📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মেয়াদ নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক

📄 মেয়াদ নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক


যদি মেয়াদ নির্ধারণ নিয়েই ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে মতান্তর ঘটে, যেমন ক্রেতা বলল, আমি জিনিসটি বাকীতে এক দীনার-এর বিনিময়ে কিনেছি। শুনে বিক্রেতা অস্বীকার করে বলল, বিক্রি নগদ মূল্যে হয়েছে, বিলম্বিত মেয়াদে নয়। এক্ষেত্রে ফকীহদের মতামত বিভিন্ন।

হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমদের মত হচ্ছে, যে মেয়াদী হওয়াকে অস্বীকার করছে-বিক্রেতা-তার কথা শপথসহ গৃহীত হবে। যেহেতু লেনদেনের স্বাভাবিক অবস্থা হচ্ছে, নগদ বিনিময়। পণ্যও নগদ এবং তার মূল্যও নগদ হস্তান্তর করা হবে। স্বাভাবিক অবস্থার বিপরীত বক্তব্য যে প্রদান করবে তাকে দলিল সহ তা বলতে হবে। এক্ষেত্রে এটি ক্রেতার কাঁধে নেমে আসবে, তাকে দলিল আনতে হবে। যদি সে দলিল উপস্থাপনে ব্যর্থ হয় তাহলে বিক্রেতা ক্রেতার কথা অস্বীকার করবে কসমের সাথে।

মালেকী আলেমদের মত হচ্ছে, যে এলাকায় এ বিতর্ক হচ্ছে সেখানে যদি কসম খাওয়ার প্রচলন থাকে তাহলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে কসম খাবে, পণ্য এখানে উপস্থিত থাকুক বা না থাকুক। যদি সে এলাকায় কসমের প্রচলন না থাকে তাহলে পণ্য থাকাবস্থায় বিতর্ক হলে উভয়ে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে অপরের কথা প্রত্যাখ্যান করে কসম খাবে এবং বিক্রি বাতিল করে দেবে। যদি পণ্য এখন আর না থাকে, তাহলে ক্রেতার কথা গ্রহণ করা হবে যদি সে এমন নিকটবর্তী মেয়াদের কথা শপথের সাথে উল্লেখ করে যা নিয়ে কারো সন্দেহ না জাগে।

শাফেয়ী আলেমগণ বলেন, যা হাম্বলী আলেমদের একটি মত, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই শপথ করবে। আলোচিত মাসআলায় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই যেমন দাবিদার, তেমনি তারা উভয়ে বিবাদীও। যেহেতু তারা বিক্রিচুক্তির বৈশিষ্ট্য নিয়ে মতভেদ করেছে, তাই তাদের উভয়ের শপথ করতে হবে।

টিকাঃ
১৬০. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ২৪; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২৩৮; আল-মুগনী সহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ২৬৯
১৬১. হাশিয়া দুসুকী, খ. ৩, পৃ. ১৯১
১৬২. মুসলিম
১৬৪. আল-মুগনী সহ আ- শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ২৬৯

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মেয়াদের পরিমাণ নিয়ে বিতর্ক

📄 মেয়াদের পরিমাণ নিয়ে বিতর্ক


যদি মেয়াদের পরিমাণ নিয়ে বিতর্ক হয়, যেমন বিক্রেতা বলল, আমি তোমার নিকট এটি বিক্রি করেছি এক মাস সময়ে মূল্য পরিশোধ করার শর্তে। ক্রেতা দাবি করল আরো বেশি সময়ের, তাহলে ফয়সালা কী হবে, তা নিয়ে ফকীহগণ বিভিন্ন মত বর্ণনা করেছেন:

হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমদের এ সম্পর্কে মত হচ্ছে, যে কম সময় দাবি করবে তার কথা গ্রহণ করা হবে, যেহেতু সে আধিক্য অস্বীকার করছে। আধিক্য অস্বীকারকারী হচ্ছে বিক্রেতা। তার অস্বীকৃতি প্রদানের পর ক্রেতাকে তার দাবির পক্ষে দলিল দিতে বলা হবে। যদি সে তা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বিক্রেতার কসম খাওয়ার পালা।

মালেকী, শাফেয়ী এবং হাম্বলীদের এক বর্ণনায় উভয়ে শপথ করবে। উভয়ে কসম খাওয়ার পর মালেকী মাযহাবের আলেমদের মতে, বিক্রয়চুক্তি ভেঙ্গে যাবে, যদি পণ্যটি এখনো উপস্থিত থাকে। শাফেয়ী আলেমদের অভিমত হচ্ছে, যদি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে কসম খায়, তাহলে শুধু উভয়ের কসম খাওয়ার দরুন বিক্রয় চুক্তিটি ভেঙ্গে যাবে না; এটিই তাদের বিশুদ্ধ মত। বরং তাদের একের কথা অন্যে মেনে নিলে ঝগড়া নিষ্পত্তি হয়ে গেলে বিক্রি বহাল থাকবে। আর যদি কারো কথা কেউ না মানে, ঝগড়া যথারীতি বহাল থাকে তাহলে হয় উভয়েই বিক্রি বাতিল করে দেবে অথবা দুজনের কোনো একজন অথবা বিচারক বিক্রি বাতিলের ফয়সালা দেবেন।

টিকাঃ
১৬৫. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ২৪; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২৩৮
১৬৬. হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ১৮৯
১৬৭. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৯৬

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মেয়াদের শেষ সময় এবং তা অতিক্রান্ত হওয়া নিয়ে বিতর্ক

📄 মেয়াদের শেষ সময় এবং তা অতিক্রান্ত হওয়া নিয়ে বিতর্ক


যদি ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ে বিক্রি মেয়াদী হওয়ায় একমত হলেও, সে মেয়াদ কি এখনো রয়েছে না অতিক্রান্ত হয়েছে তা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে, যেমন বিক্রেতা বলল, আমি এটি তোমার কাছে বিক্রি করেছি, তার মূল্য নগদ না হয়ে বাকী ছিল, সময় নেওয়া হয়েছিল এক মাস, তার শুরু হলো রমযানের শুরু এবং রমাজান অতিক্রান্ত হয়েছে। ক্রেতা বলল, মেয়াদের শুরু হচ্ছে রমযানের মাঝামাঝি সময়, সুতরাং শেষ হবে শাওয়ালের মাঝামাঝি সময়ে।

হানাফী আলেমদের মত হচ্ছে, এখানে ক্রেতার দাবি গৃহীত হবে, তাই তাকে তার দাবির সপক্ষে দলিল প্রদান করতে বলা হবে। যেহেতু ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে বেচাকেনা নগদ না হয়ে বাকীতে হওয়ার কথায় একমত হয়েছে, এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে ধর্তব্য হবে যে, মেয়াদ এখনো বাকী রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্রেতা যখন মেয়াদ বাকী থাকার কথাই বলবে, তার কথাই শোনা হবে। যদি উভয়ে দলিল উপস্থাপন করে তবে সেক্ষেত্রেও ক্রেতার দলিলটিকেই অগ্রগণ্য বিবেচনা করা হবে।

মালেকী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ার কথা যে অস্বীকার করবে তার কথা শপথসহ গ্রহণ করা হবে। যেহেতু মেয়াদ এখনো বহাল থাকাই হচ্ছে স্বাভাবিক অবস্থা। আর তাই যে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা অস্বীকার করে মেয়াদ থাকার কথা বলবে, তার কথা গ্রহণ করা হবে। এটি তখন যখন কেউ কোনো দলিল আনতে না পারবে। যদি কেউ দলিল আনতে পারে তবে অবশ্যই দলিল অনুযায়ী ফয়সালা করা হবে।

টিকাঃ
১৬৮. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ২৪ ও ৪৪৯; আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ১৫
১৬৯. হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ১৯১; খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ১০৮; সাভী প্রণীত বুলগাতুস সালিক লি আকরাবিল মাসালিক, খ. ২, পৃ. ৮১

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 যে সকল কারণে মেয়াদ বর্জিত হয়

📄 যে সকল কারণে মেয়াদ বর্জিত হয়


মেয়াদ কখনো হয় সম্বন্ধিত, যার বাস্তবায়নের সাথে বিভিন্ন কাজের বিধি-বিধান বিন্যস্ত থাকে। মেয়াদের বাস্তব অস্তিত্বের সাথে সাথে সে সকল বিধান বাস্তবায়িত হয়। মেয়াদ যে সব কারণে বাদ পড়ে সেগুলো ব্যাপক দৃষ্টিতে দু প্রকার: এক. কখনো মেয়াদ বিয়োজন করা হয়, দুই. কখনো মেয়াদে বিয়োজন ঘটে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00