📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মুদ্রার পরিবর্তন

📄 মুদ্রার পরিবর্তন


কখনও মুদ্রার প্রচলন না থাকা, মুদ্রা বাজার থেকে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া, মূল্য হ্রাস পাওয়া কিংবা বৃদ্ধি পাওয়ার মতো আপতিত অবস্থায় মুদ্রাতে পরিবর্তন সাধিত হয়। ফলে লেনদেনের বাজারে মুদ্রার প্রতি আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়। পুরো দেশে মুদ্রার লেনদেন না থাকার দ্বারা মুদ্রা প্রচলনহীন হয়ে পড়ে। মুদ্রা নিঃশেষ হওয়ার অর্থ হলো মুদ্রাব্যবসায়ী ব্যতীত আর কারো হাতে উক্ত মুদ্রা না থাকা অথবা প্রশাসন কর্তৃক বাতিল ঘোষণা করা। আর সমপরিমাণ স্বর্ণ-রৌপ্যের মজুত থাকা ও না থাকার ভিত্তিতে মুদ্রার মূল্য কমে ও বাড়ে।
যদি মুদ্রাতে উক্ত বিষয়গুলো ঘটে, অথচ মুদ্রা দায়িত্বে ঋণ রূপে রয়ে গেছে, এ অবস্থায় ফকীহগণ নিম্নোক্ত উপায়ে এসব ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি আলোচনা করেছেন:

প্রথম: হানাফী মাযহাব
যদি কেউ প্রচলনশীল মুদ্রা দ্বারা ক্রয় করার পর মুদ্রাটি প্রচলনহীন হয়ে যায় অথবা মানুষের হাতে তা আর না থাকে, তাহলে বিক্রি বাতিল হয়ে যাবে। এবং ক্রেতার সে পণ্য ফেরত দেওয়া আবশ্যক হবে যদি পণ্যটি তখনও থাকে। আর যদি পণ্যটি ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে অনুরূপ পণ্য ফেরত প্রদান করবে- যদি পণ্যটি সমজাতীয় বস্তু হয়; অন্যথায় মূল্য ফেরত দিবে। উক্ত বিধান ঐ সময় প্রয়োগযোগ্য যখন পণ্য হস্তগত হয়ে থাকে। আর যদি পণ্য হস্তগত না হয় তাহলে তাতে বিক্রির কোনো বিধানই থাকবে না। এটি ইমাম আবু হানীফা রহ.-এর মাযহাব।

ইমাম আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মদ রহ. বলেন, বিক্রি বাতিল হবে না। কারণ প্রচলনহীন হওয়ার দরুন মুদ্রা সোপর্দ করা সম্ভব না হওয়া, শুধু এতোটুকু বিক্রি বাতিল করে না। এর কারণ, প্রচলন সৃষ্টির মাধ্যমে মন্দাভাব কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন তাজা খেজুর দিয়ে কোনো বস্তু ক্রয় করার পর বাজার থেকে খেজুর নিঃশেষ হয়ে গেলে সে বিক্রি বাতিল হয় না। এক্ষেত্রে বিক্রি বাতিল হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত না হলেও পণ্য সোপর্দ করা অসম্ভব, সেহেতু পণ্যের মূল্য প্রদান ওয়াজিব হবে।

ইমাম আবু ইউসুফ রহ. কোন্ সময়ের মূল্য ধরা হবে তা নিয়ে ইমাম মুহাম্মদ রহ. এর সাথে মতপার্থক্য করেছেন। ইমাম আবু ইউসুফ রহ. বলেছেন, বিক্রির দিনের মূল্য ওয়াজিব হবে, আর মুহাম্মদ রহ. বলেন, প্রচলনহীন হয়ে যাওয়ার দিন, যা মানুষের উক্ত মুদ্রা দ্বারা লেনদেন করার শেষ দিন, এর যে মূল্য ছিল তা ওয়াজিব হবে। দুই উক্তির ওপর ভিত্তি করে ফতোয়ার মধ্যেও মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। জাখিরাতুল বুরহানিয়া (الذخيرة البرهانية) গ্রন্থে বলা হয়েছে, ইমাম আবু ইউসুফ রহ.-এর উক্তি অনুযায়ী ফতোয়া। আর আল-মুহীত, তাতিম্মা ও আল-হাকায়েক গ্রন্থসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে, মানুষের প্রতি অনুগ্রহ ও সহজতা প্রদর্শনের লক্ষ্যে ইমাম মুহাম্মদ রহ.-এর উক্তি অনুসারে ফতোয়া দেওয়া হবে।

যদি মুদ্রার দর বৃদ্ধি পায় তাহলে বিক্রয় আপন অবস্থায় বহাল থাকবে, তখন ক্রেতা কর্তৃক বিক্রয়চুক্তি বাতিল করার অধিকার থাকবে না। পক্ষান্তরে যদি মুদ্রার মূল্য কমে যায় তাহলে ইমাম আবু হানীফা রহ.-এর মাযহাব হচ্ছে, ঋণদাতা সে পরিমাণ মুদ্রাই ফেরত পাবে। ইমাম আবু ইউসুফ রহ. প্রথমত অনুরূপ মতই প্রকাশ করেছিলেন। অতঃপর উক্ত মত প্রত্যাহার করে দ্বিতীয় মত প্রকাশ করেছেন; তা হলো ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য বিক্রির দিনের মূল্য পরিশোধ করা আবশ্যক।

বিলম্বে মূল্য পরিশোধকৃত ক্রয়-বিক্রয়ে দেনা মুদ্রার ব্যাপারে যে মতবিরোধ তা ধার, বাকি মোহরানা এবং অনুরূপ কোনো দেনায় প্রযোজ্য হবে। সুতরাং ইমাম আবু হানীফা রহ.-এর মতে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির সমপরিমাণ মুদ্রা ফেরত প্রদান আবশ্যক। এক্ষেত্রে মুদ্রা নিঃশেষ হওয়া, প্রচলনহীন হওয়া, মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া বা কমে যাওয়া বিষয়গুলো কোনোরূপ প্রভাব সৃষ্টি করবে না। ইমাম আবু ইউসুফ রহ. এর মতে বিক্রির দিনের দর অনুযায়ী স্বর্ণ দ্বারা মূল্য ফেরত দিতে হবে। ইমাম মুহাম্মদ রহ.-এর মতে প্রচলনহীন বা নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার দিনের দর অনুযায়ী মুদ্রা ফেরত দিতে হবে। আর মুদ্রার মূল্য কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে ধার নেওয়ার দিনের দর অনুযায়ী মুদ্রা ফেরত দেওয়া আবশ্যক।

ইবনে আবেদীন বলেন: যে ব্যাপারটি স্থির হয়েছে তা হলো, যদি মুদ্রা নির্ধারিত হয় তাহলে যে শ্রেণির মুদ্রার ওপর চুক্তি হয়েছে তা-ই পরিশোধ করতে হবে। কোন্ ধরনের মুদ্রা পরিশোধ করতে হবে সে কথায় ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে সন্ধি হওয়া আবশ্যক। এ বিষয়ে ইবনে আবেদীনের উস্তাদ ফতোয়া প্রদান করেছেন এবং ইবনে আবেদীন তাকে অনুসরণ করেছেন।

কাসানী রহ. দিরহামের বিনিময়ে মুদ্রা বিক্রি, অতঃপর মুদ্রার স্বত্বাধিকারী প্রকাশ পাওয়ার কয়েকটি অবস্থা বর্ণনা করেছেন।
উদাহরণ: যদি একটি দিরহামের বিনিময়ে কয়েকটি মুদ্রা ক্রয় করে এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে হস্তগত করার পর সে স্থান ত্যাগ করে। অতঃপর মুদ্রা তার হাতে থাকা অবস্থায় তার স্বত্বাধিকারী প্রকাশ পায় এবং স্বত্বাধিকারী ব্যক্তি মুদ্রা নিয়ে নেয়, তাহলে চুক্তি বাতিল হবে না। কারণ এটি স্বত্বাধিকার লাভের মাধ্যমে হয়েছে, যদিও হস্তগত করা বাতিল হয়ে গেছে এবং চুক্তি অস্তিত্বহীন হয়েছে। তবে ধরা হবে, বৈঠক ত্যাগ দিরহাম হস্তগত করার দ্বারা হয়েছে, মুদ্রা হস্তগত করার দ্বারা হয়নি। আর এটি চুক্তি বাতিলের কারণ হতে পারে না। অনুরূপ মুদ্রা পরিশোধ করা বিক্রেতার জন্য আবশ্যক। কিছু মুদ্রার স্বত্বাধিকার প্রকাশ পাওয়ার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে। এবং স্বত্বাধিকারী যতটুকু নিয়েছে বিক্রেতার নিকট থেকে তা ফেরত নিতে পারবে। সুতরাং যতটুকু পরিমাণের স্বত্বাধিকারী প্রকাশিত হয়েছে ততটুকু পরিমাণ নগদ পরিশোধ করা মুদ্রাবিক্রেতার জন্য আবশ্যক। অনুরূপভাবে যদি কিছু মুদ্রা অচল পাওয়া যায় তাহলে বিক্রেতা অচল মুদ্রা ফেরত প্রদান করবে। আর যদি ক্রেতা দিরহাম নগদ পরিশোধ না করে মুদ্রা হস্তগত করে এবং উভয়ে ভিন্ন হওয়ার পর তার স্বত্বাধিকারী প্রকাশিত হয়, তাহলে স্বত্বাধিকারী ব্যক্তির স্বাধীনতা রয়েছে- সে ইচ্ছা করলে বিক্রেতাকে নগদ প্রদান করে বিক্রিকে বৈধ করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে বিক্রয়চুক্তি বৈধ হয়ে যাবে। কারণ অনুমোদনের বিষয়টি চুক্তির সময়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়ে থাকে। অতএব বিক্রয় চুক্তি এবং নগদ পরিশোধ বৈধ হবে। আর স্বত্বাধিকারী ব্যক্তি মুদ্রা বিক্রেতার নিকট থেকে সমপরিমাণ মুদ্রা ফেরত গ্রহণ করবে। এবং ক্রেতা মুদ্রা বিক্রেতাকে দিরহাম নগদ পরিশোধ করবে। আর যদি স্বত্বাধিকারী ব্যক্তি বিক্রয়চুক্তি অনুমোদন না করতে ইচ্ছা করে, তাহলে তা করার সুযোগ রয়েছে। (সেক্ষেত্রে) সে মুদ্রা নিয়ে নিবে এবং চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। কারণ তখন এ কথা প্রকাশিত হবে, কোনও প্রকার হস্তগতকরণ ছাড়াই উভয়ে বৈঠক ত্যাগ করেছে।

দ্বিতীয়: মালেকী মাযহাব
মালেকী মাযহাবে সুবিদিত যে, যদি কোনো মুদ্রার লেনদেন বন্ধ হয়ে যায় অথবা কমা-বাড়ার কারণে মুদ্রায় পরিবর্তন ঘটে এবং ধার বা বিক্রয় বা বিবাহ বা অন্য কারণে উক্ত মুদ্রা দায়িত্বে ঋণরূপে থাকে, তাহলে ঋণদাতাকে সে পরিমাণ মুদ্রাই ফেরত দিতে হবে। এভাবে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি ঋণদাতার ঋণ পরিশোধ করবে।

আর যদি উক্ত মুদ্রা অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে তাহলে মীমাংসার দিনের দর অনুযায়ী মুদ্রার মূল্য প্রদান ওয়াজিব হবে। এক্ষেত্রে টালবাহানাকারী ঋণগ্রস্ত এবং সাধারণ ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির মাঝে ফকীহগণ কোনো পার্থক্য করেননি। কোনো কোনো ফকীহ মূল্য ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে টালবাহানাকারী ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি না হওয়ার শর্ত করেছেন। আর যদি ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি টালবাহানাকারী হয়, তাহলে এ মূল্য গ্রহণ করা অথবা পুরাতন মুদ্রার তুলনায় অধিক নতুন মুদ্রা-যা তার নিকট আসে- তন্মধ্যে যেটি অধিক লাভজনক সেটি সে নেবে। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি টালবাহানার মাধ্যমে নির্যাতন করার কারণে সাবী রহ.-এর ভাষ্যমতে এটিই সর্বাধিক প্রকাশ্য ও গ্রহণযোগ্য।

খিরাশী রহ. উল্লেখ করেছেন, যদি মুদ্রা অস্তিত্বহীন হওয়া এবং মুদ্রার স্বত্বাধিকারী প্রকাশিত হওয়া, এ দুই সময়ের মধ্যে মূল্যে পার্থক্য হয় তাহলে দুই সময়ের মধ্যে তুলনামূলক বেশি দূরবর্তী সময়ের দর অনুযায়ী সে মূল্য ধরতে পারবে। সুতরাং যদি কোনো মাসের শুরুতে মুদ্রার লেনদেন বন্ধ হয়ে যায় বা মুদ্রার দর কমে যাওয়া অথবা বেড়ে যাওয়ার কারণে পরিবর্তন ঘটে এবং এর মেয়াদ মাসের শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ হয় তাহলে সে শেষের মূল্য পাবে। আর যদি এর বিপরীত ঘটনা ঘটে আর পণ্য অস্তিত্বহীন হয় মেয়াদের শেষাংশে, তাহলে সে অস্তিত্বহীন হওয়ার দিনের দর অনুযায়ী মূল্য নিতে পারবে।

মালেকী ফকীহগণের প্রসিদ্ধ মতের বিপরীত একটি দুর্লভ উক্তি রয়েছে; আর তা হলো, মুদ্রা অচল হয়ে গেলে তার মূল্য ওয়াজিব হবে। উক্তিটি আব্দুল হামিদ সায়েগ থেকে বর্ণিত এবং আশহাব রহ.-এর সাথে সম্বন্ধকৃত। উক্ত উক্তির প্রমাণ হলো, বিক্রেতা উপকারী বস্তু লাভ করার ফলে উপকারী বস্তু পরিশোধ করে। অতএব সে অপকারী বস্তু প্রাপ্ত হয়ে নির্যাতনের শিকার হতে পারে না। আর কেউ বলেছেন, ওয়াজিব হলো পরিশোধ করার দিনের দর অনুযায়ী পণ্যের মূল্য। যে মুদ্রা নিঃশেষ হয়ে গেছে তার মূল্য ওয়াজিব নয়।

আর ইমাম রাহুনী রহ. বলেছেন, এ মাযহাব অনুসারী একাধিক ব্যক্তির এবং অন্যদের স্পষ্ট ভাষ্য হচ্ছে, পূর্ববর্তী মতবিরোধটি ঐ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে প্রাচীন মুদ্রার ছাঁচের প্রচলন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। আর যদি উক্ত মুদ্রার মূল্য কম- বেশি হওয়ার কারণে পরিবর্তন ঘটে তাহলে পূর্ববর্তী মতবিরোধ প্রযোজ্য হবে না। এরপর রাহুনী আরো বলেন, উচিত হচ্ছে এ বিষয়টি ঐ অবস্থার সাথে শর্তযুক্ত করা যে অবস্থায় এটি খুব বেশি হবে না; যেন উক্ত মুদ্রা হস্তগতকারী ঐ কব্জাকারীর মতো হয় যে বড় উপকারী কোনো কিছু হস্তগত করেনি। এর কারণ, বিরোধী ব্যক্তি যে কারণ উল্লেখ করেছে এক্ষেত্রে সে কারণ বিদ্যমান।

তৃতীয়: শাফেয়ী মাযহাব
শাফেয়ী ফকীহগণের মত হলো, ঋণ বা বিক্রয় বা অন্য কারণে দায়িত্বে থাকা মুদ্রা যদি বাদশাহ কর্তৃক অচল ঘোষিত হয়, তাহলে ঋণদাতা ব্যক্তি কেবল ঐ মুদ্রার সমপরিমাণ নিতে পারবে যা সে চুক্তির সময় ঋণ প্রদান করেছিল অথবা যার বিনিময়ে বিক্রি করেছিল। যদি মুদ্রার মূল্য কমে যায় অথবা মূল্য বেড়ে যায় তাহলে সে ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হয়ে ঋণদাতা মুদ্রার সমপরিমাণ নিতে পারবে। এটি হচ্ছে সম্মিলিত শাফেয়ী ফকীহদের মত।

শাফেয়ী মাযহাবের ইমাম বাগাভী এবং রাফেয়ী রহ. একটি মত উল্লেখ করেছেন : বাদশাহ কর্তৃক অচল ঘোষিত মুদ্রার বিনিময়ে বিক্রয় করার পর বিক্রেতা ইচ্ছা করলে সে বিক্রি অনুমোদন করতে পারে; ইচ্ছা করলে বিক্রি বাতিল করতে পারে; যেমনটি হয়ে থাকে হস্তগত করার পূর্বে মুদ্রা ত্রুটিযুক্ত হলে।

চতুর্থ : হাম্বলী মাযহাব
হাম্বলী মাযহাবে বিধান হলো, যদি ঋণে প্রদত্ত বস্তুটি মুদ্রা হয় আর বাদশাহ তা অচল ঘোষণা করে, ফলে তার লেনদেন বর্জন করা হয়, তাহলে ঋণদাতা মুদ্রার মূল্য পাবে। উক্ত মুদ্রা গ্রহণ করতে সে বাধ্য নয়। উক্ত মুদ্রা তার হাতে মজুত থাক বা না থাক। মুদ্রা গ্রহণের দিনের দর অনুযায়ী মুদ্রার মূল্য নির্ধারণ করে তা তাকে প্রদান করবে। উক্ত মুদ্রার মূল্য কিছুটা হ্রাস পাক অথবা বৃদ্ধি পাক। আর যদি বাদশাহ উক্ত মুদ্রা অচল ঘোষণা না করে তাহলে অনুরূপ মুদ্রা ফেরত দিতে হবে। মুদ্রার মূল্য হ্রাস পাক বা মূল্য বৃদ্ধি হোক বা মূল্য পূর্বাবস্থায় থাকুক।

টিকাঃ
৭. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ২৪২, দ্বিতীয় মুদ্রণ; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২৮৫; রাসায়েল সমগ্রের অধীনে ইবনে আবেদীন রচিত তামবাহুর রুকূদ আলা মাসাইলিন নুকূদ, পৃ. ৫৮
৮. তামবাহুর রুকূদ, পৃ. ৬৪
৯. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৫, পৃ. ২৪২
১০. আল-মুদাওয়ানা, খ. ৮, পৃ. ১৫৩; আল-খিরাশী, খ. ৫, পৃ. ৫৫; হাশিয়াতুদ দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৪০; বুলগাতুস সালেক, খ. ২, পৃ. ২৩
১১. শারহুয যুরকানী আলা মুখতাছার খলীল ওয়া হাশিয়াতুর রাহুনী আলাইহি, খ. ৫, পৃ. ৬০
১২. আল-উম, খ. ৩, পৃ. ৩৩ মুদ্রণ : দারুল মারিফা; কাতউল মুজাদালা, কিতাকুল হাবী, খ. ১, পৃ. ৯৭; আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব, খ. ৯, পৃ. ২৮২
১৩. আল-মুগনী ওয়াশ শারহুল কাবীর, খ. ৪, পৃ. ৩৬৫, ৩৫৮; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ৩, পৃ. ২৪১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00