📄 নির্ধারিত মেয়াদ
নির্ধারিত মেয়াদ দ্বারা উদ্দেশ্য যে সময়ের সমাপ্তিতে কোনো লেনদেনে কর্তৃত্বের অবসান ঘটে। অথবা কোনো অধিকারের সমাপ্তি বোঝায়, উভয় পক্ষের সম্মতিতে নির্ধারিত সময়ে যে অধিকার অর্জিত হয়।
কোনো লেনদেন ও চুক্তিতে নির্ধারিত মেয়াদ থাকবে কিনা সে বিবেচনায় চুক্তি তিন প্রকার: এক. কতক লেনদেন মেয়াদী হতেই হবে। দুই. কতক লেনদেন নগদ হতে পারে, মেয়াদীও হতে পারে। তিন. কতক লেনদেন কখনোই মেয়াদী হবে না, তাতে নগদ লেনদেন হতে হবে।
এখানে লক্ষণীয়, যে সকল লেনদেন মেয়াদী হয় সেগুলোর কতক নির্ধারিত মেয়াদ ব্যতীত যথাযথ হয় না। কতক অনির্ধারিত মেয়াদ ব্যতিরেকে যথার্থ ও সঠিক হয় না। আবার কতক নির্ধারিত মেয়াদেও হতে পারে, অনির্ধারিত মেয়াদেও হতে পারে।
📄 যে সকল চুক্তি মেয়াদী হতে পারে, নাও হতে পারে
যে সকল চুক্তি মেয়াদী হতে পারে, নাও হতে পারে সে ধরনের লেনদেন হচ্ছে: আরিয়াত, প্রতিনিধিত্ব, মুদারাবা এবং জিম্মাদার বা জামিন হওয়া।
📄 আরিয়াত চুক্তিতে সময় নির্ধারণ
আরিয়াত-এর অর্থই হচ্ছে কোনো বস্তু কারো নিকট থেকে এনে তা ব্যবহার করা এবং তা দ্বারা উপকৃত হওয়া তা বহাল রেখে, যেন তা তার মূল মালিককে যথাযথভাবে ফিরিয়ে দেওয়া যায়। তাই সকল ফকীহ বিনা মতান্তরে মতপ্রকাশ করেছেন, আরিয়াত হবে মেয়াদী। তবে তার মেয়াদ কখনো নির্ধারিত, আবার কখনো অনির্ধারিত থাকে। নির্ধারিত মেয়াদ থাকলে তাকে আরিয়াত মুকাইয়াদা এবং মেয়াদ অনির্ধারিত হলে তাকে আরিয়াত মুতলাকা বলে। অধিকাংশ ফকীহের মতে আরিয়াত কোনো আবশ্যক ও জরুরি চুক্তি নয়। মালেকী আলেমগণ এ বিষয়ে বলেন, যদি মুকাইয়াদা হয় তবে সে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তা দীর্ঘায়িত হবে, কেউ তা বাতিল করতে পারবে না।
টিকাঃ
৭৮. আল-মুগনীসহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ৩৬৪; আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ১২০; খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ৩৪২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২৭০ ও ৩৭৩
📄 প্রতিনিধিত্বে সময় নির্ধারণ
প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে সময় নির্ধারণ করা সকল ফকীহ-এর মতে জায়েয। যেমন বলা হবে, আমি তোমাকে এক মাসের জন্যে প্রতিনিধি হিসাবে নিচ্ছি। তাহলে মাস শেষ হলে তার প্রতিনিধিত্ব শেষ হয়ে যাবে, সে তার প্রতিনিধি হিসাবে কোনো কিছু করতে পারবে না। যদি প্রতিনিধি নিয়োগের সময় কেউ বলে, আমি এত দিনের মধ্যে ঐ জিনিসটি কেনার জন্যে তোমাকে প্রতিনিধি হিসাবে নিলাম, তাহলে এভাবে প্রতিনিধি নিয়োগ সকলের মতে যথাযথ ও বৈধ হবে। যেহেতু প্রতিনিধিকে যে লোক নিয়োগ প্রদান করে তার ইচ্ছা ও অনুমোদন ব্যতীত প্রতিনিধি কোনো কর্তৃত্ব বা হস্তক্ষেপ করতে পারে না, কোনো কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এমনিভাবে তাকে যে সময় বেঁধে দেওয়া হয় বা স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয় সে সময় বা স্থানেই তার প্রতিনিধিত্ব সীমিত থাকবে, তার অধিক নয়।
প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে মূলনীতি হচ্ছে, এটি উভয় পক্ষ থেকে জায়েয (যা আবশ্যিক নয়) একটি চুক্তি। দুপক্ষের যে কেউ যখন খুশি এটি বাতিল করে দিতে পারে। তবে যদি তাতে তৃতীয় পক্ষের কোনো সংশ্লিষ্ট স্বার্থ থাকে তবে তার ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। প্রতিনিধিকে কোনো কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, বাধ্য করা হয়নি। ফলে উভয় পক্ষেরই তা বাতিল করার সুযোগ রয়েছে।
টিকাঃ
৭৯. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২২৩
৮০. আল-মুগনীসহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ২১০; খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ২৮৯
৮১. আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৫ ও ৩৫২
৮২. আল-মুগনীসহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ২১৩; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৫৬; তাকমিলা (সম্পূরক শেষাংশ) ফাতহুল কাদীর, খ. ৭, পৃ. ১৩২
৮৩. আত-তাজ ওয়াল ইকলীল; হাত্তাব প্রণীত মাওয়াহিবুল জালীলের টীকা, খ. ৫, পৃ. ১৮৬ ও ১৮৮ প্রথম মুদ্রণ