📄 জিম্মাদার ও জামিন হওয়াতে সময় নির্ধারণ
কেউ যদি বলে, আমি যায়েদের পক্ষ থেকে জিম্মাদার এক মাস পর্যন্ত, এরপর আর আমার কোনো জিম্মাদারি নেই, তাহলে এভাবে সাময়িক জিম্মাদার হওয়া যথাযথ কিনা তা নিয়ে ইমাম ও ফকীহদের মাঝে বিতর্ক রয়েছে। হানাফী আলেমদের মত, শাফেয়ীদের নিকট সঠিক ও গ্রহণযোগ্য মত এবং হাম্বলী আলেমদের মত হচ্ছে, এভাবে সময় নির্ধারণ করা জায়েয। মালেকী মাযহাবের আলেমগণ কতক শর্ত সাপেক্ষে এভাবে জিম্মাদার ও জামিন হওয়া জায়েয বলে মত প্রকাশ করেছেন। তারা তাদের লেখা ফিকহী গ্রন্থাদিতে জামিন হওয়ার আলোচনায় এ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে শর্তাবলি উল্লেখ করেছেন। ফকীহগণ এভাবে সময়ের সাথে সীমিত জিম্মাদারি বৈধ বলেছেন, যেহেতু এভাবে নির্দিষ্টকরণ ব্যতীত জিম্মাদার হতে হয়তো রাজিই হবে না। শাফেয়ী আলেমগণ পরবর্তী সময়ে অধিক সঠিক বলে যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা হলো, জিম্মাদারিতে সময় নির্ধারণ যথার্থ নয়।
টিকাঃ
৮৮. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ২৬৬; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২০৭; আল-মুগনীসহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ৯৮; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৩৩১-৩৩২
৮৯. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২০৭; শিরাজী প্রণীত আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৪১
📄 ওয়াকফে সময় নির্ধারণ
যদি কেউ সীমিত সময়ের জন্যে কোনো কিছু ওয়াকফ করে, সে সময় শেষ হলে ওয়াকফ বাতিল হওয়ার ঘোষণা দেয়, যেমন কেউ বলল, আমার বাড়িটি আমি এক বছরের জন্যে ওয়াকফ করলাম বা হাজীগণ আসা পর্যন্ত, তাহলে তার এ ওয়াকফ যথাযথ হবে কিনা তা নিয়ে ফকীহগণ মতপার্থক্য করেছেন। হানাফী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমদের মত হচ্ছে, এটি যথাযথ ওয়াকফ বলে গণ্য হবে না; যেহেতু ওয়াকফের চাহিদা হচ্ছে তা হবে স্থায়ী। এ বিষয়ে মালেকী মাযহাবের আলেমদের মত যা হাম্বলী আলেমদেরও একটি অভিমত, তা হচ্ছে, ওয়াকফ সঠিক ও যথাযথ হওয়ার জন্যে চিরস্থায়ী ভাবে ওয়াকফ করা জরুরি নয়। তাই তাতে সাময়িক ওয়াকফ করা যথার্থ। সময় শেষে তা আবার মূল মালিকের মালিকানায় ও অধিকারে ফিরে যাবে, যেমন ওয়াকফের পূর্বে ছিল।
টিকাঃ
৯০. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৫০৬; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৩, পৃ. ৩০৪; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৭৯; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩৮৩; কাশশাফুল কিনা', খ. ৪, পৃ. ২৫০
৯১. হাশিয়া দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৭৯; আল-মুগনী সহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৬, পৃ. ২২১
📄 যে সকল চুক্তি মেয়াদী হওয়া বৈধ নয়
যে সকল চুক্তি মেয়াদী বা সাময়িক হওয়া বৈধ নয় সেগুলো হচ্ছে: বিক্রয়, হিবা, বিবাহ ইত্যাদি।
📄 বিক্রিতে সময় নির্ধারণ
বিক্রয়-এর পরিচিতি হচ্ছে পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পদের বিপরীতে সম্পদ আদানপ্রদান বা অদলবদল এবং তার বিধান হচ্ছে ক্রীতপণ্যে ক্রেতার মালিকানা এবং নির্ধারিত মূল্যে বিক্রেতার মালিকানা। এসবই প্রতিষ্ঠিত হয় তখন যখন বিক্রয় সম্পন্ন হয়। এবং যেহেতু এই মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় স্থায়ীভাবে, তাই তাতে সময় নির্ধারণের কোনো অবকাশ নেই। ফকীহগণ এ ধরনের শর্ত বাতিল বলে ঘোষণা করেছেন যেগুলো বিক্রিকে সাময়িক ও অস্থায়ী বলে প্রকাশ করে। বিক্রি সাময়িক হলে সে সময় শেষে পণ্যটি আবার বিক্রেতার মালিকানায় চলে আসবে, যা মোটেই যথার্থ নয়। বিক্রয় সাময়িক হওয়া শব্দের মাধ্যমে প্রকাশিত হতে পারে। যেমন কেউ বলল, এটি আমি তোমার নিকট এক বছরের জন্যে বিক্রি করলাম। অথবা সাময়িক হওয়া কোনো আরোপিত শর্তের দ্বারা প্রকাশিত হতে পারে। যেমন কেউ বিক্রিকালে বলল, আমি তোমার নিকট এটি বিক্রি করছি এই শর্তসহ যে, অমুক সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তা তুমি আমাকে ফিরিয়ে দেবে। যেভাবেই হোক বিক্রি এভাবে সাময়িক হওয়া সহীহ নয়।
টিকাঃ
৯২. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ২৩৩
৯৩. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩; এ গ্রন্থে বলা হয়েছে, কতক ফকীহ البيع (বিক্রি)-এর সংজ্ঞা বর্ণনা করে বলেছেন, আর্থিক লেনদেন সংশ্লিষ্ট চুক্তি, যার বিনিময়ে কোনো বস্তু বা উপকারের মালিক হওয়া যায় স্থায়ীভাবে।
৯৪. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৬, পৃ. ১১৮; আল-মুগনী সহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৬, পৃ. ২৫৬ ও ৩১৩