📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 যে সকল ক্ষেত্রে কিস্তির প্রয়োগ রয়েছে

📄 যে সকল ক্ষেত্রে কিস্তির প্রয়োগ রয়েছে


১. দাইনুল কিতাবাহ (দাইনুল কিতাবাত): কিতাবাতের টাকা পরিশোধ: কিতাবাতের টাকা কিস্তি আকারে আদায় করা যাবে, এ কথায় সকল ফকীহ একমত। কিতাবাত-এর অর্থ: মনিব ও ক্রীতদাস এ কথায় একমত হওয়া, কিস্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ক্রীতদাস তার মনিবের হাতে তুলে দেওয়ার বিনিময়ে এখন থেকেই সে আর্থিক কাজকর্মে স্বাধীনভাবে ক্ষমতা প্রকাশ করতে পারবে এবং সবগুলো কিস্তি পরিশোধ করলে পরিপূর্ণ মুক্ত ও স্বাধীন হয়ে যাবে।
২. আদ-দিয়াতু ফিল কতাল শিবহিল আসদ ওয়ালা খাতা : দিয়াত বা রক্তমূল্য প্রদান: কেউ যদি কাউকে হত্যা করে, হত্যাকাণ্ডে সাধারণত যা ব্যবহৃত হয় তা ভিন্ন অন্য কিছুর দ্বারা আঘাত করে অথবা ভুলবশত কাউকে যদি হত্যা করা হয়, তাহলে খুনের বদলা খুন করা হয় না। বরং এক্ষেত্রে যা বিধান তা হলো, হত্যাকারীর আত্মীয়-পরিজন রক্তমূল্য কিস্তি আকারে মোট তিন বছরে প্রদান করবে, প্রতি বছর এক-তৃতীয়াংশ করে পরিশোধ করতে হবে।
৩. উজরাহ্ (আল-উজরাহ): পারিশ্রমিক প্রদান: আল-মুগনী গ্রন্থে লেখা হয়েছে: যদি মজুরের সাথে শর্ত করা হয় তাকে ভবিষ্যৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পারিশ্রমিক প্রদান করা হবে, তাহলে সে পর্যন্ত সময় দীর্ঘায়িত হবে। যদি কিস্তি আকারে তা প্রদানের সিদ্ধান্তে উভয়ে একমত হয়, তাহলে তা বৈধ ও জায়েয হবে।

টিকাঃ
২০. কাশশাফুল কিনা', খ. ৪, পৃ. ৫৩৯
২১. আশ-শারহুল কাবীর ও আল-মুগনী, খ. ৬, পৃ. ১৬

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মেয়াদের বিভিন্ন প্রকার

📄 মেয়াদের বিভিন্ন প্রকার


উৎস হিসাবে মেয়াদ তিন প্রকার:
১. আল-আজালুশ শরয়ী (আজাল শরয়ী)
২. আল-আজালুল কাযায়ী (আজাল কাযায়ী) ও
৩. আল-আজালুল ইত্তিফাকী (আজাল ইতিফাকী)
নিম্নে প্রতিটি প্রকারের বিস্তারিত বিবরণ আলোচনা করা হচ্ছে।

টিকাঃ
২২. ফকীহদের এ শব্দগুলোর ব্যবহার অনুসন্ধান করে এ প্রকারগুলো এবং সেগুলোর সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 আল-আজালুশ শরয়ী বা শরীয়ত নির্ধারিত মেয়াদ

📄 আল-আজালুশ শরয়ী বা শরীয়ত নির্ধারিত মেয়াদ


আল্লাহ তাআলা শরীয়তের নিয়মনীতি বর্ণনায় বিভিন্ন বিধানে বিভিন্ন মেয়াদ বর্ণনা করেছেন তাকে আজাল শরয়ী বা শরীয়ত নির্ধারিত মেয়াদ বলে। যেমন: গর্ভের মেয়াদ, দুধ পান করানোর মেয়াদ, ইদ্দতকাল ইত্যাদি।

খিয়ারে শর্ত-এর মেয়াদঃ
ক্রেতা বা বিক্রেতা বেচাকেনার সময় চূড়ান্ত সম্মতি জ্ঞাপন করতে কিছু সময় নিতে পারে, চিন্তাভাবনা করার জন্যে এমন সুযোগ প্রদান করা হবে। একে খিয়ারে শর্ত বলে। খিয়ারে শর্ত জায়েয, এ কথায় সকলেই একমত।

কিন্তু তা কত দিন? এ বিষয়ে ফকীহদের মাঝে মতপার্থক্য হয়েছে। ইমাম আবু হানিফা, যুফার রহ. এবং শাফেয়ী আলেমদের এ সম্পর্কে মত হচ্ছে, খিয়ারে শর্ত যেমন বিক্রেতা নিতে পারে, ক্রেতাও নিতে পারে, একইসাথে উভয়েও নিতে পারে। তবে তা হতে হবে তিন দিন বা তার কম সময়। তারা দলিল হিসাবে উল্লেখ করেন, হযরত হিব্বান ইবনে মুনকিয ইবনে আমর আনসারী রা. বেচাকেনায় প্রায়শ ধোঁকা ও ক্ষতির শিকার হতেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: “যখন তুমি কোনো কিছু বেচাকেনা করো বলবে, কোনো ধোঁকা বা প্রতারণা করা যাবে না; আর আমার তিন দিন খিয়ার থাকবে।”

ইমাম আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ ও ইবনে মুনযির এবং হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, যদি ক্রেতা বা বিক্রেতা কোনো সময় উল্লেখ করে তবে তা-ই মেয়াদ হিসাবে ধর্তব্য হবে- তা যত দিনই হোক।

টিকাঃ
২৩. খিয়ার শব্দের বিস্তারিত আলোচনা যথাস্থানে দ্রষ্টব্য।
২৪. ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৪৯৮; রাদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৪৭; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ৪৩; আল-মুগনী ও আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ৬৫
২৫. ইমাম শাফেয়ী ও হাকেম এ হাদীসটি হিব্বানের সনদে বর্ণনা করেছেন। ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ৪৯৮
২৬. হাদীসটির আলোচনায় ইজারা দ্রষ্টব্য।
২৭. ইবনে কুদামা কৃত আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ৬৫
২৮. হাশিয়া দুসূকী আলাশ শারহিল কাবীর, খ. ৩, পৃ. ৯১; হাত্তাব কৃত মাওয়াহিবুল জালীল, খ. ৪, পৃ. ৩১০
২৯. আল-মুগনী সহ আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ৬৬

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 আল-আজালুল কাযায়ী বা বিচারবিভাগীয় মেয়াদ

📄 আল-আজালুল কাযায়ী বা বিচারবিভাগীয় মেয়াদ


আল-আজালুল কাযায়ী বা বিচারবিভাগীয় মেয়াদ বলে বোঝানো হয় বিচারক কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদ। বিচারক হয়তো ফরিয়াদী ও আসামী উভয় পক্ষকে উপস্থিত হওয়ার লক্ষ্যে, দলিল প্রমাণ উপস্থাপনের জন্যে জিম্মাদারকে উপস্থিত করানোর ইচ্ছায় বা অসচ্ছল দেনাদার ব্যক্তির সচ্ছলতা লাভের লক্ষ্যে এ মেয়াদ ও সময় প্রদান করেন।

বিচারের জন্যে উপস্থিতিঃ
বিচার অনুষ্ঠানের স্বার্থে বিচারক আসামী ও ফরিয়াদী উভয়পক্ষকে উপস্থিত হওয়ার নির্ধারিত সময় ঘোষণা করেন। বিচার্য বিষয়ের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য এবং বিচারকের সময় থাকা ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য রেখে বিচারক এ সময় নির্ধারণ করবেন।

সাক্ষী-প্রমাণ উপস্থাপনঃ
হানাফী ও শাফেয়ী মাযহাবের আলেমগণ বলেন, সাক্ষী-প্রমাণ উপস্থাপনের জন্যে বিচারক দাবিদারকে সময় দিবেন তিন দিন। মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের আলেমগণ বিষয়টি বিচারকের চিন্তা ও বিবেচনায় ন্যস্ত করেছেন।

টিকাঃ
৩০. তাকমিলা ফাতহুল কাদীর, খ. ৭, পৃ. ১৮১; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা (আলমগীরী), খ. ৩, পৃ. ৩৩৬; আল-ইখতিয়ার, খ. ২, পৃ. ৪; মুগনিল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ৪১৬; আল-মুগনী ও আশ-শারহুল কাবীর, খ. ১১, পৃ. ৪১১
৩১. তাকমিলা ফাতহুল কাদীর, খ. ৭, পৃ. ১৮০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ৪৬৭; আল-আদওয়া আলাল খিরাশী, খ. ৫, পৃ. ১৫৯; হাশিয়া দুসূকী, খ. ৪, পৃ. ১৩৩; আল-মুগনী ও আশ-শারহুল কাবীর, খ. ১১, পৃ. ৪৫৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00