📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 পঞ্চম : পুঁজির প্রতি দৃষ্টি রেখে মূল্য নির্দিষ্টকরণ

📄 পঞ্চম : পুঁজির প্রতি দৃষ্টি রেখে মূল্য নির্দিষ্টকরণ


মূল্য প্রত্যক্ষ করে তার প্রতি ইঙ্গিতের মাধ্যমে মূল্য নির্দিষ্টকরণ হতে পারে। এটি পরিচয় দানে সর্বাধিক উত্তম পন্থা, পরিমাণ বর্ণনা করা হোক আর না-ই করা হোক। যেমন কেউ পণ্য বিক্রয় করল দীনারের এক থলের বিনিময়ে, আর তার প্রতি ইশারা করে দেখাল। মূল্য যদি চুক্তির মজলিসের আড়ালে থাকে, তবেই কেবল মূল্যের ধরন, গুণ ও পরিমাণ বর্ণনা করা আবশ্যক হয়।
এরপর বিক্রিমূল্য হয়তো ক্রয়ের মূল্য অর্থাৎ বিক্রেতার মূল পুঁজি নির্ভর হবে না, অথবা পুঁজি নির্ভর হবে কোন লাভ-লোকসান ছাড়া, অথবা নির্দিষ্ট লাভসহ, অথবা নির্দিষ্ট লোকসানসহ। প্রথম অবস্থায়, যে অবস্থায় বিক্রিমূল্য ক্রয়মূল্য- নির্ভর হবে না, তা হলো বায়'উল মুসাওয়ামাহ (بَيْعُ الْمُسَاوَمَة)। কেনাবেচার ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে প্রচলিত পন্থা।
আর দ্বিতীয় প্রকারগুলো হল আমানতের বিক্রি। এর বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। তাওলিয়া (تَوْلِيَةُ), অর্থাৎ ক্রয়মূল্যে বিক্রি করা। আর যদি আংশিক পণ্যের মূল্যের সাথে বিক্রিমূল্যের সম্পর্ক হয় তাহলে সেটিকে বলে ইশরাক (اِشْرَاكٌ)। আর যদি ক্রয়মূল্যের চেয়ে লাভে বিক্রি করে তাহলে সেটিকে বলে মুরাবাহা (مُرَابَحَة)। আর যদি ক্রয়মূল্যের চেয়ে লোকসানে বিক্রি করে তাহলে সেটি হল ওয়াদী'আহ (وَضِيْعَةٌ)। বিস্তারিত আলোচনা সংশ্লিষ্ট শিরোনামে দ্রষ্টব্য।

টিকাঃ
১১৫. মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, ধারা ২৩৯; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১০৯; আস-সাভী আলাশ শারহিস সাগীর, খ. ২, পৃ. ৭৭, প্রকাশ: হালব

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 পণ্য ও মূল্যের মাঝে যৌথ বিধানাবলি

📄 পণ্য ও মূল্যের মাঝে যৌথ বিধানাবলি


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 প্রথম : পণ্যে বা মূল্যে বৃদ্ধিকরণ

📄 প্রথম : পণ্যে বা মূল্যে বৃদ্ধিকরণ


চুক্তির পর মূল্যে বাড়তি দেওয়া ক্রেতার জন্য জায়েয। অনুরূপ বিক্রেতার জন্য জায়েয পণ্য বাড়িয়ে দেওয়া। তবে এক্ষেত্রে কথা হলো, বাড়তি দানের মজলিসে অপর পক্ষের তা গ্রহণ করতে হবে। এও শর্ত যে, পণ্যটি বাড়তি মূল্য প্রদানের সময় মজুদ থাকবে। কারণ পণ্যটি নষ্ট হয়ে গেলে অস্তিত্বহীন জিনিসের বদলে বাড়তি মূল্যকে দাঁড় করানো হবে। আর যেহেতু পণ্যটি নেই- যেহেতু মালিক সে বস্তুকে নিজ মালিকানার আওতাবহির্ভূত করেছে- তাই অতিরিক্ত মূল্য অবর্তমান বস্তুর বিপরীতে দেওয়া হবে। বাড়তি দেওয়া পরস্পর হস্তগত করার পরে হোক বা পূর্বে হোক, তাতে কোনো তফাৎ নেই। পণ্যের সমজাতীয় জিনিস হোক বা না হোক, তেমনি মূল্যজাতীয় হোক বা অন্য কোনো ধরনের জিনিস হোক তাতে কোনো সমস্যা নেই।
বাড়তি দানের বিধান পূর্ববর্তী চুক্তির অধীনেই বলে গণ্য হয়। তা দান হিসেবে বিবেচিত হয় না, ফলে দান পূর্ণ হওয়ার জন্য হস্তগত করার যে শর্ত রয়েছে তা এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এটি হানাফী মাযহাবের কথা। শাফেয়ী ও হাম্বলী মতে খিয়ারে মজলিস ও খিয়ারে শর্ত শেষ হওয়ার পর বায় আবশ্যক হয়ে গেলে বাড়তি দান বায়-এর সাথে যুক্ত হয় না। বরং তা হিবা সাব্যস্ত হয়, সামনে এর বিস্তারিত আলোচনা আসছে।

টিকাঃ
১১৬. হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ১৬৭; তাহযীবুল ফুরূক, খ. ৩, পৃ. ২৯০; আশ শারহুস সাগীর, খ. ২, পৃ. ৭৮; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ১৬৫; মিনাহুল জালীল, খ. ৩, পৃ. ৬১৫; আল-মাজমূ', খ. ৯, পৃ. ৩৭০; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৯৬; হাশিয়া শারহুর রাওয, খ.২, পৃ. ৬৪; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ৪৪; আল-ইফসাহ, খ. ১, পৃ. ৩৪৭; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৫১ ও ৪৪৬

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 দ্বিতীয় : পণ্যে বা মূল্যে হ্রাসকরণ

📄 দ্বিতীয় : পণ্যে বা মূল্যে হ্রাসকরণ


ক্রেতার যেমন পণ্যে হ্রাসকরণ জায়েয, বিক্রেতারও জায়েয মূল্যে হ্রাসকরণ, যখন অপরপক্ষ হ্রাসকরণ সে মজলিসেই গ্রহণ করে। হস্তগত করার পূর্বে বা পরে উভয় অবস্থাতে তা করা জায়েয। ক্রেতা বা বিক্রেতা যদি হস্তগত করার পর হ্রাস করে, তাহলে প্রতিপক্ষের হ্রাসকৃত জিনিসটি প্রত্যাখ্যান করার এখতিয়ার থাকে।
বিক্রেতা যদি মূল্য হ্রাস করে তাহলে পণ্য মজুদ থাকা শর্ত নয়। এর কারণ, হ্রাসকরণ হলো মূল্য ছাড় দেওয়া, কোনো জিনিসের বিপরীতে এটি হওয়া শর্ত নয়। ক্রেতা বিক্রেতার পণ্যের কিছু অংশ হ্রাস করে দেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত হলো, পণ্য দায়িত্বে মজুদ থাকা; যেন তা হ্রাসকরণকে কবুল করে। হ্যাঁ, পণ্য যদি কোনো নির্দিষ্ট জিনিস হয়, তাহলে বিক্রিত দ্রব্য হ্রাসকরণ সহীহ হয় না। যেহেতু নির্দিষ্ট জিনিস হতে কোনো অংশ বাদ দেওয়া গৃহীত হয় না।

টিকাঃ
১১৭. শারহুল মাজাল্লা, ধারা ২৫৬; আস-সাবী আলাশ শারহিস সাগীর, খ. ২, পৃ. ৭৯; মিনাহুল জালীল, খ. ৩, পৃ. ৪২৫; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৮৩; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৬৫৮ এবং খ. ৪, পৃ. ৫৪২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৬৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px