📄 তৃতীয় : বৃদ্ধিকরণ ও হ্রাসকরণের প্রভাব
এ কথা স্বীকৃত, হানাফী ফকীহদের মতে, বাড়তি দেওয়া বা কমানো পূর্ববর্তী মূল বিক্রিচুক্তির সাথে সংযুক্ত হয়- যে পর্যন্ত না তার সাথে কোনো প্রতিবন্ধকতা আরোপ হয়। অর্থাৎ পণ্যে বাড়তি দিলেও তাতে মূল্যের এক অংশ থাকবে। অনুরূপ মূল্য বেশি দিলে পণ্যের বেলায়ও একই বিধান, তাতে পণ্যের অংশ থাকবে। এ সম্পর্কিত কিছু বিধান:
ক. পণ্য হস্তগত করার পূর্বে যদি মূল পণ্য নাশ বা ধ্বংস হয়ে যায়, আর বাড়তিটুকু অবশিষ্ট থাকে অথবা বাড়তিটুকু নাশ হয়ে মূল পণ্য বাকী থাকে, তাহলে নাশ হওয়ার পরিমাণ মূল্য বিয়োগ হবে। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হবে পণ্য হতে স্বাভাবিকভাবে যেটুকু বৃদ্ধি পায় তার বিধান।
খ. বিক্রেতার অধিকার রয়েছে মূল মূল্য এবং বাড়তিটুকু হস্তগত করার পূর্বে সে সমুদয় পণ্য হস্তান্তর করা হতে বিরত থাকতে পারে।
গ. মুরাবাহা (مُرابحة) বা তাওলিয়া (تولية) অথবা ওয়াদীআ (وضيعة) ধরনের বিক্রি আমানতের সাথে হওয়া সম্ভব হয়। কারণ, বাড়ানো বা কমানোর পর যে মূল্য তা-ই ধর্তব্য হয়।
ঘ. পণ্যের যখন কোনো হকদার বের হয় এবং তা হকদারের প্রাপ্য বলে ফয়সালা দেওয়া হয়, তখন ক্রেতা মূল ও বাড়তিসহ সমুদয় মূল্য বিক্রেতার কাছ থেকে ফেরত নিবে। অনুরূপ বিধান হবে, পণ্যে কোনো দোষ ধরা পড়লে এবং সে কারণে পণ্য ফেরত দিলে।
ঙ. শুফআর (الشفعة) বেলায় শফী (الشفيع) জমি গ্রহণ করবে মূল্য হ্রাস করার পর যেই মূল্য স্থির হবে তা দিয়ে।
জমিবিক্রির বেলায় যদি বিক্রেতা মূল জমির সাথে আরো জমি বাড়তি দেয়, তাহলে শফী (الشفيع) মূল জমির মূল্য হিসেব করে তা দিয়ে মূল জমি গ্রহণ করবে। সমুদয় মূল্য তাকে দিতে হবে না। এটুকু ঐকমত্যের মাসআলা, সামনে বিস্তারিত আলোচনা আসছে।
মালেকী মাযহাবের ফকীহদের মতে বাড়ানো ও কমানো বেচাকেনার সাথে যুক্ত হয়। তা হস্তগত করার সময় হোক আর পরবর্তী কালে হোক। মূল্যে বৃদ্ধি করা হলে তা প্রথম নির্ধারিত মূল্যের বিধানে যুক্ত হয়। অতএব পরবর্তীকালে কেউ যদি পণ্যের দাবিদার সাব্যস্ত হয় তাহলে তাকে এ বর্ধিত মূল্য ফেরত দিতে হবে। অনুরূপ পণ্যের ত্রুটি বা এ ধরনের কোনো কারণে ফেরত দিলে একই বিধান।
ক্রেতার নিকট হতে সমুদয় মূল্য হ্রাস করা অর্থাৎ মূল্য তাকে হিবা করে দেওয়া জায়েয। বায় মুরাবাহা ও শুফআয় মূল হ্রাসের প্রভাব পড়ে।
মুরাবাহার ক্ষেত্রে দারদীর ও দুসূকী বলেন, আংশিক মূল্য হিবা করার বিষয়টি স্পষ্ট করা আবশ্যক, যদি হিবা করা সাধারণের মাঝে প্রচলিত থাকে। তা এ কারণে যে, হিবার সাথে মানুষের স্বাভাবিক দানের মিল রয়েছে। তবে যদি মূল্য হিবা করার প্রচলন না থাকে, অথবা পরিশোধ করার পূর্বে বা পরে সমুদয় মূল্য বিক্রেতা ক্রেতাকে হিবা করে, তাহলে তা স্পষ্ট করার প্রয়োজন নেই।
আর শুফআর ক্ষেত্রে, শায়খ উলাইশ বলেন, যদি কেউ কোনো জমি কিনে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে, এরপর শফী' (শুফআর দাবিদার) জমি নেওয়ার আগে বা পরে যদি বিক্রেতা ক্রেতাকে নয়শ দিরহাম হিবা করে, যদি ঐ জমির প্রকৃত মূল্য হয় একশ দিরহাম, যদি তারা লোকসানে বেচাকেনা করে, অথবা লোকসান ছাড়া, তাহলে শফী'র নিকট থেকেও নয়শ দিরহাম বাদ দেবে। কেননা ক্রেতা-বিক্রেতা প্রথমে যে মূল্য নির্ধারণ করেছিল তা ছিল শফী'কে দূরে সরানোর চিন্তায়।
আর যদি জমির মূল্য একশ দিরহাম হওয়া স্বাভাবিক না হয়, ইবনু ইউনুস বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যদি জমির মূল্য হয় তিনশ বা চারশ দিরহাম, তাহলে বিক্রেতা শফী'র নিকট থেকে মূল্যের কোন অংশ বাদ দেবে না। ধরা হবে, হ্রাসকৃতমূল্য ছিল ক্রেতার জন্য নিছক হিবা। তিনি অন্যত্র বলেছেন, যদি বিক্রেতা ক্রেতার নিকট থেকে এ পরিমাণ মূল্য হ্রাস করে সাধারণত কেনাবেচায় যে পরিমাণ মূল্যহ্রাস করা হয়, তাহলে শফীর' নিকট থেকেও সে পরিমাণ হ্রাস করবে। আর যদি সে পরিমাণ হ্রাস করা স্বাভাবিক না হয় তাহলে মূল্যহ্রাস ছিল ক্রেতার জন্যে হিবা। সুতরাং বিক্রেতা শফী'র ক্ষেত্রে কোন মূল্যহ্রাস করবে না।
শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহবৃন্দের অভিমত হলো, যদি খিয়ার শেষ হওয়ার মাধ্যমে বিক্রয় চুক্তি আবশ্যক হওয়ার পর মূল্যে ও পণ্যে বৃদ্ধি ও হ্রাসকরণ হয় তাহলে তা বিক্রির সাথে যুক্ত হবে না। কারণ বিক্রিচুক্তি প্রথম মূল্যের সাথে স্থির হয়ে গেছে। অতঃপর বৃদ্ধি ও হ্রাসকরণ অনুদান হিসেবে গণ্য হবে, তা চুক্তির সাথে যুক্ত হবে না। যদি বাড়ানো বা কমানো হয় খিয়ারে মজলিস অথবা খিয়ারে শর্তের মেয়াদের মাঝে অর্থাৎ চুক্তি আবশ্যক হওয়ার পূর্বে, তাহলে অধিকাংশ শাফেয়ীর মতে তা মূলচুক্তির সাথে যুক্ত হয়। এটি শাফেয়ী ফকীহদের বিশুদ্ধতম অভিমত, অধিকাংশ ইরাকী ফকীহগণও এই অভিমত দৃঢ়ভাবে পোষণ করেন। ইমাম শাফেয়ী রহ. এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট অভিমত দিয়েছেন। কারণ, খিয়ারে মজলিসে মূল্য ও পণ্য বাড়ানো ও কমানো চুক্তির সাথে যুক্ত হয়। বিক্রি আবশ্যক না হওয়ায় সাজুয্য থাকার প্রেক্ষিতে খিয়ারে শর্তকে খিয়ারে মজলিসের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এটি নাভাবী বর্ণিত একটি মত।
অন্য একটি অভিমত হলো, তা চুক্তির সাথে যুক্ত হয় না। আল-মুতাওয়াল্লী এটিকে সহীহ অভিমত বলে ব্যক্ত করেছেন। তাদের তৃতীয় একটি অভিমত হলো খিয়ারে মজলিসে তা যুক্ত হয়, খিয়ারে শর্তে যুক্ত হয় না। এটি শায়খ আবু যায়েদ ও আল-কাফফালের অভিমত।
চুক্তিসমূহের ক্ষেত্রে এর প্রভাব
শুফআর ক্ষেত্রে বাড়ানো অংশটুকু শুফআর দাবিদারের সাথে যুক্ত হবে, যেমনটি সে বৃদ্ধিটুকু ক্রেতার জন্য আবশ্যক হয়। মূল্য হতে যদি সামান্য কমানো হয় তাহলে এর বিধানও অনুরূপ। বিস্তারিত দ্রষ্টব্য শিরোনাম شفعة
বায়'উত তাওলিয়া (التولة), ইশরাক (الإشراك) ও মুরাবাহা (الْمُرَائِحَة) সম্পর্কে নিহায়াতুল মুহতাজ কিতাবে আছে, যদি তাওলিয়া পদ্ধতির বিক্রেতার নিকট হতে মূল্য কমানো হয়, তা তাওলিয়ার পূর্বে হোক আর পরে হোক এবং তা আবশ্যক হওয়ার পরে হোক, তাহলে ক্রেতার নিকট থেকে সে মূল্য কমে যাবে। যেহেতু তাওলিয়া পদ্ধতির ব্যবসার বৈশিষ্ট্য হলো-যদিও এটি একটি নতুন চুক্তি- প্রথম মূল্য (কেনামূল্য) থেকে কম রাখা। যদি বিক্রেতা সমুদয় মূল্য কমিয়ে দেয় তাহলে ক্রেতার হিসাব থেকেও সমুদয় মূল্য বাদ যাবে, যতক্ষণ না তাওলিয়া পদ্ধতির বিক্রি চূড়ান্ত হয়। আর যদি তেমন না হয়, অর্থাৎ মূল্য কমানো হয় তাওলিয়ার আগে বা পরে এবং বিক্রি চূড়ান্ত হওয়ার আগে, তাহলে তাওলিয়া বাতিল হবে। কেননা তখন এর অর্থ দাঁড়াবে মূল্যহীন বিক্রি। এ কারণে মূল্যহ্রাস করা ও বিক্রি আবশ্যক হওয়ার পর যদি উভয়ে ইকালা (اقالة) করে (চুক্তি বাতিল করে), তাহলে ক্রেতা বিক্রেতার নিকট থেকে মূল্যের কোন অংশ ফেরত আনতে পারবে না। বায় ইশরাক ও মুরাবাহারও একই বিধান। বিস্তারিত শিরোনাম الْمُرَابَحَة ، التولية ، الأشْرَاك
ত্রুটির কারণে পণ্য ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে, নিহায়াতুল মুহতাজ কিতাবে আছে, বিক্রেতা যদি ক্রেতাকে সমুদয় বা আংশিক মূল্য হতে দায়মুক্তি দেয়, অতঃপর ক্রেতা ত্রুটির কারণে পণ্য ফেরত দেয়, তাহলে বিশুদ্ধতম মত হলো সম্পূর্ণ মূল্য হতে দায়মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুই ফেরত দিতে হবে না। আর আংশিক মূল্য হতে দায়মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে বাকী মূল্য ফেরত দিতে হবে। যদি বিক্রেতা ক্রেতাকে মূল্য হেবা করে, একটি মত হলো, মূল্য ফেরত নেওয়া যাবে না। আরেকটি মত হলো, মূল্য ফেরত নেওয়া যাবে। ক্রেতার কাছে মূল্যের পরিবর্তে বস্তু ফেরত দেওয়ার তাগাদা করা হবে। এটিই অধিক যুক্তিযুক্ত মত।
হাম্বলীগণের মাযহাব হলো শাফেয়ী মাযহাবের মতো। শারহু মুনতাহাল ইরাদাতে বলা হয়েছে, দুধরনের খিয়ারের (খিয়ারুল মাজলিস ও খিয়ারে শর্তের) সময়ের মাঝে মূল্যে বা পণ্যে যা বৃদ্ধি করা হয় তা মূলবিক্রির সাথে যুক্ত হবে। সে হিসাবেই মূল মূল্যের মতো এখন মূল্য যা হয়েছে বিক্রেতা তা-ই বলবে মুরাবাহা, তাওলিয়া ও ইশরাকের ক্ষেত্রে।
উল্লিখিত দুপ্রকার খিয়ারের সময়ে পণ্য বা মূল্যের যে অংশ হ্রাস করা হয় তা চুক্তির সাথে যুক্ত হবে। সুতরাং মূল চুক্তির মতো এ অবস্থায় পণ্য বা মূল্যের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অপরকে জানানো আবশ্যক, খিয়ারের অবস্থাকে চুক্তি সংঘটনকালের মতো বিবেচনা করে। পুরো মূল্য মাফ করে দিলে তা হেবা হিসেবে গণ্য হয়।
বিক্রয়চুক্তি আবশ্যক হয়ে যাওয়ার পর বাড়ানো বা কমানো হলে তা মূল চুক্তির সাথে যুক্ত হবে না। তাই সে সম্পর্কে অন্যকে (পরবর্তী ক্রেতাকে) জানানো আবশ্যক নয়। পণ্যে ত্রুটি থাকার কারণে তা ফেরত দিলে ক্রেতা যে মূল্য দিয়েছিল তা ফেরত নেবে। অথবা বিক্রেতা তাকে যে দায়মুক্তি দিয়েছিল তার বিকল্প গ্রহণ করবে বা বিক্রেতা তাকে যা হেবা করেছিল তার বিকল্প গ্রহণ করবে; তা পূর্ণ হোক বা আংশিক। কারণ বিক্রয় ভেঙ্গে যাওয়ার পর ক্রেতার অধিকার হয়ে যায় পূর্ণ মূল্য ফেরত নেওয়ার।
শুফআর ব্যাপারে ইবনে কুদামা বলেন, শুফআর দাবিদার তার দাবি করার পূর্বে সংঘটিত বেচাকেনায় যে মূল্য স্থির হয়েছে তার ওপর শুফআর অধিকারী হবে। সুতরাং ক্রেতা বিক্রেতা নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণে সম্মত হওয়ার পর যদি তারা খিয়ারের মাঝে মূল্য বাড়ায় বা কমায়, তাহলে শুফআর দাবিদার সে হ্রাসকৃত বা বৃদ্ধিকৃত মূল্য দাবি করতে পারবে। কারণ, বিক্রয় পূর্ণ হওয়ার পরই কেবল শুফআর অধিকার প্রমাণিত হয়। অধিকার সাব্যস্ত হওয়ার সময় পণ্যের যে মূল্য, শুফআর দাবিদার সেই মূল্যেই কেনার অধিকার লাভ করবে। তা ছাড়া খিয়ারের সময়টা চুক্তি সংঘটনের সমপর্যায়ের। তাই এ সময় বেচাকেনায় পরিবর্তন সাধিত হলে তা মূলবিক্রির সাথেই যুক্ত হয়। কারণ, এ অবস্থায় ক্রেতা-বিক্রেতা মূল্যে কমবেশ করার বিষয়ে এখতিয়ার লাভ করে, যেভাবে তাদের এখতিয়ার থাকে চুক্তি সংঘটনকালে। তবে যদি খিয়ারের মেয়াদ শেষ হয় এবং চুক্তি চূড়ান্ত হয়, এরপর ক্রেতা-বিক্রেতা কমবেশ করে, তাহলে সে কমবেশ চুক্তির সাথে যুক্ত হবে না, যেহেতু চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর মূল্যের হ্রাসবৃদ্ধি হলে তা হয় হেবা।
টিকাঃ
১১৮. তাহযীবুল ফুরূক, খ. ৩, পৃ. ২৯০; আদ-দুসুকী, খ. ৩, পৃ. ৩৫
১১৯ আদ-দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ১৬৫; মিনাহুল জালীল, খ. ২, পৃ. ৭১৮
১২০ মিনাহুল জালীল, খ. ৩, পৃ. ৬১৫; আদ-দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৪৯৫
১২১. আল-মাজমু, খ. ৯, পৃ. ৩৬৯; হাশিয়াতুল জুমাল, খ. ৩, পৃ. ৮৫; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ৩৭
১২২. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ১০৬; হাশিয়াতুল জুমাল, খ. ৩, পৃ. ১৭৭; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ৯১; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৯৬
১২৩. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ৪৪
১২৪. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৮৩; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ২০০, রিয়াদ
১২৫. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৭৬
১২৬. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৩৪৯, রিয়াদ
📄 চতুর্থ : অন্যের বেলায় চুক্তির সাথে বাড়তি মূল্য বা কমতি মূল্য যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাধাসমূহ
দু'টি কারণে মূল্যে বাড়ানো কমানো অংশ মূল চুক্তির সাথে যুক্ত হয় না:
এক. মূল্যে বাড়ালে বা কমালে যখন অন্য লোকের অধিকারে ঘাটতি দেখা দেয়, যা চুক্তি মারফত সাব্যস্ত হয়, তখন এ বর্ধন ও হ্রাসকরণ কেবল ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে সীমিত থাকে। অন্যের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হয় না। যেমন: জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে যখন ক্রেতা মূল্য বৃদ্ধি করার ইচ্ছা করে, তখন শুফআর দাবিদার আসল মূল্য দিয়ে জমি গ্রহণ করবে, বাড়ানো মূল্য সহকারে নয়। এটি এ কারণে যে, শুফআর অধিকার বাস্তবায়নে কেউ যেন যোগসাজস করার সুযোগ না পায়। তবে মূল্য হ্রাস করলে তা চুক্তির সাথে যুক্ত হবে। কারণ, এর ফলে শুফআর দাবিদারকে কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। এমনিভাবে পণ্যে বৃদ্ধি করলেও তা কার্যকর হতে কোনো বাধা নেই।
দুই. যুক্তকরণের ফলে যখন বিক্রয় বাতিল হওয়ার উপক্রম হয়। যেমন হ্রাসকরণ পূর্ণ মূল্যে শামিল হলে। কারণ, এরূপ হলে তা চুক্তি বহির্ভূতভাবে দায় মুক্তির পর্যায়ে চলে যায়। এর ফলে বিক্রয় চুক্তি মূল্যবিহীন হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। ফলে তা বাতিল বলে গণ্য হয়। যেমন- বিক্রেতা যদি জমি বিক্রির ক্ষেত্রে সমুদয় মূল্য হ্রাস করে দেয়, তাহলে শুফআর হকদার আসল মূল্যে তা গ্রহণ করবে। কারণ, মূল্য হ্রাসকরণকে যদি পৃথকভাবে দায়মুক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়, তাহলে বিনামূল্যে বিক্রয় হওয়া আবশ্যক হবে। এর ফলে শুফআর হকদারের অধিকার রহিত হবে। এ কারণে শুফআর দাবিদারের বেলায় পণ্যটি পূর্ণ মূল্যের বিপরীতে বলে গণ্য হবে। তবে মূল্য হ্রাস যা করা হবে তা ক্রেতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এ সকল কথা কার্যকর হবে যদি মূল্য কমানোটি হস্তগত করার পর হয়। যদি হস্তগত করার পূর্বে কমানো হয় তাহলে ধার্যকৃত মূল্যে শুফআর দাবিদার তা গ্রহণ করবে।
টিকাঃ
১২৭. শারহুল মাজাল্লা, খ. ২, পৃ. ১৯০, ধারা: ২৫৪; ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ১৬৭; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৩১৫; শারহুর রাওয, খ. ২, পৃ. ৩৬৬
📄 পঞ্চম : পণ্য অথবা মূল্য হস্তান্তরের ব্যয়
সকল ফকীহ এ কথায় ঐকমত্য ব্যক্ত করেছেন যে, পণ্যের মাপদাতা বা ওজনদাতা ও গণনাকারী প্রমুখের পারিশ্রমিক দেবে বিক্রেতা। অনুরূপ পণ্য আড়ালে থাকলে তা বিক্রয়স্থলে উপস্থিত করার দায়িত্বও বিক্রেতার ওপর বর্তায়।
অনুরূপ তারা এ কথাতেও ঐকমত্য পোষণ করেছেন, মূল্যের মাপ বা ওজন কিংবা এর গণনার পারিশ্রমিক, যদি এখানে না থাকে তাহলে তা উপস্থিত করার ব্যয় ক্রেতাকে বহন করতে হবে। নতুবা সমতা রক্ষা হবে না। তবে ইকালা, তাওলিয়া ও শিরকাহ এ সব ক্ষেত্রে মালেকী মাযহাবের ফকীহগণ ভিন্নমত পোষণ করেন।
তবে মূল্য হিসাবে প্রদত্ত মুদ্রা যাচাই করার পারিশ্রমিক নিয়ে ফকীহদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে। হানাফীগণের এ বিষয়ে দু'টি অভিমত রয়েছে। ইমাম মুহাম্মদ হতে বর্ণিত, রুস্তমের বর্ণনায় রয়েছে, মূল্য যাচাই করার পারিশ্রমিক বর্তায় বিক্রেতার ওপর। কারণ, যাচাই করার বিষয়টি আসে মূল্য হস্তান্তরের পর। আর এ কারণে যে, যাচাই করার মুখাপেক্ষী হয় বিক্রেতা, যেন ত্রুটিজনিত কারণে সে প্রত্যার্পণ করতে পারে। শাফেয়ীগণও অনুরূপ অভিমত পোষণ করেন। ইমাম মুহাম্মাদ-এর পক্ষ হতে অপর একটি অভিমত হলো, মূল্যের মান যাচাই করার পারিশ্রমিক বর্তায় ক্রেতার ওপর। এটি মুহাম্মদ রহ.-এর পক্ষ হতে ইবনে সিমাআর অভিমত। কারণ সে অপর পক্ষকে উত্তম মুদ্রা অর্পণ করার মুখাপেক্ষী। উত্তমতা নির্ণীত হয় যাচাইয়ের মাধ্যমে, তাই এটি তার দায়িত্ব।
এটি মালেকী মাযহাবেরও অভিমত। হাম্বলী মাযহাবের ফকীহবৃন্দের অভিমত হলো, মান যাচাইকারীর পারিশ্রমিক বর্তাবে ব্যয়কারীর ওপর, সে বিক্রেতা হোক আর ক্রেতা। শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহ শারবীনী বলেন, মূল্য পরখকারীর পারিশ্রমিক বিক্রেতার ওপর বর্তায়। অতঃপর তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তির দাবি হলো, পণ্যের মান যাচাই করার পারিশ্রমিক বর্তাবে ক্রেতার ওপর। যেহেতু তাতে ত্রুটি প্রকাশিত হলে তা ফেরত দেওয়াই হচ্ছে যাচাইয়ের উদ্দেশ্য।
টিকাঃ
১২৮. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৭; আশ-শারহুস সাগীর, খ. ২, পৃ. ৭০; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ৫০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৭৩; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৯১; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ১২৬
📄 ষষ্ঠ : পণ্য বা নির্দিষ্ট মূল্য হস্তান্তরের পূর্বে সম্পূর্ণরূপে বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া
বিক্রি অপরিহার্য হওয়ার প্রকাশ্য লক্ষণসমূহের একটি হলো, বিক্রেতার ওপর আবশ্যক হবে পণ্য ক্রেতার কাছে অর্পণ করা। হস্তান্তর করা ছাড়া বিক্রেতার দায় মুক্তির কোনো পন্থা নেই। পণ্য ধ্বংস হয়ে গেলে বিক্রেতাকে এ দায় গ্রহণ করতে হবে। তার ওপর এ দায় বর্তাবে, কারও কর্মে তা নাশ হোক, আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে নাশ হোক।
এ বিধান মূল্যের ওপরও প্রযোজ্য হবে, যদি তা কোনো নির্দিষ্ট জিনিস হয়। কারণ নির্দিষ্ট জিনিস মূল্য হলে বিক্রির চুক্তির সময় সেটিও পণ্যের ন্যায় মুখ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু যদি মূল্যটি নির্দিষ্ট বস্তু না হয়ে তা কেবল ক্রেতার জিম্মায় আবশ্যক হয়, সেক্ষেত্রে বিক্রেতার বিকল্প গ্রহণ করার সুযোগ সম্ভাবনা থাকে।
নাশ হওয়া সম্পূর্ণরূপে হতে পারে, আংশিকও হতে পারে। পণ্য যদি হস্তান্তর করার পূর্বে প্রাকৃতিক কারণে সম্পূর্ণটি নাশ হয়ে যায়, তাহলে তা বিক্রেতার জিম্মায় নাশ হয়েছে বলে বিবেচিত হয়। এ সম্পর্কে হাদীস বর্ণিত হয়েছে: نَهَى عَنْ رِبْحٍ مَا لَمْ يُضْمَن “রাসূলুল্লাহ সা. কোনো বস্তুর দায়গ্রহণের পূর্বে তার লাভ গ্রহণ করা থেকে নিষেধ করেছেন।" উক্ত বর্ণনা হতে প্রমাণিত হয়, এ অবস্থায় বিক্রয় ভেঙ্গে যায় আর মূল্য রহিত হয়। কারণ, এর ফলে বিক্রয় কার্যকর করা অসম্ভব হয়। এটি হানাফীগণের অভিমত। অনুরূপ বিক্রেতার কোনো কর্মের ফলে যদি পণ্য নষ্ট হয় তাহলেও তাদের একই অভিমত।
শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহদের পক্ষ হতে এ সম্পর্কে দুটি অভিমত পাওয়া যায়।
এক. প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে তেমনই বিক্রয় ভঙ্গ হয় যেরূপ বিক্রেতার নষ্ট করার কারণে ভঙ্গ হয়।
দুই. বিক্রয় ভঙ্গ করে মূল্য ফেরত গ্রহণ এবং বিক্রয় কার্যকর রেখে পণ্যের বাজারদর গ্রহণ, এ দুটোর যে কোনো একটি ক্রেতা বেছে নিতে পারবে।
বিক্রয় বাতিল হওয়ার উপকারিতা হলো, ক্রেতা যদি মূল্য পরিশোধ না করে তাহলে তার দায়িত্ব থেকে তা রহিত হয়ে যাবে। আর যদি পরিশোধ করে ফেলে তাহলে তা ফিরিয়ে আনতে পারবে। আর যদি ভঙ্গ না হয় তাহলে ক্রেতার মূল্য প্রদান আবশ্যক হবে, আর বিক্রেতার ওপর পণ্যের বাজারদর আবশ্যক হবে, তা যা-ই সাব্যস্ত হয় না কেন।
হাম্বলীগণ বিক্রেতার কর্মের ফলে পণ্য নষ্ট হওয়াকে তৃতীয় কারো কর্মের ফলে নষ্ট হওয়ার সাথে তুলনা করেছেন। এর বিস্তারিত আলোচনা আসছে। ক্রেতার কর্মের ফলে যদি পণ্য নষ্ট হয় তাহলে বিক্রয় অটুট থাকবে। ক্রেতার ওপর মূল্য পরিশোধ আবশ্যক হবে। ক্রেতা কর্তৃক পণ্য নষ্ট করা তার হস্তগত করা হিসেবে বিবেচিত হয়, এটি সর্ববাদী অভিমত।
তৃতীয় কোনো পক্ষের কর্মের ফলে যদি পণ্য নষ্ট হয় (হাম্বলীগণের মতে বিক্রেতা কর্তৃক বিনষ্ট করারও একই বিধান) তাহলে ক্রেতার এখতিয়ার থাকে বিক্রয়চুক্তি ভঙ্গের। কারণ, এর ফলে পণ্য হস্তান্তর অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখন মূল্য পরিশোধের দায় তার ওপর থেকে রহিত হয়ে যায়। (আর বিক্রেতার অধিকার হয়ে যায় যে বিনষ্ট করেছে তাকে দায়ী করার)। চাইলে ক্রেতা বিক্রয় চুক্তি অটুট রাখতে পারে। তাহলে ঐ ব্যক্তিকে দায়ী করে তার নিকট থেকে প্রাপ্য আদায় করবে। এ ক্ষেত্রে তার কর্তব্য হলো বিক্রেতার মূল্য পরিশোধ করা। ঐ ব্যক্তি যদি মিছলী বা সদৃশ পণ্য নষ্ট করে, তাহলে সে রকম জিনিস তার নিকট থেকে আদায় করবে। আর যদি কীমী জিনিস নষ্ট করে তাহলে বিনষ্টকারী তার মূল্য আদায় করবে। হানাফী ও হাম্বলীগণ এরূপ অভিমত পোষণ করেন। শাফেয়ীগণের প্রসিদ্ধ অভিমত এর অনুকূলে। শাফেয়ীগণের প্রসিদ্ধ মাযহাবের বিপরীত এক অভিমত হলো, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিক্রয় নষ্ট হবে, যেমন পণ্য ধ্বংস হলে বিক্রি ভেঙ্গে যাবে।
পণ্যের আংশিক যদি নষ্ট হয় তাহলে তা কার কারণে নষ্ট হয়েছে- সে অনুপাতে তার বিধান ভিন্নতর হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক কারণে যদি আংশিক পণ্য নষ্ট হয়, আর এর ফলে পণ্যের পরিমাণ কমে যায় তাহলে যে পরিমাণ নষ্ট হয়েছে সে পরিমাণের মূল্য রহিত হবে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতার এখতিয়ার থাকে পরিমাণ মত মূল্য দিয়ে বাকীটুকু গ্রহণ করার অথবা বিক্রিচুক্তিতে বিভিন্নতা সৃষ্টি হওয়ায় বিক্রয় চুক্তি ভঙ্গ করার। এটি হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবের ফকীহবৃন্দের অভিমত। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে حَيَارُ تَفَرُّقِ الصَّفْقَة .
অতঃপর হানাফীগণ বলেন, পণ্যের আংশিক ত্রুটিটা যদি পরিমাণে না হয়ে পণ্যের গুণে দেখা দেয়, আর এ ধরনের গুণ উল্লেখ না করলেও পণ্যে অনুবর্তী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহলে এজন্যে মূল্য হতে কোনো কিছুই কর্তন করা হবে না। বরং ক্রেতার এখতিয়ার থাকবে বিক্রয় ভঙ্গ করার বা অব্যাহত রাখার। কারণ গুণাবলি মূল্যের সামান্য অংশেরও বিপরীতে হয় না। হ্যাঁ, যদি ক্ষতি বাড়াবাড়ি পর্যায়ের হয় অথবা মূল্য নির্ণয়ে এগুলোর কথা উল্লেখ করা হয় কিংবা পণ্যের গুণকে এর অংশ হিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় বা তা অনুবর্তী বলে জুড়ে দেওয়া হয় তাহলে ভিন্ন কথা।
বিক্রেতার কর্মের ফলে যদি আংশিক পণ্য নাশ হয় তাহলে সাধারণভাবে এর বিপরীতে মূল্যে কর্তন হবে। তৎসঙ্গে বিক্রয়চুক্তি গ্রহণ ও বর্জনের এখতিয়ারও ক্রেতার থাকবে। কারণ এর ফলে বিক্রয় চুক্তিতে ছেদ পড়ে গেছে এবং বিভিন্নতা সৃষ্টি হয়েছে।
আংশিক পণ্য যদি তৃতীয় কোনো ব্যক্তির কর্মের ফলে নষ্ট হয়, তাহলে ক্রেতার এখতিয়ার থাকে বিক্রয় ভঙ্গ করার ও অব্যাহত রাখার। অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে যে পরিমাণ নষ্ট হয়েছে তা ঐ ব্যক্তির নিকট হতে আদায় করার অধিকার রাখবে ক্রেতা। আর যদি ক্রেতার দোষে পণ্য নষ্ট হয় তাহলে তার দায়দায়িত্ব ক্রেতাকেই গ্রহণ করতে হবে। এটি তার কজা হিসেবে ধরে নেওয়া হবে।
মালেকীগণ মনে করেন, পণ্য বিক্রেতার কারণে অথবা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির কারণে নষ্ট হলে বিকল্প পণ্যদান ওয়াজিব হয় বিক্রেতার ওপর অথবা ঐ তৃতীয় ব্যক্তির ওপর। এক্ষেত্রে ক্রেতার কোনো এখতিয়ার নেই, পণ্য সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হোক আর আংশিক নষ্ট হোক।
প্রাকৃতিক কারণে পণ্য নষ্ট হোক আর ত্রুটিযুক্ত হোক- তা ক্রেতার দায় হিসেবে গণ্য হবে, বিক্রয় যদি বৈধ ও আবশ্যক হয়। কারণ চুক্তির ফলে দায় পরিবর্তন হয়ে যায়, যদিও ক্রেতা পণ্য হস্তগত না করে। তবে মালেকী মাযহাবের উলামায়ে কেরাম ছয়টি বিষয়কে ভিন্নতর মনে করেন। সেগুলো হলো:
ক. যেখানে পণ্য পূর্ণরূপে ক্রেতাকে বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থাকে। তা পাত্র দ্বারা মাপযোগ্য জিনিস হোক আর ওজনযোগ্য হোক কিংবা গণনাযোগ্য জিনিস হোক। ক্রেতার পাত্রে তা ঢেলে দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বিক্রেতা দায়বদ্ধ থাকে। ঢেলে দেওয়ার পূর্বে নষ্ট হয়ে গেলে তার দায় বিক্রেতাকে বহন করতে হবে।
খ. মূল্য আদায় করার জন্য যদি পণ্য বিক্রেতার কাছে আবদ্ধ থাকে।
গ. অদেখা পণ্য যদি গুণ বর্ণনার মাধ্যমে বিক্রয় হয় অথবা পূর্ব দেখার ভিত্তিতে বিক্রয় হয়। এ অবস্থায় ক্রেতা তা হস্তগত করা ছাড়া সেটি পূর্ণরূপে তার দায়বদ্ধতায় দাখিল হয় না।
ঘ. ফাসিদ বিক্রয়ের পণ্য।
ঙ. ব্যবহারের উপযুক্ত হওয়ার পর ফলজাতীয় পণ্য। তা ক্রেতার দায়বদ্ধতায় আসে ধরা ও ক্ষতির আশঙ্কা হতে মুক্ত হওয়ার পরই।
চ. গোলাম বিক্রয় করার ক্ষেত্রে যতক্ষণ না বিক্রয়ের পর তিন দিন অতিক্রান্ত হয়। তবে মালেকীগণ আংশিক নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন, যখন পণ্য অর্ধেকেরও কম বাকী থাকে অথবা তা একক জিনিস হয়। এ অবস্থায় ক্রেতার গ্রহণ ও বর্জনের এখতিয়ার থাকে। নষ্ট হওয়া দ্রব্য যদি অর্ধেক হয় বা তার বেশি অথবা পণ্য একাধিক হয়, তাহলে অবশিষ্ট পণ্যে মোট পণ্যের অংশ হিসাব করে সে অংশ পরিমাণ মূল্য দিয়ে ক্রেতাকে গ্রহণ করতে হবে।
টিকাঃ
১২৯. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৮৯ ও ২০৫; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ১, পৃ. ৩০৬; মিনাহুল জালীল, খ. ২, পৃ. ১০০
১৩০. সুনানে আবি দাউদ, সুনানে নাসাঈ, সুনানে তিরমিযী, মুসনাদে আহমদ। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলে অভিহিত করেছেন। তিরমিযী, খ. ৩, পৃ. ৫৩৫; হালাবী প্রকাশনা, মুসনাদে আহমদ, খ. ১০, পৃ. ১৬০; জামিউল উসূল, খ. ১, পৃ. ৪৫৭
১৩১. শারহুল মাজাল্লা, ধারা ২৯৩; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৮৯; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৬৫; আল-কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ২১০
১৩২. জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ৫৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৬৫; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৮৮
১৩০. শারহুল মাজাল্লা, ধারা: ২৩৪; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ৩৬; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৬৭; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৮৮
১৩৪. শারহুল মাজাল্লা, ধারা: ২৯৩; হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ৪৬
১৩৫. প্রাগুক্ত, জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ৫৩
১৩৬. আশ-শারহুস সাগীর, খ. ২, পৃ. ৭০, প্রকাশক: হালাবী; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৩০
১৩৭. আশ-শারহুস সাগীর, খ. ২, পৃ. ৭১; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৩০
১৩৮. আশ-শারহুস সাগীর, খ. ২, পৃ. ৭২ এবং তাতে হাশিয়াতুস সাভী