📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 চতুর্থ : মূল্যে অস্পষ্টতা

📄 চতুর্থ : মূল্যে অস্পষ্টতা


যদি কেউ মূল্য বর্ণনায় সাধারণভাবে মুদ্রার কথা উল্লেখ করলেও তার ধরন বর্ণনা না করে, যেমন পণ্য বিক্রয়ে কেবল দীনারের কথা উল্লেখ করল। অথচ সে দেশে বিভিন্ন ধরনের দীনার প্রচলিত রয়েছে, আর প্রচলনও সমান্তরালে চলছে। তাহলে মূল্যের পরিমাণ সম্পর্কে অজ্ঞতার ফলে চুক্তি বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে হ্যাঁ, ঐ দেশে যদি নির্দিষ্ট কোনো দীনার ব্যাপক হারে প্রচলিত থাকে, তাহলে চুক্তি বৈধ হবে। আর চুক্তিটি অধিকতর প্রচলিত দীনারের ওপর বর্তাবে। যেমন কেউ কুয়েতে বলল, আমি তোমার কাছে এক দীনারে তা বিক্রয় করলাম, তাহলে চুক্তি বৈধ হবে আর মূল্য কুয়েতী দীনার হিসেবে সাব্যস্ত হবে। কারণ কুয়েতে সেদেশের দীনারই সর্বাধিক প্রচলিত।

টিকাঃ
১১৪. মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়‍্যা, ধারা: ২৪১ ও ২৪৪; ইবনে আবদিল বার কৃত আল- কাফী, খ.২, পৃ. ৭২৬; আল-বাহজা, খ. ২, পৃ. ১১; আল-কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ১৬২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৭; আল ইফসাহ, খ. ১, পৃ. ৩২৫

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 পঞ্চম : পুঁজির প্রতি দৃষ্টি রেখে মূল্য নির্দিষ্টকরণ

📄 পঞ্চম : পুঁজির প্রতি দৃষ্টি রেখে মূল্য নির্দিষ্টকরণ


মূল্য প্রত্যক্ষ করে তার প্রতি ইঙ্গিতের মাধ্যমে মূল্য নির্দিষ্টকরণ হতে পারে। এটি পরিচয় দানে সর্বাধিক উত্তম পন্থা, পরিমাণ বর্ণনা করা হোক আর না-ই করা হোক। যেমন কেউ পণ্য বিক্রয় করল দীনারের এক থলের বিনিময়ে, আর তার প্রতি ইশারা করে দেখাল। মূল্য যদি চুক্তির মজলিসের আড়ালে থাকে, তবেই কেবল মূল্যের ধরন, গুণ ও পরিমাণ বর্ণনা করা আবশ্যক হয়।
এরপর বিক্রিমূল্য হয়তো ক্রয়ের মূল্য অর্থাৎ বিক্রেতার মূল পুঁজি নির্ভর হবে না, অথবা পুঁজি নির্ভর হবে কোন লাভ-লোকসান ছাড়া, অথবা নির্দিষ্ট লাভসহ, অথবা নির্দিষ্ট লোকসানসহ। প্রথম অবস্থায়, যে অবস্থায় বিক্রিমূল্য ক্রয়মূল্য- নির্ভর হবে না, তা হলো বায়'উল মুসাওয়ামাহ (بَيْعُ الْمُسَاوَمَة)। কেনাবেচার ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে প্রচলিত পন্থা।
আর দ্বিতীয় প্রকারগুলো হল আমানতের বিক্রি। এর বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। তাওলিয়া (تَوْلِيَةُ), অর্থাৎ ক্রয়মূল্যে বিক্রি করা। আর যদি আংশিক পণ্যের মূল্যের সাথে বিক্রিমূল্যের সম্পর্ক হয় তাহলে সেটিকে বলে ইশরাক (اِشْرَاكٌ)। আর যদি ক্রয়মূল্যের চেয়ে লাভে বিক্রি করে তাহলে সেটিকে বলে মুরাবাহা (مُرَابَحَة)। আর যদি ক্রয়মূল্যের চেয়ে লোকসানে বিক্রি করে তাহলে সেটি হল ওয়াদী'আহ (وَضِيْعَةٌ)। বিস্তারিত আলোচনা সংশ্লিষ্ট শিরোনামে দ্রষ্টব্য।

টিকাঃ
১১৫. মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, ধারা ২৩৯; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১০৯; আস-সাভী আলাশ শারহিস সাগীর, খ. ২, পৃ. ৭৭, প্রকাশ: হালব

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 পণ্য ও মূল্যের মাঝে যৌথ বিধানাবলি

📄 পণ্য ও মূল্যের মাঝে যৌথ বিধানাবলি


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 প্রথম : পণ্যে বা মূল্যে বৃদ্ধিকরণ

📄 প্রথম : পণ্যে বা মূল্যে বৃদ্ধিকরণ


চুক্তির পর মূল্যে বাড়তি দেওয়া ক্রেতার জন্য জায়েয। অনুরূপ বিক্রেতার জন্য জায়েয পণ্য বাড়িয়ে দেওয়া। তবে এক্ষেত্রে কথা হলো, বাড়তি দানের মজলিসে অপর পক্ষের তা গ্রহণ করতে হবে। এও শর্ত যে, পণ্যটি বাড়তি মূল্য প্রদানের সময় মজুদ থাকবে। কারণ পণ্যটি নষ্ট হয়ে গেলে অস্তিত্বহীন জিনিসের বদলে বাড়তি মূল্যকে দাঁড় করানো হবে। আর যেহেতু পণ্যটি নেই- যেহেতু মালিক সে বস্তুকে নিজ মালিকানার আওতাবহির্ভূত করেছে- তাই অতিরিক্ত মূল্য অবর্তমান বস্তুর বিপরীতে দেওয়া হবে। বাড়তি দেওয়া পরস্পর হস্তগত করার পরে হোক বা পূর্বে হোক, তাতে কোনো তফাৎ নেই। পণ্যের সমজাতীয় জিনিস হোক বা না হোক, তেমনি মূল্যজাতীয় হোক বা অন্য কোনো ধরনের জিনিস হোক তাতে কোনো সমস্যা নেই।
বাড়তি দানের বিধান পূর্ববর্তী চুক্তির অধীনেই বলে গণ্য হয়। তা দান হিসেবে বিবেচিত হয় না, ফলে দান পূর্ণ হওয়ার জন্য হস্তগত করার যে শর্ত রয়েছে তা এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এটি হানাফী মাযহাবের কথা। শাফেয়ী ও হাম্বলী মতে খিয়ারে মজলিস ও খিয়ারে শর্ত শেষ হওয়ার পর বায় আবশ্যক হয়ে গেলে বাড়তি দান বায়-এর সাথে যুক্ত হয় না। বরং তা হিবা সাব্যস্ত হয়, সামনে এর বিস্তারিত আলোচনা আসছে।

টিকাঃ
১১৬. হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ১৬৭; তাহযীবুল ফুরূক, খ. ৩, পৃ. ২৯০; আশ শারহুস সাগীর, খ. ২, পৃ. ৭৮; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ১৬৫; মিনাহুল জালীল, খ. ৩, পৃ. ৬১৫; আল-মাজমূ', খ. ৯, পৃ. ৩৭০; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৯৬; হাশিয়া শারহুর রাওয, খ.২, পৃ. ৬৪; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ৪৪; আল-ইফসাহ, খ. ১, পৃ. ৩৪৭; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৫১ ও ৪৪৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00