📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা

📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা


ক. الدَرَاهِمُ (আদ-দারাহিম): দিরহাম
দারাহিম (الدَرَاهِمُ) শব্দটি درهم (দিরহাম)-এর বহুবচন, এটি এক শ্রেণির রৌপ্য মুদ্রা যা দ্বারা লেনদেন করা হয়। درهم (দিরহাম) এবং فلُস (ফাল্স)-এর মধ্যে সম্পর্ক হলো উভয়টি লেনদেনে মূল্য হয়।

খ. الدنانير (আদ-দানানীর): দীনার
দানানীর (الدنانير) শব্দটি دینار (দীনার)-এর বহুবচন, এটি এক শ্রেণির স্বর্ণ মুদ্রা যা দ্বারা লেনদেন করা হয়। دینار (দীনার) এবং فلوس (ফাল্স)-এর মধ্যে সম্পর্ক হলো উভয়টি লেনদেনে মূল্য হয়।

টিকাঃ
৩. লিসানুল আরব; আবু উবাইদ রচিত আল-আমওয়াল, পৃ. ৬২৯; ফুতুহুল বুলদান, খ. ১, পৃ. ৪৫, মুকাদ্দামা ইবনে খালদুন, পৃ. ১৮৩
৪. প্রাগুক্ত

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ফুলুস-এর বিধান

📄 ফুলুস-এর বিধান


ফুলূস-এর অনেক বিধান রয়েছে। তন্মধ্যে কিছু নিম্নরূপ:

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 প্রথম : ফুলুসের যাকাত

📄 প্রথম : ফুলুসের যাকাত


ফকীহগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মুদ্রার যাকাতের আলোচনায় মতবিরোধ করেছেন। শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণের অভিমত হচ্ছে, মুদ্রা বাণিজ্যিক পণ্যের অনুরূপ। সুতরাং এতে যাকাত ফরয হবে না; তবে ব্যবসার জন্য হলে ফরয হবে।

হানাফী ফকীহগণের মাযহাব- যা মালেকী ফকীহদের একটি মত- হলো, স্বর্ণ ও রৌপ্যের মতো প্রচলনশীল হলে যাকাত ফরয হবে। কারণ এগুলোও সাধারণ মুদ্রা। আর যদি এসব মুদ্রার প্রচলন না থাকে তাহলে এগুলো হবে সাধারণ পণ্য। তখন এতে যাকাত ফরয হবে না। তবে এ মুদ্রাগুলো ব্যবসার জন্য উত্থাপিত হলে তাতে যাকাত ফরয হবে।

মালেকী ফকীহগণের মাযহাব হলো, তাম্র মুদ্রায় কোনো যাকাত নেই। তাই এই মুদ্রায় যাকাত ফরয হবে না। কারণ এগুলো পশু বা নির্দিষ্ট শ্রেণির শস্য বা ফল অথবা স্বর্ণ বা রৌপ্য নয়, যেগুলোতে যাকাত ফরয হয়ে থাকে। সুতরাং কারো নিকট দুইশ দিরহাম মূল্যমানের মুদ্রা থাকলেও তার ওপর যাকাত ফরয হবে না। তবে যদি তা সচল করে তা দ্বারা সে ব্যবসা করে তাহলে পণ্যের ন্যায় সে তার মূল্য নির্ধারণ করবে। আর মজুতকারী ব্যক্তির জন্য উক্ত মুদ্রার মূল্যে যাকাত ফরয হবে। মুদ্রা যদি ব্যবসার জন্য বরাদ্দ হয় অতঃপর তা মালিকের নিকট এক বছর থাকার পর স্বর্ণ বা রৌপ্যের বিনিময়ে সে যদি তা বিক্রি করে, তাহলে অন্যান্য মজুতকৃত পণ্যের ন্যায় তাতে কেবল এক বছরের যাকাত ফরয হবে।

টিকাঃ
৫. হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ২, পৃ. ৩০০; হাশিয়া আল-আদভী আলাল খিরাশী, খ. ২, পৃ. ১৭৭, ১৭৯; হাশিয়া দুসূকী আলাশ শারহিল কাবীর, খ. ১, পৃ. ৪৫৫; তাহযিবুল ফুরূক আলা হামিশি ফুরুকিল কারাফী, খ. ৩, পৃ. ২৫২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ১, পৃ. ৩৯৮; কাশশাফুল কিনা, খ. ২, পৃ. ২৩৫; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ২, পৃ. ৮৯; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ১, পৃ. ৪০১

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 দ্বিতীয় : মুদ্রায় সুদ

📄 দ্বিতীয় : মুদ্রায় সুদ


প্রচলনশীল মুদ্রায় সুদ হওয়ার ব্যাপারে ফকীহগণ তিন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন:

প্রথম দৃষ্টিভঙ্গি: এ সব মুদ্রা সুদের শ্রেণিভুক্ত মূল্য নয়, এগুলো বাণিজ্যিক পণ্যের মতো। এটি শাফেয়ী ফকীহদের বিশুদ্ধতম, হাম্বলী ফকীহদের শুদ্ধ মত এবং হানাফী ফকীহদের মধ্যে শায়খাইন ও মালেকী ফকীহদের একটি উক্তি।

দ্বিতীয় দৃষ্টিভঙ্গি: এসব মুদ্রা অন্য মুদ্রার ন্যায় সুদযোগ্য। এটি হানাফী ফকীহদের মধ্যে ইমাম মুহাম্মদ রহ.-এর উক্তি, মালেকী ফকীহদের একটি উক্তি, শাফেয়ী ফকীহদের বিশুদ্ধতম মতের পরিপন্থী এবং হাম্বলী ফকীহদের শুদ্ধ মতের বিরোধী একটি মত।

তৃতীয় দৃষ্টিভঙ্গি: এটি মালেকী ফকীহদের উক্তি; আর তা হলো, এ মুদ্রাগুলো ব্যবসায়িক পণ্য ও অন্য মুদ্রার মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে। তাই মুদ্রার বিনিময়ে মুদ্রার বিক্রি এবং সুদের ক্ষেত্রে তা মুদ্রা সমতুল্য, আর অন্যান্য ক্ষেত্রে পণ্যের সমতুল্য। এই দৃষ্টিকোণ থেকে মুদ্রাকে একই শ্রেণির মুদ্রার বিনিময়ে কম-বেশি করে বিক্রি করা মাকরূহ হবে; তবে হারাম হবে না। সুদের কারণে বিক্রয়টি মাকরূহে তানযিহী হবে। আর মুদ্রার বিনিময়ে মুদ্রা বিক্রির শর্ত রক্ষা করা হবে মুস্তাহাব। পক্ষান্তরে যদি মুদ্রা প্রচলনহীন হয়ে যায় তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে তা ব্যবসায়িক পণ্য।

টিকাঃ
৬. আল-ইনায়া শারহুল হিদায়া বিহামিশি ফাতহিল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২৮৭, মুদ্রণ: বুলাক; হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৫, পৃ. ১৮০; ফাতহুল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ১৪; তাহযিবুল ফুরূক, খ. ৩, পৃ. ২৫১-২৫২; হাশিয়া আল-কালয়ূবী ওয়া উমায়রা, খ. ২, পৃ. ১৭০; মুগনিল মুহতাজ, খ. ২, পৃ. ২৫ ও খ. ৪, পৃ. ১৫৯; আল-মুগনী, আশ-শারহুল কাবীর সহ, খ. ৪, পৃ. ১০৮; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ২৬৪; হাশিয়া দুসুকী, খ. ৩, পৃ. ৫১৭; আল-মুহাল্লা আলা মিনহাজিত তালিবীন, খ. ২, পৃ. ১৭০ ও খ. ৩, পৃ. ৫২; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ২, পৃ. ৩২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00