📄 হিবা ও অনুদানে সময় নির্ধারণ
সকল আলেম ও ফকীহ এ কথায় একমত, হিবা কখনো স্থায়ী ভিন্ন সাময়িক হয় না। তারা বলেন, এক্ষেত্রে সময় নির্ধারণ করা জায়েয নয়। যেহেতু হিবাতে কোনো জায়গা বা বস্তুর তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে মালিক বানানো হয়। আর নিয়ম হচ্ছে, কোনো বস্তুর কাউকে মালিক বানানো হলে তা স্থায়ীভাবে হতে হবে, সাময়িকভাবে নয়। যেমন কোনো বস্তু বিক্রির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তাই কেউ যদি বলে, আমি এ বছরের জন্যে হিবা করলাম, এ বছর শেষে তা আবার আমার মালিকানায় চলে আসবে, তাহলে তার হিবা-ই সহীহ হবে না। কোনো কোনো ফকীহ এ আলোচনা থেকে উমরা (العمرى) ও রুকবা (الرقى) এ দুটি পদ্ধতিকে ব্যতিক্রম বলে উল্লেখ করেছেন।
টিকাঃ
১০৩. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ১১৮; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩৯৮; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৯৭; আল-মুগনী সহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৬, পৃ. ২৫৬
📄 বন্ধকে সময় নির্ধারণ
ফকীহগণ এ কথায় একমত, বন্ধক রাখায় সময় নির্ধারণ করা জায়েয নয়। যেমন কেউ বলল, আমি তোমার নিকট এটি একমাস বন্ধক রাখছি, তোমার নিকট থেকে আমি যে ঋণ নিয়েছি তার বিপরীতে। তাহলে তা সহীহ হবে না।
টিকাঃ
১০৪. আল-মুগনী সহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ৪২৯; আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ২৩৬; আল-খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ১৫৩; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১৩২; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩৫২
📄 মেয়াদের প্রকার
মেয়াদ দু প্রকার: ১. জানা ও ২. অজানা। মেয়াদের এই প্রকারভেদের প্রভাব মূল চুক্তিতে পড়ে। তার ভিত্তিতে চুক্তি সহীহ অথবা বাতিল হয়ে যায়। অজানা মেয়াদে প্রতারণার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। তবে অজানা শর্তের কোনোটি জানা সহজ হয়, কোনোটি তার বিপরীত।
📄 জানা মেয়াদ
যে সকল লেনদেন ও চুক্তিতে মেয়াদ নির্ধারণ করার অবকাশ রয়েছে সেগুলোতে যদি মেয়াদ হয় জানা সময়, তবে মেয়াদ নির্ধারণ করা সহীহ, এ কথায় সকল ফকীহ একমত। সময়টা জানার যে পন্থা এখানে কার্যকর হবে তা হচ্ছে, এমন এক নির্ধারিত সময় বলা হবে যা ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে বা দলে দলে পরিবর্তিত হয় না। তা নির্ধারিত দিন ক্ষণ, মাস বা বছর উল্লেখ করার দ্বারাই সম্পন্ন হবে। মেয়াদ জানা না থাকলে পণ্য বা মূল্য হস্তান্তর নিয়ে দু'পক্ষে ঝগড়া লাগার সম্ভাবনা প্রবল। এক পক্ষ তাড়াতাড়ি পাওয়া আশা করবে, অপরপক্ষ হাতে আরো সময় থাকার হিসাব করবে। ফলে দেখা দেবে ঝগড়ার সমূহ সম্ভাবনা। আর নিয়ম হচ্ছে, যেখানে ঝগড়ার সামান্য সম্ভাবনাও দেখা যাবে, শরীয়ত তার দ্বার রুদ্ধ করে দিতে তাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করবে। অতএব শরীয়তে মেয়াদ অনির্ধারিত রাখার কোনো অবকাশ নেই।
টিকাঃ
১০৫. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৮৩; ইবনে নুজাইম-এর আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ৩৫৭; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১০৫; আল-মুগনী সহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ৩২৮
১০৬. সূরা বাকারা: আয়াত ২৮২
১০৭. বুখারী ও মুসলিম
১০৮. সূরা মায়েদা: আয়াত ১
১০৯. শিরাযী প্রণীত আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ২৯৯
১১০. হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ২০৫