📄 পণ্যের বিধান ও অবস্থা
প্রথমত: পণ্য নির্ধারণ
পণ্য চেনার জন্য আবশ্যক হলো, পণ্যের জাত, ধরন ও পরিমাণ সম্পর্কে ক্রেতার অবহিত হওয়া। জাত যেমন: গম। ধরন যেমন: কোন্ শহরের উৎপাদন। পরিমাণ যেমন: মাপ ও ওজন সম্পর্কে জানা। পণ্যের পরিচিতি হতে পণ্য নির্ধারণ করা হলো অতিরিক্ত বিষয়। কারণ, জাত ও পরিমাণ জানার পর তা অন্য জিনিস হতে পৃথক হয়। হয়তো এ পার্থক্যকরণ সম্পন্ন হয় ক্রয়-বিক্রয় কালে পণ্যের প্রতি ইঙ্গিত করার মাধ্যমে ক্রেতার উপস্থিতিতে। ফলে এ সময় পণ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। পণ্য নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার পর বিক্রেতার জন্য ক্রেতাকে অন্য পণ্য দেওয়া জায়েয নেই। তবে হ্যাঁ, ক্রেতা সন্তুষ্ট থাকলে তার সম্মতিতে অন্য পণ্য দেওয়া যেতে পারে। ইঙ্গিত হলো কোনো জিনিস নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বাধিক উন্নত পন্থা।
হয়তো ক্রয়-বিক্রয়কালে পণ্য নির্ধারণ করা হয় না, বরং পণ্যের অনুপস্থিতিতে পণ্যের গুণ উল্লেখ করা হয় অথবা উপস্থিত স্তূপের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থায় হস্তান্তর করা ছাড়া পণ্য নির্ধারিত হয় না। এটি হানাফী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের ফকীহবৃন্দের অভিমত, যা শাফেয়ী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতের বিপরীত। শাফেয়ী মাযহাবের প্রসিদ্ধ অভিমত হলো, অদৃশ্য জিনিসের বিক্রয় সহীহ হয় না।
অনির্দিষ্ট পণ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো, যৌথ মালিকানাধীন জিনিসের কোনো অংশ বিক্রয় করা; তা জমি হোক আর স্থানান্তরযোগ্য পণ্য হোক। যৌথ সম্পদটা বণ্টনযোগ্য হোক আর না হোক। যৌথ মালিকানাধীন পণ্য বণ্টন এবং হস্তান্তরের মাধ্যমেই কেবল নির্ধারিত হয়।
পণ্য নির্ধারণের সাথে সংশ্লিষ্ট হলো, একটিকে বহু জিনিসের মধ্য হতে বিক্রি করার মাসআলা- এ শর্তে যে, পণ্য নির্ধারণ করা ক্রেতার ইচ্ছাধীন থাকবে। অর্থাৎ তাকে এরূপ কর্তৃত্ব দিয়ে দেওয়া যে, সে অনেকগুলো হতে যেটি তার পছন্দ হয় সেটি বেছে নেবে। এ অভিমত সেই সকল ফকীহের, যারা নির্ধারণের এখতিয়ার দেওয়াকে জায়েয মনে করেন। এ ধরনের বায় জায়েয হওয়া, তার শর্তসমূহ এবং এখতিয়ারের বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দ্রষ্টব্য শিরোনাম خَيَارُ التَّعْيِينِ :
দ্বিতীয়ত: পণ্য চেনা ও নির্ধারণের উপায়
বিক্রয়স্থলে যখন পণ্য থাকবে না, ফলে দেখা বা ইঙ্গিতের মাধ্যমে পণ্যের পরিচয় সম্পন্ন হবে না, এরূপ ক্ষেত্রে পণ্যের এমন কোনো বৈশিষ্ট্য আলোচনার মাধ্যমে তার পরিচয় পূর্ণতা লাভ করবে, যার দ্বারা সে অন্য জিনিস হতে আলাদা হয়ে যাবে। তাতে পরিমাণের বিবরণও থাকবে। পণ্য ভূমি হলে তার সীমানার বিবরণও আবশ্যক, স্থান ও দিক ভেদে ভূমির মূল্য ভিন্নতর হওয়ার কারণে। পণ্য যদি পরিমাপ, ওজন, হাতের মাপ বা গণনার যোগ্য জিনিস হয়, তাহলে তার পরিমাণ জানার মাধ্যমেই তার পরিচয় উদঘাটিত হয়ে যায়।
অনুমাননির্ভর বিক্রয় জায়েয আছে। তাই কোনো স্তূপের সবটুকু মোটামুটি এক মূল্যে বিক্রয় হতে পারে। এ ধরনের বিক্রি সবার মতে জায়েয। তবে মালেকী মাযহাবে অনুমাননির্ভর বিক্রির ক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে।
অথবা তা মূল্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিক্রি হবে। যেমন বিক্রেতা বলল: প্রতি সা' এই মূল্যের বিনিময়ে। এ ধরনের বিক্রি মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাব মতে জায়েয। হানাফী মাযহাবের ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মতেও জায়েয। কিন্তু ইমাম আবু হানীফা বলেন, এ পদ্ধতিতে কেবল এক কাফীয বিক্রি জায়েয, আর বাকীগুলোতে বিক্রয় বাতিল বলে সাব্যস্ত হবে। কারণ, যে স্তূপের ওপর চুক্তি হয়েছে তার মোট পরিমাণ অজ্ঞাত।
শাফেয়ীগণ বলেন: যদি স্তূপের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়, যেমন বলা হয়, স্তূপে একশ সা' রয়েছে, এটি তোমার কাছে বিক্রি করলাম। প্রতি সা' এক দিরহাম মূল্যের বিনিময়ে। যদি বাস্তবে স্তূপে একশ সা' থাকে তাহলে বিক্রি জায়েয। কারণ, মোটামুটি ও বিস্তারিত বিবরণের মাঝে মিল রয়েছে। যদি স্তূপে একশ সা' না থাকে, বেশী বা কম হয়, তাহলে বিশুদ্ধ অভিমত হলো, বিক্রি সহীহ হয় না। কারণ, মোটামুটি ও বিস্তারিত বিবরণের মাঝে সমন্বয় সম্ভব নয়। দ্বিতীয় অভিমত হলো, তা-ও সহীহ হবে।
পাত্র দিয়ে মাপযোগ্য জিনিস ওজন করে বিক্রি করা জায়েয। ঠিক এর উল্টোটিও জায়েয। এটি মোটামুটি সে সকল পণ্যে যেগুলো সুদী পণ্য নয়, যেগুলোতে বেশকম করে বিক্রি হারাম নয়, যেহেতু বেশকম করে বিক্রি করতে হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে সুদী বস্তুতে। ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে পরিচিত বিশেষ পাল্লা বা পরিমাপযন্ত্রের দ্বারাও বিক্রয় জায়েয, যদিও তা জনগণের মাঝে অপরিচিত থাকে। এমন পরিমাপপাত্র যা ছোট-বড় হয় তা দ্বারা বিক্রয় জায়েয নয়। তবে মশক দ্বারা পানি বিক্রির বিধান তা হতে ভিন্নতর। সমাজে চালু থাকার কারণে কিয়াসের বিপরীতে তা জায়েয। হানাফীগণ এ কথা বলেছেন।
তৃতীয়ত: পণ্যের অন্তর্ভুক্তি
পণ্যের অধীন বস্তুসমূহ: মূল জিনিস এবং তার উপকারিতায় বিক্রয় আরোপ হয়। বিক্রির দাবি হলো, পণ্যের বিক্রিতে তার সাথে সম্পর্কিত জিনিসও আওতাভুক্ত হবে; তা থেকে কাঙ্ক্ষিত লাভ বাস্তবায়নের নিমিত্তে। অথবা সমাজেরও প্রচলন হলো, বিক্রিকালে তার সাথে সংশ্লিষ্ট জিনিস অন্তর্ভুক্ত হবে; চুক্তিকালে অন্তর্ভুক্তির কথা উল্লেখ না করা হলেও। কারণ মূল জিনিস হতে তার সংশ্লিষ্ট জিনিস পৃথক না করলে তা এমনি এমনি পৃথক হয় না। হানাফীগণের মতে পণ্যের আওতাভুক্ত জিনিসপত্র
ক. পণ্যের নাম বললে তার সাথে তা অন্তর্ভুক্ত হয়, যা উক্ত পণ্যের অংশ বলে বিবেচিত হয়। ফলে বাড়ি বিক্রিতে তার কক্ষসমূহ অন্তর্ভুক্ত হয়। গুদাম বিক্রি করলে তার সকল ধাপ তাতে শামিল থাকে।
খ. বিক্রির উদ্দেশ্যের প্রতি লক্ষ করলে পণ্য হতে যা বিচ্ছিন্ন হয় না। ফলে তালা বিক্রি করলে তাতে চাবিও অন্তর্ভুক্ত হয়।
গ. পণ্যের সাথে যা স্থায়ীভাবে জড়ানো থাকে এবং স্থায়ীরূপে যা নির্মিত হয় যেমন: ঘর বিক্রিতে দরজাসমূহও অন্তর্ভুক্ত হয়।
ঘ. সমাজে যে জিনিস পণ্যের অধীন বলে বিবেচিত হয়। যেমন: উট বিক্রি করলে লাগামও তার সাথে যুক্ত হয়। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো, এসকল জিনিস সমাজে এ রূপেই বিবেচিত হয়। দেশভেদে তা ভিন্নতর হয়। কোনো এলাকায় কোনো কিছু বিক্রয়ে তার অধীন বলে যা বিবেচিত হবে চুক্তিকালে তা বিক্রিতে অন্তর্ভুক্ত হবে, যদিও তা অন্য দেশে বিক্রির অধীন বলে গণ্য হয় না। এ কারণে ইবনে আবিদীন যাখীরা গ্রন্থের সূত্রে ঘর বিক্রি সম্পর্কে বলেন, এ ক্ষেত্রে বিধান হলো, যা গৃহের ভিত্তি সম্পর্কিত নয় এবং এর সাথে মিলিতও নয়, তা গৃহ বিক্রিতে অন্তর্ভুক্ত হবে না। হ্যাঁ, যদি সমাজে প্রচলিত থাকে, বিক্রেতা ক্রেতাকে এমন জিনিস হতে বারণ করে না, তাহলে তা অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমন চাবি কিয়াসের বিপরীত তালা বিক্রিতে অন্তর্ভুক্ত হয়, যদিও তা তালার সাথে জড়ানো থাকে না, কিন্তু সমাজের প্রচলন অনুযায়ী চাবি অন্তর্ভুক্ত হয়। অতঃপর ইবনে আবিদীন বলেন, আমাদের দামেশকের রীতি অনুযায়ী বাড়ির পানির কূপ বাড়ি বিক্রিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। মিসরের কায়রো শহরের রীতি অনুযায়ী বাড়ি বিক্রির চুক্তিতে মই অন্তর্ভুক্ত করা হতে, উত্তম হলো দামেশকের বাড়িতে পানির কূপ অন্তর্ভুক্ত করা। এর কারণ, দামেশকের রীতি হলো, কোনো বাড়িতে যদি পানি চলমান থাকার পর তা বন্ধ হয়ে যায়, তারা এ বাড়ি বর্জন করে, তা আর তারা ব্যবহার করে না। এমনি অবস্থায় যখন ক্রেতা জানতে পারবে যে, বিক্রয় চুক্তির দ্বারা সে পানি ব্যবহারের অধিকারী হবে না, সে বাড়ি ক্রয়ে আগ্রহ বোধ করবে না। হ্যাঁ, যদি পানিওয়ালা বাড়ি হতে সে বাড়িটি অনেক কম মূল্যে পায় তাহলে ভিন্ন দৃষ্টিতে ক্রয় করতে পারে।
বায় চুক্তিতে কোন্ জিনিস পণ্যের অধীন হয় আর কোন্ জিনিস অধীন হয় না? এ সম্পর্কিত কায়দা বর্ণনা করেছেন আল্লামা আল-কারাফী। কতিপয় অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সকল বিষয়ে আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো মূল জিনিসের অধীন হয়। এগুলো সমাজের রীতি অনুযায়ী পাল্টে গেলে তার বিধানও পাল্টে যাবে। তবে পরাগ সংযোগকৃত গাছের ফল যে মূল বৃক্ষের অধীন হয় তা দলিল ও কিয়াসের ভিত্তিতে। তা পরিবর্তনযোগ্য নয়। বাকীগুলোতে সময়ের বিবর্তনে প্রচলন ও রীতিনীতি পাল্টে গেলে বিধানও পাল্টে যাবে। যেমন: মুদ্রা সময় ও যুগের বিবর্তনের অধীন হয় এবং যুগের বদলে তাতে পরিবর্তন হয়। চুক্তি করলে যে সকল জিনিস স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়, আর শাব্দিক অর্থও তার দাবি করে, যুগের পরিবর্তনে তার মাঝে পরিবর্তন সাধিত হয় না। সেখানে এ কথা বলা হয় না যে, সমাজ তার দাবি করে।
ঐ সকল জিনিস পণ্যের অধীন হওয়া বলতে বোঝায়, পণ্যের যে মূল্য আছে তার সাথেই সেগুলো যুক্ত হবে। এটি নয় যে, এর জন্য মূল্যের একটি অংশ আলাদা থাকবে। কারণ কায়দা হলে أَنْ كُلِّ مَا يَدْخُلَ فِي الْمَبِيعِ تَبَعًا لَا حِصَّةَ لَهُ مِنَ الثَّمَنِ "অধীন হিসেবে পণ্যে যা অন্তর্ভুক্ত হয় মূল্যে তার কোনো অংশ থাকে না।"
পণ্যের গুণের ক্ষেত্রে এ ধরনের মত হানাফী ফকীহদের। তাই চুক্তির পর হস্তগত করার পূর্বে পণ্যের গুণ নষ্ট হয়ে গেলে ক্রেতার এর বিপরীতে মূল্য হ্রাস করার কোনো অধিকার নেই। তবে তার এখতিয়ার থাকবে গ্রহণ করার বা ভঙ্গ করার। এটাকে বলা হয় গুণ হাত ছাড়া হওয়ার এখতিয়ার। তবে হ্যাঁ, মূল পণ্যের কোনো কিছু নষ্ট হয়ে গেলে ক্রেতার অধিকার থাকে সে পরিমাণ মূল্য হ্রাস করার।
শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহদের মত, বাড়ি বিক্রিকালে যা কিছু স্থায়ীভাবে যুক্ত করে নির্মিত সেগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমন পাকা বাড়ি, পাকা তাক ও দেয়াল-আলমারি ইত্যাদি। যেগুলো এমনভাবে সংযুক্ত নয়, হাম্বলী ফকীহদের মতে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত নয়। এটিও শাফেয়ীদের একটি মত। তাদের অন্য মতে এগুলোও অন্তর্ভুক্ত।
পণ্য হতে পৃথক করা
পণ্য হতে পৃথক করার বিধান দলিল ও কায়দার ভিত্তিতে হয়ে থাকে। কিছু কিছু বিষয়ে ফকীহবৃন্দ একমত, আর কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন। এ বিতর্ক নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে হয়ে থাকে। এ সম্পর্কে দলিল হলো ইমাম তিরমিযী কর্তৃক বর্ণনাকৃত হাদীস : نَهَى عَنِ الدُّنْيَا إِلَّا أَنْ تُعْلَمَ "নবী করীম সা. পণ্য হতে পৃথক করতে নিষেধ করেছেন। তবে কতটুকু তা জানা হলে করা যেতে পারে।" কায়দা হলো: أَنَّ كُل مَا يَجُوزُ بَيْعُهُ مُنْفَرِدًا يَجُوزُ اسْتَنَاؤُهُ ، وَمَا لَا يَجُوزُ إِيمَاعُ الْبَيْعِ عَلَيْهِ بِالْفِرَادِهِ لَا يَجُوزُ اسْتَنَاؤُهُ "যে জিনিস এককভাবে বিক্রয় করা জায়েয তা পণ্য হতে পৃথক করা জায়েয। এককভাবে যে জিনিস বিক্রয় করা যায় না, তাকে পণ্য হতে পৃথক করা ও জায়েয হয় না।”
সেই সাথে কোন জিনিসটি পৃথককৃত তা জানা থাকতে হবে। কারণ, তা অজ্ঞাত থাকলে অবশিষ্ট পণ্যের ব্যাপারেও অজ্ঞতার প্রশ্ন উঠবে, ফলে বায়-ই শুদ্ধ হবে না।
প্রাণীর গর্ভস্থ ভ্রূণ পৃথক করা এবং বিক্রয় হতে তা বাদ রাখা জায়েয নয়। কারণ, স্বতন্ত্রভাবে তার বিক্রয় জায়েয নয়। এটি হানাফী, মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের অভিমত। তবে ইমাম আহমদ রহ.-এর পক্ষ হতে তা বৈধ হওয়ার একটি অভিমত পাওয়া যায়। ইমাম হাসান, নাখায়ী, ইসহাক ও আবু ছাওর অনুরূপ অভিমত পোষণ করেন। কারণ, ইবনে উমর রা.-এর নিকট হতে নাফে বর্ণনা করেছেন, ইবনে উমর রা. তাঁর দাসীকে বিক্রি করলেও তার গর্ভস্থ সন্তান তা থেকে পৃথক করেছিলেন। এ ছাড়া যুক্তিও রয়েছে তার বৈধতার পিছনে। কারণ, দাসীকে আজাদ করার সময় তার গর্ভস্থ বাচ্চাকে পৃথক করা জায়েয হয়। এমনিভাবে বিক্রয়কালে তার গর্ভস্থ বাচ্চাকে পৃথক করা এবং বাদ রাখা জায়েয হবে।
অনুরূপ যে কোনো অজ্ঞাত জিনিসের পৃথকীকরণ সহীহ হয় না। যেমন: পাল হতে অজ্ঞাত কোনো বকরীকে পৃথক করা। বাগানের অনির্দিষ্ট কোনো গাছ বাদ দিয়ে বাগান বিক্রি জায়েয নয়। কারণ, জানাশোনা জিনিস হতে অজানা জিনিস পৃথক করার ফলে মূল জিনিসই অজানা হয়ে যায়। পৃথককৃত জিনিস নির্দিষ্ট করার পর অবশিষ্টটুকু বিক্রয় করা হলে সে বিক্রয় এবং তার পৃথককরণ বৈধ- এটি অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের অভিমত।
ইমাম মালেক রহ. কিছু বৃক্ষ বিক্রয় হতে পৃথক করাকে জায়েয মনে করেন- যদিও তা অনির্দিষ্ট হয়ে থাকে। ক্রেতা এ সময় সে গাছগুলো নির্বাচন করবে, এ শর্তে যে, পৃথককৃত গাছের ফল মোট ফলের এক-তৃতীয়াংশ বা তার চেয়েও কম হবে, আর বাগানের সকল ফলের রঙ একই হবে। কারণ, এক্ষেত্রে ধোঁকার আশঙ্কা থাকে হালকা।
নির্দিষ্ট পরিমাণ বাদ দিয়ে ফল বিক্রয় জায়েয নয়। কারণ, রাসূলুল্লাহ সা. বিক্রয় হতে পৃথক করাকে নিষেধ করেছেন। আরও কারণ যে, নির্দিষ্ট পরিমাণ বাদ দেওয়ার পর বাকীটুকু অজ্ঞাত থেকে যায়। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব, শাফেয়ী, আওযায়ী, ইসহাক, আবু সাউর প্রমুখ ইমামগণ এ অভিমত পোষণ করেন। আবুল খাত্তাব ছাড়া অন্য হাম্বলী ফকীহগণও এরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আর হানাফীদের মধ্য হতে হাসান ও তাহাবী হতেও এর পক্ষে অভিমত রয়েছে।
এক-তৃতীয়াংশ বা তার চেয়ে কম পৃথক করা হলে ইমাম মালেকের মতেও তা জায়েয। জায়েয হওয়াই হানাফীগণের প্রসিদ্ধ অভিমত, ইবনে সীরীন, সালিম ইবনে আবদিল্লাহ ও হাম্বলী ফকীহ আবুল খাত্তাবের অভিমতও তাই। কারণ সে যা পৃথক করেছে তার পরিমাণ নির্দিষ্ট।
নির্দিষ্ট অংশ যেমন: এক-তৃতীয়াংশ বা চতুর্থাংশ পৃথক করা জায়েয। কারণ এর ফলে পৃথককৃত জিনিস এবং যা হতে পৃথক করা হয়েছে কোনোটিই অজ্ঞতার প্রতি ধাবিত হয় না। এ কারণে তা নির্দিষ্ট বৃক্ষ ক্রয়ের মতো হয়ে গেল। আবুবকর ও হাম্বলী মাযহাব অনুসারী ইবনে আবু মুসা বলেন, এটি জায়েয হবে না।
হাম্বলীগণের মতে যে প্রাণীর গোশত খাওয়া যায় তার মাথা, পা, চামড়া ও পরিত্যক্ত অঙ্গগুলো বাদ দিয়ে ঐ প্রাণী বিক্রি জায়েয। ইমাম মালেকের মতে কেবল সফরে এ ধরনের বিক্রি জায়েয। কারণ সেখানে এগুলোর কোনো মূল্য না পাওয়া যেতে পারে। আর মুকীম অবস্থায় তিনি একে মাকরূহ মনে করেন। তা ছাড়া চামড়া ও বর্জ্য বস্তু দ্বারা মুসাফিরের উপকৃত হওয়া সম্ভব নয়। জায়েয হওয়ার দলিল হলো, রাসূলুল্লাহ সা. অজ্ঞাত জিনিসের পৃথককরণকে নিষেধ করেছেন, অথচ এ জিনিসগুলো জ্ঞাত।
আরো বর্ণিত আছে: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا هَاجَرَ إِلَى الْمَدِينَةِ وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعَامِرُ بْنُ فُهَيْرَةَ مَرُّوا بِرَاعِي غَنَمٍ فَذَهَبَ أَبُو بَكْرٍ وَعَامِرٌ فَاشْتَرَيَا مِنْهُ شَاةً . وَشَرَطَا لَهُ سَلَبَهَا أَيْ جِلْدَهَا وَأَكَارِعَهَا وَبَطْنَهَا
রাসূলুল্লাহ স. যখন আবু বকর রা. ও আমের ইবনে ফুহায়রা রা.-কে নিয়ে মদীনার উদ্দেশে সফর করেন, তাঁরা এক বকরী-রাখালের পাশ দিয়ে যান। আবুবকর ও আমের রা. তখন ঐ রাখালের কাছ থেকে একটি বকরী কিনেন। সে সময় তারা তাকে বকরীর চামড়া, পা ও পেট ফেরত দেওয়ার শর্ত করে ছিলেন।
হানাফী ও শাফেয়ীগণের মতে তা জায়েয নয়।
বিক্রয়কালে পণ্য হতে কোনো কোনো বস্তু পৃথক করার বিষয়টি ফকীহদের কেউ কেউ যথাযথ শর্ত হিসেবে গণ্য করে একে জায়েয মনে করেছেন। আর এ ধরনের শর্ত করে বেচাকেনাকেও জায়েয বলে অভিমত দিয়েছেন। অন্যরা একে ফাসেদ শর্ত মনে করেন, ফলে তারা শর্ত আরোপকে বাতিল আর এ ধরনের শর্ত করে বেচাকেনাও বাতিল বলে রায় দেন।
এর একটি উদাহরণ হলো, কেউ ঘর বিক্রয় করেছে, কিন্তু তাতে এক মাস বসবাস করার বিষয় বিক্রি থেকে পৃথক রেখেছে। এ ধরনের বিক্রয় মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের ফকীহগণ বৈধ মনে করেন। এক্ষেত্রে তারা অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গ্রহণ করেন জাবির রা.-এর হাদীস। তিনি রাসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট একটি উট বিক্রি করেছিলেন, আর তাতে শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন যে, মদীনা পর্যন্ত তিনি এ উটে সওয়ার হয়ে যাবেন। তাঁর বাক্যটি ছিল হুবহু এরূপ :بِعْتُهُ وَاسْتَثْنَيْتُ حُمْلَانَهُ إِلَى أَهْلِي "আমি তাঁর (নবী করীম স.)-এর কাছে উটটি বিক্রি করলাম এবং আমার পরিজনের কাছে পৌঁছা পর্যন্ত আরোহণকে পৃথক করলাম।"
হানাফী ও শাফেয়ী ফকীহবৃন্দের অভিমত, এ ধরনের বিক্রি জায়েয নয়। এ ক্ষেত্রে শর্ত ও বায় দুটিই বাতিল বলে গণ্য হবে। কারণ, তা বায়-এর সাথে সামঞ্জস্যহীন শর্ত হিসেবে বিবেচিত।
মৌলিক উপাদানের বিক্রয়
মৌলিক উপাদান বলে বোঝানো হয় যার ওপর অন্য জিনিস নির্ভরশীল। ইমাম নববী বলেন: মৌলিক জিনিস বলতে বৃক্ষ ও ভূমিকে বোঝায়। শারহু মুনতাহাল ইরাদাতে বলা হয়েছে, মৌলিক জিনিস বলতে ভূমি, ঘর-বাড়ি ও বাগানসমূহ বোঝায়। এ ধরনের জিনিস বিক্রয়কালে কোন্ জিনিস তার অধীন হয় আর কোন্ জিনিস অধীন হয় না, এ সম্পর্কে ফকীহসমাজ স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা করেছেন। যা সামনে আসছে।
ভূমি বিক্রয়: কোনো ব্যক্তি যখন ভূমি বিক্রি করে, তার এ বিক্রয়ে সে ভূমিতে থাকা বৃক্ষ ও ঘরবাড়িও অন্তর্ভুক্ত হয়। কারণ, এগুলো ভূমির সাথে স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকে, তাই এ সব ভূমির অধিকারভুক্ত। এ অভিমত সকল মাযহাবের ফকীহবৃন্দের। তবে শাফেয়ী মাযহাবের একটি অভিমত হলো, যদি কেবল জমি বিক্রয় করা হয়, আর তার সাথে সংশ্লিষ্ট জিনিসগুলোর কথা উল্লেখ করা না হয়, তাহলে ঘর ও বৃক্ষ তাতে অন্তর্ভুক্ত হবে না। কিন্তু তাদেরও মূল ও গৃহীত মত, সাধারণভাবে জমি বিক্রিতে তা অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমন শাফেয়ীগণ ভূমির অধীনস্থ বৃক্ষ বলে তাজা বৃক্ষ বুঝিয়ে থাকেন। শুকনো বৃক্ষ ভূমি বিক্রিতে অন্তর্ভুক্ত হয় না। ইবনুর রিফআ ও সুবকী এ বিষয়টি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন। আসনাবী বলেন, জমি বিক্রিতে বৃক্ষ কখনো অন্তর্ভুক্ত হয় না।
জমিতে সৃষ্ট পাথর ও প্রোথিত পাথর জমি বিক্রিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। কারণ, এগুলো ভূমিরই অংশ। জমিতে পোঁতা জিনিস জমি বিক্রয়ে অন্তর্ভুক্ত হয় না। বরং তার মালিক থাকে বিক্রেতা। কিন্তু কারাফী বলেন, পোঁতা জিনিস বিক্রয়ে অন্তর্ভুক্ত হয় কেবল এ কথার ভিত্তিতে যে, যে ব্যক্তি বাহ্যিক জমির অধিকারী হবে সে অভ্যন্তর ভাগেরও মালিক হবে। যদি জমিতে এমন ফসল হয় যা একাধিকবার কর্তনযোগ্য, এতে মূলের মালিক হবে ক্রেতা, আর বিক্রির সময় দৃশ্যমান কর্তিত অংশের মালিক হবে বিক্রেতা।
কোনো ব্যক্তি যখন বাড়ি বিক্রয় করে, তাতে ঘর, তার আশপাশ, রোপনকৃত বৃক্ষ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিস বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন সিঁড়ি, স্থায়ী তাক, দরজা ও স্থাপিত পেষণযন্ত্র। তবে পোঁতা ধনভাণ্ডার, রশি, বালতি, স্থানান্তরযোগ্য পাথর ও কাঠ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত হয় না।
বাড়ি বিক্রয়ে স্থিরমান তালার চাবি বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত হয় বলে হানাফী ও মালেকী ফকীহগণ মনে করেন। শাফেয়ী মাযহাবের বিশুদ্ধতম অভিমতও এরূপ। হাম্বলী মাযহাবের একটি অভিমতও তাই।
কোনো ব্যক্তি যখন বৃক্ষ বিক্রয় করে, এর ডাল, পাতা ও বৃক্ষের সর্বাংশ তাতে অন্তর্ভুক্ত হয়। কারণ এর সবটুকু গাছেরই অংশ, গাছের প্রয়োজনেই সৃষ্টি। বৃক্ষরোপণের স্থানও বৃক্ষ বিক্রিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় বলে মালেকী মাযহাবের ফকীহগণ মনে করেন। হানাফীদের সর্বসম্মত মতে যদি জমিতে রেখে দেওয়ার লক্ষ্যে কেউ বৃক্ষ ক্রয় করে তাহলে তাদের ঐকমত্যে সে বৃক্ষের জমিও ক্রয়ে অন্তর্ভুক্ত হবে। হাম্বলীগণের মতে অন্তর্ভুক্ত হবে না। শাফেয়ীগণের সহীহ অভিমত হলো এরই আলোকে। কারণ, গাছ শব্দটি জমি অন্তর্ভুক্ত করে না, এটি পণ্যের অধীনও নয়।
পরাগ সংযোগ করা হয়েছে এমন গাছে বা খেজুর বৃক্ষে যদি ফল আসে তাহলে সে ফলের মালিক হবে বিক্রেতা। হ্যাঁ, যদি ক্রেতা তা শর্ত করে নেয় তাহলে ভিন্ন কথা। কারণ, হাদীসে এসেছে: رَوَى ابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : مَنْ بَاعَ نَحْلاً قَدْ أَبْرَتْ فَتَمَرَتُهَا لِلْبَائِعِ ، إِلَّا أَنْ يَشْتَرِطَ الْمُبْتَاعُ "ইবনু উমার রা. বর্ণনা করেন, নবী স. বলেছেন, যে ব্যক্তি খেজুর বৃক্ষ বিক্রয় করে যা পরাগ সংযোগকৃত, এর ফল হলো বিক্রেতার। হ্যাঁ, যদি ক্রেতা শর্ত করে তাহলে ক্রেতার।"
গাছে যদি পরাগ সংযোগ না করা হয় তাহলে তা ক্রেতার। কারণ রাসূলুল্লাহ সা.-এর বাণী প্রমাণ করে পরাগ সংযোগ না হলে তা ক্রেতার। কারণ, গাছের ফল গর্ভের ন্যায়। এটি অধিকাংশ ফকীহের অভিমত।
হানাফীগণের মতে গাছে পরাগ সংযোগ করা হোক আর না হোক, গাছ বিক্রয়ে ফল অন্তর্ভুক্ত হয় না। এটিই সহীহ অভিমত। হ্যাঁ, যদি শর্ত করে নেয় তবে ভিন্ন কথা। পূর্বোক্ত হাদীস হলো এর দলিল। কিন্তু এক বর্ণনা অনুযায়ী তাতে পরাগ সংযোগের উল্লেখ করা হয়নি।
কোনো ব্যক্তি প্রাণী বিক্রয় করলে তার অধীন হয়ে যায় সে সব জিনিস, সমাজে এর অন্তর্ভুক্ত বলে যা কিছু মনে করা হয়। যেমন লাগাম, বেড়ী ও গদী। শাফেয়ীগণ প্রাণীর সাথে জড়ানো জিনিস ও অন্যান্য জিনিসের মাঝে পার্থক্য করেন। যেমন যেই আংটা প্রাণীর নাকে জড়ানো থাকে এবং পায়ের লোহার নাল, প্রাণীর বিক্রয়ে এসব অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিন্তু লাগাম, গদী ও বেড়ী অন্তর্ভুক্ত হয় না। কারণ প্রাণী শব্দটি এগুলো শামিল থাকা দাবি করে না।
ফল বিক্রয়
গাছ বাদ দিয়ে কেবল ফল বিক্রয় জায়েয হওয়ার মাসআলায় ফকীহগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তবে উপযুক্ত (بُدُوٌّ الصَّلاحِ) হওয়ার পূর্বে তা জায়েয নেই। উপযুক্ততা প্রকাশের সংজ্ঞায় ফকীহবৃন্দের মাঝে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশের অভিমত হলো, ফল পাকা ও মিষ্টি হওয়া প্রকাশিত হলে তা উপযুক্ততার প্রকাশ বলে ধরে নেওয়া হবে। পক্ষান্তরে হানাফীগণের অভিমত হলো, ঝরে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার পর্যায় অতিক্রম করলেই ফলের উপযুক্ততা প্রকাশিত হয়। জায়েয হওয়ার দলিল হলো:
نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الثَّمَرَةِ حَتَّى يَبْدُوَ صَلَاحُهَا .
"রাসূলুল্লাহ স. উপযুক্ততা প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে ফল বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।"
ইবনে কুদামা বলেন: এ হাদীস হতে প্রতিভাত হয়, উপযুক্ততা প্রকাশিত হওয়ার পর ফল বিক্রয় জায়েয। এ উক্তি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য- যারা বিপরীত অর্থ নেওয়াকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন। এ ছাড়া কায়দা হলো, যে বেচাকেনায় শর্ত পূরণ করা হয় তা জায়েয বলে বিবেচিত হয়।
এমনিভাবে ফল প্রকাশের পর উপযুক্ততা প্রকাশের পূর্বে তাৎক্ষণিক কেটে নেওয়ার শর্তে বিক্রয় জায়েয। এটি সবার মতে জায়েয হবে যখন ফল হতে উপকার লাভ সম্ভব বলে প্রতীয়মান হয়। তবে মালেকী মাযহাবের ফকীহগণ এ ক্ষেত্রে আরও দুটি শর্ত প্রদান করেছেন। এক. ক্রেতা-বিক্রেতা অথবা তাদের কোনো একজন বিক্রির মুখাপেক্ষী হবে। দুই, শহরের বেশিরভাগ মানুষ এ ধরনের বেচাকেনাতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একীভূত হয়ে সহায়তা করবে না।
গাছে রেখে দেওয়ার শর্তে অথবা রেখে দেওয়া বা কর্তন করার কোনো ধরনের শর্ত উল্লেখ ছাড়া সাধারণভাবে উপযুক্ততা প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে ফল বিক্রয় করা হলে অধিকাংশ ফকীহ যেমন: মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলীগণের মতে বিক্রয় বাতিল বলে গণ্য হয়। অনুরূপ বিধান হলো হানাফীগণের মতে যদি এ অবস্থায় গাছে রেখে দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়। কর্তন বা গাছে রেখে দেওয়ার কোনো শর্ত ছাড়া যদি বিক্রয় করে, তাহলে মাযহাব অনুসারীগণের ঐকমত্যের ভিত্তিতে তা জায়েয। যখন তা এ পর্যায়ের ফল হয় যে, তা দ্বারা উপকার লাভ সম্ভব হয়। বিশুদ্ধমত অনুযায়ী উপকার লাভের উপযুক্ত না হলেও এ বিক্রি সহীহ হয়। কারণ এটি একটি মাল, যা পরবর্তী পর্যায়ে উপকারী হবে, যদিও এখন তা উপকারী হয়নি। যদি গাছে রেখে দেওয়ার শর্ত করা হয় তাহলে বায় ফাসিদ হবে। গাছের সাথে যদি ফল বিক্রয় করা হয় তাহলে সকলের মতে তা জায়েয। কারণ তা মূল জিনিসের অধীন। বিস্তারিত শিরোনাম ثمر দ্র.
চতুর্থত: পণ্যের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি
ক. পণ্যের উপস্থিতি:
একথা স্বীকৃত যে, পণ্য নির্দিষ্টকরণ ও নির্ধারণের সবচেয়ে শক্তিশালী পদ্ধতি হচ্ছে ইশায়া বা ইঙ্গিত করা। এ কারণে পণ্য যখন চুক্তি সম্পাদনকারী দুপক্ষের সম্মুখে উপস্থিত থাকে এবং ইঙ্গিতের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করণ পূর্ণ হয় আর ক্রেতা পণ্যটি দেখে ও চিনে, তখন ক্রয়বিক্রয় আবশ্যক হয়ে যায়। যদি তা ক্রেতার খিয়ারের সকল কারণ হতে মুক্ত হয়, দেখার কারণ ব্যতীত।
পণ্যের গুণ বর্ণনা কালেই যদি এর প্রতি ইঙ্গিত করাও যুক্ত হয়, পরবর্তী সময়ে দেখা গেল, ক্রেতা যা দেখেছিল এবং তাতে তার সম্মতি প্রকাশ করেছিল, পণ্যটির গুণাগুণ এর বিপরীত। এমন হলে যতক্ষণ চুক্তি বলবৎ থাকবে ততক্ষণ, দেখার ও সম্মত হওয়ার পর চুক্তি পূর্ণ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে, শুধু গুণের দাবি করা যাবে না। এ বিষয়টি নিম্নোক্ত ফিকহী কায়দা (সূত্র) হতে প্রতিভাত হয়:
الْوَصْفُ فِي الْحَاضِرِ لَغْوٌ ، وَفِي الْغَائِبِ مُعْتَبَرُ “উপস্থিত পণ্যে গুণ বর্ণনা অনর্থক আর অনুপস্থিত পণ্যে তা ধর্তব্য।”
পণ্যের নাম ও ইঙ্গিতকৃত জিনিসের মাঝে যদি ভিন্নতা পাওয়া যায়, তাহলে উপরিউক্ত বক্তব্য কার্যকর হবে না। যেমন: এ ঘোড়াটি বিক্রি করছি বলে যদি কোনো উটনীর দিকে ইঙ্গিত করা হয়। এক্ষেত্রে নাম উচ্চারণই হবে ধর্তব্য। কারণ, নাম পণ্যের জাতিকে সীমিত করে। এখানে জাতি উচ্চারণে ভুল হয়েছে, গুণে নয়। নিয়ম হচ্ছে, জাতিতে ভুল করা অমার্জনীয়। কারণ এর দ্বারা পণ্য অস্তিত্বহীন হয়ে যায়। (তাই, এ ভুলের দরুন বিক্রি বাতিল হয়ে যাবে।)
কারাফী স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেন, বিক্রয়ে যদি শ্রেণী উল্লেখ করা না হয়, তাহলে সকলের মতে তা নিষিদ্ধ। যেমন : বিক্রেতা শুধু বলল, আমি তোমার কাছে একটি কাপড় বিক্রি করলাম।
উপরিউক্ত বিশ্লেষণ কার্যকর হয়, পণ্যের গুণ বর্ণনা আবশ্যক হয় না, যখন ক্রেতা পণ্যের গুণ উপলব্ধি করতে পারে। যদি পণ্যের গুণ গোপন থাকে অথবা গুণাগুণ পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়। যেমন গাভীর গুণ হিসাবে বলা হলো, এটি দুধাল; পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত হলো, তা দুধাল নয়। গুণের অনস্তিত্ব অবশ্যই মূল্যে প্রভাব সৃষ্টি করবে, যদি চুক্তিকালে তার শর্তারোপ করা হয়। এ ক্ষেত্রে পণ্য উপস্থিত ও ইঙ্গিতকৃত হলেও বিধান এরূপই হবে। কারণ, বিক্রেতার পক্ষ হতে গুণ ও বৈশিষ্ট্য বলা এখানে ধর্তব্য। গুণ যদি অনুপস্থিত হয় তাহলে ক্রেতার এখতিয়ার থাকবে। একে গুণ অনুপস্থিতির অধিকার বলে। গুণের অনুপস্থিতির দরুন খিয়ারের উপযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে পণ্যের উপস্থিত থাকা আর না থাকা উভয়ই সমান। বিস্তারিত শিরোনাম : خيَارِ الْوَصف
খ. পণ্যের অনুপস্থিতি
পণ্য যখন অনুপস্থিত থাকে তখন তা সুস্পষ্টভাবে গুণ বর্ণনার দ্বারা ক্রয় করা হয়। যেমনটি বায় সালামে করা হয়। অথবা ক্রয় করা হয় গুণ বর্ণনা ছাড়াই, বরং পণ্যের স্থানের দিকে ইঙ্গিত করে কিংবা এমন সম্পর্ক করে যার ফলে পণ্য অন্য বস্তু হতে পৃথক হয়ে যায়।
গুণ বর্ণনার মাধ্যমে যদি বিক্রি সম্পন্ন হয়, অতঃপর পণ্যটি যদি দেখার পর বিবরণের সাথে মিলে যায়, তাহলে ক্রয় আবশ্যক হয়ে যাবে। অন্যথায় ক্রেতার জন্য অধিকাংশ ফকীহের মতে কথা ভঙ্গের এখতিয়ার থাকবে। যাকে ফিকহী পরিভাষায় খিয়ারুল খুলফ (خيارُ الْخُلْف) বলে। হানাফীগণের মতে ক্রেতার এক্ষেত্রে (خيار السووية) খিয়ারুর রুইয়ত বা দেখার অধিকার থাকবে। অর্থাৎ দেখার পর পণ্য গ্রহণ বা বর্জনের এখতিয়ার থাকবে। বিস্তারিত দ্রষ্টব্য خِيَارُ الْوَصْف ، خِيَارُ الرُّؤْيَةِ শিরোনাম।
পণ্যের নমুনা বা মডেলের ভিত্তিতে যদি ক্রয় পূর্ণ হয়ে যায় আর পণ্যটি মডেলের বিপরীত না হয়, তাহলে ক্রেতার দেখার অধিকার থাকবে না। গুণ বর্ণনার মাধ্যমে অনুপস্থিত পণ্যের বিক্রয় বৈধ বলে হানাফী, মালেকী ও হাম্বলী ফকীহ গণ অভিমত প্রদান করেন। শাফেয়ী মাযহাবের যাহিরী রিওয়ায়াতের বিপরীত মতও তাই। হানাফীগণের মতে পূর্বে গুণ বর্ণনা না করলেও তা জায়েয। শাফেয়ীগণের এক উক্তিমতে গুণ বর্ণনা আবশ্যক। কারণ সর্বাবস্থায় ক্রেতার দেখার অধিকার রয়েছে- গুণের সাথে মিল হোক আর বিপরীত হোক এবং গুণের বিবরণ দেওয়া না হলেও ক্রেতার জন্যে এটি শরীয়তের পক্ষ থেকে অধিকার, এ ব্যাপারে শর্তারোপের প্রয়োজন হয় না। হাম্বলী মাযহাবের ফকীহগণ অনুপস্থিত দ্রব্যের বিক্রয় জায়েয মনে করেন এর গুণ বিবরণের মাধ্যমে, যেভাবে বায় সালাম বৈধ হয়। তবে তাদের মতে বাস্তবতার সাথে যদি মিল না হয় তবে তখনই কেবল দেখার অধিকার থাকবে।
মালেকী মাযহাবের ফকীহদের মতে তিনটি শর্তে অনুপস্থিত দ্রব্যের বিক্রয় জায়েয। সেগুলো হলো:
ক. পণ্য এমন নিকটবর্তী স্থানে হবে না যে, বিনাশ্রমে তা দেখা সম্ভব। এ অবস্থায় পণ্যের অনুপস্থিতিতে বিক্রয় বাস্তবতার বিপরীত। ফলে ক্ষতির আশংকা থাকায় তা নাজায়েয।
খ. পণ্য এমন দূরে হবে না যে, হস্তান্তরের পূর্বে তা বদলে ফেলা যায় অথবা হস্তান্তর করা অসম্ভবের পর্যায়ে হয়।
গ. বিক্রেতা বর্ণনা করবে সে সকল গুণাবলি যা এ পণ্যের উদ্দেশ্যের সাথে সম্পৃক্ত, বায় সালামের মাঝে যেভাবে বর্ণনা করা হয়।
শাফেয়ী মাযহাবের অধিক গ্রহণযোগ্য অভিমত হলো, অনুপস্থিত দ্রব্যের বিক্রয় জায়েয নয়। উল্লেখ্য যে, অনুপস্থিত পণ্য বলতে বোঝায়, জিনিসটি ক্রেতা ও বিক্রেতা অথবা তাদের কোনো একজন দেখেনি, যদিও তা হয়তো উপস্থিতই আছে। তারা নাজায়েয বলার কারণ, ধোঁকার বিক্রয় হতে রাসূলুল্লাহ স. নিষেধ করেছেন।
ক্যাটালগ (এমন রেজিস্টার, যেখানে পণ্যের গুণাবলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে) ধরে বিক্রি করা অথবা নমুনা দেখিয়ে বিক্রি করা, যেমন এক সা' দেখিয়ে এক স্তুপ বিক্রি করা এ শর্তে যে, এ স্তূপ ঐ দেখানো সা'-এর অনুরূপ হবে, তাহলে হানাফী ফকীহদের মতে এ বিক্রি বৈধ। এটি হাম্বলী ফকীহদের একটি মত, পূর্বে বর্ণিত কারণ সামনে রেখে যেটিকে সঠিক বলে মাওয়ারদী বলেছেন। এটিই মালেকী ফকীহদের মত। তবে হাম্বলী ফকীহদের বিশুদ্ধতম বর্ণনামতে এমন বিক্রি বৈধ নয়। শাফেয়ী ফকীহদের মতে এমন বিক্রি বৈধ ঐ ক্ষেত্রে, যখন বিক্রেতা বলে, এ ঘরে যে গম আছে আমি তোমার কাছে তা বিক্রি করলাম, আর এই দেখো এগুলো হল ঐ গমের নমুনা, তাহলে বিক্রি সহীহ হবে এবং নমুনা গমও বিক্রির অধীন হবে।
মালেকী মাযহাধমতে এ বিষয়ের মাসআলায় বিশদ বিষয়ণ রয়েছে, যদি প্রকাশিত হয় যে, নমুনা পাত্রের মাপের চেয়ে মূল পণ্যে কমবেশ রয়েছে। এ জন্য ظُهُورُ الْمَبِيعِ زَائِدًا أَوْ نَاقِصًا 'পণ্য কম যা বেশি প্রকাশিত হওয়া।'
পঞ্চমত: হস্তগত করার পূর্বে কমবেশি প্রকাশিত হওয়া
পণ্যে যখন বেশি যা কম হওয়া প্রকাশিত হবে তার বিধান হবে ভিন্ন ভিন্ন, পণ্যের বিক্রয় পরিমাণনির্ভর অথবা অনুমাননির্ভর হওয়া হিসেবে। অনুমাননির্ভর হলে তাকে বায়'উল জুযাফ (بيع الْجُرَاف) বা আল-মুজাযাফাহ (الْمُجَازَفَة) বলে। এর অপর নাম বায়'উস সুব্রাহ (بیع الصبرة) বা স্তূপ বিক্রয়। ক্যাটালগ বা নমুনা হিসাবে যে বিক্রি হয় তার কতক এ অনুমাননির্ভর বিক্রির অন্তর্ভুক্ত, যেহেতু প্রোগ্রামে যা লেখা থাকে তার বিপরীতও প্রকাশিত হয়।
ক. অনুমাননির্ভর বিক্রি (بَيْعُ الْجُزَاف)
অনুমানের ভিত্তিতে বেচাকেনা হলে, তাতে ক্রেতার বা বিক্রেতার প্রত্যাশার বিপরীত কমবেশি প্রকাশিত হলে বিক্রিতে এর প্রভাব পড়বে না। বিস্তারিত জানতে দ্রষ্টব্য শিরোনাম بَيْعُ الْجُزَافِ
খ. পরিমাপযোগ্য জিনিসের ক্রয়বিক্রয় (بَيْعُ الْمُقَدَّرَاتِ)
পাত্রের মাপ, ওজন, গজ কিংবা গণনার মাধ্যমে পরিমাপযোগ্য জিনিস বিক্রি করার পর তাতে বেশি অথবা কম প্রকাশিত হলে পণ্যের ধরন দেখতে হবে, পণ্যটি অংশ অংশ করে ভাগ করলে তাতে ক্ষতি সাধিত হয় কি না। অনুরূপ যে মূল্যের ওপর বিক্রয় সম্পন্ন হয়েছে তার প্রতিও তাকাতে হবে, তা সম্পূর্ণ পণ্য হিসাবে, না-কি অংশের ভিত্তিতে বিস্তৃত।
বিভিন্ন অংশে ভাগ করলে যদি পণ্যের ক্ষতি না হয়। যেমন পণ্যটি পাত্র দ্বারা পরিমাপযোগ্য বা ওজনযোগ্য কিংবা গজের হিসেবে বিক্রয়যোগ্য হলে, যেমন থান কাপড়, এসব জিনিসে পণ্যে বেশি প্রমাণিত হলে তা বিক্রেতার জন্য বিবেচিত হবে। আর কম হলে হিসাব অনুযায়ী কম হবে। যে সকল জিনিস গণনাযোগ্য এবং কাছাকাছি আকারের সেগুলোরও এ বিধান, তখন মূল্য বিস্তারিত ভাবে বলা হয়েছে কি-না তা জানা আবশ্যক হবে না।
মূল্য যদি বিস্তারিত ভাবে নির্ণীত হয়, যেমন কেউ বলল, প্রতি হাত এক দিরহাম, এরূপ ক্ষেত্রে যা বেশি হবে তা বিক্রেতার, আর কম হলেও দায় তার। সে ক্ষেত্রে অংশ অংশ করলে তা ক্ষতিকর কি-না, তা দেখার প্রয়োজন নেই।
মূল্য যদি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত না হয়, আর পণ্য হয় এরূপ যে, অংশ অংশ করলে তাতে ক্ষতি সাধিত হয়, যেমন শাড়ি, লুঙ্গি, তাহলে বাড়তি অংশ ক্রেতার আর কম হলেও দায় তারই, এতে মূল্যের কোনো হেরফের হবে না। তবে পণ্যে কম হওয়ার ক্ষেত্রে ক্রেতার অধিকার থাকবে।
এর কারণ, যে বস্তু অংশ অংশ করা হলে ক্ষতি হয় না সে বস্তুতে পরিমাণ করা হলে প্রতিটি পরিমাণ একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর যে বস্তু অংশ অংশ করলে বস্তুটির ক্ষতি হয় সেক্ষেত্রে পরিমাণ বিবেচিত হয় একটি গুণ হিসেবে। আর বস্তুর গুণের বিপরীতে কোন মূল্য সাব্যস্ত হয় না। বরং গুণগত পরিবর্তনের কারণে চুক্তি বহাল রাখা বা না রাখার খিয়ার সাব্যস্ত হয়। বিক্রিচুক্তি হতে বিচ্ছিন্ন হওয়ার এ সকল বিশ্লেষণ হানাফী মাযহাবের ভিত্তিতে।
সহীহ উক্তি অনুযায়ী শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহদের মতে পরিমাপযোগ্য পণ্যে যখন বেশি বা কম হওয়া প্রকাশিত হয়, তখন বিক্রি বাতিল হয়ে যায়। এটি হাম্বলী মাযহাবের একটি অভিমত। কারণ বিক্রেতাকে বেশি হস্তান্তরে বাধ্য করা সম্ভব নয়। ক্রেতাকেও কম গ্রহণে বাধ্য করা সম্ভব নয়।
মালেকী মাযহাবের এ বিষয়ে কিছুটা বিশ্লেষণ রয়েছে। তাদের মতে পণ্যের স্বল্পতা যদি সামান্য হয় তাহলে ক্রেতার জন্য আবশ্যক হবে মূল্যের হিসাব করে যেটুকু বিদ্যমান তা গ্রহণ করা। আর যদি বিরাট হারে কম হয় তাহলে মূল্যের হিসাব করে তা গ্রহণ বা বর্জনের অধিকার থাকবে। কেউ কেউ মনে করেন, এটি পণ্যের গুণসদৃশ। তাই পণ্যের পরিমাণ যদি বেশি হয় তাহলে সেটি ক্রেতার প্রাপ্য, আর যদি কম হয় তাহলে ক্রেতার অধিকার থাকবে পূর্ণ মূল্যে গ্রহণ করার বা বিক্রি প্রত্যাহার করার।
পণ্য কম বা বেশি হওয়ার বিধান সম্পর্কিত শাফেয়ী ফকীহদের বিশুদ্ধ মতের বিপরীত মত হলো, ইশারার কারণে বিক্রি সহীহ হবে। এরপর এ বিষয়ে তারা নিজ মাযহাবের মত বিশ্লেষণ করেছেন। তা এই যে, যদি বিক্রেতা গুচ্ছ পণ্যের বিপরীতে গুচ্ছ মূল্য উল্লেখ করে, যেমন সে বলল, আমি তোমার কাছে স্তূপটি বিক্রি করছি একশ দিরহামের বিনিময়ে এ শর্তে যে, এতে একশটি অমুক পণ্য রয়েছে, তাহলে কম বা বেশি হলেও বিক্রি সহীহ হবে। আর যার ক্ষতি হবে তার অধিকার থাকবে, সে চুক্তি বহাল রাখবে বা বাতিল করবে।
তবে যদি অংশের বিপরীতে অংশ উল্লেখ করে, যেমন সে বলল, আমি তোমার কাছে স্তূপটি বিক্রি করলাম প্রত্যেক সা' এক দিরহাম, এ শর্তে যে, এতে একশ সা' রয়েছে, এরপর যদি কম বা বেশি হয় তাহলেও ফকীহ আসনাভী-র মতে বিক্রি সহীহ হবে। আর মাওয়ারদী বলেন, যদি কম হয় তাহলে বিক্রি সহীহ হবে। কিন্তু যদি বেশি হয় তাহলে তাতে পূর্ববর্ণিত মতভেদ অনুসারে বিধান হবে। তা হলো, বিশুদ্ধ বর্ণনা অনুসারে বিক্রি বাতিল হবে। অথবা বিক্রি সহীহ হবে, যেমনটা বিশুদ্ধ বর্ণনার বিপরীত মত।
ইবনে কুদামা উল্লেখ করেন, যখন বিক্রেতা বলে, আমি তোমার কাছে এ জমি অথবা এ কাপড় বিক্রি করলাম এ শর্তে যে, এখানে দশ গজ রয়েছে। অতঃপর দেখা গেল এখানে এগারো গজ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দু'টি অভিমত রয়েছে:
এক. বিক্রি বাতিল। কারণ বিক্রেতাকে বাধ্য করা সম্ভব নয় বাড়তিটুকু হস্তান্তর করতে, কারণ সে তো দশ হাত বিক্রয় করেছে। ক্রেতাকেও কিছু অংশ গ্রহণ করতে বাধ্য করা যাবে না। কারণ সে গোটা জিনিসটি ক্রয় করেছে। অংশীদার থাকাতেও তার জন্য ক্ষতি রয়েছে।
দুই. চুক্তি সহীহ, বাড়তি অংশটুকু হবে বিক্রেতার। ক্রেতার এ ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতি নেই। তাই বিক্রি শুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।
অতঃপর বিক্রেতার এখতিয়ার থাকবে, বাড়তিসহ হস্তান্তরের অথবা দশ গজ হস্তান্তরের। যদি সে গোটা পণ্য হস্তান্তরে সম্মত হয় তাহলে ক্রেতার বর্জন করার কোনো অধিকার নেই। কারণ বেশি দেওয়া তো ভালো। যদি সে বাড়তি অংশসহ দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে ক্রেতার অধিকার থাকবে বিক্রি প্রত্যাহার করার অথবা মূল্য দিয়ে পণ্য গ্রহণ করার বাড়তিসহ। যদি বাড়তি বাদে শুধু পণ্য গ্রহণ করতে চায় তাহলে দশ হাত গ্রহণ করবে আর বিক্রেতা এক হাতে তার অংশীদার হয়ে যাবে।
এ অবস্থায় বিক্রেতার বিক্রি প্রত্যাহার করার এখতিয়ার থাকা বা না থাকার ব্যাপারে দুধরনের অভিমত পাওয়া যায়।
এক. তার প্রত্যাহারের অধিকার থাকবে। কারণ এক হাতের মধ্যে অন্যের সাথে অংশীদার হওয়ায় তার ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকে।
দুই. বিক্রেতার কোনো এখতিয়ার নেই। ইবনে কুদামা এ অভিমতকে শক্তিশালী বলে অভিহিত করেছেন।
পণ্য যদি দশ হাতের স্থলে নয় হাত প্রকাশিত হয়, তাহলে এক্ষেত্রে দু'টি অভিমত রয়েছে:
এক. পূর্বে বর্ণিত কায়দার ভিত্তিতে বায় বাতিল হবে।
দুই. বায় সহীহ হবে, তবে ক্রেতার এখতিয়ার থাকবে বায় প্রত্যাহার করার অথবা মূল্যের এক-নবমাংশের দ্বারা গ্রহণ করার।
যদি কেউ ক্রয় করে এ শর্তে যে, এ স্তূপে দশ কাফীয রয়েছে। অতঃপর প্রকাশিত হলো, এতে এগার কাফীয রয়েছে। তাহলে সে বাড়তিটুকু ফেরত দেবে, এ ক্ষেত্রে গ্রহণ বা বর্জনের তার কোনো অধিকার নেই। যেহেতু এ বাড়তিটুকুতে বিক্রেতার ক্ষতি সাধিত হবে। আর যদি প্রকাশিত হয়, এতে নয় কাফীয রয়েছে, তাহলে সে পরিমাণ মূল্যে সে তা গ্রহণ করবে।
যদি স্তূপের বেচাকেনায় পাত্রের মাপের কথা উল্লেখ করা হয়, তাহলে ক্রেতা কেবল পাত্রের মাপ দ্বারাই তা গ্রহণ করবে। যদি স্তূপে বাড়তি থাকে তাহলে তা ফেরত দেবে। আর যদি কম হয় তাহলে মূল্যের অংশ হিসেবে গ্রহণ করবে। কম হলে ক্রেতার গ্রহণ বা বর্জনের এখতিয়ার থাকে কি-না? এ ব্যাপারে দু'টি অভিমত রয়েছে।
এক. তার অধিকার থাকে। দুই, তার কোনো অধিকার থাকে না।
টিকাঃ
৫৯. শারহুল মাজাল্লা, ধারা ২০৪; মিনাহুল জালীল, খ. ২, পৃ. ৪৮৬; আশ শারহুস সাগীর, খ. ২, পৃ. ৬ প্রকাশক : হালাবী; আল-কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ১৬১; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৬৩; আল-মাজমূ শারহুল মুহাযযাব, খ. ৯, পৃ. ২৭৫
৬০. শারহুল মাজাল্লা, ধারা ২০২; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১২১; আল- বাহজা শারহুত তুহফা, খ. ২, পৃ. ২৪; আল-কালয়ুবী, খ. ২, পৃ. ১৬৩; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৪৬
৬১. শারহুল মাজাল্লা, ধারা ২০১; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ৭; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৬৩-১৬৮; আল মুগনী, খ. ৪, পৃ. ১৪৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৬
৬২. শারহুল মাজাল্লা, ধারা: ২২০; আসহালুল মাদারিক, খ. ২, পৃ. ২৮১; খাবায়ায যাওয়ায়া, মাসআলা ১৮০, পৃ. ১৯৯; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৬; আল-কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ১৬১; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৭০
৬৩. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ৩০; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ৩৯; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২০৫
৬৪. শারহুল মাজাল্লা, ধারা ২২০; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ২৮; আল-হাত্তাব, খ. ৪, পৃ. ২৯৬; আল-বাহজা, খ. ২, পৃ. ১৯; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৬৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৮
৬৫. শারহুল মাজাল্লা, ধারা: ২২০; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ২৮; মিনাহুল জালীল, খ. ২, পৃ. ৫০৫; আশ-শারহুস সাগীর, খ. ২, পৃ. ১০, প্রকাশক: হালাবী; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৭; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ৩৯৯; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ১৪২; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৬৮
৬৬. শারহুল মাজাল্লা, ধারা ২১৮; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ২৭; আশ-শারহুস সাগীর, খ. ২, পৃ. ১২; মিনাহুল জালীল, খ. ২, পৃ. ৬৯৭; আল-হাত্তাব, খ. ৪, পৃ. ২৮০; শারহুর রাওয, খ. ২, পৃ. ১২৯; খাবায়ায যাওয়ায়া, পৃ. ২০৭; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩১৮; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৭৩
৬৭. শারহুল মাজাল্লা, ধারা: ২১৯- ২৩০ ও ২৩৬; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ৩৩ এবং ইবনে আবিদীন কৃত পুস্তিকা, নাশরুল আরফ ফী বিনাই বাযিল আহকাম আলাল 'উরফ
৬৮. আল-ফুরূক, খ. ৩, পৃ. ২৮৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৮০-৮৬; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৮৫; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২০৬-২০৯
৬৯ ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ৩৪
৭০ আল-কারাফী কৃত আল-ফুরূক, খ. ৩, পৃ. ২৮৮; ফরক নং: ১৯৯
৭১ শারহুল মাজাল্লা, ধারা: ২৩৪
৭২ আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৮৫; আল-মাজমুউ, খ. ১১, পৃ. ২৬৮; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২৭৫
৭৩. ইমাম তিরমিযী, আস-সুনান, খ. ৩, পৃ. ৩৭৬; তিরমিযী হাদীসটি হাসান সহীহ ও গরীব বলে উল্লেখ করেছেন।
৭৪. কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৭১
৭৫. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, বরাত ফাতহুল বারী, খ. ৫, পৃ. ৩১৪; আস-সালাফিয়া প্রকাশনা; মুসলিম, আস-সহীহ, খ. ৩, পৃ. ১২২১; প্রকাশক হালাবী
৭৬. ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ৪০; আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৫; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ৭; আল-বাহজা শারহুত তুহফা, খ. ২, পৃ. ৩২; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ২৩৮; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ৪৪৫; শারহু রাওযিত তালিব, খ. ২, পৃ. ১৫; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৭৬; হাশিয়াতুল জুমাল, খ. ৩, পৃ. ৮৩; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ১১৩; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৪৮
৭৭ আসনাল মাতালিব, খ. ২, পৃ. ৯৫
৭৮ শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২০৬
৭৯. ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ৩৭; আদ-দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ১৭০; আল-ফুরূক, খ. ৩, পৃ. ২৮৪; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ১১৬; শারহু রাওষিত তালিব, খ. ২, পৃ. ৯৬; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৮৫; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২০৭
৮০. ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ৩৩; মিনাহুল জালীল, খ. ২, পৃ. ৭২৫; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ১২৭
৮১. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ, বরাত ফাতহুল বারী, খ. ৩, পৃ. ৩১৩
৮২. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৫; ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ৩৮; আল-ফুরূক, খ. ৩, পৃ. ২৮৫; মিনাহুল জলীল, খ. ২, পৃ. ৭২৩; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ১৩০; শারহু রাওয, খ. ২, পৃ. ১০১; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৮৭-৯৩; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২০৯
৮৩. ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ৩৮; আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৫; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ১৩০; শারহুর রাওয, খ. ২, পৃ. ১০০; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২১৩
৮৪. ইমাম বুখারী, আস-সহীহ বরাত ফাতহুল বারী, খ. ৪, পৃ. ৩৯৭
৮৫. ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ৩৮; আদ-দুসুকী, খ. ৩, পৃ. ১৭৬; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ১৪২; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৯২
৮৬ প্রাগুক্ত
৮৭. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ২৫; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ৬০; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ১৪৪; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৯৩
৮৮. মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, ধারা ৬৫; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১২১; আল-ফুরূক, খ. ৩, প, ২৪৭; তাহযীবুল ফুরূক, খ. ৩, পৃ. ২৪৯
৮৯. মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, ধারা : ২০৮; মিনাহুল জালীল, খ. ২, পৃ. ৬৭৮; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ৪৯; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৪৬; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২৭১; খাবায়ায যাভায়া, পৃ. ২১০; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ৩৯৬ ও ৪০১; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৯৪
৯০. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ১৩৬
৯১. মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, ধারা ৩২৩-৩৩৫
৯২. হানাফীদের পূর্ববর্তী গ্রন্থাদি
৯৩. আল-মুগনী, খ. ৩, পৃ. ৫৮০-৫৮৩; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৪৬
৯৪. আল-কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ১৬৪; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৬; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ৪০১
৯৫. শরহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৪৬; আল-কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ১৬৩-১৬৫; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৯; আল-ফুরূ', খ. ৪, পৃ. ২১; আল-ইনসাফ, খ. ৪, পৃ. ২৯৫
৯৬. মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, ধারা ২২৩-২২৯; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ৩০; আদ-দুরারু শারহুল গুরার, খ. ২, পৃ. ১৪৭; মিনাহুল জালীল, খ. ২, পৃ. ৫০৫
৯৭. নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ৪০০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৭; শরহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৬৬; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ১৪৬
৯৮. মিনাহুল জালীল, খ. ২, পৃ. ৫০৫; আল-হাত্তাব, খ. ৪, পৃ. ২৯৯; আশ-শারহুস সগীর, খ. ২, পৃ. ১৩, প্রকাশক: হালাবী
৯৯. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৮; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৭১
১০০. আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ১৪৬
📄 প্রথমত : পণ্য নির্ধারণ
পণ্য চেনার জন্য আবশ্যক হলো, পণ্যের জাত, ধরন ও পরিমাণ সম্পর্কে ক্রেতার অবহিত হওয়া। জাত যেমন: গম। ধরন যেমন: কোন্ শহরের উৎপাদন। পরিমাণ যেমন: মাপ ও ওজন সম্পর্কে জানা। পণ্যের পরিচিতি হতে পণ্য নির্ধারণ করা হলো অতিরিক্ত বিষয়। কারণ, জাত ও পরিমাণ জানার পর তা অন্য জিনিস হতে পৃথক হয়। হয়তো এ পার্থক্যকরণ সম্পন্ন হয় ক্রয়-বিক্রয় কালে পণ্যের প্রতি ইঙ্গিত করার মাধ্যমে ক্রেতার উপস্থিতিতে। ফলে এ সময় পণ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। পণ্য নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার পর বিক্রেতার জন্য ক্রেতাকে অন্য পণ্য দেওয়া জায়েয নেই। তবে হ্যাঁ, ক্রেতা সন্তুষ্ট থাকলে তার সম্মতিতে অন্য পণ্য দেওয়া যেতে পারে। ইঙ্গিত হলো কোনো জিনিস নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বাধিক উন্নত পন্থা।
হয়তো ক্রয়-বিক্রয়কালে পণ্য নির্ধারণ করা হয় না, বরং পণ্যের অনুপস্থিতিতে পণ্যের গুণ উল্লেখ করা হয় অথবা উপস্থিত স্তূপের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থায় হস্তান্তর করা ছাড়া পণ্য নির্ধারিত হয় না। এটি হানাফী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের ফকীহবৃন্দের অভিমত, যা শাফেয়ী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতের বিপরীত। শাফেয়ী মাযহাবের প্রসিদ্ধ অভিমত হলো, অদৃশ্য জিনিসের বিক্রয় সহীহ হয় না।
অনির্দিষ্ট পণ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো, যৌথ মালিকানাধীন জিনিসের কোনো অংশ বিক্রয় করা; তা জমি হোক আর স্থানান্তরযোগ্য পণ্য হোক। যৌথ সম্পদটা বণ্টনযোগ্য হোক আর না হোক। যৌথ মালিকানাধীন পণ্য বণ্টন এবং হস্তান্তরের মাধ্যমেই কেবল নির্ধারিত হয়।
পণ্য নির্ধারণের সাথে সংশ্লিষ্ট হলো, একটিকে বহু জিনিসের মধ্য হতে বিক্রি করার মাসআলা- এ শর্তে যে, পণ্য নির্ধারণ করা ক্রেতার ইচ্ছাধীন থাকবে। অর্থাৎ তাকে এরূপ কর্তৃত্ব দিয়ে দেওয়া যে, সে অনেকগুলো হতে যেটি তার পছন্দ হয় সেটি বেছে নেবে। এ অভিমত সেই সকল ফকীহের, যারা নির্ধারণের এখতিয়ার দেওয়াকে জায়েয মনে করেন। এ ধরনের বায় জায়েয হওয়া, তার শর্তসমূহ এবং এখতিয়ারের বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দ্রষ্টব্য শিরোনাম خَيَارُ التَّعْيِينِ :
টিকাঃ
৫৯. শারহুল মাজাল্লা, ধারা ২০৪; মিনাহুল জালীল, খ. ২, পৃ. ৪৮৬; আশ শারহুস সাগীর, খ. ২, পৃ. ৬ প্রকাশক : হালাবী; আল-কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ১৬১; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৬৩; আল-মাজমূ শারহুল মুহাযযাব, খ. ৯, পৃ. ২৭৫
৬০. শারহুল মাজাল্লা, ধারা ২০২; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১২১; আল- বাহজা শারহুত তুহফা, খ. ২, পৃ. ২৪; আল-কালয়ুবী, খ. ২, পৃ. ১৬৩; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৪৬
৬১. শারহুল মাজাল্লা, ধারা ২০১; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ৭; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৬৩-১৬৮; আল মুগনী, খ. ৪, পৃ. ১৪৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৬
৬২. শারহুল মাজাল্লা, ধারা: ২২০; আসহালুল মাদারিক, খ. ২, পৃ. ২৮১; খাবায়ায যাওয়ায়া, মাসআলা ১৮০, পৃ. ১৯৯; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৬; আল-কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ১৬১; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৭০
৬৩. আল-হিদায়া, খ. ৩, পৃ. ৩০; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ৩৯; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২০৫
📄 দ্বিতীয়ত : পণ্য চেনা ও নির্ধারণের উপায়
বিক্রয়স্থলে যখন পণ্য থাকবে না, ফলে দেখা বা ইঙ্গিতের মাধ্যমে পণ্যের পরিচয় সম্পন্ন হবে না, এরূপ ক্ষেত্রে পণ্যের এমন কোনো বৈশিষ্ট্য আলোচনার মাধ্যমে তার পরিচয় পূর্ণতা লাভ করবে, যার দ্বারা সে অন্য জিনিস হতে আলাদা হয়ে যাবে। তাতে পরিমাণের বিবরণও থাকবে। পণ্য ভূমি হলে তার সীমানার বিবরণও আবশ্যক, স্থান ও দিক ভেদে ভূমির মূল্য ভিন্নতর হওয়ার কারণে। পণ্য যদি পরিমাপ, ওজন, হাতের মাপ বা গণনার যোগ্য জিনিস হয়, তাহলে তার পরিমাণ জানার মাধ্যমেই তার পরিচয় উদঘাটিত হয়ে যায়।
অনুমাননির্ভর বিক্রয় জায়েয আছে। তাই কোনো স্তূপের সবটুকু মোটামুটি এক মূল্যে বিক্রয় হতে পারে। এ ধরনের বিক্রি সবার মতে জায়েয। তবে মালেকী মাযহাবে অনুমাননির্ভর বিক্রির ক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে।
অথবা তা মূল্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিক্রি হবে। যেমন বিক্রেতা বলল: প্রতি সা' এই মূল্যের বিনিময়ে। এ ধরনের বিক্রি মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাব মতে জায়েয। হানাফী মাযহাবের ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মতেও জায়েয। কিন্তু ইমাম আবু হানীফা বলেন, এ পদ্ধতিতে কেবল এক কাফীয বিক্রি জায়েয, আর বাকীগুলোতে বিক্রয় বাতিল বলে সাব্যস্ত হবে। কারণ, যে স্তূপের ওপর চুক্তি হয়েছে তার মোট পরিমাণ অজ্ঞাত।
শাফেয়ীগণ বলেন: যদি স্তূপের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়, যেমন বলা হয়, স্তূপে একশ সা' রয়েছে, এটি তোমার কাছে বিক্রি করলাম। প্রতি সা' এক দিরহাম মূল্যের বিনিময়ে। যদি বাস্তবে স্তূপে একশ সা' থাকে তাহলে বিক্রি জায়েয। কারণ, মোটামুটি ও বিস্তারিত বিবরণের মাঝে মিল রয়েছে। যদি স্তূপে একশ সা' না থাকে, বেশী বা কম হয়, তাহলে বিশুদ্ধ অভিমত হলো, বিক্রি সহীহ হয় না। কারণ, মোটামুটি ও বিস্তারিত বিবরণের মাঝে সমন্বয় সম্ভব নয়। দ্বিতীয় অভিমত হলো, তা-ও সহীহ হবে।
পাত্র দিয়ে মাপযোগ্য জিনিস ওজন করে বিক্রি করা জায়েয। ঠিক এর উল্টোটিও জায়েয। এটি মোটামুটি সে সকল পণ্যে যেগুলো সুদী পণ্য নয়, যেগুলোতে বেশকম করে বিক্রি হারাম নয়, যেহেতু বেশকম করে বিক্রি করতে হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে সুদী বস্তুতে। ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে পরিচিত বিশেষ পাল্লা বা পরিমাপযন্ত্রের দ্বারাও বিক্রয় জায়েয, যদিও তা জনগণের মাঝে অপরিচিত থাকে। এমন পরিমাপপাত্র যা ছোট-বড় হয় তা দ্বারা বিক্রয় জায়েয নয়। তবে মশক দ্বারা পানি বিক্রির বিধান তা হতে ভিন্নতর। সমাজে চালু থাকার কারণে কিয়াসের বিপরীতে তা জায়েয। হানাফীগণ এ কথা বলেছেন।
টিকাঃ
৬৪. শারহুল মাজাল্লা, ধারা ২২০; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ২৮; আল-হাত্তাব, খ. ৪, পৃ. ২৯৬; আল-বাহজা, খ. ২, পৃ. ১৯; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৬৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৮
৬৫. শারহুল মাজাল্লা, ধারা: ২২০; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ২৮; মিনাহুল জালীল, খ. ২, পৃ. ৫০৫; আশ-শারহুস সাগীর, খ. ২, পৃ. ১০, প্রকাশক: হালাবী; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৭; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৩, পৃ. ৩৯৯; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ১৪২; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৬৮
৬৬. শারহুল মাজাল্লা, ধারা ২১৮; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ২৭; আশ-শারহুস সাগীর, খ. ২, পৃ. ১২; মিনাহুল জালীল, খ. ২, পৃ. ৬৯৭; আল-হাত্তাব, খ. ৪, পৃ. ২৮০; শারহুর রাওয, খ. ২, পৃ. ১২৯; খাবায়ায যাওয়ায়া, পৃ. ২০৭; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩১৮; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৭৩
📄 তৃতীয়ত : পণ্যের অন্তর্ভুক্তি
পণ্যের অধীন বস্তুসমূহ: মূল জিনিস এবং তার উপকারিতায় বিক্রয় আরোপ হয়। বিক্রির দাবি হলো, পণ্যের বিক্রিতে তার সাথে সম্পর্কিত জিনিসও আওতাভুক্ত হবে; তা থেকে কাঙ্ক্ষিত লাভ বাস্তবায়নের নিমিত্তে। অথবা সমাজেরও প্রচলন হলো, বিক্রিকালে তার সাথে সংশ্লিষ্ট জিনিস অন্তর্ভুক্ত হবে; চুক্তিকালে অন্তর্ভুক্তির কথা উল্লেখ না করা হলেও। কারণ মূল জিনিস হতে তার সংশ্লিষ্ট জিনিস পৃথক না করলে তা এমনি এমনি পৃথক হয় না। হানাফীগণের মতে পণ্যের আওতাভুক্ত জিনিসপত্র
ক. পণ্যের নাম বললে তার সাথে তা অন্তর্ভুক্ত হয়, যা উক্ত পণ্যের অংশ বলে বিবেচিত হয়। ফলে বাড়ি বিক্রিতে তার কক্ষসমূহ অন্তর্ভুক্ত হয়। গুদাম বিক্রি করলে তার সকল ধাপ তাতে শামিল থাকে।
খ. বিক্রির উদ্দেশ্যের প্রতি লক্ষ করলে পণ্য হতে যা বিচ্ছিন্ন হয় না। ফলে তালা বিক্রি করলে তাতে চাবিও অন্তর্ভুক্ত হয়।
গ. পণ্যের সাথে যা স্থায়ীভাবে জড়ানো থাকে এবং স্থায়ীরূপে যা নির্মিত হয় যেমন: ঘর বিক্রিতে দরজাসমূহও অন্তর্ভুক্ত হয়।
ঘ. সমাজে যে জিনিস পণ্যের অধীন বলে বিবেচিত হয়। যেমন: উট বিক্রি করলে লাগামও তার সাথে যুক্ত হয়। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো, এসকল জিনিস সমাজে এ রূপেই বিবেচিত হয়। দেশভেদে তা ভিন্নতর হয়। কোনো এলাকায় কোনো কিছু বিক্রয়ে তার অধীন বলে যা বিবেচিত হবে চুক্তিকালে তা বিক্রিতে অন্তর্ভুক্ত হবে, যদিও তা অন্য দেশে বিক্রির অধীন বলে গণ্য হয় না। এ কারণে ইবনে আবিদীন যাখীরা গ্রন্থের সূত্রে ঘর বিক্রি সম্পর্কে বলেন, এ ক্ষেত্রে বিধান হলো, যা গৃহের ভিত্তি সম্পর্কিত নয় এবং এর সাথে মিলিতও নয়, তা গৃহ বিক্রিতে অন্তর্ভুক্ত হবে না। হ্যাঁ, যদি সমাজে প্রচলিত থাকে, বিক্রেতা ক্রেতাকে এমন জিনিস হতে বারণ করে না, তাহলে তা অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমন চাবি কিয়াসের বিপরীত তালা বিক্রিতে অন্তর্ভুক্ত হয়, যদিও তা তালার সাথে জড়ানো থাকে না, কিন্তু সমাজের প্রচলন অনুযায়ী চাবি অন্তর্ভুক্ত হয়। অতঃপর ইবনে আবিদীন বলেন, আমাদের দামেশকের রীতি অনুযায়ী বাড়ির পানির কূপ বাড়ি বিক্রিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। মিসরের কায়রো শহরের রীতি অনুযায়ী বাড়ি বিক্রির চুক্তিতে মই অন্তর্ভুক্ত করা হতে, উত্তম হলো দামেশকের বাড়িতে পানির কূপ অন্তর্ভুক্ত করা। এর কারণ, দামেশকের রীতি হলো, কোনো বাড়িতে যদি পানি চলমান থাকার পর তা বন্ধ হয়ে যায়, তারা এ বাড়ি বর্জন করে, তা আর তারা ব্যবহার করে না। এমনি অবস্থায় যখন ক্রেতা জানতে পারবে যে, বিক্রয় চুক্তির দ্বারা সে পানি ব্যবহারের অধিকারী হবে না, সে বাড়ি ক্রয়ে আগ্রহ বোধ করবে না। হ্যাঁ, যদি পানিওয়ালা বাড়ি হতে সে বাড়িটি অনেক কম মূল্যে পায় তাহলে ভিন্ন দৃষ্টিতে ক্রয় করতে পারে।
বায় চুক্তিতে কোন্ জিনিস পণ্যের অধীন হয় আর কোন্ জিনিস অধীন হয় না? এ সম্পর্কিত কায়দা বর্ণনা করেছেন আল্লামা আল-কারাফী। কতিপয় অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সকল বিষয়ে আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো মূল জিনিসের অধীন হয়। এগুলো সমাজের রীতি অনুযায়ী পাল্টে গেলে তার বিধানও পাল্টে যাবে। তবে পরাগ সংযোগকৃত গাছের ফল যে মূল বৃক্ষের অধীন হয় তা দলিল ও কিয়াসের ভিত্তিতে। তা পরিবর্তনযোগ্য নয়। বাকীগুলোতে সময়ের বিবর্তনে প্রচলন ও রীতিনীতি পাল্টে গেলে বিধানও পাল্টে যাবে। যেমন: মুদ্রা সময় ও যুগের বিবর্তনের অধীন হয় এবং যুগের বদলে তাতে পরিবর্তন হয়। চুক্তি করলে যে সকল জিনিস স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়, আর শাব্দিক অর্থও তার দাবি করে, যুগের পরিবর্তনে তার মাঝে পরিবর্তন সাধিত হয় না। সেখানে এ কথা বলা হয় না যে, সমাজ তার দাবি করে।
ঐ সকল জিনিস পণ্যের অধীন হওয়া বলতে বোঝায়, পণ্যের যে মূল্য আছে তার সাথেই সেগুলো যুক্ত হবে। এটি নয় যে, এর জন্য মূল্যের একটি অংশ আলাদা থাকবে। কারণ কায়দা হলে أَنْ كُلِّ مَا يَدْخُلَ فِي الْمَبِيعِ تَبَعًا لَا حِصَّةَ لَهُ مِنَ الثَّمَنِ "অধীন হিসেবে পণ্যে যা অন্তর্ভুক্ত হয় মূল্যে তার কোনো অংশ থাকে না।"
পণ্যের গুণের ক্ষেত্রে এ ধরনের মত হানাফী ফকীহদের। তাই চুক্তির পর হস্তগত করার পূর্বে পণ্যের গুণ নষ্ট হয়ে গেলে ক্রেতার এর বিপরীতে মূল্য হ্রাস করার কোনো অধিকার নেই। তবে তার এখতিয়ার থাকবে গ্রহণ করার বা ভঙ্গ করার। এটাকে বলা হয় গুণ হাত ছাড়া হওয়ার এখতিয়ার। তবে হ্যাঁ, মূল পণ্যের কোনো কিছু নষ্ট হয়ে গেলে ক্রেতার অধিকার থাকে সে পরিমাণ মূল্য হ্রাস করার।
শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহদের মত, বাড়ি বিক্রিকালে যা কিছু স্থায়ীভাবে যুক্ত করে নির্মিত সেগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমন পাকা বাড়ি, পাকা তাক ও দেয়াল-আলমারি ইত্যাদি। যেগুলো এমনভাবে সংযুক্ত নয়, হাম্বলী ফকীহদের মতে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত নয়। এটিও শাফেয়ীদের একটি মত। তাদের অন্য মতে এগুলোও অন্তর্ভুক্ত।
টিকাঃ
৬৭. শারহুল মাজাল্লা, ধারা: ২১৯- ২৩০ ও ২৩৬; হাশিয়া ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ৩৩ এবং ইবনে আবিদীন কৃত পুস্তিকা, নাশরুল আরফ ফী বিনাই বাযিল আহকাম আলাল 'উরফ
৬৮. আল-ফুরূক, খ. ৩, পৃ. ২৮৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৮০-৮৬; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৮৫; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ২০৬-২০৯
৬৯ ইবনে আবিদীন, খ. ৪, পৃ. ৩৪
৭০ আল-কারাফী কৃত আল-ফুরূক, খ. ৩, পৃ. ২৮৮; ফরক নং: ১৯৯
৭১ শারহুল মাজাল্লা, ধারা: ২৩৪
৭২ আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৮৫; আল-মাজমুউ, খ. ১১, পৃ. ২৬৮; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২৭৫