📄 চতুর্থ : অন্যের বেলায় চুক্তির সাথে বাড়তি মূল্য বা কমতি মূল্য যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাধাসমূহ
দু'টি কারণে মূল্যে বাড়ানো কমানো অংশ মূল চুক্তির সাথে যুক্ত হয় না:
এক. মূল্যে বাড়ালে বা কমালে যখন অন্য লোকের অধিকারে ঘাটতি দেখা দেয়, যা চুক্তি মারফত সাব্যস্ত হয়, তখন এ বর্ধন ও হ্রাসকরণ কেবল ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে সীমিত থাকে। অন্যের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হয় না। যেমন: জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে যখন ক্রেতা মূল্য বৃদ্ধি করার ইচ্ছা করে, তখন শুফআর দাবিদার আসল মূল্য দিয়ে জমি গ্রহণ করবে, বাড়ানো মূল্য সহকারে নয়। এটি এ কারণে যে, শুফআর অধিকার বাস্তবায়নে কেউ যেন যোগসাজস করার সুযোগ না পায়। তবে মূল্য হ্রাস করলে তা চুক্তির সাথে যুক্ত হবে। কারণ, এর ফলে শুফআর দাবিদারকে কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। এমনিভাবে পণ্যে বৃদ্ধি করলেও তা কার্যকর হতে কোনো বাধা নেই।
দুই. যুক্তকরণের ফলে যখন বিক্রয় বাতিল হওয়ার উপক্রম হয়। যেমন হ্রাসকরণ পূর্ণ মূল্যে শামিল হলে। কারণ, এরূপ হলে তা চুক্তি বহির্ভূতভাবে দায় মুক্তির পর্যায়ে চলে যায়। এর ফলে বিক্রয় চুক্তি মূল্যবিহীন হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। ফলে তা বাতিল বলে গণ্য হয়। যেমন- বিক্রেতা যদি জমি বিক্রির ক্ষেত্রে সমুদয় মূল্য হ্রাস করে দেয়, তাহলে শুফআর হকদার আসল মূল্যে তা গ্রহণ করবে। কারণ, মূল্য হ্রাসকরণকে যদি পৃথকভাবে দায়মুক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়, তাহলে বিনামূল্যে বিক্রয় হওয়া আবশ্যক হবে। এর ফলে শুফআর হকদারের অধিকার রহিত হবে। এ কারণে শুফআর দাবিদারের বেলায় পণ্যটি পূর্ণ মূল্যের বিপরীতে বলে গণ্য হবে। তবে মূল্য হ্রাস যা করা হবে তা ক্রেতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এ সকল কথা কার্যকর হবে যদি মূল্য কমানোটি হস্তগত করার পর হয়। যদি হস্তগত করার পূর্বে কমানো হয় তাহলে ধার্যকৃত মূল্যে শুফআর দাবিদার তা গ্রহণ করবে।
টিকাঃ
১২৭. শারহুল মাজাল্লা, খ. ২, পৃ. ১৯০, ধারা: ২৫৪; ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ১৬৭; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৩১৫; শারহুর রাওয, খ. ২, পৃ. ৩৬৬
📄 পঞ্চম : পণ্য অথবা মূল্য হস্তান্তরের ব্যয়
সকল ফকীহ এ কথায় ঐকমত্য ব্যক্ত করেছেন যে, পণ্যের মাপদাতা বা ওজনদাতা ও গণনাকারী প্রমুখের পারিশ্রমিক দেবে বিক্রেতা। অনুরূপ পণ্য আড়ালে থাকলে তা বিক্রয়স্থলে উপস্থিত করার দায়িত্বও বিক্রেতার ওপর বর্তায়।
অনুরূপ তারা এ কথাতেও ঐকমত্য পোষণ করেছেন, মূল্যের মাপ বা ওজন কিংবা এর গণনার পারিশ্রমিক, যদি এখানে না থাকে তাহলে তা উপস্থিত করার ব্যয় ক্রেতাকে বহন করতে হবে। নতুবা সমতা রক্ষা হবে না। তবে ইকালা, তাওলিয়া ও শিরকাহ এ সব ক্ষেত্রে মালেকী মাযহাবের ফকীহগণ ভিন্নমত পোষণ করেন।
তবে মূল্য হিসাবে প্রদত্ত মুদ্রা যাচাই করার পারিশ্রমিক নিয়ে ফকীহদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে। হানাফীগণের এ বিষয়ে দু'টি অভিমত রয়েছে। ইমাম মুহাম্মদ হতে বর্ণিত, রুস্তমের বর্ণনায় রয়েছে, মূল্য যাচাই করার পারিশ্রমিক বর্তায় বিক্রেতার ওপর। কারণ, যাচাই করার বিষয়টি আসে মূল্য হস্তান্তরের পর। আর এ কারণে যে, যাচাই করার মুখাপেক্ষী হয় বিক্রেতা, যেন ত্রুটিজনিত কারণে সে প্রত্যার্পণ করতে পারে। শাফেয়ীগণও অনুরূপ অভিমত পোষণ করেন। ইমাম মুহাম্মাদ-এর পক্ষ হতে অপর একটি অভিমত হলো, মূল্যের মান যাচাই করার পারিশ্রমিক বর্তায় ক্রেতার ওপর। এটি মুহাম্মদ রহ.-এর পক্ষ হতে ইবনে সিমাআর অভিমত। কারণ সে অপর পক্ষকে উত্তম মুদ্রা অর্পণ করার মুখাপেক্ষী। উত্তমতা নির্ণীত হয় যাচাইয়ের মাধ্যমে, তাই এটি তার দায়িত্ব।
এটি মালেকী মাযহাবেরও অভিমত। হাম্বলী মাযহাবের ফকীহবৃন্দের অভিমত হলো, মান যাচাইকারীর পারিশ্রমিক বর্তাবে ব্যয়কারীর ওপর, সে বিক্রেতা হোক আর ক্রেতা। শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহ শারবীনী বলেন, মূল্য পরখকারীর পারিশ্রমিক বিক্রেতার ওপর বর্তায়। অতঃপর তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তির দাবি হলো, পণ্যের মান যাচাই করার পারিশ্রমিক বর্তাবে ক্রেতার ওপর। যেহেতু তাতে ত্রুটি প্রকাশিত হলে তা ফেরত দেওয়াই হচ্ছে যাচাইয়ের উদ্দেশ্য।
টিকাঃ
১২৮. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৭; আশ-শারহুস সাগীর, খ. ২, পৃ. ৭০; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ৫০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৭৩; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৯১; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ১২৬
📄 ষষ্ঠ : পণ্য বা নির্দিষ্ট মূল্য হস্তান্তরের পূর্বে সম্পূর্ণরূপে বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া
বিক্রি অপরিহার্য হওয়ার প্রকাশ্য লক্ষণসমূহের একটি হলো, বিক্রেতার ওপর আবশ্যক হবে পণ্য ক্রেতার কাছে অর্পণ করা। হস্তান্তর করা ছাড়া বিক্রেতার দায় মুক্তির কোনো পন্থা নেই। পণ্য ধ্বংস হয়ে গেলে বিক্রেতাকে এ দায় গ্রহণ করতে হবে। তার ওপর এ দায় বর্তাবে, কারও কর্মে তা নাশ হোক, আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে নাশ হোক।
এ বিধান মূল্যের ওপরও প্রযোজ্য হবে, যদি তা কোনো নির্দিষ্ট জিনিস হয়। কারণ নির্দিষ্ট জিনিস মূল্য হলে বিক্রির চুক্তির সময় সেটিও পণ্যের ন্যায় মুখ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু যদি মূল্যটি নির্দিষ্ট বস্তু না হয়ে তা কেবল ক্রেতার জিম্মায় আবশ্যক হয়, সেক্ষেত্রে বিক্রেতার বিকল্প গ্রহণ করার সুযোগ সম্ভাবনা থাকে।
নাশ হওয়া সম্পূর্ণরূপে হতে পারে, আংশিকও হতে পারে। পণ্য যদি হস্তান্তর করার পূর্বে প্রাকৃতিক কারণে সম্পূর্ণটি নাশ হয়ে যায়, তাহলে তা বিক্রেতার জিম্মায় নাশ হয়েছে বলে বিবেচিত হয়। এ সম্পর্কে হাদীস বর্ণিত হয়েছে: نَهَى عَنْ رِبْحٍ مَا لَمْ يُضْمَن “রাসূলুল্লাহ সা. কোনো বস্তুর দায়গ্রহণের পূর্বে তার লাভ গ্রহণ করা থেকে নিষেধ করেছেন।" উক্ত বর্ণনা হতে প্রমাণিত হয়, এ অবস্থায় বিক্রয় ভেঙ্গে যায় আর মূল্য রহিত হয়। কারণ, এর ফলে বিক্রয় কার্যকর করা অসম্ভব হয়। এটি হানাফীগণের অভিমত। অনুরূপ বিক্রেতার কোনো কর্মের ফলে যদি পণ্য নষ্ট হয় তাহলেও তাদের একই অভিমত।
শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহদের পক্ষ হতে এ সম্পর্কে দুটি অভিমত পাওয়া যায়।
এক. প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে তেমনই বিক্রয় ভঙ্গ হয় যেরূপ বিক্রেতার নষ্ট করার কারণে ভঙ্গ হয়।
দুই. বিক্রয় ভঙ্গ করে মূল্য ফেরত গ্রহণ এবং বিক্রয় কার্যকর রেখে পণ্যের বাজারদর গ্রহণ, এ দুটোর যে কোনো একটি ক্রেতা বেছে নিতে পারবে।
বিক্রয় বাতিল হওয়ার উপকারিতা হলো, ক্রেতা যদি মূল্য পরিশোধ না করে তাহলে তার দায়িত্ব থেকে তা রহিত হয়ে যাবে। আর যদি পরিশোধ করে ফেলে তাহলে তা ফিরিয়ে আনতে পারবে। আর যদি ভঙ্গ না হয় তাহলে ক্রেতার মূল্য প্রদান আবশ্যক হবে, আর বিক্রেতার ওপর পণ্যের বাজারদর আবশ্যক হবে, তা যা-ই সাব্যস্ত হয় না কেন।
হাম্বলীগণ বিক্রেতার কর্মের ফলে পণ্য নষ্ট হওয়াকে তৃতীয় কারো কর্মের ফলে নষ্ট হওয়ার সাথে তুলনা করেছেন। এর বিস্তারিত আলোচনা আসছে। ক্রেতার কর্মের ফলে যদি পণ্য নষ্ট হয় তাহলে বিক্রয় অটুট থাকবে। ক্রেতার ওপর মূল্য পরিশোধ আবশ্যক হবে। ক্রেতা কর্তৃক পণ্য নষ্ট করা তার হস্তগত করা হিসেবে বিবেচিত হয়, এটি সর্ববাদী অভিমত।
তৃতীয় কোনো পক্ষের কর্মের ফলে যদি পণ্য নষ্ট হয় (হাম্বলীগণের মতে বিক্রেতা কর্তৃক বিনষ্ট করারও একই বিধান) তাহলে ক্রেতার এখতিয়ার থাকে বিক্রয়চুক্তি ভঙ্গের। কারণ, এর ফলে পণ্য হস্তান্তর অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখন মূল্য পরিশোধের দায় তার ওপর থেকে রহিত হয়ে যায়। (আর বিক্রেতার অধিকার হয়ে যায় যে বিনষ্ট করেছে তাকে দায়ী করার)। চাইলে ক্রেতা বিক্রয় চুক্তি অটুট রাখতে পারে। তাহলে ঐ ব্যক্তিকে দায়ী করে তার নিকট থেকে প্রাপ্য আদায় করবে। এ ক্ষেত্রে তার কর্তব্য হলো বিক্রেতার মূল্য পরিশোধ করা। ঐ ব্যক্তি যদি মিছলী বা সদৃশ পণ্য নষ্ট করে, তাহলে সে রকম জিনিস তার নিকট থেকে আদায় করবে। আর যদি কীমী জিনিস নষ্ট করে তাহলে বিনষ্টকারী তার মূল্য আদায় করবে। হানাফী ও হাম্বলীগণ এরূপ অভিমত পোষণ করেন। শাফেয়ীগণের প্রসিদ্ধ অভিমত এর অনুকূলে। শাফেয়ীগণের প্রসিদ্ধ মাযহাবের বিপরীত এক অভিমত হলো, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিক্রয় নষ্ট হবে, যেমন পণ্য ধ্বংস হলে বিক্রি ভেঙ্গে যাবে।
পণ্যের আংশিক যদি নষ্ট হয় তাহলে তা কার কারণে নষ্ট হয়েছে- সে অনুপাতে তার বিধান ভিন্নতর হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক কারণে যদি আংশিক পণ্য নষ্ট হয়, আর এর ফলে পণ্যের পরিমাণ কমে যায় তাহলে যে পরিমাণ নষ্ট হয়েছে সে পরিমাণের মূল্য রহিত হবে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতার এখতিয়ার থাকে পরিমাণ মত মূল্য দিয়ে বাকীটুকু গ্রহণ করার অথবা বিক্রিচুক্তিতে বিভিন্নতা সৃষ্টি হওয়ায় বিক্রয় চুক্তি ভঙ্গ করার। এটি হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবের ফকীহবৃন্দের অভিমত। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে حَيَارُ تَفَرُّقِ الصَّفْقَة .
অতঃপর হানাফীগণ বলেন, পণ্যের আংশিক ত্রুটিটা যদি পরিমাণে না হয়ে পণ্যের গুণে দেখা দেয়, আর এ ধরনের গুণ উল্লেখ না করলেও পণ্যে অনুবর্তী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহলে এজন্যে মূল্য হতে কোনো কিছুই কর্তন করা হবে না। বরং ক্রেতার এখতিয়ার থাকবে বিক্রয় ভঙ্গ করার বা অব্যাহত রাখার। কারণ গুণাবলি মূল্যের সামান্য অংশেরও বিপরীতে হয় না। হ্যাঁ, যদি ক্ষতি বাড়াবাড়ি পর্যায়ের হয় অথবা মূল্য নির্ণয়ে এগুলোর কথা উল্লেখ করা হয় কিংবা পণ্যের গুণকে এর অংশ হিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় বা তা অনুবর্তী বলে জুড়ে দেওয়া হয় তাহলে ভিন্ন কথা।
বিক্রেতার কর্মের ফলে যদি আংশিক পণ্য নাশ হয় তাহলে সাধারণভাবে এর বিপরীতে মূল্যে কর্তন হবে। তৎসঙ্গে বিক্রয়চুক্তি গ্রহণ ও বর্জনের এখতিয়ারও ক্রেতার থাকবে। কারণ এর ফলে বিক্রয় চুক্তিতে ছেদ পড়ে গেছে এবং বিভিন্নতা সৃষ্টি হয়েছে।
আংশিক পণ্য যদি তৃতীয় কোনো ব্যক্তির কর্মের ফলে নষ্ট হয়, তাহলে ক্রেতার এখতিয়ার থাকে বিক্রয় ভঙ্গ করার ও অব্যাহত রাখার। অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে যে পরিমাণ নষ্ট হয়েছে তা ঐ ব্যক্তির নিকট হতে আদায় করার অধিকার রাখবে ক্রেতা। আর যদি ক্রেতার দোষে পণ্য নষ্ট হয় তাহলে তার দায়দায়িত্ব ক্রেতাকেই গ্রহণ করতে হবে। এটি তার কজা হিসেবে ধরে নেওয়া হবে।
মালেকীগণ মনে করেন, পণ্য বিক্রেতার কারণে অথবা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির কারণে নষ্ট হলে বিকল্প পণ্যদান ওয়াজিব হয় বিক্রেতার ওপর অথবা ঐ তৃতীয় ব্যক্তির ওপর। এক্ষেত্রে ক্রেতার কোনো এখতিয়ার নেই, পণ্য সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হোক আর আংশিক নষ্ট হোক।
প্রাকৃতিক কারণে পণ্য নষ্ট হোক আর ত্রুটিযুক্ত হোক- তা ক্রেতার দায় হিসেবে গণ্য হবে, বিক্রয় যদি বৈধ ও আবশ্যক হয়। কারণ চুক্তির ফলে দায় পরিবর্তন হয়ে যায়, যদিও ক্রেতা পণ্য হস্তগত না করে। তবে মালেকী মাযহাবের উলামায়ে কেরাম ছয়টি বিষয়কে ভিন্নতর মনে করেন। সেগুলো হলো:
ক. যেখানে পণ্য পূর্ণরূপে ক্রেতাকে বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থাকে। তা পাত্র দ্বারা মাপযোগ্য জিনিস হোক আর ওজনযোগ্য হোক কিংবা গণনাযোগ্য জিনিস হোক। ক্রেতার পাত্রে তা ঢেলে দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বিক্রেতা দায়বদ্ধ থাকে। ঢেলে দেওয়ার পূর্বে নষ্ট হয়ে গেলে তার দায় বিক্রেতাকে বহন করতে হবে।
খ. মূল্য আদায় করার জন্য যদি পণ্য বিক্রেতার কাছে আবদ্ধ থাকে।
গ. অদেখা পণ্য যদি গুণ বর্ণনার মাধ্যমে বিক্রয় হয় অথবা পূর্ব দেখার ভিত্তিতে বিক্রয় হয়। এ অবস্থায় ক্রেতা তা হস্তগত করা ছাড়া সেটি পূর্ণরূপে তার দায়বদ্ধতায় দাখিল হয় না।
ঘ. ফাসিদ বিক্রয়ের পণ্য।
ঙ. ব্যবহারের উপযুক্ত হওয়ার পর ফলজাতীয় পণ্য। তা ক্রেতার দায়বদ্ধতায় আসে ধরা ও ক্ষতির আশঙ্কা হতে মুক্ত হওয়ার পরই।
চ. গোলাম বিক্রয় করার ক্ষেত্রে যতক্ষণ না বিক্রয়ের পর তিন দিন অতিক্রান্ত হয়। তবে মালেকীগণ আংশিক নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন, যখন পণ্য অর্ধেকেরও কম বাকী থাকে অথবা তা একক জিনিস হয়। এ অবস্থায় ক্রেতার গ্রহণ ও বর্জনের এখতিয়ার থাকে। নষ্ট হওয়া দ্রব্য যদি অর্ধেক হয় বা তার বেশি অথবা পণ্য একাধিক হয়, তাহলে অবশিষ্ট পণ্যে মোট পণ্যের অংশ হিসাব করে সে অংশ পরিমাণ মূল্য দিয়ে ক্রেতাকে গ্রহণ করতে হবে।
টিকাঃ
১২৯. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৮৯ ও ২০৫; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ১, পৃ. ৩০৬; মিনাহুল জালীল, খ. ২, পৃ. ১০০
১৩০. সুনানে আবি দাউদ, সুনানে নাসাঈ, সুনানে তিরমিযী, মুসনাদে আহমদ। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলে অভিহিত করেছেন। তিরমিযী, খ. ৩, পৃ. ৫৩৫; হালাবী প্রকাশনা, মুসনাদে আহমদ, খ. ১০, পৃ. ১৬০; জামিউল উসূল, খ. ১, পৃ. ৪৫৭
১৩১. শারহুল মাজাল্লা, ধারা ২৯৩; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৮৯; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৬৫; আল-কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ২১০
১৩২. জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ৫৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৬৫; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৮৮
১৩০. শারহুল মাজাল্লা, ধারা: ২৩৪; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ৩৬; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৬৭; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৮৮
১৩৪. শারহুল মাজাল্লা, ধারা: ২৯৩; হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ৪৬
১৩৫. প্রাগুক্ত, জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ৫৩
১৩৬. আশ-শারহুস সাগীর, খ. ২, পৃ. ৭০, প্রকাশক: হালাবী; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৩০
১৩৭. আশ-শারহুস সাগীর, খ. ২, পৃ. ৭১; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৩০
১৩৮. আশ-শারহুস সাগীর, খ. ২, পৃ. ৭২ এবং তাতে হাশিয়াতুস সাভী
📄 বিক্রয় সম্পন্ন হওয়ার ফলাফল
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।