📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মুদারাবাতে সময় নির্ধারণ

📄 মুদারাবাতে সময় নির্ধারণ


মুদারাবা চুক্তিতে সময় নির্ধারণ করা যথাযথ কি-না তা নিয়ে ফকীহদের মাঝে মতান্তর রয়েছে। হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমদের মতে, তাতে সময় নির্ধারণ করা জায়েয। পুঁজি সরবরাহকারী ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে বলবে, আমি এ দিরহামগুলো মুদারাবা হিসাবে এক বছরের জন্যে তোমাকে দিলাম। এক বছর শেষ হলে তুমি আর কোনো কিছু কিনবেও না, বেচবেও না। এভাবে সময় নির্ধারণ করা হলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত মুদারাবা কার্যকর থাকবে, সময় শেষ হলে তা বাতিল হয়ে যাবে। সময় নির্ধারণ করার দ্বারা কোনো কাজ সীমিত করা হয়, এটিও হয়ে গেছে সীমিত। আর এ সময়ে কর্মী হচ্ছে অর্থ যোগানদাতার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি। তাই যে সময় বেঁধে দেওয়া হবে, সে সে সময়টুকুতে কেবল প্রতিনিধি থাকবে, এর অধিক নয়। যেমন প্রতিনিধি হিসাবে পণ্যের প্রকার ও স্থান ইত্যাদি নির্ধারণ করে দিলে কর্মী তাতেই তার কাজ সীমিত রাখবে।

যেহেতু মুদারাবায় নির্ধারিত কোনো পণ্য কেনাবেচার জন্যে নির্ধারণ করা যায়, তাই তাতে সময়ও নির্ধারিত হওয়ার অবকাশ রয়েছে, যেমন প্রতিনিধি নিয়োগ করার ক্ষেত্রে সময় নির্ধারণ করা জায়েয। তা ছাড়া পুঁজিদাতা যখন কর্মীর প্রতি সন্তুষ্ট তখনও যে কোনো সময়ে বেচাকেনা করা থেকে কর্মীকে সে বিরত রাখতে পারে, অতএব সে যদি এক্ষেত্রে শর্ত করে তবে তার সে শর্ত চুক্তির চাহিদা মাফিকই হবে, আর তাই তা গৃহীতও হবে এবং সঠিক ও যথাযথ বলে বিবেচিত হবে। মালেকী ও শাফেয়ী আলেমগণ বলেন, মুদারাবাতে সময় নির্ধারণ করা যথাযথ নয়।

টিকাঃ
৮৪. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৫০৮
৮৫. রদ্দুল মুহতার, খ. ৫, পৃ. ৬৯; আল ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ৮৪
৮৬. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৭০
৮৭. খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ৪২২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১২

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 জিম্মাদার ও জামিন হওয়াতে সময় নির্ধারণ

📄 জিম্মাদার ও জামিন হওয়াতে সময় নির্ধারণ


কেউ যদি বলে, আমি যায়েদের পক্ষ থেকে জিম্মাদার এক মাস পর্যন্ত, এরপর আর আমার কোনো জিম্মাদারি নেই, তাহলে এভাবে সাময়িক জিম্মাদার হওয়া যথাযথ কিনা তা নিয়ে ইমাম ও ফকীহদের মাঝে বিতর্ক রয়েছে। হানাফী আলেমদের মত, শাফেয়ীদের নিকট সঠিক ও গ্রহণযোগ্য মত এবং হাম্বলী আলেমদের মত হচ্ছে, এভাবে সময় নির্ধারণ করা জায়েয। মালেকী মাযহাবের আলেমগণ কতক শর্ত সাপেক্ষে এভাবে জিম্মাদার ও জামিন হওয়া জায়েয বলে মত প্রকাশ করেছেন। তারা তাদের লেখা ফিকহী গ্রন্থাদিতে জামিন হওয়ার আলোচনায় এ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে শর্তাবলি উল্লেখ করেছেন। ফকীহগণ এভাবে সময়ের সাথে সীমিত জিম্মাদারি বৈধ বলেছেন, যেহেতু এভাবে নির্দিষ্টকরণ ব্যতীত জিম্মাদার হতে হয়তো রাজিই হবে না। শাফেয়ী আলেমগণ পরবর্তী সময়ে অধিক সঠিক বলে যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা হলো, জিম্মাদারিতে সময় নির্ধারণ যথার্থ নয়।

টিকাঃ
৮৮. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ২৬৬; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২০৭; আল-মুগনীসহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ৯৮; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৩৩১-৩৩২
৮৯. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২০৭; শিরাজী প্রণীত আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৪১

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ওয়াকফে সময় নির্ধারণ

📄 ওয়াকফে সময় নির্ধারণ


যদি কেউ সীমিত সময়ের জন্যে কোনো কিছু ওয়াকফ করে, সে সময় শেষ হলে ওয়াকফ বাতিল হওয়ার ঘোষণা দেয়, যেমন কেউ বলল, আমার বাড়িটি আমি এক বছরের জন্যে ওয়াকফ করলাম বা হাজীগণ আসা পর্যন্ত, তাহলে তার এ ওয়াকফ যথাযথ হবে কিনা তা নিয়ে ফকীহগণ মতপার্থক্য করেছেন। হানাফী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমদের মত হচ্ছে, এটি যথাযথ ওয়াকফ বলে গণ্য হবে না; যেহেতু ওয়াকফের চাহিদা হচ্ছে তা হবে স্থায়ী। এ বিষয়ে মালেকী মাযহাবের আলেমদের মত যা হাম্বলী আলেমদেরও একটি অভিমত, তা হচ্ছে, ওয়াকফ সঠিক ও যথাযথ হওয়ার জন্যে চিরস্থায়ী ভাবে ওয়াকফ করা জরুরি নয়। তাই তাতে সাময়িক ওয়াকফ করা যথার্থ। সময় শেষে তা আবার মূল মালিকের মালিকানায় ও অধিকারে ফিরে যাবে, যেমন ওয়াকফের পূর্বে ছিল।

টিকাঃ
৯০. রদ্দুল মুহতার, খ. ৩, পৃ. ৫০৬; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৩, পৃ. ৩০৪; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৭৯; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩৮৩; কাশশাফুল কিনা', খ. ৪, পৃ. ২৫০
৯১. হাশিয়া দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৭৯; আল-মুগনী সহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৬, পৃ. ২২১

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 যে সকল চুক্তি মেয়াদী হওয়া বৈধ নয়

📄 যে সকল চুক্তি মেয়াদী হওয়া বৈধ নয়


যে সকল চুক্তি মেয়াদী বা সাময়িক হওয়া বৈধ নয় সেগুলো হচ্ছে: বিক্রয়, হিবা, বিবাহ ইত্যাদি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00