📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ইবদা’ (الإِبْضَاعُ)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ

📄 ইবদা’ (الإِبْضَاعُ)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ


ইবদা' (الإবضاع) শব্দটি أَبْضع ক্রিয়ার শব্দমূল। তা থেকেই الْبَضَاعَةُ (বিযা'আহ) শব্দটি এসেছে। যার অর্থ الْقَطْعَةُ مِنَ الْمَالِ 'পণ্যের অংশ' কিংবা هِيَ طَائِفَةٌ مِنَ الْمَالِ يُبْعَثُ لِلتَّجَارَةِ "ব্যবসায়িক কাজে নিয়োজিত পণ্য।” বলা হয় : أَبْضَعَهُ الْبَضَاعَةَ অর্থাৎ সে ব্যবসায়িক কাজে পণ্য প্রদান করল।

পরিভাষায় ইবদা' (الإবضاع) বলা হয় কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যবসায়ীকে স্বেচ্ছাশ্রমে ব্যবসা করার জন্যে পণ্য প্রদান করা। তাতে পুরো মুনাফা মালিক পাবে, ব্যবসায়ী কিছুই রাখবে না।

মোদ্দাকথা হলো, স্বেচ্ছাশ্রমে সৌজন্যমূলক কারো পণ্য বিক্রি করে দেওয়া। অবশ্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ব্যবসা করে দিলেও মালেকীগণ সেটি ইবদা' (الإِبْضَاعُ) হিসেবে গণ্য করেন।

ব্যবসায়িক লক্ষ্যে ব্যবসায়ীর হাতে প্রদত্ত পণ্যকে ফকীহগণ বিযা'আহ (الْبَضَاعَةُ) বলে অভিহিত করেন; আর স্বয়ং চুক্তির জন্যে ইবদা' (الإِبْضَاعُ) শব্দ ব্যবহার করেন। তবে কখনো কখনো তারা বিযা'আহ (الْبَضَاعَةُ) শব্দ বলে চুক্তির অর্থও প্রকাশ করে থাকেন।

টিকাঃ
১. তুহফাতুল মুহতাজ বি শারহিল মিনহাজ, খ. ৬, পৃ. ৮৯, প্রকাশ: দারু সাদির; হাশিয়াতুর রশীদী ওয়াশ শাবরামাল্লিসী আলা নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৫, পৃ. ২২৪; প্রকাশক: মুস্তফা আল-হালাবী; বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৮৭, প্রকাশ: আল-জামালিয়া; হাশিয়াতুন নাজমিল মুস্তা'যাব ফি গারিবী আলফাযিল মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৮৫; প্রকাশক: ঈসা আল-হালাবী; রাদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৭৪২; মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ১, পৃ. ৪৬০, প্রকাশ: দারুল আরুবা; আল মুকনি, খ. ২, পৃ. ১৭১, প্রকাশ: আস-সালাফিয়া; কাশশাফু ইস্তিলাহাতিল ফুনুন, খ. ১, পৃ. ১৪৬, প্রকাশ কলিকাতা; আল-মুহাযযাব, খ. ১, পৃ. ৩৮৫; আল-খিরাশী, খ. ৪, পৃ. ৪২৪-৪২৫, আল-মাতবাআতুশ শারকিয়া

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা

📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা


ক. القراض (আল-কিরায)
ইরাকবাসীর দৃষ্টিতে কিরায (قراض) শব্দটি মুদারাবা (مضারبة) অর্থে ব্যবহৃত হয়। মুদারাবা হলো, কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে তার পুঁজি বা পণ্য প্রদান করবে এ শর্তে ব্যবসায়ে যা লাভ হবে শ্রমবিনিয়োগকারী তা থেকে নির্দিষ্ট এক অংশ পাবে। কিরায বা মুদারাবায় পুঁজির মালিক এবং শ্রমবিনিয়োগকারী উভয়েরই লাভে নির্দিষ্ট অংশ থাকে, কিন্তু ইবদা'-তে অর্জিত লাভে কোনো প্রকার অংশীদারি থাকে না। বরং শ্রমদাতা ব্যবসায়িক কাজে স্বেচ্ছাশ্রম প্রদান করে। তাই এক্ষেত্রে কোনো প্রতিদান বা বিনিময়ের শর্ত থাকে না।

খ. القرض (আল-কর্জ) : ঋণ
কর্জ শব্দের আভিধানিক অর্থ কর্তন করা। ফকীহগণের পরিভাষায় কর্জ বলা হয় : دَفْعُ الْمَالِ إِرْفَاقًا لِمَنْ يَنْتَفِعُ بِهِ وَيَرُدُّ بَدَلَهُ অর্থাৎ কারো উপকার বা সহমর্মিতার জন্য কাউকে এমনভাবে সম্পদ প্রদান করা যে, সম্পদগ্রহীতা তার কাজ সমাপ্তির পর দাতাকে তা ফেরত দেবে। এই প্রক্রিয়া সলফ বা সালাম ব্যবসায়েরই একটি ধরন। তাই القرض (কর্জ) ও সলফ (সালাফ) উভয় শব্দ দ্বারা সালাম বিক্রি কার্যকর হয়।

গ. الْوَكَالَةُ (আল-ওয়াকালা) : প্রতিনিধি নিয়োগ করা
ওয়াকালা শব্দের আভিধানিক অর্থ অর্পণ করা। ফিকহের পরিভাষায় الوكالة ওয়াকালা বলা হয়, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক অন্য কোনো ব্যক্তিকে যে সব কাজে প্রতিনিধি নিয়োগ করা চলে সে সব ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিয়োগ করা। যে সব ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিয়োগ করা বৈধ সে সকল ক্ষেত্রে ওয়াকালাও বৈধ। কিন্তু ইবদা' এর ব্যতিক্রম। কারণ শুধু সেই পুঁজি বা সম্পদের সাথে সীমিত যে সম্পদ মালিক তার নিযুক্ত কোনো প্রতিনিধিকে ব্যবসার জন্য প্রদান করে। এক্ষেত্রে কর্মসম্পাদনকারী কেবল সে সম্পদে নিয়োগকর্তার প্রতিনিধিত্ব করে।

টিকাঃ
২. আল-খিরাশী, খ. ৬, পৃ. ২০২; রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ৫০৪, প্রকাশ : বুলাক; আসহালুল মাদারিক, খ. ২, পৃ. ৩৪৯, প্রকাশক : ঈসা আল-হালাবী; তুহফাতুল ফুকাহা, খ. ৩, পৃ. ২২
৩. কাশশাফু ইস্তিলাহাতিল ফুনুন

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ইবদা’-এর শরয়ী বিধান

📄 ইবদা’-এর শরয়ী বিধান


ইবদা' একটি বৈধ চুক্তি। কেননা, এতে কোনো প্রকার ধোঁকা বা প্রতারণার অবকাশ নেই। মুদারাবার মধ্যে এক প্রকার সংশয়ের অবকাশ থাকার পরও তা বৈধ করা হয়েছে, সেই বিবেচনায় ইবদা' তে সন্দেহ-সংশয় না থাকায় তা অবশ্যই বৈধ হবে; ইবদা'-এর চুক্তি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে সম্পাদিত হোক কিংবা মুদারাবা চুক্তির আওতায় হোক। যেমন কোনো কর্মী অন্য কোনো কর্মীকে তার অধীনস্থ সম্পদ ইবদা' চুক্তির আওতায় ব্যবসা করার জন্যে প্রদান করলে তা বৈধ হবে। কেননা ইবদা' হলো কোনো পারিশ্রমিক ছাড়া কারো সম্পদ দিয়ে ব্যবসা করা। আর তা এমন যা মালিক পছন্দই করবে।

টিকাঃ
৪. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৬, পৃ. ৮৭; আল-মুগনী-এর সাথে আশ-শারহুল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ১৩১, ১ম প্রকাশ, আল-মানার

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ইবদা’-এর শরয়ী দর্শন

📄 ইবদা’-এর শরয়ী দর্শন


ইবদা' একটি ব্যবসায়িক কর্ম। ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক ক্ষেত্রেই এর প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। কেননা অনেক সময় সম্পদের অধিকারী ব্যক্তির সম্পদ থাকলেও হয়তো সে ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো বুঝে না। কিংবা তার পক্ষে প্রচলিত বাজারের গতিবিধি বোঝা মুশকিল। কোনো ক্ষেত্রে এমনও হতে পারে যে, সে ব্যবসা-বাণিজ্য বুঝে ঠিকই, কিন্তু তার পক্ষে বাজারে যাওয়ার সুযোগ নেই। কখনো এমন হতে পারে যে, বাজারে গিয়ে অন্যদের মতো কেনাবেচা করা তার পক্ষে সম্ভব নয়- নারী কিংবা অধিকতর মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি হওয়ার কারণে; এসব কারণে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ তাদের প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারে। আর কোনো প্রতিদান ছাড়া প্রতিনিধি নিয়োগই হলো ইবদা'। ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইবদা' হলো পারস্পরিক সৌহার্দ, সম্প্রীতি, পরোপকার ও ভ্রাতৃত্ববোধ শক্তিশালীকরণের একটি উপায়।

ইবদা' চুক্তি যেমন সম্পদশালী ব্যক্তির সম্পদ বৃদ্ধির উপায় হতে পারে, তেমনই তা স্বেচ্ছায় ইবদা' কর্ম সম্পাদনকারীর সম্পদ বৃদ্ধিরও উপায় হতে পারে। যেমন সম্পদ বিনিয়োগকারী স্বেচ্ছাসেবী ইবদা' কারীর সম্পদের সাথে তারও সম্পদ একত্রিত করে একটা ব্যবসায়িক লেনদেন করল। যেমন পুঁজিদাতার এক হাজারের সাথে সেও এক হাজার দিল, লাভ নিল অর্ধেক করে। তাতে পুঁজি বাড়ল, তাতে লাভও বাড়ল। তাতে কর্মীর বিশেষ উপকার সাধিত হলো। এক্ষেত্রে অর্ধেক বিনিয়োগকারী হিসেবে পুঁজিদাতাকে সে যেমন মুনাফা করে দিয়েছে, তদ্রূপ সে নিজেও অর্ধেক বিনিয়োগ করার কারণে পুঁজি বৃদ্ধি করতে পেরেছে, ফলে লাভেও বৃদ্ধি ঘটেছে।

টিকাঃ
৫. আল-মুগনী ওয়াশ শারহুল কাবীর, খ. ৫, পৃ. ২০৩
৬. মুদারাবা ক্রয়-বিক্রয়ে ধোঁকা ও প্রতারণার অবকাশ তখন তৈরি হয় যখন কর্ম ও পারিশ্রমিক উভয়টি অজ্ঞাত বা অনির্দিষ্ট থাকে। কিন্তু এই প্রতারণার অবকাশকে এ জন্য এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে যে, মুদারাবা বৈধ হওয়ার পক্ষে সুন্নাহ ও ইজমার আলোকে মজবুত প্রমাণ রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00