📄 ইবদা’ ও মুদারাবা-এর সম্মিলন
কোনো পুঁজিপতি যদি কাউকে অর্ধেক পুঁজি ইবদা' আকারে এবং অর্ধেক পুঁজি মুদারাবা-এর ভিত্তিতে প্রদান করে এবং পুঁজি ব্যবহারকারী পুঁজি কব্জা করে, তবে তা জায়েয হবে এবং চুক্তি অনুযায়ী অর্ধেক মুদারাবা এবং অর্ধেক ইবদা' লেনদেন বলে গণ্য হবে। এ সময় লোকসানের ভাগ পুঁজি বিনিয়োগকারীর ভাগে পড়বে। লাভ হলে অর্ধেক মুনাফা পুঁজিদাতা পাবে, আর অর্ধেক মুনাফা দুজনের মধ্যে ভাগ হবে। কেননা, উভয় ধরনের পুঁজি একত্রিত হওয়া একত্রে মুদারাবা ও ইবদা' ব্যবসায়ে কোনো বাধা প্রদান করে না, ফলে একই সাথে মুদারাবা ও ইবদা' উভয়টি করে যাওয়া সম্ভব।
লোকসানের দায় পুঁজিদাতার কাঁধে বর্তানোর কারণ হলো, ইবদাকারী ও মুদারিব-এর উপর কোনো দায় আসে না এবং ইবদা'তে মুনাফার সবটুকু পুঁজিদাতার জন্য নির্দিষ্ট থাকে বিধায় ব্যবসায় পরিচালনাকারী তাতে লাভের অংশ পায় না।
টিকাঃ
১৩. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৮৩
📄 ইবদা’ সহীহ হওয়ার শর্তাবলি
মুদারাবা ব্যবসায়ের মধ্যে যে সকল শর্ত রয়েছে ইবদা' ব্যবসায়ের শর্তাবলি সেগুলো থেকে ভিন্ন নয়। তবে এক্ষেত্রে মুনাফা পাওয়ার শর্তগুলো কেবল ব্যতিক্রম। সেই সাথে লক্ষণীয়, যে ব্যক্তি ইবদা' ব্যবসার পুঁজি ব্যবহার করবে সে পুঁজিদাতাকে সৌজন্যমূলক ব্যবসা করে দেওয়ার যোগ্যতা রাখে কি-না সেটি বিচার্য বিষয়। এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে হলে الْمُضَارَبَة ভুক্তি দেখুন।
টিকাঃ
১৪. কানযুদ দাকায়েক, খ. ৭, পৃ. ২৮৭-২৮৮
📄 কোন্ ধরনের ব্যক্তি ইবদা’ প্রক্রিয়ায় পুঁজি বিনিয়োগ করতে পারে?
নিম্ন লিখিত ব্যক্তিবর্গ ইবদা' প্রক্রিয়ায় পুঁজি বিনিয়োগ করতে পারে:
ক. মালিক (مالك) পুঁজি বা সম্পদের অধিকারী: যে কোনো ব্যক্তি তার পুঁজি বা সম্পদ ইবদা' প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ করতে পারে। এটি প্রকৃত অবস্থা।
খ. মুদারিব (الْمُضَارِبُ): অন্যের পুঁজিতে যে শ্রম বিনিয়োগ করে সে ইচ্ছা করলে তার নিয়ন্ত্রিত পুঁজি অন্যকে বিযা'আহ প্রক্রিয়ায় দিতে পারে। কেননা, মুদারিবের লক্ষ্য থাকে ব্যবসায়িক মুনাফা অর্জন। আর বিযা'আহ মুনাফা অর্জনের একটি প্রক্রিয়া। মুদারিব ইচ্ছা করলে তার অধীনস্থ পুঁজি অন্যকে ইজারার ভিত্তিতে দিতে পারে; তাই বিযা'আহ প্রক্রিয়ায় সে স্বভাবতই বিনিয়োগ করার অধিকার পাবে। কেননা, ইজারা হলো সুনির্দিষ্ট বিনিময়ের বিপরীতে সম্পদ হস্তান্তর; আর বিযা'আহ কোনো বিনিময়হীন বিনিয়োগ। তাই এটি অবশ্যই বৈধ হবে।
তা ছাড়া মুদারিবের ইবদা'-এর অধিকার এ জন্য রয়েছে যে, ইবদা' মুদারাবার অন্তর্ভুক্ত। ফলে কোনো কোনো ফকীহ-এর কাছে ইবদা' প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগের জন্য পুঁজিমালিকের অনুমতি নেওয়াও আবশ্যিক নয়। মুদারিবের জন্য ইবদা' বৈধ হওয়ার ব্যাপারটি ক্রয়-বিক্রয়ে প্রতিনিধি নিয়োগ, বন্ধক রাখা কিংবা বন্ধক দেওয়া, ইজারা দেওয়া কিংবা আমানত রাখা ইত্যাদি লেনদেনের চেয়ে আরো অধিক বৈধ একটি প্রক্রিয়া।
গ. শারীক (الشريك) : অংশীদার : অংশীদারিমূলক ব্যবসায়ে সম্পৃক্ত কোনো শরীকের ব্যবসায়ের পুঁজি ইবদা' প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ করা জায়েয। হানাফী ও মালেকী ফকীহগণ এবং বিশুদ্ধ বর্ণনামতে হাম্বলী ফকীহগণ এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট অভিমত ব্যক্ত করেছেন। অবশ্য শাফেয়ীগণ অন্য অংশীদারদের অনুমতি সাপেক্ষে বিনিয়োগে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
টিকাঃ
১৫. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৮৭; মাওয়াহিবুল জালীল, খ. ৫, পৃ. ৩৬২, প্রকাশ: মাকতাবাতুন নাজাহ, লিবিয়া; আল-বাহরুর রায়েক, খ. ৭, পৃ. ২৬৪-২৬৭; রাদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৭৪২-৭৪৯
📄 ইবদা’ প্রক্রিয়ায় পুঁজিগ্রহণকারী এবং তার লেনদেনের শরয়ী অবস্থা
বিযা'আহ প্রক্রিয়ায় সম্পদ গ্রহণকারী হচ্ছে পুঁজিদাতার পুঁজির আমানতদার। কেননা ইবদা'-এর লেনদেন আমানতের লেনদেন। ফলে পুঁজিগ্রহণকারীর অবহেলা কিংবা সীমালঙ্ঘন ছাড়া যদি পুঁজি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে তার ওপর কোনো জরিমানা বা দায় বর্তাবে না। এক্ষেত্রে সে পুঁজিদাতার প্রতিনিধি। ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রয় বিক্রয়ে সে পুঁজিদাতার স্থলাভিস্থিক্ত বিবেচিত হবে, যেমনটি ব্যবসা বাণিজ্যে প্রচলিত আছে। তাই পুঁজি ব্যবহারে পুঁজিদাতার বিশেষ কোনো অনুমতিরও প্রয়োজন হবে না। কিন্তু ইবদা' প্রক্রিয়ায় পুঁজিগ্রহণকারী যদি অন্য কাউকে সেই পুঁজি ইবদা' আকারে বিনিয়োগ করতে দিতে চায়, তাহলে মুদারাবা-এর ওপর তুলনা করে তাকে পুঁজিদাতার অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। সে সকল কাজেও পুঁজিদাতার অনুমতি নিতে হবে যে সকল কাজ ব্যবসায়ীদের নৈমিত্তিক কাজ বহির্ভূত। যেমন মূল পুঁজি, যা বাড়ানোর লক্ষ্যে ভিন্ন করা হয়েছে তা থেকে ধার, সাদকা, হাদিয়া ইত্যাদি প্রদানে মালিকের অনুমতি নিতে হবে।