📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 দুই : মুসলাম ফীহি (الْمُسْلَمُ فِيهِ) : সালাম বিক্রির পণ্য

📄 দুই : মুসলাম ফীহি (الْمُسْلَمُ فِيهِ) : সালাম বিক্রির পণ্য


সালাম বিক্রির সংজ্ঞাই হচ্ছে, নগদের বিনিময়ে বাকি বিক্রি। অতএব তাতে মূল্য হবে নগদ। তার বিনিময়ে যে পণ্য নেওয়া হবে তা হবে মেয়াদী ও বিলম্বিত। হানাফী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ এবং ইমাম আওযায়ী রহ. তাই সালাম বিক্রি বৈধ ও যথাযথ হওয়ার জন্যে শর্ত স্থির করেছেন, তাতে পণ্যটি অবশ্যই মেয়াদী হতে হবে, তাতে মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে এবং সে সময়ে পণ্য হস্তান্তর করা হবে। যদি শর্ত করা হয়, পণ্য নগদ প্রদান করতে হবে, তাহলে সালাম বিক্রি সঠিক ও বৈধ হবে না। এক্ষেত্রে তারা দলিল হিসাবে উল্লেখ করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস: “কেউ যদি সালাম পদ্ধতিতে বেচাকেনা করে তবে সে যেন তা করে নির্দিষ্ট পরিমাপে নির্দিষ্ট পরিমাণে এবং সময় নির্ধারণ করে।”

নবী স. এ হাদীসে সময় নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। নবীর নির্দেশ ওয়াজিব ও জরুরি হওয়া সাব্যস্ত করে। যদি সালাম বিক্রিতে পণ্যের পরিমাপ বা পরিমাণ নির্দিষ্ট না হয়, তবে তা যেমন বৈধ ও যথাযথ হবে না, তেমনি তাতে মেয়াদ নির্ধারিত না হলেও তা বৈধ হবে না।

শাফেয়ী মাযহাবের আলেমগণ এবং আবু সাওর ও ইবনুল মুনজির এ সম্পর্কে বলেন: সালাম বিক্রিতে পণ্য নগদ পরিশোধ করা জায়েয। তারা বলেন: যে লেনদেনে মেয়াদ নির্ধারিত হবে তা নগদও হতে পারবে।

টিকাঃ
৬৭. সালাম
৬৮. সহীহ মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় এলেন, মদীনার লোকেরা তখন ফলফলাদিতে এক দু বছর মেয়াদে অগ্রিম বিক্রি করত।
৬৯. রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ২১৫; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ২৯৯; হাশিয়া দুসুকী, খ. ৩, পৃ. ২০৬; আল-মুগনী সহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ৩২৮
৭০. মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ১০৫

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 তিন : মালুল কিতাবাহ (مَالُ الْكِتَابَةِ) : ক্রীতদাসের মুক্তিপণ

📄 তিন : মালুল কিতাবাহ (مَالُ الْكِتَابَةِ) : ক্রীতদাসের মুক্তিপণ


শরীয়তে ক্রীতদাসের মুক্তিপণকে 'মালু কিতাবাত' বলে। মুক্তিপণের মাধ্যমে মুক্তিলাভ করাকে বলা হয় কিতাবাত। এ ধরনের ক্রীতদাসকে বলে মুকাতাব।

ফকীহগণ মুক্তিপণ মেয়াদী হওয়ার বিষয় নিয়ে সামান্য মতপার্থক্য করেছেন। হানাফী মাযহাবের আলেমগণ, মালেকী মাযহাবের ইবনে রুশদ এবং শাফেয়ী মাযহাবের ইবনে আব্দুস সালাম ও রাওইয়ানী বলেছেন, মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি মেয়াদী হওয়া বা না হওয়া কোনোটি শর্ত হবে না। বরং ক্রীতদাসকে অধিকার দেওয়া হবে, সে নগদ পরিশোধ করতে পারে, বিলম্বিতও করতে পারবে। মালেকী মাযহাবের আলেমদের নিকট যা প্রাধান্য পেয়েছে, সেই সাথে শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমদের মত, তা হচ্ছে, ক্রীতদাসের মুক্তিপণ পরিশোধের বিষয়টি হবে মেয়াদী এবং কিস্তিতে পরিশোধ্য। তাহলেই দাস-দাসীর প্রতি কোমলতা প্রদর্শিত হবে।

টিকাঃ
৭১. তাকমিলা ফাতহুল কাদীর, খ. ৮, পৃ. ৯৭; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ৩৪৬; কাশশাফুল কিনা', খ. ৪, পৃ. ৫৩৯; মুগনিল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ৫১৮

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 চার : তাওকীতুল করয (تَوْقِيتُ الْقَرْضِ) : ঋণের বদলে মেয়াদ নির্ধারণ

📄 চার : তাওকীতুল করয (تَوْقِيتُ الْقَرْضِ) : ঋণের বদলে মেয়াদ নির্ধারণ


ঋণের বদল কি নগদ পরিশোধযোগ্য, না তাতে মেয়াদ পর্যন্ত বিলম্ব করার অবকাশ রয়েছে, সে সম্পর্কে পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে।

ঋণ আদান প্রদানে মেয়াদের অবস্থান নিয়ে ইমাম ও ফকীহগণ সামান্য মতপার্থক্য করেছেন। মালেকী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, ঋণের লেনদেন উভয় পক্ষে এক আবশ্যকীয় চুক্তি, চুক্তিতে যে মেয়াদ উল্লেখ করা হবে ততদিন পর্যন্তই তা এরূপ আবশ্যকীয়ই থাকবে। যদি চুক্তিতে কোনো মেয়াদ শর্ত হিসাবে উল্লেখ না করা হয়, তাহলে এ জাতীয় কর্জে যেরূপ মেয়াদের প্রচলন রয়েছে তা-ই কার্যকর বলে বিবেচিত হবে।

হাম্বলী মাযহাবের আলেমদের এ সম্পর্কে বক্তব্য হচ্ছে, ঋণদাতার অর্থ ঋণগ্রহীতা কজা করার মাধ্যমে এ ঋণ আদান-প্রদান চুক্তিটি ঋণদাতার জন্যে হয় আবশ্যকীয়, ঋণগ্রহীতার জন্যে হয় জায়েয ও মুবাহ। ফলে ঋণগ্রহীতার দায়িত্বে ঋণের বদল ফেরত দেওয়ার বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়, তাতে মেয়াদ নির্ধারণ করলেও তা দায়িত্বে থাকে নগদ প্রদেয় হিসাবে।

হানাফী ও শাফেয়ী আলেমগণের মতে, ঋণ হচ্ছে সহমর্মিতার ভিত্তিতে সংঘটিত চুক্তি যা ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতা উভয়ের জন্যে জায়েয চুক্তি; আবশ্যিক ও বাধ্যতামূলক নয়।

টিকাঃ
৭২. কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ৩১২ ও ৩১৬; সাভী প্রণীত বুলগাতুস সালিক লি আকরাবিল মাসালিক, খ. ২, পৃ. ৯২ ও ৯৪; খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ১৪২

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 নির্ধারিত মেয়াদ

📄 নির্ধারিত মেয়াদ


নির্ধারিত মেয়াদ দ্বারা উদ্দেশ্য যে সময়ের সমাপ্তিতে কোনো লেনদেনে কর্তৃত্বের অবসান ঘটে। অথবা কোনো অধিকারের সমাপ্তি বোঝায়, উভয় পক্ষের সম্মতিতে নির্ধারিত সময়ে যে অধিকার অর্জিত হয়।

কোনো লেনদেন ও চুক্তিতে নির্ধারিত মেয়াদ থাকবে কিনা সে বিবেচনায় চুক্তি তিন প্রকার: এক. কতক লেনদেন মেয়াদী হতেই হবে। দুই. কতক লেনদেন নগদ হতে পারে, মেয়াদীও হতে পারে। তিন. কতক লেনদেন কখনোই মেয়াদী হবে না, তাতে নগদ লেনদেন হতে হবে।

এখানে লক্ষণীয়, যে সকল লেনদেন মেয়াদী হয় সেগুলোর কতক নির্ধারিত মেয়াদ ব্যতীত যথাযথ হয় না। কতক অনির্ধারিত মেয়াদ ব্যতিরেকে যথার্থ ও সঠিক হয় না। আবার কতক নির্ধারিত মেয়াদেও হতে পারে, অনির্ধারিত মেয়াদেও হতে পারে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية