📄 ফুলুস (الْفُلُوسُ)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ
ফুলুস (الفلوس) শব্দটি এর বহুবচন। এর আরেকটি বহুবচন হচ্ছে أفلُস । মুদ্রাব্যবসায়ীকে ফাল্লাস (فَلَّাস) বলা হয়। দিরহামের মালিক থাকার পর পয়সার মালিকে পরিণত হয়ে গেলে বলা হয়: أَفْلَسَ الرَّجُل "লোকটি নিঃস্ব হয়ে গেছে।" সুতরাং যেন তার দিরহামসমূহ পয়সা এবং ভেজাল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বলা হয় : فَلَّسَهُ الْقَاضِي تَفْلِيسًا “বিচারক তাকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছে।”
পরিভাষায় ফুলুস (الفلوس) হলো: كُل مَا يَتَّخِذُهُ النَّاسُ ثَمَنًا مِنْ سَائِرِ الْمَعَادِنِ عَدَا الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ "সোনা-রুপা ব্যতীত যেসব বস্তুকে মানুষ মূল্যরূপে গ্রহণ করে।"
টিকাঃ
১. তাজুল আরূস মিন জাওয়াহিরিল কামূস, লিসানুল আরব; র্ট - মাদাহ
২. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৫, পৃ. ২৩৬; আশ-শারহুস সাগীর, খ. ১, পৃ. ২১৮; আবু ইয়ালা রচিত আল-আহকামুস সুলতানিয়্যা, পৃ. ১৭৯; মাওসূআ কমিটি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে যে, الفلوس (ফুলুস) পরিভাষাটি বর্তমানে বাস্তবে ও প্রচলনগতভাবে সকল প্রকার কাগজি ও খনিজ মুদ্রাকে বোঝায়। র্ট (ফাল্স) কে অনেক আরব দেশে দীনার- দিরহামের অংশ বলা হয়েছে। কারণ দীনার দিরহামের মূল্যের সাথে (ফাল্স)-এর মূল্য সম্পর্কিত। প্রাচীনকালে প্রচলন ছিল, দীনার স্বর্ণের, দিরহাম রৌপ্যের আর ফাল্স তামা ও লোহার মতো খনিজ দ্রব্য দ্বারা তৈরি করা হতো। কিন্তু বর্তমানে (ফাল্স) দ্বারা সকল প্রকার মুদ্রা বোঝানো হয় এবং মুদ্রারই অপর নাম হিসাবে ব্যবহৃত হয়। অবশ্য কোনো কোনো মুসলিম দেশে নির্দিষ্ট ধরনের মুদ্রাকে (ফাল্স) বলা হয়। এর বহুবচন হলো ফুলূস।
📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা
ক. الدَرَاهِمُ (আদ-দারাহিম): দিরহাম
দারাহিম (الدَرَاهِمُ) শব্দটি درهم (দিরহাম)-এর বহুবচন, এটি এক শ্রেণির রৌপ্য মুদ্রা যা দ্বারা লেনদেন করা হয়। درهم (দিরহাম) এবং فلُস (ফাল্স)-এর মধ্যে সম্পর্ক হলো উভয়টি লেনদেনে মূল্য হয়।
খ. الدنانير (আদ-দানানীর): দীনার
দানানীর (الدنانير) শব্দটি دینار (দীনার)-এর বহুবচন, এটি এক শ্রেণির স্বর্ণ মুদ্রা যা দ্বারা লেনদেন করা হয়। دینار (দীনার) এবং فلوس (ফাল্স)-এর মধ্যে সম্পর্ক হলো উভয়টি লেনদেনে মূল্য হয়।
টিকাঃ
৩. লিসানুল আরব; আবু উবাইদ রচিত আল-আমওয়াল, পৃ. ৬২৯; ফুতুহুল বুলদান, খ. ১, পৃ. ৪৫, মুকাদ্দামা ইবনে খালদুন, পৃ. ১৮৩
৪. প্রাগুক্ত
📄 ফুলুস-এর বিধান
ফুলূস-এর অনেক বিধান রয়েছে। তন্মধ্যে কিছু নিম্নরূপ:
📄 প্রথম : ফুলুসের যাকাত
ফকীহগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মুদ্রার যাকাতের আলোচনায় মতবিরোধ করেছেন। শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণের অভিমত হচ্ছে, মুদ্রা বাণিজ্যিক পণ্যের অনুরূপ। সুতরাং এতে যাকাত ফরয হবে না; তবে ব্যবসার জন্য হলে ফরয হবে।
হানাফী ফকীহগণের মাযহাব- যা মালেকী ফকীহদের একটি মত- হলো, স্বর্ণ ও রৌপ্যের মতো প্রচলনশীল হলে যাকাত ফরয হবে। কারণ এগুলোও সাধারণ মুদ্রা। আর যদি এসব মুদ্রার প্রচলন না থাকে তাহলে এগুলো হবে সাধারণ পণ্য। তখন এতে যাকাত ফরয হবে না। তবে এ মুদ্রাগুলো ব্যবসার জন্য উত্থাপিত হলে তাতে যাকাত ফরয হবে।
মালেকী ফকীহগণের মাযহাব হলো, তাম্র মুদ্রায় কোনো যাকাত নেই। তাই এই মুদ্রায় যাকাত ফরয হবে না। কারণ এগুলো পশু বা নির্দিষ্ট শ্রেণির শস্য বা ফল অথবা স্বর্ণ বা রৌপ্য নয়, যেগুলোতে যাকাত ফরয হয়ে থাকে। সুতরাং কারো নিকট দুইশ দিরহাম মূল্যমানের মুদ্রা থাকলেও তার ওপর যাকাত ফরয হবে না। তবে যদি তা সচল করে তা দ্বারা সে ব্যবসা করে তাহলে পণ্যের ন্যায় সে তার মূল্য নির্ধারণ করবে। আর মজুতকারী ব্যক্তির জন্য উক্ত মুদ্রার মূল্যে যাকাত ফরয হবে। মুদ্রা যদি ব্যবসার জন্য বরাদ্দ হয় অতঃপর তা মালিকের নিকট এক বছর থাকার পর স্বর্ণ বা রৌপ্যের বিনিময়ে সে যদি তা বিক্রি করে, তাহলে অন্যান্য মজুতকৃত পণ্যের ন্যায় তাতে কেবল এক বছরের যাকাত ফরয হবে।
টিকাঃ
৫. হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ২, পৃ. ৩০০; হাশিয়া আল-আদভী আলাল খিরাশী, খ. ২, পৃ. ১৭৭, ১৭৯; হাশিয়া দুসূকী আলাশ শারহিল কাবীর, খ. ১, পৃ. ৪৫৫; তাহযিবুল ফুরূক আলা হামিশি ফুরুকিল কারাফী, খ. ৩, পৃ. ২৫২; মুগনিল মুহতাজ, খ. ১, পৃ. ৩৯৮; কাশশাফুল কিনা, খ. ২, পৃ. ২৩৫; মাতালিবু উলিন নুহা, খ. ২, পৃ. ৮৯; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, খ. ১, পৃ. ৪০১