📄 চার : তাওকীতুল করয (تَوْقِيتُ الْقَرْضِ) : ঋণের বদলে মেয়াদ নির্ধারণ
ঋণের বদল কি নগদ পরিশোধযোগ্য, না তাতে মেয়াদ পর্যন্ত বিলম্ব করার অবকাশ রয়েছে, সে সম্পর্কে পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে।
ঋণ আদান প্রদানে মেয়াদের অবস্থান নিয়ে ইমাম ও ফকীহগণ সামান্য মতপার্থক্য করেছেন। মালেকী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, ঋণের লেনদেন উভয় পক্ষে এক আবশ্যকীয় চুক্তি, চুক্তিতে যে মেয়াদ উল্লেখ করা হবে ততদিন পর্যন্তই তা এরূপ আবশ্যকীয়ই থাকবে। যদি চুক্তিতে কোনো মেয়াদ শর্ত হিসাবে উল্লেখ না করা হয়, তাহলে এ জাতীয় কর্জে যেরূপ মেয়াদের প্রচলন রয়েছে তা-ই কার্যকর বলে বিবেচিত হবে।
হাম্বলী মাযহাবের আলেমদের এ সম্পর্কে বক্তব্য হচ্ছে, ঋণদাতার অর্থ ঋণগ্রহীতা কজা করার মাধ্যমে এ ঋণ আদান-প্রদান চুক্তিটি ঋণদাতার জন্যে হয় আবশ্যকীয়, ঋণগ্রহীতার জন্যে হয় জায়েয ও মুবাহ। ফলে ঋণগ্রহীতার দায়িত্বে ঋণের বদল ফেরত দেওয়ার বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়, তাতে মেয়াদ নির্ধারণ করলেও তা দায়িত্বে থাকে নগদ প্রদেয় হিসাবে।
হানাফী ও শাফেয়ী আলেমগণের মতে, ঋণ হচ্ছে সহমর্মিতার ভিত্তিতে সংঘটিত চুক্তি যা ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতা উভয়ের জন্যে জায়েয চুক্তি; আবশ্যিক ও বাধ্যতামূলক নয়।
টিকাঃ
৭২. কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩১২ ও ৩১৬; সাভী প্রণীত বুলগাতুস সালিক লি আকরাবিল মাসালিক, খ. ২, পৃ. ৯২ ও ৯৪; খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ১৪২
📄 নির্ধারিত মেয়াদ
নির্ধারিত মেয়াদ দ্বারা উদ্দেশ্য যে সময়ের সমাপ্তিতে কোনো লেনদেনে কর্তৃত্বের অবসান ঘটে। অথবা কোনো অধিকারের সমাপ্তি বোঝায়, উভয় পক্ষের সম্মতিতে নির্ধারিত সময়ে যে অধিকার অর্জিত হয়।
কোনো লেনদেন ও চুক্তিতে নির্ধারিত মেয়াদ থাকবে কিনা সে বিবেচনায় চুক্তি তিন প্রকার: এক. কতক লেনদেন মেয়াদী হতেই হবে। দুই. কতক লেনদেন নগদ হতে পারে, মেয়াদীও হতে পারে। তিন. কতক লেনদেন কখনোই মেয়াদী হবে না, তাতে নগদ লেনদেন হতে হবে।
এখানে লক্ষণীয়, যে সকল লেনদেন মেয়াদী হয় সেগুলোর কতক নির্ধারিত মেয়াদ ব্যতীত যথাযথ হয় না। কতক অনির্ধারিত মেয়াদ ব্যতিরেকে যথার্থ ও সঠিক হয় না। আবার কতক নির্ধারিত মেয়াদেও হতে পারে, অনির্ধারিত মেয়াদেও হতে পারে।
📄 যে সকল চুক্তি মেয়াদী হতে পারে, নাও হতে পারে
যে সকল চুক্তি মেয়াদী হতে পারে, নাও হতে পারে সে ধরনের লেনদেন হচ্ছে: আরিয়াত, প্রতিনিধিত্ব, মুদারাবা এবং জিম্মাদার বা জামিন হওয়া।
📄 আরিয়াত চুক্তিতে সময় নির্ধারণ
আরিয়াত-এর অর্থই হচ্ছে কোনো বস্তু কারো নিকট থেকে এনে তা ব্যবহার করা এবং তা দ্বারা উপকৃত হওয়া তা বহাল রেখে, যেন তা তার মূল মালিককে যথাযথভাবে ফিরিয়ে দেওয়া যায়। তাই সকল ফকীহ বিনা মতান্তরে মতপ্রকাশ করেছেন, আরিয়াত হবে মেয়াদী। তবে তার মেয়াদ কখনো নির্ধারিত, আবার কখনো অনির্ধারিত থাকে। নির্ধারিত মেয়াদ থাকলে তাকে আরিয়াত মুকাইয়াদা এবং মেয়াদ অনির্ধারিত হলে তাকে আরিয়াত মুতলাকা বলে। অধিকাংশ ফকীহের মতে আরিয়াত কোনো আবশ্যক ও জরুরি চুক্তি নয়। মালেকী আলেমগণ এ বিষয়ে বলেন, যদি মুকাইয়াদা হয় তবে সে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তা দীর্ঘায়িত হবে, কেউ তা বাতিল করতে পারবে না।
টিকাঃ
৭৮. আল-মুগনীসহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ৩৬৪; আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ১২০; খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ৩৪২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২৭০ ও ৩৭৩