📄 ইবদা’ সহীহ হওয়ার শর্তাবলি
মুদারাবা ব্যবসায়ের মধ্যে যে সকল শর্ত রয়েছে ইবদা' ব্যবসায়ের শর্তাবলি সেগুলো থেকে ভিন্ন নয়। তবে এক্ষেত্রে মুনাফা পাওয়ার শর্তগুলো কেবল ব্যতিক্রম। সেই সাথে লক্ষণীয়, যে ব্যক্তি ইবদা' ব্যবসার পুঁজি ব্যবহার করবে সে পুঁজিদাতাকে সৌজন্যমূলক ব্যবসা করে দেওয়ার যোগ্যতা রাখে কি-না সেটি বিচার্য বিষয়। এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে হলে الْمُضَارَبَة ভুক্তি দেখুন।
টিকাঃ
১৪. কানযুদ দাকায়েক, খ. ৭, পৃ. ২৮৭-২৮৮
📄 কোন্ ধরনের ব্যক্তি ইবদা’ প্রক্রিয়ায় পুঁজি বিনিয়োগ করতে পারে?
নিম্ন লিখিত ব্যক্তিবর্গ ইবদা' প্রক্রিয়ায় পুঁজি বিনিয়োগ করতে পারে:
ক. মালিক (مالك) পুঁজি বা সম্পদের অধিকারী: যে কোনো ব্যক্তি তার পুঁজি বা সম্পদ ইবদা' প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ করতে পারে। এটি প্রকৃত অবস্থা।
খ. মুদারিব (الْمُضَارِبُ): অন্যের পুঁজিতে যে শ্রম বিনিয়োগ করে সে ইচ্ছা করলে তার নিয়ন্ত্রিত পুঁজি অন্যকে বিযা'আহ প্রক্রিয়ায় দিতে পারে। কেননা, মুদারিবের লক্ষ্য থাকে ব্যবসায়িক মুনাফা অর্জন। আর বিযা'আহ মুনাফা অর্জনের একটি প্রক্রিয়া। মুদারিব ইচ্ছা করলে তার অধীনস্থ পুঁজি অন্যকে ইজারার ভিত্তিতে দিতে পারে; তাই বিযা'আহ প্রক্রিয়ায় সে স্বভাবতই বিনিয়োগ করার অধিকার পাবে। কেননা, ইজারা হলো সুনির্দিষ্ট বিনিময়ের বিপরীতে সম্পদ হস্তান্তর; আর বিযা'আহ কোনো বিনিময়হীন বিনিয়োগ। তাই এটি অবশ্যই বৈধ হবে।
তা ছাড়া মুদারিবের ইবদা'-এর অধিকার এ জন্য রয়েছে যে, ইবদা' মুদারাবার অন্তর্ভুক্ত। ফলে কোনো কোনো ফকীহ-এর কাছে ইবদা' প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগের জন্য পুঁজিমালিকের অনুমতি নেওয়াও আবশ্যিক নয়। মুদারিবের জন্য ইবদা' বৈধ হওয়ার ব্যাপারটি ক্রয়-বিক্রয়ে প্রতিনিধি নিয়োগ, বন্ধক রাখা কিংবা বন্ধক দেওয়া, ইজারা দেওয়া কিংবা আমানত রাখা ইত্যাদি লেনদেনের চেয়ে আরো অধিক বৈধ একটি প্রক্রিয়া।
গ. শারীক (الشريك) : অংশীদার : অংশীদারিমূলক ব্যবসায়ে সম্পৃক্ত কোনো শরীকের ব্যবসায়ের পুঁজি ইবদা' প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ করা জায়েয। হানাফী ও মালেকী ফকীহগণ এবং বিশুদ্ধ বর্ণনামতে হাম্বলী ফকীহগণ এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট অভিমত ব্যক্ত করেছেন। অবশ্য শাফেয়ীগণ অন্য অংশীদারদের অনুমতি সাপেক্ষে বিনিয়োগে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
টিকাঃ
১৫. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৮৭; মাওয়াহিবুল জালীল, খ. ৫, পৃ. ৩৬২, প্রকাশ: মাকতাবাতুন নাজাহ, লিবিয়া; আল-বাহরুর রায়েক, খ. ৭, পৃ. ২৬৪-২৬৭; রাদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৭৪২-৭৪৯
📄 ইবদা’ প্রক্রিয়ায় পুঁজিগ্রহণকারী এবং তার লেনদেনের শরয়ী অবস্থা
বিযা'আহ প্রক্রিয়ায় সম্পদ গ্রহণকারী হচ্ছে পুঁজিদাতার পুঁজির আমানতদার। কেননা ইবদা'-এর লেনদেন আমানতের লেনদেন। ফলে পুঁজিগ্রহণকারীর অবহেলা কিংবা সীমালঙ্ঘন ছাড়া যদি পুঁজি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে তার ওপর কোনো জরিমানা বা দায় বর্তাবে না। এক্ষেত্রে সে পুঁজিদাতার প্রতিনিধি। ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রয় বিক্রয়ে সে পুঁজিদাতার স্থলাভিস্থিক্ত বিবেচিত হবে, যেমনটি ব্যবসা বাণিজ্যে প্রচলিত আছে। তাই পুঁজি ব্যবহারে পুঁজিদাতার বিশেষ কোনো অনুমতিরও প্রয়োজন হবে না। কিন্তু ইবদা' প্রক্রিয়ায় পুঁজিগ্রহণকারী যদি অন্য কাউকে সেই পুঁজি ইবদা' আকারে বিনিয়োগ করতে দিতে চায়, তাহলে মুদারাবা-এর ওপর তুলনা করে তাকে পুঁজিদাতার অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। সে সকল কাজেও পুঁজিদাতার অনুমতি নিতে হবে যে সকল কাজ ব্যবসায়ীদের নৈমিত্তিক কাজ বহির্ভূত। যেমন মূল পুঁজি, যা বাড়ানোর লক্ষ্যে ভিন্ন করা হয়েছে তা থেকে ধার, সাদকা, হাদিয়া ইত্যাদি প্রদানে মালিকের অনুমতি নিতে হবে।
📄 পুঁজি ব্যবহারকারী নিজের জন্যে ইবদা’-এর পুঁজি দিয়ে কিছু ক্রয় করা
বিযা'আহ প্রক্রিয়ায় যদি কেউ কাউকে ব্যবসা করার জন্য পুঁজি দেয় তবে তা দিয়ে পুঁজি ব্যবহারকারী নিজের ব্যবসা করতে পারবে না। যেহেতু পুঁজি ব্যবহারকারী এক্ষেত্রে মুদারিবায় শ্রম বিনিয়োগকারীর অনুরূপ। কেননা মুদারাবার ক্ষেত্রে যেমন লাভের জন্য পুঁজি বিনিয়োগ করা হয়, ইবদা'-এর ক্ষেত্রেও মুনাফা অর্জনই উদ্দেশ্য থাকে। তাই সে পুঁজিদাতাকে বাদ দিয়ে নিজের স্বার্থে পুঁজি ব্যবহারের অধিকার পায় না।
মালেকী ফকীহগণ এর ব্যাখ্যায় বলেন, পুঁজি ব্যবহারকারী যদি নিজের স্বার্থে ইবদা'-এর পুঁজি দিয়ে কোনো কিছু ক্রয় করে, তবে পুঁজিদাতা ইচ্ছা করলে ক্রয়কৃত পণ্য নিজেই কব্জা করে নিতে পারবে। অথবা সে এই পুঁজির দায় তার নিজের কাঁধে বর্তাবে। কেননা সে পুঁজি ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট জিনিস ক্রয় কিংবা ব্যবসার জন্য পুঁজি দিয়েছে। অতএব সেই তো এ পণ্য হস্তগত করার অধিক অধিকারী। তবে এটি তখনই সম্ভব যখন পুঁজি ব্যবহারকারী সে পণ্য বিক্রির আগেই পুঁজিদাতার কজায় তা এসে পড়ে। কিন্তু ক্রয়কৃত পণ্য যদি নাগালের বাইরে চলে যায়, এবং সে তা বিক্রি করে দেয়, তবে এর সবটুকু মুনাফা পুঁজিদাতা পাবে। এবং এর লোকসানের দায় পুঁজির মালিকের পাশাপাশি পুঁজি ব্যবহারীর কাঁধেও বর্তাবে। পুঁজি ব্যবহারকারীর পক্ষ থেকে অনধিকারচর্চার প্রমাণ পাওয়া গেলে শাফেয়ীগণও একইমত পোষণ করেন।
হাম্বলীগণ বলেন, নিজের জন্য ক্রয়কৃত পণ্যে যদি মুনাফা হয় তবে এই মুনাফা পুঁজির মালিক পাবে; আর যদি লোকসান হয় তবে অনধিকার চর্চার কারণে এর দায় পুঁজি ব্যবহারকারীর কাঁধে বর্তাবে। হানাফী ফকীহগণও একই মত পোষণ করেন।
টিকাঃ
১৬. মাওয়াহিবুল জালীল, খ. ৫, পৃ. ২৫৫
১৭. মাওয়াহিবুল জালীল, খ. ৫, পৃ. ২৫৫; আল-উম্মু, খ. ৩, পৃ. ২৩৭, প্রকাশ: বুলাক; আল-মুগনী, খ. ৫, পৃ. ৫৯, প্রকাশ রিয়াদ; রাদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৪০৫; বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৭, পৃ. ৩৪৭১; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যা, খ. ৩, পৃ. ৫৭৭