📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ব্যবসায় বৈধ হওয়ার দলিল

📄 ব্যবসায় বৈধ হওয়ার দলিল


ব্যবসায়ের বৈধতার মূল উৎস: আল্লাহ তা'আলা বলেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ “হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; কিন্তু তোমাদের পরস্পর রাজি হয়ে ব্যবসায় করা বৈধ।” আল্লাহ তাআলা আরো বলেন: فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ “সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে।”
রাসূলুল্লাহ স. বলেন: التاجر الأمينُ الصَّدُوقُ مَعَ النَّبِيِّينَ وَالصَّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ "পরম বিশ্বস্ত ও সৎব্যবসায়ী (পরকালে) নবী, সিদ্দীক ও শহীদগণের সাথে থাকবে।" সার্বিকভাবে ব্যবসায়ের বৈধতার পক্ষে সকল মুসলিম ঐকমত্য পোষণ করেছেন। স্বাভাবিক বোধ ও প্রজ্ঞাও এ কথাই বলে, ব্যবসায় বৈধ হওয়া উচিত। কারণ, এক ব্যক্তির অপর ব্যক্তির হাতে থাকা বস্তুর প্রয়োজন হয়। এটা মানবজীবনের স্বভাবজাত বিষয়। আর মানুষের প্রত্যেকের উদ্দেশ্য পূরণ এবং তার নৈমিত্তিক চাহিদা ও প্রয়োজন মিটানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো ব্যবসায়, তাই তা শরীয়তসম্মত ও বৈধ হওয়াই যথাযথ।

টিকাঃ
২. সূরা আন-নিসা, আয়াত ২৯
৩. সূরা আল-জুমুআ, আয়াত ১০
৪. সুনান তিরমিযী, খ. ৩, পৃ. ৫০৬; আল-হালবী, এই হাদীসের সনদ যঈফ (দুর্বল), যেহেতু এই সনদে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع /ইনকিতা) রয়েছে। ফায়যুল কাদীর, খ. ৩, পৃ. ২৭৮; আল মাকতাবাতুত তিজারিয়্যা

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা

📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা


ক. (বায়): ক্রয়-বিক্রয়
বায় (بيع) হলো নিজে মালিক হওয়ার কিংবা অন্য কাউকে মালিক বানানোর উদ্দেশ্যে পরস্পরের মাঝে সম্পদের বিনিময়। তিজারাহ বা ব্যবসায় হলো লাভের ভিত্তিতে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে কোনো বস্তু ক্রয় করা। বায় (بيع) এবং তিজারাহ (التِّجَارَةُ)-এর মাঝে পার্থক্য হলো, ব্যবসায়ে লাভ অর্জন করার ইচ্ছা থাকে, সে ইচ্ছা বাস্তবায়িত হতেও পারে, নাও হতে পারে। (অর্থাৎ ব্যবসায়ে লাভ অর্জিত হতেও পারে, নাও হতে পারে, বায় এর ব্যতিক্রম।)

খ. السَّمْسَرَةُ (সামসারাহ): দালালি
সামসারাহ (السَّمْسَرَةُ) শব্দটির শাব্দিক অর্থ হলো তিজারাহ বা ব্যবসায়। আল-খাত্তাবী বলেন: আস-সিমসার (السَّمْسَارُ) শব্দটি অনারব শব্দ। পূর্বকালে যারা ক্রয়-বিক্রয় করত তাদের অনেকেই ছিল অনারব। আরবরা তাদের নিকট থেকে শব্দটি আত্মিকরণ করে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সা. সে শব্দটির পরিবর্তে 'তিজারাহ' (تجارة) শব্দটি গ্রহণ করেন, যা আরবী নামসমূহের অন্যতম।
সামসারাহ (السمسرة)-এর পারিভাষিক সংজ্ঞা: বিক্রেতা ও ক্রেতার মাঝে মধ্যস্থতা করাকে আস-সামসারাহ বা দালালি বলে। আর আস-সিমসার (السَّمْسَارُ) বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে, যে ক্রয়-বিক্রয় সম্পাদনে ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে। তাকে দালালও বলা হয়। কারণ, সে ক্রেতার জন্যে পণ্যের এবং বিক্রেতার জন্যে মূল্যের দালালি করে।

টিকাঃ
৫. আল-মুগনী, খ. ৩, পৃ. ৫৬০
৬. হাদীস: 'ব্যবসায়ের নাম ছিল সামসিরাহ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সা. পরিভাষাটি পরিবর্তন করেন।' ইমাম তিরমিযী তার সুনান গ্রন্থে, খ. ৩, পৃ. ৫০৫; আল-হালাবী প্রকাশনা) এবং হাকিম তার আল-মুসতাদরাক গ্রন্থে, (খ. ২, পৃ. ৭; দায়িরাতুল মাআরিফ আল উসমানিয়া প্রকাশনা) হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। ইমাম হাকিম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ইমাম যাহাবী তা সমর্থন করেছেন
৭. তুহফাতুল আহওয়াযী, খ. ৪, পৃ. ৩৯৮
৮. ইবনে আবিদীন, খ. ৫, পৃ. ৩৯

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 শরীয়তের বিধান

📄 শরীয়তের বিধান


মানুষ উপার্জনের উদ্দেশ্যে যে সকল পেশা চর্চা করে জীবনযাপনের তেমন এক পেশা হচ্ছে ব্যবসায়; এভাবে উপার্জন করা শরীয়তসম্মত। কারণ, এর মাধ্যমেই ব্যক্তি তার সমাজের প্রয়োজন পূর্ণ করে। তাই ব্যবসায় মৌলিকভাবে বৈধ। তবে স্থান-কাল-পাত্রভেদে ব্যবসায়ে ওয়াজিব, হারাম, মাকরুহ ইত্যাদি বিভিন্ন বিধান আরোপিত হতে পারে।
ফকীহগণ ব্যবসায়ের সাথে সম্পর্কিত বিধি-বিধান বলে বুঝিয়েছেন মৌলিক ফিকহগ্রন্থসমূহ ছাড়াও শরয়ী শিষ্টাচার (الأداب الشرعية) ও ফাতাওয়ার গ্রন্থাবলিতে যা কিছু তারা উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থও রচনা করেছেন। যেমন: আস সারাখসী প্রণীত আল-ইকতিসাব ফির-রিযকিল মুসতাতাব (الاكتساب في الرزق المستطاب), আবু বকর আল-খাল্লাল প্রণীত কিতাবুত তিজারাহ (كتاب التجارة) ইত্যাদি।
বর্তমানে নানা ধরনের নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হচ্ছে। ফকীহগণ ব্যবসায়-বাণিজ্য সংক্রান্ত যে সকল সাধারণ নীতি এবং বিভিন্ন পরিস্থিতির আলোকে বিভিন্ন বিধান নির্ধারণ করেছেন সে সবই এ সকল প্রতিষ্ঠানে কার্যকর হবে। যেমন, পণ্যদ্রব্যের যাকাতের আলোচনায় পণ্যের সাথে সম্পৃক্ত কিছু বিধান ফকীহগণ অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যথা, এমন পণ্যে যাকাত ফরয হওয়া, ব্যবসার জন্যে না হলে যেগুলোতে যাকাত ফরয হয় না। যেমন: কাপড়, জমি ইত্যাদি। এমনিভাবে মৌলিকভাবে যা যাকাতের পণ্য, তা ব্যবসার জন্যে নির্ধারণ করা হলে তাতে যাকাত হিসাবে প্রদেয় সম্পদের ধরনে ও পরিমাণে পার্থক্য হওয়া। যেমন চতুষ্পদ জন্তু ও উশরী পণ্য। মুদারাবা এবং কতক অংশীদারী কারবারে ব্যবসার কিছু বিধানও কার্যকর হয়।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ব্যবসায়ের ফজীলত

📄 ব্যবসায়ের ফজীলত


সম্পদ উপার্জনের সবচেয়ে উত্তম এবং সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ মাধ্যম হলো ব্যবসায়। তবে একজন ব্যবসায়ী এই মর্যাদা তখনই পাবেন যখন তিনি ব্যবসায়ের সকল হারাম (নিষিদ্ধ) পদ্ধতি বর্জন করবেন এবং ব্যবসায়ের সকল শিষ্টাচার মেনে চলবেন। হাদীসে এসেছে: سُئِلِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَيُّ الْكَسْبِ أَطْيَبُ ؟ فَقَالَ : عَمَلَ الرَّجُلِ بِيَدِهِ وَكُل بَيْعِ مَبْرُورٍ "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, পবিত্রতম উপার্জন কোন্টি? তিনি উত্তরে বললেন, ব্যক্তির নিজ হাতের উপার্জন এবং প্রত্যেক স্বীকৃত ক্রয়বিক্রয়ের মাধ্যমে উপার্জন।"
আশ-শারকাভী তার হাশিয়াতে বলেন: নবী সা.-এর বাণী (وَكُلِّ بَيْعٍ مَبْرُور) অর্থাৎ 'এবং প্রত্যেক স্বীকৃত ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে উপার্জন' বলে তিনি ব্যবসায়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

টিকাঃ
৯. হাদীস: উপার্জন হলো ব্যক্তির নিজের হাতের উপার্জন..... ইমাম আহমাদ হাদীসটি তার মুসনাদ গ্রন্থে (খ. ৪, পৃ. ১৪১; আল-মাইমানিয়‍্যা প্রকাশনা) উল্লেখ করেছেন। হাফিয ইবনে হাজার বলেছেন, এই হাদীসের বর্ণনাকারীগণের বর্ণনা গ্রহণে কোন অসুবিধা নেই। (رجاله لا بأس بهم) ফায়যুল কাদীর, খ. ১, পৃ. ৫৪৭, আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়‍্যা প্রকাশনা।
১০. হাশিয়াতুশ শারকাভী আলাত তাহরীর, খ. ২, পৃ. ৩, ঈসা আল-হালবী প্রকাশনা

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00