📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 বন্ধকে সময় নির্ধারণ

📄 বন্ধকে সময় নির্ধারণ


ফকীহগণ এ কথায় একমত, বন্ধক রাখায় সময় নির্ধারণ করা জায়েয নয়। যেমন কেউ বলল, আমি তোমার নিকট এটি একমাস বন্ধক রাখছি, তোমার নিকট থেকে আমি যে ঋণ নিয়েছি তার বিপরীতে। তাহলে তা সহীহ হবে না।

টিকাঃ
১০৪. আল-মুগনী সহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ৪২৯; আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ২৩৬; আল-খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ১৫৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৩২; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩৫২

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মেয়াদের প্রকার

📄 মেয়াদের প্রকার


মেয়াদ দু প্রকার: ১. জানা ও ২. অজানা। মেয়াদের এই প্রকারভেদের প্রভাব মূল চুক্তিতে পড়ে। তার ভিত্তিতে চুক্তি সহীহ অথবা বাতিল হয়ে যায়। অজানা মেয়াদে প্রতারণার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। তবে অজানা শর্তের কোনোটি জানা সহজ হয়, কোনোটি তার বিপরীত।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 জানা মেয়াদ

📄 জানা মেয়াদ


যে সকল লেনদেন ও চুক্তিতে মেয়াদ নির্ধারণ করার অবকাশ রয়েছে সেগুলোতে যদি মেয়াদ হয় জানা সময়, তবে মেয়াদ নির্ধারণ করা সহীহ, এ কথায় সকল ফকীহ একমত। সময়টা জানার যে পন্থা এখানে কার্যকর হবে তা হচ্ছে, এমন এক নির্ধারিত সময় বলা হবে যা ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে বা দলে দলে পরিবর্তিত হয় না। তা নির্ধারিত দিন ক্ষণ, মাস বা বছর উল্লেখ করার দ্বারাই সম্পন্ন হবে। মেয়াদ জানা না থাকলে পণ্য বা মূল্য হস্তান্তর নিয়ে দু'পক্ষে ঝগড়া লাগার সম্ভাবনা প্রবল। এক পক্ষ তাড়াতাড়ি পাওয়া আশা করবে, অপরপক্ষ হাতে আরো সময় থাকার হিসাব করবে। ফলে দেখা দেবে ঝগড়ার সমূহ সম্ভাবনা। আর নিয়ম হচ্ছে, যেখানে ঝগড়ার সামান্য সম্ভাবনাও দেখা যাবে, শরীয়ত তার দ্বার রুদ্ধ করে দিতে তাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করবে। অতএব শরীয়তে মেয়াদ অনির্ধারিত রাখার কোনো অবকাশ নেই।

টিকাঃ
১০৫. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৮৩; ইবনে নুজাইম-এর আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ৩৫৭; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১০৫; আল-মুগনী সহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ৩২৮
১০৬. সূরা বাকারা: আয়াত ২৮২
১০৭. বুখারী ও মুসলিম
১০৮. সূরা মায়েদা: আয়াত ১
১০৯. শিরাযী প্রণীত আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৯৯
১১০. হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ২০৫

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 অজানা মেয়াদ

📄 অজানা মেয়াদ


অগোছালো বা অনিশ্চিত কোনো কাজের বাস্তবায়ন পর্যন্ত মেয়াদ যদি কোনো কাজ এমন হয় যা কখন ঘটবে তার প্রকৃত সময় কারো জানা নেই বা এ ধরনের কাজ কখন ঘটে তা কেউ বলতে পারে না, কাজটি গোছানোও নয়, তাহলে এ কাজটির সংঘটন ও বাস্তবায়নকাল হচ্ছে অজানা সময়। যেমন বৃষ্টি হওয়া, জোর বাতাস বয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

এ ধরনের অজানা সময়ে কোনো পণ্য বা মূল্য হস্তান্তরের মেয়াদ নির্ধারণ করা সকল ফকীহের মতে নাজায়েয ও অবৈধ। বৃষ্টি বা জোরে বাতাস কবে হবে, আদৌ হবে কি-না তা কারো জানা থাকে না। কারো ধনী হওয়া পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করাও এমনি। যেহেতু ধনী হওয়ার জন্যে প্রাথমিক কোনো বিষয় নিয়মতান্ত্রিকভাবে উপস্থিত নেই, তাই কবে সে ধনী হবে, আদৌ ধনী হবে কি-না তা কারোর জানা নেই।

ফসল কাটা বা ফল পাড়া ইত্যাদি সাধারণ ও স্বাভাবিকভাবে যে সময়ে সংঘটিত হয় সে সময়ের শর্ত করার ক্ষেত্রে যে সামান্য অনবহতি, তার দরুনই মেয়াদ নির্ধারণ করা জায়েয না হওয়ার এবং সে জন্যে চুক্তিই বাতিল হওয়ার যারা মত ব্যক্ত করেছেন, তারা তাদের পক্ষে যে সকল হাদীস ও দলিল প্রদান করেছেন, সে সব হাদীসই ফকীহগণ মেয়াদ একেবারে অজানা থাকলে সে মেয়াদ নির্ধারণ নাজায়েয এবং সে জন্যে চুক্তি বাতিল হওয়ার পক্ষে দলিল হিসাবে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, সামান্য অজ্ঞতা যদি চুক্তি বাতিল করে, তবে পূর্ণ অজ্ঞতা তো অবশ্যই বাতিল করবে।

মেয়াদ একেবারে অজানা থাকলে, যেমন ঝড় তুফান হওয়া; তা আগেও হতে পারে, পরেও হতে পারে কিংবা মোটেও না হতে পারে। এ অবস্থায় তার সাথে কিভাবে চুক্তির মেয়াদ সম্পৃক্ত হতে পারে? অজানা মেয়াদ নির্ধারণে উভয় পক্ষে ঝগড়া লাগার সমূহ সম্ভাবনা বিদ্যমান। তা ছাড়া ধোঁকা ও প্রতারণার আশঙ্কা পুরোপুরিই উপস্থিত। তাই এটি কারো মতে জায়েয নয়।

অজানা মেয়াদে সময় নির্ধারণের ফলশ্রুতিঃ
সকল মাযহাবের সকল ফকীহ এ কথায় একমত, অজানা কোনো মেয়াদে সময় নির্ধারণ করা হলে, অনবহতি সামান্য হোক বা অধিক, তা জায়েয হবে না। তবে তার ফলশ্রুতি কী হবে তা নিয়ে ফকীহদের সামান্য মতপার্থক্য হয়েছে।

হানাফী, মালেকী ও শাফেয়ী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, এটি হাম্বলী আলেমদেরও একটি মত, এ ধরনের মেয়াদের দরুন চুক্তিটি বাতিল হয়ে যাবে। যেহেতু মেয়াদ নির্ধারণটি ত্রুটিপূর্ণ এবং তাই তা বাতিল হয়েছে, তা চুক্তিটিকেও বাতিল করে দেবে। যেহেতু ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের সম্মতিতে সম্পন্ন হয় বিক্রি বা এ জাতীয় চুক্তি তাই সে চুক্তিতে যে মেয়াদ নির্ধারিত হবে তাও হতে হবে উভয়ের সম্মতিতে। যে মেয়াদ শরীয়তসম্মত নয় তাতে তারা উভয়ে একমত হবে না। এ অবস্থায় যদি চুক্তিটি যথাযথ বলা হয় হয় তবে তা হতে উভয়ের সম্মতিবিহীন। উভয়ের সম্মতি ছাড়া এ ধরনের চুক্তি কখনো সহীহ হয় না।

তবে হানাফী মাযহাবের আলেমগণ সেই সাথে এ কথাও বলেছেন, যদি ক্রেতা ও বিক্রেতা কেনাবেচার মজলিস থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বে এবং মূল্য পরিশোধ করার পূর্বে ক্রেতা অজানা মেয়াদের- যার অনবহতি অধিক ও দূরবর্তী- শর্তটি বাতিল করে দেয়, তাহলে চুক্তিটি জায়েয ও বৈধ হয়ে যাবে। যুফার রহ.-এর মতে তাহলেও তা জায়েয হবে না; চুক্তিটি ভেঙ্গে নতুনভাবে তা সম্পাদন করতে হবে। আর যদি মেয়াদ বাতিল করার পূর্বে মজলিস শেষ হয়ে যায় এবং ক্রেতা ও বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাহলে তাতে ত্রুটি আরো মজবুত হয়ে যায়। ফলে তা আর জায়েয হওয়ার কোনো ব্যবস্থা থাকে না। এ কথায় হানাফী মাযহাবের সকল আলেম একমত।

হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, অজানা মেয়াদ শর্ত করা হলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে; বিক্রি সহীহ ও সঠিক থাকবে। তবে তা যদি হয় সালাম বিক্রি তবে মেয়াদ ও বিক্রি উভয়টি বাতিল হবে। তারা তাদের কথার সমর্থনে দলিল প্রদান করেন বারীরা (রা)-এর রেওয়ায়াত দ্বারা। নবী করীম (সা) এখানে শর্ত বাতিল বলেছেন, চুক্তি বাতিল করেননি। ইবনুল মুনযির বলেন, বারীরা (রা) সম্পর্কিত এ হাদীস প্রতিষ্ঠিত। এর বিপরীত কোনো হাদীস আছে এমনটা আমরা জানি না। অতএব, এ হাদীসের মাধ্যমে যা প্রতিষ্ঠিত হয় তা ওয়াজিব ও অবশ্য পালনীয় হবে।

টিকাঃ
১৩৩. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ১২৬; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৮৭; বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৪, পৃ. ১৮১; হাশিয়া দুসুকী, খ. ৩, পৃ. ৬৭; খিরাশী, খ. ৩, পৃ. ৪৩৮; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ.১০৫; শিরাযী কৃত আল-মুহায্যাব, খ. ১, পৃ. ২৬৬ ও ২৯৯; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ১৮৯
১৩৪. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৯৯; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ৩০০; আল-মুগনী সহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ৩২৮
১৩৫. আশ-শারহুস সাগীর, খ. ২, পৃ. ৮৭
১৩৬. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৮৩; রাদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ১২৬; হাশিয়া দুসুকী, খ. ৩, পৃ. ৬৭; খিরাশী, খ. ৩, পৃ. ৪৩৮; শিরাযী প্রণীত আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৬৬ ও ২৯৯; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১০৫; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৮৯ ও ১৯৪ ও ৩০০; আল-মুগনী সহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ৫৩ ও ৩২৮
১৩৭. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ১২৬
১৩৮. বুখারী ও মুসলিম
১৩৯. আল-মুগনীসহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ৫৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00