📄 দ্বিতীয় : পণ্যে বা মূল্যে হ্রাসকরণ
ক্রেতার যেমন পণ্যে হ্রাসকরণ জায়েয, বিক্রেতারও জায়েয মূল্যে হ্রাসকরণ, যখন অপরপক্ষ হ্রাসকরণ সে মজলিসেই গ্রহণ করে। হস্তগত করার পূর্বে বা পরে উভয় অবস্থাতে তা করা জায়েয। ক্রেতা বা বিক্রেতা যদি হস্তগত করার পর হ্রাস করে, তাহলে প্রতিপক্ষের হ্রাসকৃত জিনিসটি প্রত্যাখ্যান করার এখতিয়ার থাকে।
বিক্রেতা যদি মূল্য হ্রাস করে তাহলে পণ্য মজুদ থাকা শর্ত নয়। এর কারণ, হ্রাসকরণ হলো মূল্য ছাড় দেওয়া, কোনো জিনিসের বিপরীতে এটি হওয়া শর্ত নয়। ক্রেতা বিক্রেতার পণ্যের কিছু অংশ হ্রাস করে দেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত হলো, পণ্য দায়িত্বে মজুদ থাকা; যেন তা হ্রাসকরণকে কবুল করে। হ্যাঁ, পণ্য যদি কোনো নির্দিষ্ট জিনিস হয়, তাহলে বিক্রিত দ্রব্য হ্রাসকরণ সহীহ হয় না। যেহেতু নির্দিষ্ট জিনিস হতে কোনো অংশ বাদ দেওয়া গৃহীত হয় না।
টিকাঃ
১১৭. শারহুল মাজাল্লা, ধারা ২৫৬; আস-সাবী আলাশ শারহিস সাগীর, খ. ২, পৃ. ৭৯; মিনাহুল জালীল, খ. ৩, পৃ. ৪২৫; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৮৩; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৬৫৮ এবং খ. ৪, পৃ. ৫৪২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৬৫
📄 তৃতীয় : বৃদ্ধিকরণ ও হ্রাসকরণের প্রভাব
এ কথা স্বীকৃত, হানাফী ফকীহদের মতে, বাড়তি দেওয়া বা কমানো পূর্ববর্তী মূল বিক্রিচুক্তির সাথে সংযুক্ত হয়- যে পর্যন্ত না তার সাথে কোনো প্রতিবন্ধকতা আরোপ হয়। অর্থাৎ পণ্যে বাড়তি দিলেও তাতে মূল্যের এক অংশ থাকবে। অনুরূপ মূল্য বেশি দিলে পণ্যের বেলায়ও একই বিধান, তাতে পণ্যের অংশ থাকবে। এ সম্পর্কিত কিছু বিধান:
ক. পণ্য হস্তগত করার পূর্বে যদি মূল পণ্য নাশ বা ধ্বংস হয়ে যায়, আর বাড়তিটুকু অবশিষ্ট থাকে অথবা বাড়তিটুকু নাশ হয়ে মূল পণ্য বাকী থাকে, তাহলে নাশ হওয়ার পরিমাণ মূল্য বিয়োগ হবে। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হবে পণ্য হতে স্বাভাবিকভাবে যেটুকু বৃদ্ধি পায় তার বিধান।
খ. বিক্রেতার অধিকার রয়েছে মূল মূল্য এবং বাড়তিটুকু হস্তগত করার পূর্বে সে সমুদয় পণ্য হস্তান্তর করা হতে বিরত থাকতে পারে।
গ. মুরাবাহা (مُرابحة) বা তাওলিয়া (تولية) অথবা ওয়াদীআ (وضيعة) ধরনের বিক্রি আমানতের সাথে হওয়া সম্ভব হয়। কারণ, বাড়ানো বা কমানোর পর যে মূল্য তা-ই ধর্তব্য হয়।
ঘ. পণ্যের যখন কোনো হকদার বের হয় এবং তা হকদারের প্রাপ্য বলে ফয়সালা দেওয়া হয়, তখন ক্রেতা মূল ও বাড়তিসহ সমুদয় মূল্য বিক্রেতার কাছ থেকে ফেরত নিবে। অনুরূপ বিধান হবে, পণ্যে কোনো দোষ ধরা পড়লে এবং সে কারণে পণ্য ফেরত দিলে।
ঙ. শুফআর (الشفعة) বেলায় শফী (الشفيع) জমি গ্রহণ করবে মূল্য হ্রাস করার পর যেই মূল্য স্থির হবে তা দিয়ে।
জমিবিক্রির বেলায় যদি বিক্রেতা মূল জমির সাথে আরো জমি বাড়তি দেয়, তাহলে শফী (الشفيع) মূল জমির মূল্য হিসেব করে তা দিয়ে মূল জমি গ্রহণ করবে। সমুদয় মূল্য তাকে দিতে হবে না। এটুকু ঐকমত্যের মাসআলা, সামনে বিস্তারিত আলোচনা আসছে।
মালেকী মাযহাবের ফকীহদের মতে বাড়ানো ও কমানো বেচাকেনার সাথে যুক্ত হয়। তা হস্তগত করার সময় হোক আর পরবর্তী কালে হোক। মূল্যে বৃদ্ধি করা হলে তা প্রথম নির্ধারিত মূল্যের বিধানে যুক্ত হয়। অতএব পরবর্তীকালে কেউ যদি পণ্যের দাবিদার সাব্যস্ত হয় তাহলে তাকে এ বর্ধিত মূল্য ফেরত দিতে হবে। অনুরূপ পণ্যের ত্রুটি বা এ ধরনের কোনো কারণে ফেরত দিলে একই বিধান।
ক্রেতার নিকট হতে সমুদয় মূল্য হ্রাস করা অর্থাৎ মূল্য তাকে হিবা করে দেওয়া জায়েয। বায় মুরাবাহা ও শুফআয় মূল হ্রাসের প্রভাব পড়ে।
মুরাবাহার ক্ষেত্রে দারদীর ও দুসূকী বলেন, আংশিক মূল্য হিবা করার বিষয়টি স্পষ্ট করা আবশ্যক, যদি হিবা করা সাধারণের মাঝে প্রচলিত থাকে। তা এ কারণে যে, হিবার সাথে মানুষের স্বাভাবিক দানের মিল রয়েছে। তবে যদি মূল্য হিবা করার প্রচলন না থাকে, অথবা পরিশোধ করার পূর্বে বা পরে সমুদয় মূল্য বিক্রেতা ক্রেতাকে হিবা করে, তাহলে তা স্পষ্ট করার প্রয়োজন নেই।
আর শুফআর ক্ষেত্রে, শায়খ উলাইশ বলেন, যদি কেউ কোনো জমি কিনে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে, এরপর শফী' (শুফআর দাবিদার) জমি নেওয়ার আগে বা পরে যদি বিক্রেতা ক্রেতাকে নয়শ দিরহাম হিবা করে, যদি ঐ জমির প্রকৃত মূল্য হয় একশ দিরহাম, যদি তারা লোকসানে বেচাকেনা করে, অথবা লোকসান ছাড়া, তাহলে শফী'র নিকট থেকেও নয়শ দিরহাম বাদ দেবে। কেননা ক্রেতা-বিক্রেতা প্রথমে যে মূল্য নির্ধারণ করেছিল তা ছিল শফী'কে দূরে সরানোর চিন্তায়।
আর যদি জমির মূল্য একশ দিরহাম হওয়া স্বাভাবিক না হয়, ইবনু ইউনুস বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যদি জমির মূল্য হয় তিনশ বা চারশ দিরহাম, তাহলে বিক্রেতা শফী'র নিকট থেকে মূল্যের কোন অংশ বাদ দেবে না। ধরা হবে, হ্রাসকৃতমূল্য ছিল ক্রেতার জন্য নিছক হিবা। তিনি অন্যত্র বলেছেন, যদি বিক্রেতা ক্রেতার নিকট থেকে এ পরিমাণ মূল্য হ্রাস করে সাধারণত কেনাবেচায় যে পরিমাণ মূল্যহ্রাস করা হয়, তাহলে শফীর' নিকট থেকেও সে পরিমাণ হ্রাস করবে। আর যদি সে পরিমাণ হ্রাস করা স্বাভাবিক না হয় তাহলে মূল্যহ্রাস ছিল ক্রেতার জন্যে হিবা। সুতরাং বিক্রেতা শফী'র ক্ষেত্রে কোন মূল্যহ্রাস করবে না।
শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহবৃন্দের অভিমত হলো, যদি খিয়ার শেষ হওয়ার মাধ্যমে বিক্রয় চুক্তি আবশ্যক হওয়ার পর মূল্যে ও পণ্যে বৃদ্ধি ও হ্রাসকরণ হয় তাহলে তা বিক্রির সাথে যুক্ত হবে না। কারণ বিক্রিচুক্তি প্রথম মূল্যের সাথে স্থির হয়ে গেছে। অতঃপর বৃদ্ধি ও হ্রাসকরণ অনুদান হিসেবে গণ্য হবে, তা চুক্তির সাথে যুক্ত হবে না। যদি বাড়ানো বা কমানো হয় খিয়ারে মজলিস অথবা খিয়ারে শর্তের মেয়াদের মাঝে অর্থাৎ চুক্তি আবশ্যক হওয়ার পূর্বে, তাহলে অধিকাংশ শাফেয়ীর মতে তা মূলচুক্তির সাথে যুক্ত হয়। এটি শাফেয়ী ফকীহদের বিশুদ্ধতম অভিমত, অধিকাংশ ইরাকী ফকীহগণও এই অভিমত দৃঢ়ভাবে পোষণ করেন। ইমাম শাফেয়ী রহ. এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট অভিমত দিয়েছেন। কারণ, খিয়ারে মজলিসে মূল্য ও পণ্য বাড়ানো ও কমানো চুক্তির সাথে যুক্ত হয়। বিক্রি আবশ্যক না হওয়ায় সাজুয্য থাকার প্রেক্ষিতে খিয়ারে শর্তকে খিয়ারে মজলিসের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এটি নাভাবী বর্ণিত একটি মত।
অন্য একটি অভিমত হলো, তা চুক্তির সাথে যুক্ত হয় না। আল-মুতাওয়াল্লী এটিকে সহীহ অভিমত বলে ব্যক্ত করেছেন। তাদের তৃতীয় একটি অভিমত হলো খিয়ারে মজলিসে তা যুক্ত হয়, খিয়ারে শর্তে যুক্ত হয় না। এটি শায়খ আবু যায়েদ ও আল-কাফফালের অভিমত।
চুক্তিসমূহের ক্ষেত্রে এর প্রভাব
শুফআর ক্ষেত্রে বাড়ানো অংশটুকু শুফআর দাবিদারের সাথে যুক্ত হবে, যেমনটি সে বৃদ্ধিটুকু ক্রেতার জন্য আবশ্যক হয়। মূল্য হতে যদি সামান্য কমানো হয় তাহলে এর বিধানও অনুরূপ। বিস্তারিত দ্রষ্টব্য শিরোনাম شفعة
বায়'উত তাওলিয়া (التولة), ইশরাক (الإشراك) ও মুরাবাহা (الْمُرَائِحَة) সম্পর্কে নিহায়াতুল মুহতাজ কিতাবে আছে, যদি তাওলিয়া পদ্ধতির বিক্রেতার নিকট হতে মূল্য কমানো হয়, তা তাওলিয়ার পূর্বে হোক আর পরে হোক এবং তা আবশ্যক হওয়ার পরে হোক, তাহলে ক্রেতার নিকট থেকে সে মূল্য কমে যাবে। যেহেতু তাওলিয়া পদ্ধতির ব্যবসার বৈশিষ্ট্য হলো-যদিও এটি একটি নতুন চুক্তি- প্রথম মূল্য (কেনামূল্য) থেকে কম রাখা। যদি বিক্রেতা সমুদয় মূল্য কমিয়ে দেয় তাহলে ক্রেতার হিসাব থেকেও সমুদয় মূল্য বাদ যাবে, যতক্ষণ না তাওলিয়া পদ্ধতির বিক্রি চূড়ান্ত হয়। আর যদি তেমন না হয়, অর্থাৎ মূল্য কমানো হয় তাওলিয়ার আগে বা পরে এবং বিক্রি চূড়ান্ত হওয়ার আগে, তাহলে তাওলিয়া বাতিল হবে। কেননা তখন এর অর্থ দাঁড়াবে মূল্যহীন বিক্রি। এ কারণে মূল্যহ্রাস করা ও বিক্রি আবশ্যক হওয়ার পর যদি উভয়ে ইকালা (اقالة) করে (চুক্তি বাতিল করে), তাহলে ক্রেতা বিক্রেতার নিকট থেকে মূল্যের কোন অংশ ফেরত আনতে পারবে না। বায় ইশরাক ও মুরাবাহারও একই বিধান। বিস্তারিত শিরোনাম الْمُرَابَحَة ، التولية ، الأشْرَاك
ত্রুটির কারণে পণ্য ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে, নিহায়াতুল মুহতাজ কিতাবে আছে, বিক্রেতা যদি ক্রেতাকে সমুদয় বা আংশিক মূল্য হতে দায়মুক্তি দেয়, অতঃপর ক্রেতা ত্রুটির কারণে পণ্য ফেরত দেয়, তাহলে বিশুদ্ধতম মত হলো সম্পূর্ণ মূল্য হতে দায়মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুই ফেরত দিতে হবে না। আর আংশিক মূল্য হতে দায়মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে বাকী মূল্য ফেরত দিতে হবে। যদি বিক্রেতা ক্রেতাকে মূল্য হেবা করে, একটি মত হলো, মূল্য ফেরত নেওয়া যাবে না। আরেকটি মত হলো, মূল্য ফেরত নেওয়া যাবে। ক্রেতার কাছে মূল্যের পরিবর্তে বস্তু ফেরত দেওয়ার তাগাদা করা হবে। এটিই অধিক যুক্তিযুক্ত মত।
হাম্বলীগণের মাযহাব হলো শাফেয়ী মাযহাবের মতো। শারহু মুনতাহাল ইরাদাতে বলা হয়েছে, দুধরনের খিয়ারের (খিয়ারুল মাজলিস ও খিয়ারে শর্তের) সময়ের মাঝে মূল্যে বা পণ্যে যা বৃদ্ধি করা হয় তা মূলবিক্রির সাথে যুক্ত হবে। সে হিসাবেই মূল মূল্যের মতো এখন মূল্য যা হয়েছে বিক্রেতা তা-ই বলবে মুরাবাহা, তাওলিয়া ও ইশরাকের ক্ষেত্রে।
উল্লিখিত দুপ্রকার খিয়ারের সময়ে পণ্য বা মূল্যের যে অংশ হ্রাস করা হয় তা চুক্তির সাথে যুক্ত হবে। সুতরাং মূল চুক্তির মতো এ অবস্থায় পণ্য বা মূল্যের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অপরকে জানানো আবশ্যক, খিয়ারের অবস্থাকে চুক্তি সংঘটনকালের মতো বিবেচনা করে। পুরো মূল্য মাফ করে দিলে তা হেবা হিসেবে গণ্য হয়।
বিক্রয়চুক্তি আবশ্যক হয়ে যাওয়ার পর বাড়ানো বা কমানো হলে তা মূল চুক্তির সাথে যুক্ত হবে না। তাই সে সম্পর্কে অন্যকে (পরবর্তী ক্রেতাকে) জানানো আবশ্যক নয়। পণ্যে ত্রুটি থাকার কারণে তা ফেরত দিলে ক্রেতা যে মূল্য দিয়েছিল তা ফেরত নেবে। অথবা বিক্রেতা তাকে যে দায়মুক্তি দিয়েছিল তার বিকল্প গ্রহণ করবে বা বিক্রেতা তাকে যা হেবা করেছিল তার বিকল্প গ্রহণ করবে; তা পূর্ণ হোক বা আংশিক। কারণ বিক্রয় ভেঙ্গে যাওয়ার পর ক্রেতার অধিকার হয়ে যায় পূর্ণ মূল্য ফেরত নেওয়ার।
শুফআর ব্যাপারে ইবনে কুদামা বলেন, শুফআর দাবিদার তার দাবি করার পূর্বে সংঘটিত বেচাকেনায় যে মূল্য স্থির হয়েছে তার ওপর শুফআর অধিকারী হবে। সুতরাং ক্রেতা বিক্রেতা নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণে সম্মত হওয়ার পর যদি তারা খিয়ারের মাঝে মূল্য বাড়ায় বা কমায়, তাহলে শুফআর দাবিদার সে হ্রাসকৃত বা বৃদ্ধিকৃত মূল্য দাবি করতে পারবে। কারণ, বিক্রয় পূর্ণ হওয়ার পরই কেবল শুফআর অধিকার প্রমাণিত হয়। অধিকার সাব্যস্ত হওয়ার সময় পণ্যের যে মূল্য, শুফআর দাবিদার সেই মূল্যেই কেনার অধিকার লাভ করবে। তা ছাড়া খিয়ারের সময়টা চুক্তি সংঘটনের সমপর্যায়ের। তাই এ সময় বেচাকেনায় পরিবর্তন সাধিত হলে তা মূলবিক্রির সাথেই যুক্ত হয়। কারণ, এ অবস্থায় ক্রেতা-বিক্রেতা মূল্যে কমবেশ করার বিষয়ে এখতিয়ার লাভ করে, যেভাবে তাদের এখতিয়ার থাকে চুক্তি সংঘটনকালে। তবে যদি খিয়ারের মেয়াদ শেষ হয় এবং চুক্তি চূড়ান্ত হয়, এরপর ক্রেতা-বিক্রেতা কমবেশ করে, তাহলে সে কমবেশ চুক্তির সাথে যুক্ত হবে না, যেহেতু চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর মূল্যের হ্রাসবৃদ্ধি হলে তা হয় হেবা।
টিকাঃ
১১৮. তাহযীবুল ফুরূক, খ. ৩, পৃ. ২৯০; আদ-দুসুকী, খ. ৩, পৃ. ৩৫
১১৯ আদ-দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ১৬৫; মিনাহুল জালীল, খ. ২, পৃ. ৭১৮
১২০ মিনাহুল জালীল, খ. ৩, পৃ. ৬১৫; আদ-দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৪৯৫
১২১. আল-মাজমু, খ. ৯, পৃ. ৩৬৯; হাশিয়াতুল জুমাল, খ. ৩, পৃ. ৮৫; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ৩৭
১২২. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ১০৬; হাশিয়াতুল জুমাল, খ. ৩, পৃ. ১৭৭; আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ৯১; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৯৬
১২৩. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ৪৪
১২৪. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৮৩; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ২০০, রিয়াদ
১২৫. শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৭৬
১২৬. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৩৪৯, রিয়াদ
📄 চতুর্থ : অন্যের বেলায় চুক্তির সাথে বাড়তি মূল্য বা কমতি মূল্য যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাধাসমূহ
দু'টি কারণে মূল্যে বাড়ানো কমানো অংশ মূল চুক্তির সাথে যুক্ত হয় না:
এক. মূল্যে বাড়ালে বা কমালে যখন অন্য লোকের অধিকারে ঘাটতি দেখা দেয়, যা চুক্তি মারফত সাব্যস্ত হয়, তখন এ বর্ধন ও হ্রাসকরণ কেবল ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে সীমিত থাকে। অন্যের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হয় না। যেমন: জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে যখন ক্রেতা মূল্য বৃদ্ধি করার ইচ্ছা করে, তখন শুফআর দাবিদার আসল মূল্য দিয়ে জমি গ্রহণ করবে, বাড়ানো মূল্য সহকারে নয়। এটি এ কারণে যে, শুফআর অধিকার বাস্তবায়নে কেউ যেন যোগসাজস করার সুযোগ না পায়। তবে মূল্য হ্রাস করলে তা চুক্তির সাথে যুক্ত হবে। কারণ, এর ফলে শুফআর দাবিদারকে কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। এমনিভাবে পণ্যে বৃদ্ধি করলেও তা কার্যকর হতে কোনো বাধা নেই।
দুই. যুক্তকরণের ফলে যখন বিক্রয় বাতিল হওয়ার উপক্রম হয়। যেমন হ্রাসকরণ পূর্ণ মূল্যে শামিল হলে। কারণ, এরূপ হলে তা চুক্তি বহির্ভূতভাবে দায় মুক্তির পর্যায়ে চলে যায়। এর ফলে বিক্রয় চুক্তি মূল্যবিহীন হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। ফলে তা বাতিল বলে গণ্য হয়। যেমন- বিক্রেতা যদি জমি বিক্রির ক্ষেত্রে সমুদয় মূল্য হ্রাস করে দেয়, তাহলে শুফআর হকদার আসল মূল্যে তা গ্রহণ করবে। কারণ, মূল্য হ্রাসকরণকে যদি পৃথকভাবে দায়মুক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়, তাহলে বিনামূল্যে বিক্রয় হওয়া আবশ্যক হবে। এর ফলে শুফআর হকদারের অধিকার রহিত হবে। এ কারণে শুফআর দাবিদারের বেলায় পণ্যটি পূর্ণ মূল্যের বিপরীতে বলে গণ্য হবে। তবে মূল্য হ্রাস যা করা হবে তা ক্রেতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এ সকল কথা কার্যকর হবে যদি মূল্য কমানোটি হস্তগত করার পর হয়। যদি হস্তগত করার পূর্বে কমানো হয় তাহলে ধার্যকৃত মূল্যে শুফআর দাবিদার তা গ্রহণ করবে।
টিকাঃ
১২৭. শারহুল মাজাল্লা, খ. ২, পৃ. ১৯০, ধারা: ২৫৪; ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ১৬৭; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৩১৫; শারহুর রাওয, খ. ২, পৃ. ৩৬৬
📄 পঞ্চম : পণ্য অথবা মূল্য হস্তান্তরের ব্যয়
সকল ফকীহ এ কথায় ঐকমত্য ব্যক্ত করেছেন যে, পণ্যের মাপদাতা বা ওজনদাতা ও গণনাকারী প্রমুখের পারিশ্রমিক দেবে বিক্রেতা। অনুরূপ পণ্য আড়ালে থাকলে তা বিক্রয়স্থলে উপস্থিত করার দায়িত্বও বিক্রেতার ওপর বর্তায়।
অনুরূপ তারা এ কথাতেও ঐকমত্য পোষণ করেছেন, মূল্যের মাপ বা ওজন কিংবা এর গণনার পারিশ্রমিক, যদি এখানে না থাকে তাহলে তা উপস্থিত করার ব্যয় ক্রেতাকে বহন করতে হবে। নতুবা সমতা রক্ষা হবে না। তবে ইকালা, তাওলিয়া ও শিরকাহ এ সব ক্ষেত্রে মালেকী মাযহাবের ফকীহগণ ভিন্নমত পোষণ করেন।
তবে মূল্য হিসাবে প্রদত্ত মুদ্রা যাচাই করার পারিশ্রমিক নিয়ে ফকীহদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে। হানাফীগণের এ বিষয়ে দু'টি অভিমত রয়েছে। ইমাম মুহাম্মদ হতে বর্ণিত, রুস্তমের বর্ণনায় রয়েছে, মূল্য যাচাই করার পারিশ্রমিক বর্তায় বিক্রেতার ওপর। কারণ, যাচাই করার বিষয়টি আসে মূল্য হস্তান্তরের পর। আর এ কারণে যে, যাচাই করার মুখাপেক্ষী হয় বিক্রেতা, যেন ত্রুটিজনিত কারণে সে প্রত্যার্পণ করতে পারে। শাফেয়ীগণও অনুরূপ অভিমত পোষণ করেন। ইমাম মুহাম্মাদ-এর পক্ষ হতে অপর একটি অভিমত হলো, মূল্যের মান যাচাই করার পারিশ্রমিক বর্তায় ক্রেতার ওপর। এটি মুহাম্মদ রহ.-এর পক্ষ হতে ইবনে সিমাআর অভিমত। কারণ সে অপর পক্ষকে উত্তম মুদ্রা অর্পণ করার মুখাপেক্ষী। উত্তমতা নির্ণীত হয় যাচাইয়ের মাধ্যমে, তাই এটি তার দায়িত্ব।
এটি মালেকী মাযহাবেরও অভিমত। হাম্বলী মাযহাবের ফকীহবৃন্দের অভিমত হলো, মান যাচাইকারীর পারিশ্রমিক বর্তাবে ব্যয়কারীর ওপর, সে বিক্রেতা হোক আর ক্রেতা। শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহ শারবীনী বলেন, মূল্য পরখকারীর পারিশ্রমিক বিক্রেতার ওপর বর্তায়। অতঃপর তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তির দাবি হলো, পণ্যের মান যাচাই করার পারিশ্রমিক বর্তাবে ক্রেতার ওপর। যেহেতু তাতে ত্রুটি প্রকাশিত হলে তা ফেরত দেওয়াই হচ্ছে যাচাইয়ের উদ্দেশ্য।
টিকাঃ
১২৮. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৭; আশ-শারহুস সাগীর, খ. ২, পৃ. ৭০; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ৫০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৭৩; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৯১; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ১২৬