📄 আল-আজালুল কাযায়ী বা বিচারবিভাগীয় মেয়াদ
আল-আজালুল কাযায়ী বা বিচারবিভাগীয় মেয়াদ বলে বোঝানো হয় বিচারক কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদ। বিচারক হয়তো ফরিয়াদী ও আসামী উভয় পক্ষকে উপস্থিত হওয়ার লক্ষ্যে, দলিল প্রমাণ উপস্থাপনের জন্যে জিম্মাদারকে উপস্থিত করানোর ইচ্ছায় বা অসচ্ছল দেনাদার ব্যক্তির সচ্ছলতা লাভের লক্ষ্যে এ মেয়াদ ও সময় প্রদান করেন।
বিচারের জন্যে উপস্থিতিঃ
বিচার অনুষ্ঠানের স্বার্থে বিচারক আসামী ও ফরিয়াদী উভয়পক্ষকে উপস্থিত হওয়ার নির্ধারিত সময় ঘোষণা করেন। বিচার্য বিষয়ের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য এবং বিচারকের সময় থাকা ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য রেখে বিচারক এ সময় নির্ধারণ করবেন।
সাক্ষী-প্রমাণ উপস্থাপনঃ
হানাফী ও শাফেয়ী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, সাক্ষী-প্রমাণ উপস্থাপনের জন্যে বিচারক দাবিদারকে সময় দিবেন তিন দিন। মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বিষয়টি বিচারকের চিন্তা ও বিবেচনায় ন্যস্ত করেছেন।
টিকাঃ
৩০. তাকমিলা ফাতহুল কাদীর, খ. ৭, পৃ. ১৮১; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা (আলমগীরী), খ. ৩, পৃ. ৩৩৬; আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ৪; মুগনিল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ৪১৬; আল-মুগনী ও আশ-শারহুল কাবীর, খ. ১১, পৃ. ৪১১
৩১. তাকমিলা ফাতহুল কাদীর, খ. ৭, পৃ. ১৮০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ৪৬৭; আল-আদওয়া আলাল খিরাশী, খ. ৫, পৃ. ১৫৯; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ১৩৩; আল-মুগনী ও আশ-শারহুল কাবীর, খ. ১১, পৃ. ৪৫৫
📄 আল-আজালুল ইত্তিফাকী বা সমঝোতামূলক মেয়াদ
الأجل الاتفاقي (আল-আজালুল ইত্তিফাকী) বলার দ্বারা উদ্দেশ্য সে স্বতন্ত্র মেয়াদ যা দায়িত্ব পালনকারী তার দায়িত্ব পালনের জন্যে নির্ধারণ করে। এর বিপরীতে অন্যের পক্ষ থেকে কোনো মেয়াদ নির্ধারিত হতে পারে, নাও হতে পারে। অথবা দায়িত্ব পালন ও প্রয়োজন পূরণের সমাপ্তি বোঝাতে মেয়াদ নির্ধারিত হতে পারে। এভাবে আলোচনার দ্বারা প্রতিভাত হলো, পারস্পরিক সমঝোতামূলক মেয়াদ দু প্রকার: এক. দায়িত্ব পালনকারী তার দায়িত্ব পালনের জন্যে যা নির্ধারণ করে। একে আজালুল ইযাফাহ (আজালুল ইদাফাহ) বলে। দুই. দায়িত্ব পালন ও প্রয়োজন পূরণের সমাপ্তি বোঝাতে নির্ধারিত মেয়াদ। একে আজালুত তাওকীত বলে।
📄 পণ্য হস্তান্তরে মেয়াদের শর্ত
যে সকল চুক্তি ও লেনদেনে বস্তুর মালিকানা পরিবর্তিত হয়, সেগুলোতে পণ্য হস্তান্তরে মেয়াদ নির্ধারণ করার বিষয়টি শর্ত হিসাবে উল্লেখ করা যাবে কি না, তা নিয়ে ফকীহদের মাঝে দুটি মতের উদ্ভব হয়েছে।
মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, বিক্রীত পণ্য ক্রেতাকে বুঝিয়ে দিতে সময় নির্ধারণ করার শর্তারোপ করা যাবে। ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ে মিলেই সে সময় নির্ধারণ করবে। এভাবে বিলম্বিত করার দরুন বিক্রেতা-যে পণ্যের মালিকানা নিজের নিকট থেকে ক্রেতার নিকট নকল করছে-তার সে পণ্য দ্বারা লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকবে।
হানাফী ও শাফেয়ী আলেমদের নিকট গ্রহণযোগ্য মত হলো, পণ্য হস্তান্তরে বিলম্ব করার শর্ত করা সঠিক ও জায়েয নয়। তারা এক্ষেত্রে দলিল হিসাবে উল্লেখ করেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস : “নবী স. একইসাথে বিক্রি ও শর্তারোপ করতে নিষেধ করেছেন।”
টিকাঃ
৩২. হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৬৫; আল-মাওয়াক, খ. ৩, পৃ. ৩৭২; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৯০
৩৩. সূরা মায়েদা, আয়াত ১
৩৪. সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত ৩৪
৩৫. ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনার পর হাদীসটিকে সহীহ মানের বলে উল্লেখ করেছেন।
৩৬. কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৯০, মুদ্রণ: রিয়াদ
৩৭. ইবনে হাজার আসকালানী র. বলেছেন, রাফেঈ এ হাদীসটি তার তাযনীব নামক গ্রন্থে পরিষ্কার করে লিখেছেন। আত-তালখীসুল হাবীর, খ. ৩, পৃ. ১২
৩৮. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২১৫-২১৮; রাদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ১২৬
৩৯. কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৯১; মুদ্রণ: রিয়াদ
📄 তাজীলুদ দায়ন বা ঋণ ও পাওনায় মেয়াদ নির্ধারণ
দায়ন (الدিন) হলো শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত দায়িত্বে ন্যস্ত অপরের প্রাপ্য। এটি ব্যবসার দরুন, ঋণগ্রহণের দরুন, বা কোনোভাবে কারো সম্পদ বিনষ্ট করার দরুন ইত্যাকার কারণে দায়িত্বে অর্পিত হতে পারে। বাংলায় এ শব্দটি দেনা, ঋণ, পাওনা, দাবি, প্রাপ্য ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়।
ঋণ ও পাওনা ইত্যাদির মেয়াদ নির্ধারণ শরীয়তসম্মত। কিতাবুল্লাহ (কুরআন), হাদীস ও ইজমা (সকলের ঐকমত্য) দ্বারা তার জায়েয হওয়া প্রমাণিত। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে : “হে ঈমানদার লোকেরা! যখন তোমরা নির্ধারিত সময়ের জন্য ঋণ আদান প্রদান করো তা লিখে রাখো।” এ সম্পর্কে হাদীসের বর্ণনা হচ্ছে, আয়েশা রা. বলেন : “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ইয়াহুদী ব্যক্তির নিকট থেকে কিছু খাদ্যদ্রব্য কিনেন বাকিতে, মূল্য পরিশোধের সময় পর্যন্ত লোহার এক বর্ম তার কাছে তিনি বন্ধক রাখেন।”
টিকাঃ
৪০. সূরা বাকারা, আয়াত ২৮২; কুরতুবী কৃত আল-জামে' লি আহকামিল কুরআন, খ. ৩, পৃ. ৩৭৭
৪১. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ১৭৪
৪২. মুসলিম
৪৩. ‘বায় সালাম' অধ্যায় দ্রষ্টব্য।