📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 আল-আজালুশ শরয়ী বা শরীয়ত নির্ধারিত মেয়াদ

📄 আল-আজালুশ শরয়ী বা শরীয়ত নির্ধারিত মেয়াদ


আল্লাহ তাআলা শরীয়তের নিয়মনীতি বর্ণনায় বিভিন্ন বিধানে বিভিন্ন মেয়াদ বর্ণনা করেছেন তাকে আজাল শরয়ী বা শরীয়ত নির্ধারিত মেয়াদ বলে। যেমন: গর্ভের মেয়াদ, দুধ পান করানোর মেয়াদ, ইদ্দতকাল ইত্যাদি।

খিয়ারে শর্ত-এর মেয়াদঃ
ক্রেতা বা বিক্রেতা বেচাকেনার সময় চূড়ান্ত সম্মতি জ্ঞাপন করতে কিছু সময় নিতে পারে, চিন্তাভাবনা করার জন্যে এমন সুযোগ প্রদান করা হবে। একে খিয়ারে শর্ত বলে। খিয়ারে শর্ত জায়েয, এ কথায় সকলেই একমত।

কিন্তু তা কত দিন? এ বিষয়ে ফকীহদের মাঝে মতপার্থক্য হয়েছে। ইমাম আবু হানিফা, যুফার রহ. এবং শাফেয়ী আলেমদের এ সম্পর্কে মত হচ্ছে, খিয়ারে শর্ত যেমন বিক্রেতা নিতে পারে, ক্রেতাও নিতে পারে, একইসাথে উভয়েও নিতে পারে। তবে তা হতে হবে তিন দিন বা তার কম সময়। তারা দলিল হিসাবে উল্লেখ করেন, হযরত হিব্বান ইবনে মুনকিয ইবনে আমর আনসারী রা. বেচাকেনায় প্রায়শ ধোঁকা ও ক্ষতির শিকার হতেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: “যখন তুমি কোনো কিছু বেচাকেনা করো বলবে, কোনো ধোঁকা বা প্রতারণা করা যাবে না; আর আমার তিন দিন খিয়ার থাকবে।”

ইমাম আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ ও ইবনে মুনযির এবং হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, যদি ক্রেতা বা বিক্রেতা কোনো সময় উল্লেখ করে তবে তা-ই মেয়াদ হিসাবে ধর্তব্য হবে- তা যত দিনই হোক।

টিকাঃ
২৩. খিয়ার শব্দের বিস্তারিত আলোচনা যথাস্থানে দ্রষ্টব্য।
২৪. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৪৯৮; রাদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৪৭; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৪৩; আল-মুগনী ও আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ৬৫
২৫. ইমাম শাফেয়ী ও হাকেম এ হাদীসটি হিব্বানের সনদে বর্ণনা করেছেন। ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৪৯৮
২৬. হাদীসটির আলোচনায় ইজারা দ্রষ্টব্য।
২৭. ইবনে কুদামা কৃত আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ৬৫
২৮. হাশিয়া দুসূকী আলাশ শারহিল কাবীর, খ. ৩, পৃ. ৯১; হাত্তাব কৃত মাওয়াহিবুল জালীল, খ. ৪, পৃ. ৩১০
২৯. আল-মুগনী সহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ৬৬

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 আল-আজালুল কাযায়ী বা বিচারবিভাগীয় মেয়াদ

📄 আল-আজালুল কাযায়ী বা বিচারবিভাগীয় মেয়াদ


আল-আজালুল কাযায়ী বা বিচারবিভাগীয় মেয়াদ বলে বোঝানো হয় বিচারক কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদ। বিচারক হয়তো ফরিয়াদী ও আসামী উভয় পক্ষকে উপস্থিত হওয়ার লক্ষ্যে, দলিল প্রমাণ উপস্থাপনের জন্যে জিম্মাদারকে উপস্থিত করানোর ইচ্ছায় বা অসচ্ছল দেনাদার ব্যক্তির সচ্ছলতা লাভের লক্ষ্যে এ মেয়াদ ও সময় প্রদান করেন।

বিচারের জন্যে উপস্থিতিঃ
বিচার অনুষ্ঠানের স্বার্থে বিচারক আসামী ও ফরিয়াদী উভয়পক্ষকে উপস্থিত হওয়ার নির্ধারিত সময় ঘোষণা করেন। বিচার্য বিষয়ের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য এবং বিচারকের সময় থাকা ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য রেখে বিচারক এ সময় নির্ধারণ করবেন।

সাক্ষী-প্রমাণ উপস্থাপনঃ
হানাফী ও শাফেয়ী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, সাক্ষী-প্রমাণ উপস্থাপনের জন্যে বিচারক দাবিদারকে সময় দিবেন তিন দিন। মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বিষয়টি বিচারকের চিন্তা ও বিবেচনায় ন্যস্ত করেছেন।

টিকাঃ
৩০. তাকমিলা ফাতহুল কাদীর, খ. ৭, পৃ. ১৮১; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা (আলমগীরী), খ. ৩, পৃ. ৩৩৬; আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ৪; মুগনিল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ৪১৬; আল-মুগনী ও আশ-শারহুল কাবীর, খ. ১১, পৃ. ৪১১
৩১. তাকমিলা ফাতহুল কাদীর, খ. ৭, পৃ. ১৮০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ৪৬৭; আল-আদওয়া আলাল খিরাশী, খ. ৫, পৃ. ১৫৯; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ১৩৩; আল-মুগনী ও আশ-শারহুল কাবীর, খ. ১১, পৃ. ৪৫৫

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 আল-আজালুল ইত্তিফাকী বা সমঝোতামূলক মেয়াদ

📄 আল-আজালুল ইত্তিফাকী বা সমঝোতামূলক মেয়াদ


الأجل الاتفاقي (আল-আজালুল ইত্তিফাকী) বলার দ্বারা উদ্দেশ্য সে স্বতন্ত্র মেয়াদ যা দায়িত্ব পালনকারী তার দায়িত্ব পালনের জন্যে নির্ধারণ করে। এর বিপরীতে অন্যের পক্ষ থেকে কোনো মেয়াদ নির্ধারিত হতে পারে, নাও হতে পারে। অথবা দায়িত্ব পালন ও প্রয়োজন পূরণের সমাপ্তি বোঝাতে মেয়াদ নির্ধারিত হতে পারে। এভাবে আলোচনার দ্বারা প্রতিভাত হলো, পারস্পরিক সমঝোতামূলক মেয়াদ দু প্রকার: এক. দায়িত্ব পালনকারী তার দায়িত্ব পালনের জন্যে যা নির্ধারণ করে। একে আজালুল ইযাফাহ (আজালুল ইদাফাহ) বলে। দুই. দায়িত্ব পালন ও প্রয়োজন পূরণের সমাপ্তি বোঝাতে নির্ধারিত মেয়াদ। একে আজালুত তাওকীত বলে।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 পণ্য হস্তান্তরে মেয়াদের শর্ত

📄 পণ্য হস্তান্তরে মেয়াদের শর্ত


যে সকল চুক্তি ও লেনদেনে বস্তুর মালিকানা পরিবর্তিত হয়, সেগুলোতে পণ্য হস্তান্তরে মেয়াদ নির্ধারণ করার বিষয়টি শর্ত হিসাবে উল্লেখ করা যাবে কি না, তা নিয়ে ফকীহদের মাঝে দুটি মতের উদ্ভব হয়েছে।

মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, বিক্রীত পণ্য ক্রেতাকে বুঝিয়ে দিতে সময় নির্ধারণ করার শর্তারোপ করা যাবে। ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ে মিলেই সে সময় নির্ধারণ করবে। এভাবে বিলম্বিত করার দরুন বিক্রেতা-যে পণ্যের মালিকানা নিজের নিকট থেকে ক্রেতার নিকট নকল করছে-তার সে পণ্য দ্বারা লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকবে।

হানাফী ও শাফেয়ী আলেমদের নিকট গ্রহণযোগ্য মত হলো, পণ্য হস্তান্তরে বিলম্ব করার শর্ত করা সঠিক ও জায়েয নয়। তারা এক্ষেত্রে দলিল হিসাবে উল্লেখ করেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস : “নবী স. একইসাথে বিক্রি ও শর্তারোপ করতে নিষেধ করেছেন।”

টিকাঃ
৩২. হাশিয়া দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৬৫; আল-মাওয়াক, খ. ৩, পৃ. ৩৭২; কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৯০
৩৩. সূরা মায়েদা, আয়াত ১
৩৪. সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত ৩৪
৩৫. ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনার পর হাদীসটিকে সহীহ মানের বলে উল্লেখ করেছেন।
৩৬. কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৯০, মুদ্রণ: রিয়াদ
৩৭. ইবনে হাজার আসকালানী র. বলেছেন, রাফেঈ এ হাদীসটি তার তাযনীব নামক গ্রন্থে পরিষ্কার করে লিখেছেন। আত-তালখীসুল হাবীর, খ. ৩, পৃ. ১২
৩৮. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২১৫-২১৮; রাদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ১২৬
৩৯. কাশশাফুল কিনা', খ. ৩, পৃ. ১৯১; মুদ্রণ: রিয়াদ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00