📄 দ্বিতীয়ত : মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি হিসেবে ‘বায়’-এর প্রকার
০১. বায়'উল মুসাওয়ামাহ্ (بَيْعُ الْمُسَاوَمَة)
বায়'উল মুসাওয়ামাহ (بَيْعُ الْمُسَاوَمَة) -এর সংজ্ঞা হলো, هُوَ الْبَيْعُ الَّذِي لَا يُظْهِرُ فِيهِ الْبَائِعُ رَأْسَ مَالِهِ 'যে বিক্রয়ে বিক্রেতা পুঁজির উল্লেখ করে না তাকে বায় মুসাওয়ামা বলে।'
০২. বায়উল মুযায়াদাহ (بَيْعُ الْمُزَائِدَة) / (নিলামে বিক্রয়)
বায়'উল মুযায়াদাহ (بَيْعُ الْمُزَائِدَة) / (নিলামে বিক্রয়): এর সংজ্ঞায় বলা হয়, بِأَنْ يَعْرِضَ الْبَائِعُ سِلْعَتَهُ فِي السُّوقِ وَيَتَزَايَدَ الْمُشْتَرُونَ فِيهَا ، فَتُبَاعَ لِمَنْ يَدْفَعُ الثَّمَنَ الْأَكْثَرَ 'বিক্রেতা পণ্য বাজারে নিয়ে যাওয়ার পর ক্রেতাগণ মূল্য বৃদ্ধি করতে থাকে, যে ব্যক্তি সর্বাধিক মূল্য প্রদান করে তার নিকট তা বিক্রয় করা হয়।'
০৩. বুয়ুউল আমানাহ (بُيُوعُ الأمانة)
আমানতের ক্রয়-বিক্রয় সমূহ
এগুলো হলো সে সকল বায় যেগুলোতে মূল্য নির্ধারিত হয়, তা পুঁজির সমানে কিংবা তার চেয়ে বেশি অথবা কম। এগুলোকে বায় আমানত বা আমানতের বিক্রি বলার কারণ হলো, এখানে পুঁজির সংবাদ দানের ক্ষেত্রে বিক্রেতাকে আমানতদার মনে করা হয়। এ বায় হলো তিন ধরনের:
ক. বায়উল মুরাবাহা (بَيْعُ الْمُرَابَحَة) : পণ্যের মূল্য পুঁজির চেয়ে অধিক নির্ধারণ করা হলে তাকে বায় মুরাবাহা বলে। বিস্তারিত জানতে শিরোনাম مرابحة দ্র.
খ. বায়উল তাওলিয়া (بَيْعُ التولية) : লাভ ক্ষতি ছাড়া যেখানে পুঁজিই মূল্য হিসাবে নির্ধারিত হয়। বিস্তারিত জানতে শিরোনাম توليه দ্র.
গ. বায়উল ওয়াদী'আহ (بَيْعُ الْوَضِيعَةِ ، أَوِ الْحَطِيطَةِ ، أَوِ النَّقِيصة) : পণ্যের মূল্য পুঁজি হতে কম নির্ধারণ করে বিক্রি করা।
বায় যদি পণ্যের কোনো অংশে হয় তাহলে একে বায় ইশরাক (الاشراك) বলে। এ প্রকারটিও পূর্বোক্ত প্রকারসমূহের বাইরে নয়। বিস্তারিত জানতে শিরোনাম إشراك و تولية দ্র.
টিকাঃ
২৭. এর বিপরীত হচ্ছে بيع المناقصه এক্ষেত্রে ক্রেতা পণ্যের মূল্য জানতে চাইলে বিক্রেতারা প্রতিযোগিতামূলভাবে একের তুলনায় অপরে কম দাম বলে। বর্তমানে টেন্ডারে তার অস্তিত্ব রয়েছে। ফিকহীগ্রন্থে এ শিরোনামে আলোচনা পাওয়া যায় না।
২৮. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৩; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৪৫৫
📄 তৃতীয়ত : মূল্যের ধরন বা আদায়ের পন্থা অনুপাতে বায়-এর প্রকার
মূল্যের ধরন অনুপাতে বায় নিম্নোক্ত প্রকারগুলোতে বিভক্ত হয়:
ক. মুনজায়ুছ ছামান (مُنْجَرَ الثَّمَن / নগদ মূল্য প্রদান): যার মাঝে মূল্য বিলম্বে আদায় করার শর্ত করা হয় না, বরং তা নগদ প্রদান করা হয়। একে বায়'উন নকদ (بَيْعَ النقد) এবং বায় বিছ-ছামানিল হাল (الْبَيْعِ بِالثَّمَنِ الْحَالِ) বলা হয়।
খ. মুআজ্জালুহ হামান (مُؤجّل الْثَّمَنِ / বিলম্বে মূল্য প্রদান): মূল্য বিলম্বে পরিশোধ করার শর্ত করা হলে তাকে মুআজ্জালুছ ছামান বলে। হামান (الثمن) সম্পর্কিত আলোচনায় বিস্তারিত দ্রষ্টব্য।
গ. মুআজ্জালুহু হামান (مُؤجّل الْمُثَمَّنِ / বিলম্বে পণ্য প্রদান): এটি হচ্ছে (بيع / السَّلَمِ) বায় সালাম, পূর্বে যার ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।
ঘ. মুআজ্জালুল ইওয়াযায়ন (مُؤجّل الْعَوَضَيْنِ / বিলম্বে পণ্য ও মূল্য প্রদান): এটি হচ্ছে বকেয়ার বদলে বকেয়া বিক্রয়। এটি নিষিদ্ধ। বিস্তারিত শিরোনাম بيع دَيْن مَنْهِي عَنْهُ।
ইবনে রুশদ আল-হাফীদ বায়-এর শ্রেণীবিন্যাস বর্ণনায় নয় প্রকার বায়-এর তথ্য প্রদান করেছেন। তা বিনিময় পূর্ণ হওয়া, মূল্য আদায়ের ধরন, খিয়ার হওয়া এবং পণ্য ও মূল্য নগদ ও বাকীতে হওয়া অনুপাতে, যেগুলোর আলোচনা করা হয়েছে।
এখানে আরও কিছু বায়-এর শাখাজাতীয় শ্রেণী বিন্যাস রয়েছে। তা পণ্য উপস্থিত থাকা ও না থাকা সম্পর্কিত, পণ্য দেখা ও অদেখা সংক্রান্ত এবং বায়-এর চুক্তি অকাট্য হওয়া বা ইচ্ছাধীন হওয়া নিয়ে।
শরীয়তের বিধান অনুপাতে বায়-এর শ্রেণী বিন্যাস নানা ধরনের হতে পারে। একটি হলো, الْبَيْعُ الْمُنْعَقِدُ (আল-বায়'উল মুন'আকিদ), এর বিপরীত হলো البيع البطل (আল-বায়'উল বাতিল)। الْبَيْعُ الصَّحِيحُ (আল-বায়'উল সহীহ)-এর বিপরীত হলো الْبَيْعُ الْفَاسِدُ (আল-বায়'উল ফাসিদ)। الْبَيْعُ النَّافِذُ (আল-বায়'উল নাফিজ) (কার্যকরী বায়)-এর বিপরীত হলো الْبَيْعُ الْمَوْقُوفُ (আল-বায়'উল মাওকুফ)। الْبيْعُ اللازم (আল-বায় 'উল লাযিম)-এর বিপরীত হলো الْبَيْعُ غَيْرُ اللازم (আল-বায় 'উ গায়রুল লাযিম); এটাকে الْجَائز أو الْمُخيَّر (আল-জায়েয বা আল-মুখাইয়ার)ও বলা হয়।
এগুলোর বিশদ বিবরণ পারিভাষিক আলোচনায় যথাস্থানে দ্রষ্টব্য। আর নিষিদ্ধ বায়গুলোর বিশদ বিবরণ দেখার জন্যে দ্রষ্টব্য শিরোনাম: بيْعٌ مَنْهِي عَنْهُ
কিছু কিছু বায়-এর বিশেষ বিশেষ নাম আছে, যেগুলোতে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে। যেমন :بيع النَّخْش (বায় উন নাজাশ) بَيْعِ الْمُنَابَدَة (বায় 'উল মুনাবাযাহ) ইত্যাদি। এদের সংজ্ঞা নিজ নিজ পারিভাষিক আলোচনায় দেখা যেতে পারে।
আরও কিছু বায় রয়েছে যেগুলোর নামকরণে সে অবস্থার প্রতি লক্ষ্য করা হয়েছে যেগুলো বিক্রির চুক্তিকালে যুক্ত হয়। এ অবস্থাসমূহ বিধানের ক্ষেত্রে প্রভাব সৃষ্টি করে। যেমন : بيع الْمُكْرَه (বায় উল মুকরাহ) بيع الْهَازِل (বায় 'উল হাফিল) بيع اللجنة (বায় 'উল তালজিআ), بيع الفصولي (বায় 'উল ফুদুলী) ও بَيْعِ الْوَقاء (বায় উল ওয়াফা)। এগুলোর বিশেষ বিশেষ সংজ্ঞা রয়েছে।
যেমন, استصناع (ইসতিসনা), (অর্ডার দিয়ে জিনিস বানানো) বিক্রির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। অর্থচ এটি কি বিক্রি না ইজারা, তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। এর বিশদ বিবরণ استصناع (ইসতিসনা) শিরোনামে দেখা যেতে পারে।
উল্লিখিত এ সকল বিক্রি নিয়ে ফকীহগণ বায় মুতলাক-এর বাইরে পৃথকভাবে বিশেষভাবে আলোচনা করেছেন। তবে এগুলো বায় মুতলাক-এর পরে আলোচিত হয়ে থাকে।
যেহেতু এ সকল প্রকারই বায় (বিক্রি)-র অন্তর্ভুক্ত, তাই এগুলোর আলোচনায় বায় শব্দটির বহুবচন ব্যবহৃত হয়েছে। তবে বিক্রির আওতাধীন হলেও এগুলো বায় মুতলাক নয়, যেমনটা উপরের আলোচনায় বিবৃত হয়েছে।
📄 বায়-এর রুকন ও শর্তসমূহ
বায় ও অন্যান্য চুক্তির রুকনসমূহ নির্ধারণে ফকীহদের মাঝে মতভেদ হয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, রুকন কেবল প্রস্তাব (إيجاب) ও গ্রহণের (القبول) শব্দসমূহ। কেউ বলেন, প্রস্তাব ও গ্রহণের শব্দসহ ক্রেতা-বিক্রেতা এবং চুক্তিকৃত জিনিস। আবার কারো মতে চুক্তির ক্ষেত্র অর্থাৎ পণ্য ও মূল্য হলো বায়-এর রুকন।
মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের ফকীহদের মতে উপরিউক্ত সবই হলো বায়-এর রুকন। তাঁদের কথা হলো, যে কোনো বিষয়ের রুকন হলো যার ওপর বস্তুর অস্তিত্ব ও কাল্পনিক ধারণা নির্ভর করে। তা জিনিসের মৌলিক অংশ হোক আর না হোক। বায়-এর অস্তিত্ব যেহেতু বিক্রেতা-ক্রেতা ও দ্রব্যের ওপর নির্ভরশীল, যদিও সেগুলো বিক্রয়ের প্রকৃত অংশ নয়, তাই এসবই হবে বায়-এর রুকন।
হানাফী ফকীহগণ মনে করেন, বায় ও অন্যান্য চুক্তির ক্ষেত্রে রুকন হলো কেবল ঈজাব ও কবুল-এ দুটি শব্দ। বিক্রেতা-ক্রেতা (الْمَقَان) ও ক্ষেত্র (مَحَلّ) হলো এ দুটি শব্দ পাওয়ার জন্য প্রাসঙ্গিক উপকরণ মাত্র। এগুলো রুকন নয়; কারণ শব্দ ছাড়া অন্য কিছু প্রকৃত বায়-এর অংশ নয়। যদিও বায়-এর অস্তিত্ব এগুলোতে নির্ভরশীল।
চুক্তির যাবতীয় শব্দ, উভয়পক্ষ ও চুক্তিকৃত বস্তুকে 'মুকাওয়িমাতুল আকদ' (مُقَوِّمَاتِ الْعَقْد) (চুক্তির আবশ্যকীয় সংঘটক) নামে সমসাময়িক কোনো কোনো ফকীহ উল্লেখ করেছেন, যেহেতু সকল ফকীহের মতে, এগুলো ছাড়া চুক্তি হওয়া অসম্ভব।
ঈজাব-কবুলের শব্দ, বিক্রেতা-ক্রেতা ও বিক্রয়ের ক্ষেত্র- এসবগুলোর জন্যেই বিভিন্ন শর্ত রয়েছে, যে শর্তগুলো পূর্ণরূপে থাকলেই উক্ত বিষয়গুলোর শরয়ী অস্তিত্ব বাস্তবায়িত হবে। এগুলোর সবকটি পরিপূর্ণরূপে পাওয়া না গেলে ক্রয়- বিক্রয়ের অস্তিত্বও পাওয়া যাবে না। এ শর্তগুলোর পাওয়া ও না পাওয়ার প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে শর্তগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়।
কতক শর্ত হলো বায় সম্পাদনের শর্ত। এ শর্তাবলির কোনো একটির অবর্তমানে আকদ বাতিল বলে গণ্য হয়। কতক হলো শুদ্ধ হওয়ার শর্ত। এর কোনো একটি না থাকলে অধিকাংশ ফকীহের সাথে হানাফী ফকীহদের ভিন্নমত অবলম্বনের কারণে চুক্তিটি হয়তো বাতিল বা ফাসিদ হবে।
শর্তগুলোর আরেকটি প্রকার হলো চুক্তি কার্যকর হওয়ার শর্তসমূহ। এ ধরনের কোনো একটি শর্তের অনুপস্থিতিতে বায় মওকুফ হয়ে যাবে। আরেকটি হলো বায় আবশ্যক হওয়ার শর্তসমূহ। এ শর্তগুলো অথবা এর কোন একটি লোপ পেলে বায় আবশ্যক হবে না। শর্তাবলির এ বিভক্তি হানাফী ফিকহের আলোকে। এগুলোর কোনো কোনোটির সঙ্গে অন্যরা দ্বিমত পোষণ করেন। বিস্তারিত আলোচনা অচিরেই আসছে।
টিকাঃ
৩২. আশ-শারহুস সাগীর, আল-হালাবী প্রকাশনা, খ. ২, পৃ. ৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৫-৭; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৪০
৩৩. আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ৪
৩৪. আল-মাদখালুল ফিকহীল আম, খ. ১, পৃ. ২৯৯
📄 বায়-এর শব্দ ও শর্তাবলি
হাত্তাবের বিবরণ অনুযায়ী বায়-এর শব্দ হলো প্রস্তাব ও গ্রহণ (الإيجاب وَالْقَبُول)। সম্মতি প্রকাশক যে কোনো শব্দ এ দুটি বিষয়ের জন্য উপযুক্ত। যেমন বিক্রেতার উক্তি: ،بِكَذَا أَوْ أَعْطَيْتُكَ ، أَوْ مَلْكُتُكَ بِعْتُكَ : বিক্রয় করলাম। তোমাকে দিলাম এবং তোমাকে এর স্বত্বাধিকারী বানিয়ে দিলাম।' ক্রেতার উক্তি: اشْتَرَيْتُ أَوْ تَمَلُكْتُ أَوْ ابْتَعْتُ أَوْ قَبَلْتُ 'আমি ক্রয় করলাম, মালিক হয়ে গেলাম, আমি গ্রহণ করলাম' বা এ ধরনের যে কোনো শব্দ।
ঈজাব (اِيْجَابُ) বা প্রস্তাব হলো অধিকাংশের মতে, বিক্রেতার পক্ষ হতে এমন কথা প্রকাশিত হওয়া যা তার সন্তুষ্টি প্রমাণ করে। পক্ষান্তরে কবুল হলো যা ক্রেতার পক্ষ হতে প্রকাশিত হয় আর তার সন্তুষ্টি বোঝায়। হানাফীগণ বলেন, ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্য হতে যার কথাই প্রথমে প্রকাশিত হয় তার সে কথাকে ঈজাব বলে, সে বিক্রেতা হোক আর ক্রেতা। আর কবুল হলো, যা তারপর প্রকাশিত হয়। বিস্তারিত শিরোনাম إِيجَابٌ ، قَبُولٌ দ্র.
মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলীগণ বলেন: বিক্রেতার পূর্বে ক্রেতা বিক্রয়ের কথা উচ্চারণ করা জায়েয আছে। কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য সাধিত হয়।
সম্পদ হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তিতে শব্দ প্রয়োগের ক্ষেত্রে যে সব শর্ত আরোপিত হয়, বায়-এর ক্ষেত্রেও সেসব প্রযোজ্য হয়। সেগুলো হলো, শব্দটি অতীতকালের হতে হবে অথবা বর্তমানকালের এমন শব্দ হবে যা চুক্তি সৃষ্টি বুঝায়। ঈজাব ও কবুলের মাঝে মিল থাকতে হবে। কবুল যদি ঈজাবের বিপরীত হয় তাহলে চুক্তি সম্পাদিত হবে না। হানাফীগণ স্পষ্টত বলেছেন, যেই কবুলটি ঈজাবের বিপরীত হয় সেটি নতুন ঈজাব হিসেবে গণ্য হয়।
এ ধরনের শব্দ প্রয়োগের জন্য শর্ত হলো মজলিস এক হতে হবে। তাতে বিভিন্ন কথা আলোচিত হতে পারে। ঈজাব হতে কবুল যদি বিলম্বিত হয় অথবা এর উল্টোটি হয়, কবুল আগে উচ্চারিত হয়, তাহলে দুটির পূর্ববর্তীটি ঈজাব হিসাবে সহীহ হয়। বিক্রেতা ও ক্রেতা যে পর্যন্ত মজলিসে বা আসরে উপস্থিত থাকবে এবং তারা এমন কোনো কাজে জড়াবে না, সমাজে যাকে বিচ্ছিন্ন হওয়া বুঝায়, সে পর্যন্ত মজলিস বহাল থাকবে।
এও শর্ত যে, ঈজাব ও কবুলে রসিকতা করা হবে না। ঈজাবটি যথাযথ রয়েছে, তা বোঝার জন্য শর্ত হলো, প্রস্তাবকারীর প্রস্তাব হতে সরে না আসা, কবুল করার পূর্বে তার মৃত্যু না হওয়া এবং চুক্তিকৃত পণ্যের ধ্বংস না হওয়া।
এটিও শর্ত, যে পণ্যের ওপর চুক্তি হয়েছে তা কবুল করার পূর্বে এমন ভিন্নরূপ ধারণ না করা যার ফলে তাকে ভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়। যেমন আঙ্গুরের রস সিরকায় পরিণত হওয়া। এ সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা عَقْدٌ وَصِيغَةٌ শিরোনামে দ্র.
সামনের আলোচনায় বিক্রির শব্দাবলির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে, সাধারণ যে কোনো চুক্তির শব্দাবলিতে যে শর্তসমূহ রয়েছে এগুলো তার অতিরিক্ত।
ঈজাব ও কবুল দুটি শব্দই যদি অতীতকালের হয়, তাহলে বায় বাস্তবায়িত হওয়ার বিধানে কারও দ্বিমত নেই। যেমন: بعت 'আমি বিক্রি করলাম' এবং اشتريت 'ক্রয় করলাম'। শব্দ মুযারে-এর হলেও যদি বর্তমানকালের অর্থ হয় তাতেও বায় বাস্তবায়িত হবে। তাতে শাব্দিক ইঙ্গিত থাকবে, যেমন বিক্রেতা বলল : أَبيعُكَ الأن আমি এখন তোমার কাছে বিক্রি করছি। অথবা পরিস্থিতি ইঙ্গিত প্রদান করবে, যেমন বর্তমানকাল বোঝানোর অর্থে ফেয়েলে মুযারে ব্যবহার করার প্রচলন রয়েছে।
ঈজাব অথবা কবুল যদি প্রশ্নবোধক শব্দ হয় তাহলে বেচাকেনার চুক্তি কার্যকর হবে না। যেমন : أتبيعني 'তুমি কি আমার কাছে বিক্রয় করবে?' অনুরূপ মুযারে শব্দ হলে এবং তাতে ভবিষ্যতকাল উদ্দিষ্ট হলে তার দ্বারা বিক্রয়চুক্তি কার্যকর হয় না। যেমন কেউ বলল : سَأبيعُكَ ، أَوْ أَبِيعُكَ غَدًا 'অচিরেই আমি তোমার কাছে বিক্রয় করব অথবা আগামীকাল বিক্রি করব।'
আজ্ঞাবাচক শব্দ (أمر) প্রয়োগ করলে তার বিধান: যেমন ক্রেতা বলল, بعنى 'তুমি আমার কাছে বিক্রি করো।' এরপর যদি বিক্রেতা বলে: بعتك 'আমি তোমার কাছে বিক্রি করলাম।' তাহলে দ্বিতীয় শব্দটি ঈজাব বলে গণ্য হবে। অতঃপর ক্রেতার কবুল করার মুখাপেক্ষী হতে হবে। এ অভিমতটি হানাফীদের। হাম্বলীগণেরও অনুরূপ এক অভিমত রয়েছে, শাফেয়ীগণের প্রসিদ্ধ অভিমতের বিপরীত অভিমতও অনুরূপ।
মালেকী মাযহাবের ফকীহদের অভিমত হলো, ক্রেতার কথা, আমার কাছে বিক্রি করো, তার উত্তরে বিক্রেতা যদি বলে, আমি তোমার কাছে বিক্রি করলাম, তাহলে বিক্রয় কার্যকর হয়ে যাবে। এরপর ক্রেতার আর কবুল করার প্রয়োজন নেই। কারণ এর ফলে বিক্রয়ে তার সম্মত হওয়া প্রকাশিত হয়েছে। শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহগণের প্রসিদ্ধ অভিমতও এর অনুকূলে। হাম্বলীগণের দুটি অভিমতের একটি হলো এর অনুরূপ。
শাফেয়ীগণ বলেন, ক্রেতা যদি অতীতকালের শব্দ প্রয়োগ করে বলে, তুমি আমার কাছে বিক্রি করেছ অথবা করছো, 'যদি এরপর বিক্রেতা বলে, আমি তোমার কাছে বিক্রি করলাম।' এতে বিক্রি কার্যকর হবে না- যে পর্যন্ত না ক্রেতা তা আবার কবুল করবে (যা অন্য সকল ফকীহের মতের বিপরীত)।
হানাফী ফকীহগণ এ বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন যে, আদেশ কিংবা মুযারে শব্দ প্রয়োগ করে বিক্রয়ের প্রস্তাব করা জায়েয হয় যখন শব্দের মাঝে প্রস্তাব ও গ্রহণ অন্তর্নিহিত ভাবে থাকে। যেমন বিক্রেতা বলল, 'এ পণ্যটি ঐ পরিমাণ মূল্য দিয়ে গ্রহণ করো;' এতে ক্রেতা যদি বলে 'আমি তা গ্রহণ করলাম।' তাহলে বিক্রি সম্পন্ন হবে। কারণ, 'গ্রহণ করো' এ কথাটুকুর মাঝে নিহিত রয়েছে: 'আমি বিক্রয় করলাম, তুমি গ্রহণ করো।'
অনুরূপ ক্রেতার প্রস্তাবের পর যদি বিক্রেতা বলে, পণ্যটিতে আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, তাতেও বায় সাব্যস্ত হবে। কারণ, এতে 'আমি বিক্রয় গ্রহণ করলাম, মর্মটি অন্তর্নিহিত রয়েছে। মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের ফকীহগণও এরূপ অভিমত পোষণ করেন। শাফেয়ী ফকীহগণ-এর তুলনীয় অপর এক মাসআলায় বলেন, দাসমুক্তির ক্ষেত্রে যদি কেউ বলে, আমার পক্ষ থেকে মুক্ত করো, তাহলে অর্থ হবে: 'আমার নিকট বিক্রি করো এবং তা আমার পক্ষ থেকে মুক্ত করে দাও।'
ফকীহসমাজের ভাষ্য হতে বোঝা যায়, তারা বেচাকেনার ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য বোঝানোর বিষয়টি বিবেচনা করেছেন। তা নির্ধারিত শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে হোক, আর সমাজের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী হোক। দুসূকী বলেন, সমাজে সম্মতি বোঝায় এমন যে কোনো কিছু দ্বারা বায় কার্যকর হয়। তা কথায় হোক, লেখার দ্বারা হোক বা ইঙ্গিতে হোক, বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ের পক্ষ হতে হোক, আর যে কোনো একজন হতে হোক। কাশশাফুল কিনা গ্রন্থে রয়েছে, বিক্রয় করলাম ও ক্রয় করলাম, এমন হুবহু শব্দের মাঝে বেচাকেনার চুক্তি সীমিত নয়। বিক্রয়ের অর্থ প্রদান করে এমন যে কোনো শব্দ দ্বারা বায় কার্যকর হয়। কারণ, বিধানদাতা এটি কোনো নির্দিষ্ট শব্দে সীমিত করেননি।
বায়-এর ঈজাব ও কবুলের মাঝে সঙ্গতি থাকতে হবে। তা এভাবে যে, ক্রেতা পূর্ণ পণ্যটি পূর্ণমূল্য দিয়ে গ্রহণ করবে। যে পণ্যের বিক্রির প্রস্তাব করা হয়েছে তার অংশবিশেষ গ্রহণ করলে বা অন্য পণ্য গ্রহণ করলে সঙ্গতি পাওয়া যাবে না। অনুরূপ যে মূল্যের ওপর প্রস্তাব আরোপ হয়েছে তার কিছু অংশ গ্রহণ করলে বা অন্য কিছু গ্রহণ করলে সঙ্গতি সাব্যস্ত হবে না। তবে প্রস্তাবকৃত মূল্যের অধিক মূল্য দ্বারা গ্রহণ করলে তাতে অন্তর্নিহিত মিল থাকা ধর্তব্য হয়। তবে বাড়তি মূল্য আবশ্যক হয় না। তৃতীয় কেউ গ্রহণ করলে অবশ্য বাড়তি মূল্য দিয়ে তা নিতে হবে। যেমন, কেউ পণ্য বিক্রি করল এক হাজার দ্বারা; কিন্তু ক্রেতা তা গ্রহণ করল দেড় হাজার দ্বারা; অথবা এক ব্যক্তি ক্রয় করল এক হাজার দিয়ে, কিন্তু বিক্রেতা তার কাছ থেকে আটশ গ্রহণ করল।
নির্ধারিত মূল্য হতে দাম কমানো জায়েয। বায় সংঘটিত হওয়ার পরও তা জায়েয। কোনো পণ্য যদি এক হাজারের বিনিময়ে বিক্রয় হয় আর ক্রেতা তার অর্ধেক পাঁচশত দ্বারা ক্রয় করে, তাহলে সঙ্গতি সাব্যস্ত হবে না। তবে যদি বিক্রেতা এতে সম্মত থাকে তাহলে কোনো বিপত্তি নেই। এ অবস্থায় গ্রহণ করাটি হবে প্রস্তাব পর্যায়ের, আর বিক্রেতার সম্মতি হবে কবুল পর্যায়ের।
শাফেয়ী কোনো কোনো ফকীহ বলেন: বিক্রেতা যদি বলে, এ দ্রব্যটি আমি এক হাজারের বিনিময়ে তোমার কাছে বিক্রি করলাম এবং এর অর্ধেক পাঁচশয়ের বিনিময়ে; এতে যদি ক্রেতা অর্ধেক গ্রহণ করে তাহলে সেটি জায়েয। এর দ্বারা বিক্রেতা আংশিক পণ্যের আংশিক মূল্যে সম্মত থাকলে তার বিধান যে ইতিবাচক হবে তা বোঝা যায়।
পরস্পর দেওয়া নেওয়ার মাধ্যমে বিক্রয় (الْمُعَاطَاةُ أَو التعاطي)
বিক্রেতা ও ক্রেতা মৌখিকভাবে ঈজাব ও কবুল ছাড়া একে অপরকে হাত বদল করে জিনিস দেওয়া-নেওয়া করলে তাকে বায় তাআতী বা মুআতা বলে। কবুল ছাড়া কেবল ঈজাব অথবা শুধু কবুল পাওয়ার প্রেক্ষিতে দেওয়া-নেওয়া হলে একেও তাআতী বা মুআতা বলা হয়। এরূপ বায় কার্যকর হয় চলমান অবস্থার নিরিখে। এ ধরনের বিক্রি, অল্প জিনিস হোক আর বেশি, সকল ক্ষেত্রেই জায়েয বলে হানাফী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের ফকীহবৃন্দ অভিমত প্রদান করেন। মুতাওয়াল্লী ও বাগাবীর ন্যায় কতক শাফেয়ী ফকীহও অনুরূপ মত পোষণ করেন। যদিও অন্য শাফেয়ী আলেমগণ তাতে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন। বিস্তারিত আলোচনা تعاطي শিরোনামে দ্র.।
লেখা ও দূত পাঠানোর মাধ্যমে বিক্রি
উপস্থিত দুজনের মাঝে লেখার মাধ্যমে বিক্রয়চুক্তি করা জায়েয। উপস্থিত একজনের কথা আর অপরজনের লেখায়ও বিক্রয়চুক্তি কার্যকর হয়। বিক্রেতা যদি অনুপস্থিত কোনো লোকের কাছে লেখার মাধ্যমে বিক্রির প্রস্তাব করে অথবা দূত পাঠিয়ে প্রস্তাব করে, আর সে অবহিত হওয়ার পর তা কবুল করে, তাতেও বিক্রয়চুক্তি কার্যকর হবে।
শাফেয়ী ফকীহগণ এক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক গ্রহণের শর্ত আরোপ করেছেন। তারা বলেন: যার কাছে লিখিত ভাবে বা দূতের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানো হবে তার প্রস্তাব গ্রহণ করার এখতিয়ার মজলিস পরিবর্তনের পূর্ব পর্যন্ত থাকবে। অর্থাৎ যেই মজলিসে চিঠি বা দূত পৌঁছেছে সেই মজলিস ত্যাগ করার পূর্ব পর্যন্ত তার গ্রহণ ও বর্জনের অধিকার থাকে। এক্ষেত্রে পত্রলেখকের মজলিস মোটে ধর্তব্য নয়। যে ব্যক্তির কাছে লিখে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে সে কবুল করার পরও প্রস্তাবকের মজলিসে বসে থাকা ধর্তব্য হবে না। বরং কবুল না করে যতক্ষণ খিয়ারে থাকবে প্রেরকের এখতিয়ার সে পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তাই তারা বলেন, গ্রহণ করার পর উত্তরে তাৎক্ষণিক চিঠি পাঠানো অথবা দূত পাঠানোর কোনো শর্ত নেই। শাফেয়ী মতাবলম্বী ছাড়া অন্যান্য ফকীহের মতে, তাৎক্ষণিক গ্রহণ করার কোনো শর্ত নেই। হাম্বলী ফকীহগণ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ঈজাব ও কবুলের মাঝে এ ক্ষেত্রে বিলম্ব করায় কোনো সমস্যা নেই। কারণ, ক্রেতার অনুপস্থিতিতে বিলম্ব হওয়া ক্রয় করা হতে বিমুখ হওয়া বুঝায় না।
বোবা এবং এ শ্রেণীর লোকদের ইশারা-ইঙ্গিতে বায় অনুষ্ঠিত হওয়া
বোবা ব্যক্তির ইশারা-ইঙ্গিতে বায় অনুষ্ঠিত হয়- যখন তার ইঙ্গিত পরিচিত ও বোধগম্য হয়, বোবা লেখতে সক্ষম হলেও। হানাফী মাযহাবের এটিই গ্রহণযোগ্য অভিমত। কারণ ইঙ্গিত ও লেখা এ দুটি ভিন্ন ভিন্ন দলিল। তবে যেই ইঙ্গিত হতে কিছুই বোঝা যায় না তার কোনো মূল্য নেই। অধিকাংশ আলেমের অভিমত হলো, বাকসম্পন্ন ব্যক্তির ইঙ্গিত করা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে মালেকী মাযহাবের ফকীহদের মতে বাকশক্তিসম্পন্ন হলেও গ্রহণ ও বর্জন বুঝায়- এমন ইঙ্গিত করা হলে তা দ্বারা বায় কার্যকর হয়।
যে ব্যক্তি প্রকৃত বোবা নয়, বরং সাময়িক বাশক্তি লোপ পেয়েছে তার বিধান নিয়ে বিতর্ক ও বিস্তারিত মতামত রয়েছে। শিরোনাম اعتقال اللسان
বায়-এর শর্তাবলি
বায়-এর শর্তাবলি সীমিতকরণে ফকীহবৃন্দের পন্থা ভিন্ন ভিন্ন। কেউ কেউ শর্তাবলিকে বায় সহীহ হওয়ার শর্ত বলে গণ্য করেন। যখন অন্যরা গুরুত্ব দেন পণ্যের শর্ত উল্লেখ করার। পণ্যে শর্তাবলীর ধারণা সম্ভব হওয়া হিসাবে পণ্যের সকল বা কতক শর্তের সাথে মূল্য যুক্ত হয়।
এ শর্তগুলোর সিংহভাগে কোনো বৈপরীত্য নেই। কারণ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বিচারে সকলের শর্ত প্রায় এক। তবে কোনো কোনো মাযহাবে স্বতন্ত্র কিছু শর্ত রয়েছে যেগুলো অন্য মাযহাবে নেই। হানাফী ফকীহগণ বায় অনুষ্ঠিত হওয়া এবং বায় সহীহ হওয়ার শর্ত ভিন্ন ভিন্ন ভাবে উল্লেখ করেছেন। তারা মনে করেন, বায় অনুষ্ঠিত হওয়ার শর্তাবলিই বায় সহীহ হওয়ার শর্ত। কারণ, যে বায় অনুষ্ঠিতই হয় না, তা সহীহও হবে না। কিন্তু এর উল্টোটা নয়।
সামনের আলোচনায় অধিকাংশ ফকীহের মতে যে সকল শর্ত রয়েছে সেগুলোর আলোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এ শর্তগুলোর যেগুলো হানাফী ফকীহগণের দৃষ্টিতে বায় সংঘটনের শর্ত সেগুলোর দিকেও ইশারা করা হবে।
টিকাঃ
৩৫. আল-হাত্তাব, খ. ৪, পৃ. ২২৮
৩৬. আল-মাজাল্লা, ধারা: ১০১-১০২; আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ৪
৩৭. মিনাহুল জালীল, খ. ২, পৃ. ৪৬২; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ২; আল-কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ১৫৩; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৪০
৩৮. আতাসী কৃত শারহুল মাজাল্লা, খ. ২, পৃ. ৩২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৫; আল-মুগনী, খ. ৩, পৃ. ৫৬১; আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ৪
৩৯. মিনাহুল জালীল, খ. ২, পৃ. ৪৬২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৫; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৪০, আল-মুগনী, খ. ৩, পৃ. ৫৬১
৪০. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৫
৪১. শারহুল মাজাল্লা, খ. ২, পৃ. ৩৪; আদ-দুসুকী, খ. ৩, পৃ. ৩; আল-কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ১৫৩; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৪০
৪২. আদ-দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৩; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৪৬
৪৩. আতাসী কৃত শারহুল মাজাল্লা, খ. ২, পৃ. ৪৪; আশ-শারহুস সাগীর, হালাবী প্রকাশনা, খ. ২, পৃ. ৯; হামিণ্ডল ফুরূক, খ. ৩, পৃ. ২৯০; আল-বাহজা শারহুত তুহফা, খ. ২, পৃ. ২৪; আল-কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ১৫৪; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৪০
৪৪. প্রাগুক্ত
৪৫. শারহুল মাজাল্লা, খ. ২, পৃ. ৩৬; দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ১৪১
৪৬. শারহুল মাজাল্লা, খ. ২, পৃ. ৩৪; আল-খিরাশী, খ. ৫, পৃ. ৫; আল-হাত্তাব, খ. ৪, পৃ. ২৪১; আল-কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ১৫৪; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৪৮
৪৭. শারহুল মাজাল্লা, খ. ২, পৃ. ৩৫; আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১৫৭; আল- কালয়ূবী, খ. ২, পৃ. ১৫৫
৪৮. আল-ফাতাওয়া আল হিন্দিয়্যা, খ. ৩, পৃ. ৩; শারহুল মাজাল্লা, ধারা: ২০৫ ও ২০৮