তারা কেবল শর্ত করেছেন যে, তা বস্তু হতে হবে, তা দ্বারা স্বাভাবিক উপকার লাভ হতে হবে, মানুষ এটিকে সম্পদ বিবেচনা করে তা সম্পদরূপে ব্যবহার করতে পারবে। সম্পদের এই অর্থ গ্রহণের ফলে হানাফী ফকীহদের দৃষ্টিতে সম্পদে নিম্নের দুটি প্রকার হয়েছে: ১. মূল্যধারী এবং ২. মূল্যধারী নয়।
হানাফী ফকীহগণের মতে মূল্যধারী সম্পদ হলো: যা সচ্ছল অবস্থায় এবং সামর্থ্য থাকাকালে শরীয়তসম্মতভাবে ব্যবহার করা যায়।
মূল্যধারী নয় এমন সম্পদ হলো: যা সামর্থ্য থাকলেও ব্যবহার করা যায় না। যেমন মুসলমানের জন্য মদ এবং শূকর। পক্ষান্তরে জিম্মি (তথা মুসলিম দেশে কর প্রদান করে বসবাসকারী অমুসলিম নাগরিক) ব্যক্তির জন্য এটি সম্পদ। কারণ তারা এটিকে হারামরূপে বিশ্বাস করে না, তাই সম্পদরূপে ব্যবহার করে। অপরদিকে আমাদেরকে তাদের ধর্মীয় কার্যকলাপ বর্জন করতে আদেশ করা হয়েছে।
এই বিভক্তির ওপর ভিত্তি করে তারা বলেছেন, যে লোক মূল্যধারী সম্পদের ক্ষতি করবে সে তার ভর্তুকি দিবে। পক্ষান্তরে মূল্যধারী নয় এমন সম্পদের ক্ষতি করা হলে তার কোন ভর্তুকি আসবে না। যেমনিভাবে শরীয়তসম্মতভাবে সম্পদকে ব্যবহার করার অনুমোদন তার মূল্যধারী হওয়ার ওপর নির্ভর করে। এ ধরনের সম্পদে ক্রয়, বিক্রয়, দান, অসিয়ত, বন্ধক ইত্যাদি লেনদেন শুদ্ধ হবে। পক্ষান্তরে যেগুলো মূল্যধারী নয় সে সব সম্পদে শরীয়তসম্মতভাবে এ সকল লেনদেন এবং এই জাতীয় লেনদেন শুদ্ধ হবে না।
যেহেতু এই অর্থে হানাফী ফিক্হবিদগণের দৃষ্টিতে মূল্যধারী হলেই তা সম্পদ হওয়া অপরিহার্য নয়, সেহেতু বস্তু মূল্যধারী এবং তা দ্বারা উপকৃত হওয়া বৈধ হলেও হানাফীদের মতে সম্পদ হওয়ার উপাদানসমূহের কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তা সম্পদ হতে পারবে না। যেমন: গমের একটি দানা, রুটির একটি ছোট টুকরা এবং সামান্য মাটি ইত্যাদি।
আল-কাশফুল কাবীর নামক গ্রন্থের বরাত দিয়ে ইবনে নুজাইম রহ. বর্ণনা করেন, সকল মানুষ অথবা কিছুসংখ্যক মানুষ কোনো বস্তুকে সম্পদরূপে গ্রহণ করলে তা সম্পদরূপে পরিগণিত হয়। আর সম্পদ হওয়া এবং শরীয়ত কর্তৃক ব্যবহারের বৈধতা এ উভয় দ্বারা তা মূল্যধারী হয়। সুতরাং সম্পদ হওয়ার বৈশিষ্ট্য ছাড়া যা বৈধ হয় তা সম্পদ হতে পারে না। যেমন: গমের দানা। আর যা ব্যবহারের বৈধতা ছাড়া সম্পদ হওয়ার গুণ লাভ করে তা মূল্য ধারণ করতে পারে না। যেমন মদ। আর যখন উভয় বিষয় অনুপস্থিত থাকে (মানুষ তা সম্পদরূপেও গ্রহণ করেনি এবং শরীয়ত কর্তৃক ব্যবহারের বৈধতাও পায়নি) তখন দুইটার একটাও সাব্যস্ত হবে না; যেমন রক্ত।
ইবনে আবেদীনের মোদ্দাকথা হলো, মূল্যধারী বস্তুর তুলনায় সম্পদ শব্দটি ব্যাপক অর্থজ্ঞাপক। কারণ সম্পদ বলা হয় যা বৈধ না হলেও সংগ্রহে রাখা যায়। যেমন, মদ। আর মূল্যধারী বস্তু বলা হয় যা ব্যবহার বৈধ বলে সংগ্রহে রাখা যায়। সুতরাং মদ সম্পদ হতে পারবে, কিন্তু মূল্যধারী হবে না। অপর দিকে হানাফী ফিক্হবিদগণ মনে করেন: মূল্যধারী না হওয়া মালিকানা লাভের পরিপন্থী নয়। সুতরাং মূল্যধারী নয় এমন সম্পদে মুসলিমের মালিকানা সাব্যস্ত হতে পারে। যেমন কোনো মুসলিমের নিকট থাকা আঙ্গুরের রস মদ হয়ে যায় অথবা কারও মালিকানায় মদ এবং শূকর থাকা অবস্থায় সে ইসলাম গ্রহণ করে আর মদ-শূকর মালিকানা থেকে ছাড়ানোর পূর্বে মুসলিম উত্তরাধিকারী রেখে মারা যায় তাহলে উত্তরাধিকার সূত্রে তার উত্তরাধিকারী তা লাভ করবে। এবং শূকর হত্যা করবে। কারণ, মালিকানা সাব্যস্ত হয় সম্পদে আর মূল্যধারী নয় এমন বস্তুও সম্পদ হতে পারে। তবে মূল্যধারী না হওয়া মুসলিম কর্তৃক মূল্যধারী নয় এমন সম্পদে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
হানাফী ফিক্হবিদগণের ভাষায় কখনও মূল্যধারী বলতে সংরক্ষিত সম্পদ বোঝানো হয়। তারা সংরক্ষণের পূর্ব পর্যন্ত বৈধ সম্পদের ক্ষেত্রেও মূল্যধারী না হওয়ার পরিভাষাটি ব্যবহার করে থাকেন। যেমন সমুদ্রের মাছ, মুক্ত বিচরণশীল প্রাণী, বনের গাছপালা, আকাশে উড়ন্ত পাখি। কিন্তু যখন শিকার করা হয় বা সংগ্রহ করা হয় তখন তা সংরক্ষণের কারণে মূল্যধারী হয়।
পক্ষান্তরে শাফেয়ী, মালেকী এবং হাম্বলী সকল ফিক্হবিদ ব্যবহারের বৈধতাকে সম্পদ হওয়ার উপাদানরূপে গণ্য করেন। সুতরাং বস্তু যদি শরীয়ত কর্তৃক ব্যবহারের বৈধতা না পায় তাহলে তা মোটেও সম্পদরূপে গণ্য হবে না। এবং মদ ও শূকর বিনষ্টকারীর ওপর কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ ধার্য করেননি। পক্ষান্তরে হানাফী ফিক্হবিদগণ কর প্রদানকারী অমুসলিমদের ক্ষেত্রে মদ ও শূকরকে মূল্যায়নযোগ্য সম্পদরূপে গণ্য করেছেন। আর তা বিনষ্টকারী মুসলিম হোক কিংবা কর প্রদানকারী অমুসলিম নাগরিক- তার ওপর ক্ষতিপূরণ আবশ্যকীয়রূপে ধার্য করেছেন।
কর প্রদানকারী অমুসলিম নাগরিকের মদ বিনষ্টকারী ব্যক্তির ওপর ক্ষতিপূরণ বাধ্যতামূলক করার ক্ষেত্রে মালেকী ফিক্হবিদগণ হানাফী ফিক্হবিদগণের সাথে একমত পোষণ করেছেন। কেননা কর প্রদানকারী অমুসলিম নাগরিকের ক্ষেত্রে এটি সম্পদরূপে বিবেচিত, আর মুসলিমের ক্ষেত্রে সম্পদ নয়। তবে হানাফী ফিক্হবিদগণ যেই অর্থে সম্পদকে মূল্যধারী এবং মূল্যধারী নয় এ প্রকারদ্বয়ে বণ্টন করেছেন, মালেকী ফিক্হবিদগণ সেই অর্থে তাদের সাথে একমত পোষণ করেননি।
টিকাঃ
১৫. মিনহাতুল খালিক আলাল বাহরির রায়েক, খ. ৫, পৃ. ২৭৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক, খ. ৫, পৃ. ২৩৫; আল-মাবসূত, খ. ১৩, পৃ. ২৫
১৬. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৩; আল-বাহরুর রায়েক, খ. ৫, পৃ. ২৭৭
১৭ রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ১২০
১৮ দুরারুল হুককাম, খ. ১, পৃ. ১০১
১৯. রাস্সা' মালিকী, শরহু হুদুদী ইবনে আরাফা, খ. ২, পৃ. ৬৫১
২০. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৭, পৃ. ১৪৭; আল-মাবসূত, খ. ১৩, পৃ. ২৫; আদদুরারু আলাল গুরার, খ. ২, পৃ. ২৬৮; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৩৭।
২১. দুসূকীর টীকা, খ. ৩, পৃ. ৪৪৭; আল-মুদাওয়ানা, খ. ৫, পৃ. ৩৬৮; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ৩৮০
📄 খ. সম্পদ সমজাত অথবা মূল্যজাত হওয়ার বিবেচনায়
ফিক্হবিদগণ সম্পদকে দুই প্রকারে ভাগ করেছেন। ১. সমজাত পণ্য (مِثْلِي) ২. মূল্যজাত সম্পদ (قِيَمِي)।
সমজাত সম্পদ হলো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছাড়া বাজারে যার অনুরূপ পণ্য পাওয়া যায়। এটি হয়তো মাকীল (مَكِيلٌ) (যা পাত্র দ্বারা মাপা হয়) হবে। যেমন: গম, আটা ইত্যাদি। অথবা মাওযূন (مَوْزُونٌ) (যা পাথর দ্বারা মাপা হয়) হবে। যেমন: স্বর্ণ, রৌপ্য, লোহা ইত্যাদি। কিংবা مَدْرُوعٌ (যা গজ দ্বারা মাপা হয়) হবে। যেমন: বয়নজাত দ্রব্যসামগ্রী যেগুলোর মধ্যে কোনো তারতম্য নেই। অথবা مَعْدُودٌ (যা গণনা করা হয়) হবে। যেমন: একই মানের মুদ্রাসমূহ এবং ঐ সকল বস্তু যা সংখ্যা হিসাবে পরিমাণ করা হয় এবং এর একক গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকে না- ডিম, বাদাম ইত্যাদি।
অপরদিকে মূল্যজাত সম্পদ হলো এমন সম্পদ, বাজারে যার সমজাত পণ্য পাওয়া যায় না। অথবা মূল্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যসহ সমজাত দ্রব্য পাওয়া যায়। মূল্যের সাথে সম্বন্ধ করে এই শ্রেণীর সম্পদকে মূল্যজাত সম্পদ বলা হয়, যার প্রতিটি একক অন্যটি থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। মূল্যজাত সম্পদের উদাহরণ হলো সে সকল বস্তু যেগুলো জাতে বা মূল্যে বা উভয় দিক দিয়ে পরস্পর পার্থক্য ও ভিন্নতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। যেমন: ঘোড়া, উট, গরু, মেষ ইত্যাদি এককসমূহে পার্থক্যপূর্ণ প্রাণীসমূহ। এমনিভাবে বাড়িঘর, হস্তজাত শিল্প: অলংকারসামগ্রী, গৃহস্থালী আসবাবপত্র যেগুলোর গুণাগুণ এবং উপাদান ভিন্ন ভিন্ন এবং প্রতিটি একক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যপূর্ণ, যে বৈশিষ্ট্য অন্য এককের মধ্যে পাওয়া যায় না। ফলে তার নির্দিষ্ট একটি মূল্য বরাদ্দ হয়ে যায়।
আরেকটি প্রকার হলো এমন সমজাত বস্তু যা বাজার থেকে উঠে গেছে অথবা দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে। যেমন: প্রাচীন কোনো শিল্পজাতদ্রব্য যা বাজার থেকে উঠে গেছে। এবং তা বিশেষ মূল্যে মূল্যায়িত হয়ে মূল্যজাত বস্তুর শ্রেণীভুক্ত হয়েছে। এমনিভাবে যে সকল সমজাত বস্তুর এককগুলোকে পরে আর সমজাতরূপে বিবেচনা করা হয় না, অর্থাৎ ত্রুটির কারণে অথবা ব্যবহার করার কারণে তার মূল্য কমে যায়, তা মূল্যজাত বস্তুতে পরিণত হয়। যেমন: যন্ত্রপাতি, গাড়ি-ঘোড়া ব্যবহার করার পর গুণে ও মূল্যে পরিবর্তন আসার দরুন যা মূল্যজাত বস্তুতে পরিণত।
সমজাত বস্তু ধ্বংসের ক্ষেত্রে সমজাত বস্তু দ্বারাই ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। কারণ এটি সমমানের বিনিময়। পক্ষান্তরে মূল্যজাত বস্তুর ক্ষতিপূরণ হবে মূল্য দ্বারা। ফিকহবিদগণের সর্বসম্মত মতানুসারে সমজাতদ্রব্য দায়িত্বে ওয়াজিব ঋণ হতে পারে। আর মূল্যজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা আছে। এবং এটিকে দায়িত্বে ওয়াজিব ঋণ বানানোর বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে মতভেদ আছে।
টিকাঃ
২২. ধারা: ১৪৫, ১১১৯, মাজাল্লাতুল আহকাম আল-আদলিয়্যা; ধারা ৩৯৯, মুরশিদুল হায়রান, দুরারুল হুককাম, খ. ১, পৃ. ১০৫; রাদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ১৭১, ইবনে আবিদদাম, আদাবুল কাযা, পৃ. ৬০০
২৩. মাজাল্লাতুল আহকাম আল-আদলিয়্যা, ধারা: ১৪৬; মুরশিদুল হায়রান, ধারা: ৩৯৯
২৪. আল-মিসবাহুল মুনীর, খ.২, পৃ. ৬২৯; দুরারুল হককাম, খ. ১, পৃ. ১০৫ এবং খ. ৩, পৃ. ১০৯; রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ১৭১; মাজাল্লাতুল আহকাম আল-আদলিয়্যা, ধারা: ১১১৯
📄 গ. অন্যের অধিকার সংশ্লিষ্ট হওয়ার বিবেচনায়
অন্যের অধিকার সংশ্লিষ্ট হওয়ার দিক থেকে সম্পদ দু' প্রকার: ১. যার সাথে মালিক ছাড়া অন্য লোকের অধিকার সংশ্লিষ্ট রয়েছে। ২. যার সাথে মালিক ছাড়া অন্য লোকের অধিকার সংশ্লিষ্ট নয়।
মালিক ছাড়া অন্য লোকের অধিকার সংশ্লিষ্ট সম্পদ হলো যার মূল্যসত্তা কিংবা অর্থসত্তা মালিক ছাড়া অন্যদের নির্দিষ্ট অধিকারের সাথে সম্পর্কযুক্ত। যেমন: বন্ধকী সম্পদ। মালিকের অধিকার নেই বন্ধকগ্রহীতার অধিকারে ব্যত্যয় সৃষ্টি করে এমন কোনো হস্তক্ষেপ করা।
পক্ষান্তরে যেই সম্পদের সাথে অন্যের অধিকার সংশ্লিষ্ট নয় সে সম্পদ একান্ত ভাবে মালিকের জন্য বরাদ্দ। অন্যের অধিকারের সংশ্লিষ্টতা এবং কারও অনুমতির ওপর নির্ভরশীলতা ছাড়াই বৈধ সকল উপায়ে পৃষ্ঠপোষকতা এবং উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে উক্ত সম্পদের সাথে মালিক যে কোনো আচরণ করতে পারবে। কারণ উক্ত সম্পদের সাথে অন্যের অধিকারের সংশ্লিষ্টতা নেই।
📄 ঘ. স্থানান্তর ও পরিবর্তনের বিবেচনায়
স্থানান্তর ও পরিবর্তনের সম্ভাব্যতার দিক বিবেচনা করে ফিকহবিদগণ সম্পদকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন: ১. অস্থাবর (منقول) ; ২. স্থাবর (عقار)।
অস্থাবর সম্পদ হলো যা স্থানান্তর করা এবং অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। সুতরাং এর অন্তর্ভুক্ত হবে মুদ্রা, পণ্যদ্রব্য, প্রাণী, পরিমাপ ও পরিমাণজাত দ্রব্য ইত্যাদি। আর স্থাবর সম্পত্তি হলো যার একটি স্থিরভিত্তি আছে। যা স্থানান্তর ও সরানো সম্ভব না। যেমন জমি, ঘরবাড়ি ইত্যাদি। আবুল ফজল দামেশকী বলেন: স্থাবর সম্পত্তি দুই প্রকার। ১. ছাদযুক্ত আর তা হলো ঘরবাড়ি, হোটেল, দোকান, গোসলখানা, আটার কল, মাড়াইকল, মৃতশিল্পের কারখানা, রুটির কারখানা, ট্যানারি, আঙ্গিনা। ২. মাপযোগ্য স্থান। এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো বাগান, ফলের বাগান, চারণভূমি, বন, বাঁশঝাড় এবং এগুলোর সাথে সম্পৃক্ত নদীর ও ঝরনার পানির অধিকার।
ফিকহবিদগণ ভবন এবং মজবুত বৃক্ষে মতবিরোধ করেছেন। এ দু’টি বস্তু কি স্থাবর সম্পত্তিরূপে বিবেচিত হবে না অস্থাবর সম্পত্তিরূপে? শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী সকল ইমামের মত হলো, উক্ত দুই বস্তু স্থাবর সম্পত্তিভুক্ত। আর হানাফী ফিকহবিদগণ বলেন, উক্ত দুই বস্তু অস্থাবর সম্পত্তির শ্রেণীভুক্ত। তবে উক্ত বস্তুদ্বয় যদি ভূমির অধীনে থাকে তাহলে অনুগামী হিসাবে উক্ত দুই বস্তুতে স্থাবর সম্পত্তির বিধান জারি হবে।
টিকাঃ
২৫. আল-মিসবাহুল মুনীর; মুরশিদুল হায়রান, ধারা : ৩; মাজাল্লাতুল আহকাম আল- আদলিয়্যা, ধারা: ১২৮
২৬. আল-মুগরিব, তাহরিরু আলফাজিত তামবীহ পৃ. ১৯৭, মুরশিদুল হায়রান, খ. ২, মাজাল্লাতুল আহকাম আল-আদলিয়্যা, ধারা: ২৯
২৭. আবুল ফজল জাফর বিন আলী দামেশকী, আল-ইশারা ইলা মাহাসিনিত তিজারাহ, পৃ. ২৫
২৮. রাদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৩৬১; আল খিরাশী, খ. ৬, পৃ. ১৬৪; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৭১; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ২৭৩; মাজাল্লাতুল আহকাম আল-আদলিয়্যা, ধারা: ১০১৯ ও ১০২০ দ্রষ্টব্য