📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 আরিয়াত চুক্তিতে সময় নির্ধারণ

📄 আরিয়াত চুক্তিতে সময় নির্ধারণ


আরিয়াত-এর অর্থই হচ্ছে কোনো বস্তু কারো নিকট থেকে এনে তা ব্যবহার করা এবং তা দ্বারা উপকৃত হওয়া তা বহাল রেখে, যেন তা তার মূল মালিককে যথাযথভাবে ফিরিয়ে দেওয়া যায়। তাই সকল ফকীহ বিনা মতান্তরে মতপ্রকাশ করেছেন, আরিয়াত হবে মেয়াদী। তবে তার মেয়াদ কখনো নির্ধারিত, আবার কখনো অনির্ধারিত থাকে। নির্ধারিত মেয়াদ থাকলে তাকে আরিয়াত মুকাইয়াদা এবং মেয়াদ অনির্ধারিত হলে তাকে আরিয়াত মুতলাকা বলে। অধিকাংশ ফকীহের মতে আরিয়াত কোনো আবশ্যক ও জরুরি চুক্তি নয়। মালেকী আলেমগণ এ বিষয়ে বলেন, যদি মুকাইয়াদা হয় তবে সে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তা দীর্ঘায়িত হবে, কেউ তা বাতিল করতে পারবে না।

টিকাঃ
৭৮. আল-মুগনীসহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ৩৬৪; আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ১২০; খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ৩৪২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২৭০ ও ৩৭৩

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 প্রতিনিধিত্বে সময় নির্ধারণ

📄 প্রতিনিধিত্বে সময় নির্ধারণ


প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে সময় নির্ধারণ করা সকল ফকীহ-এর মতে জায়েয। যেমন বলা হবে, আমি তোমাকে এক মাসের জন্যে প্রতিনিধি হিসাবে নিচ্ছি। তাহলে মাস শেষ হলে তার প্রতিনিধিত্ব শেষ হয়ে যাবে, সে তার প্রতিনিধি হিসাবে কোনো কিছু করতে পারবে না। যদি প্রতিনিধি নিয়োগের সময় কেউ বলে, আমি এত দিনের মধ্যে ঐ জিনিসটি কেনার জন্যে তোমাকে প্রতিনিধি হিসাবে নিলাম, তাহলে এভাবে প্রতিনিধি নিয়োগ সকলের মতে যথাযথ ও বৈধ হবে। যেহেতু প্রতিনিধিকে যে লোক নিয়োগ প্রদান করে তার ইচ্ছা ও অনুমোদন ব্যতীত প্রতিনিধি কোনো কর্তৃত্ব বা হস্তক্ষেপ করতে পারে না, কোনো কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এমনিভাবে তাকে যে সময় বেঁধে দেওয়া হয় বা স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয় সে সময় বা স্থানেই তার প্রতিনিধিত্ব সীমিত থাকবে, তার অধিক নয়।

প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে মূলনীতি হচ্ছে, এটি উভয় পক্ষ থেকে জায়েয (যা আবশ্যিক নয়) একটি চুক্তি। দুপক্ষের যে কেউ যখন খুশি এটি বাতিল করে দিতে পারে। তবে যদি তাতে তৃতীয় পক্ষের কোনো সংশ্লিষ্ট স্বার্থ থাকে তবে তার ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। প্রতিনিধিকে কোনো কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, বাধ্য করা হয়নি। ফলে উভয় পক্ষেরই তা বাতিল করার সুযোগ রয়েছে।

টিকাঃ
৭৯. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২২৩
৮০. আল-মুগনীসহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ২১০; খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ২৮৯
৮১. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৫ ও ৩৫২
৮২. আল-মুগনীসহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ২১৩; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৫৬; তাকমিলা (সম্পূরক শেষাংশ) ফাতহুল কাদীর, খ. ৭, পৃ. ১৩২
৮৩. আত-তাজ ওয়াল ইকলীল; হাত্তাব প্রণীত মাওয়াহিবুল জালীলের টীকা, খ. ৫, পৃ. ১৮৬ ও ১৮৮ প্রথম মুদ্রণ

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 মুদারাবাতে সময় নির্ধারণ

📄 মুদারাবাতে সময় নির্ধারণ


মুদারাবা চুক্তিতে সময় নির্ধারণ করা যথাযথ কি-না তা নিয়ে ফকীহদের মাঝে মতান্তর রয়েছে। হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমদের মতে, তাতে সময় নির্ধারণ করা জায়েয। পুঁজি সরবরাহকারী ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে বলবে, আমি এ দিরহামগুলো মুদারাবা হিসাবে এক বছরের জন্যে তোমাকে দিলাম। এক বছর শেষ হলে তুমি আর কোনো কিছু কিনবেও না, বেচবেও না। এভাবে সময় নির্ধারণ করা হলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত মুদারাবা কার্যকর থাকবে, সময় শেষ হলে তা বাতিল হয়ে যাবে। সময় নির্ধারণ করার দ্বারা কোনো কাজ সীমিত করা হয়, এটিও হয়ে গেছে সীমিত। আর এ সময়ে কর্মী হচ্ছে অর্থ যোগানদাতার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি। তাই যে সময় বেঁধে দেওয়া হবে, সে সে সময়টুকুতে কেবল প্রতিনিধি থাকবে, এর অধিক নয়। যেমন প্রতিনিধি হিসাবে পণ্যের প্রকার ও স্থান ইত্যাদি নির্ধারণ করে দিলে কর্মী তাতেই তার কাজ সীমিত রাখবে।

যেহেতু মুদারাবায় নির্ধারিত কোনো পণ্য কেনাবেচার জন্যে নির্ধারণ করা যায়, তাই তাতে সময়ও নির্ধারিত হওয়ার অবকাশ রয়েছে, যেমন প্রতিনিধি নিয়োগ করার ক্ষেত্রে সময় নির্ধারণ করা জায়েয। তা ছাড়া পুঁজিদাতা যখন কর্মীর প্রতি সন্তুষ্ট তখনও যে কোনো সময়ে বেচাকেনা করা থেকে কর্মীকে সে বিরত রাখতে পারে, অতএব সে যদি এক্ষেত্রে শর্ত করে তবে তার সে শর্ত চুক্তির চাহিদা মাফিকই হবে, আর তাই তা গৃহীতও হবে এবং সঠিক ও যথাযথ বলে বিবেচিত হবে। মালেকী ও শাফেয়ী আলেমগণ বলেন, মুদারাবাতে সময় নির্ধারণ করা যথাযথ নয়।

টিকাঃ
৮৪. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৫০৮
৮৫. রদ্দুল মুহতার, খ. ৫, পৃ. ৬৯; আল ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ৮৪
৮৬. আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৭০
৮৭. খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ৪২২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৩১২

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 জিম্মাদার ও জামিন হওয়াতে সময় নির্ধারণ

📄 জিম্মাদার ও জামিন হওয়াতে সময় নির্ধারণ


কেউ যদি বলে, আমি যায়েদের পক্ষ থেকে জিম্মাদার এক মাস পর্যন্ত, এরপর আর আমার কোনো জিম্মাদারি নেই, তাহলে এভাবে সাময়িক জিম্মাদার হওয়া যথাযথ কিনা তা নিয়ে ইমাম ও ফকীহদের মাঝে বিতর্ক রয়েছে। হানাফী আলেমদের মত, শাফেয়ীদের নিকট সঠিক ও গ্রহণযোগ্য মত এবং হাম্বলী আলেমদের মত হচ্ছে, এভাবে সময় নির্ধারণ করা জায়েয। মালেকী মাযহাবের আলেমগণ কতক শর্ত সাপেক্ষে এভাবে জিম্মাদার ও জামিন হওয়া জায়েয বলে মত প্রকাশ করেছেন। তারা তাদের লেখা ফিকহী গ্রন্থাদিতে জামিন হওয়ার আলোচনায় এ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে শর্তাবলি উল্লেখ করেছেন। ফকীহগণ এভাবে সময়ের সাথে সীমিত জিম্মাদারি বৈধ বলেছেন, যেহেতু এভাবে নির্দিষ্টকরণ ব্যতীত জিম্মাদার হতে হয়তো রাজিই হবে না। শাফেয়ী আলেমগণ পরবর্তী সময়ে অধিক সঠিক বলে যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা হলো, জিম্মাদারিতে সময় নির্ধারণ যথার্থ নয়।

টিকাঃ
৮৮. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ২৬৬; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২০৭; আল-মুগনীসহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ৯৮; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৩৩১-৩৩২
৮৯. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২০৭; শিরাজী প্রণীত আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৪১

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية