📄 ঋণের ওপর মুদ্রার মূল্যমান পরিবর্তনের প্রভাব
নির্দিষ্ট মুদ্রায় পরিশোধ্য ঋণের ক্ষেত্রে মুদ্রার দাম বৃদ্ধি ঘটলে ঋণদাতা ঋণগৃহীতার ওপর আনুপাতিক হারে ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এতে ঋণীব্যক্তির ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধে কষ্ট বাড়ে এবং এ দ্বারা ঋণীব্যক্তিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে নির্দিষ্ট মুদ্রায় নির্দিষ্ট ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি থাকা অবস্থায় মুদ্রার মূল্যমান কমে গেলে ঋণদাতা ব্যক্তি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বিপরীতমুখী অবস্থা ও পরিস্থিতির কারণে উভয় দিকের কোনো এক দিকে কোনো ব্যক্তি বড় ধরনের ক্ষতিতে পতিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এভাবে নির্দিষ্ট মুদ্রায় ঋণ পরিশোধের বিষয়টিতে একটি নিশ্চিত সমস্যার সৃষ্টি হয়। যদি ঐ মুদ্রা আর চালু না থাকে তাহলে তো ঋণ পরিশোধ অসম্ভব হয়ে যায়। এ দ্বিমুখী সংকট নিরসনে মুসলিম ফকীহগণ দীনার-দিরহাম ও অন্যান্য মুদ্রার ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের সমাধান নির্দেশ করেছেন。
ক. সৃষ্টিগত মুদ্রা তথা দীনার দিরহাম অথবা স্বল্পমাত্রার খাদযুক্ত দীনার দিরহামের ক্ষেত্রে বিধান হচ্ছে, এ ঋণী ব্যক্তি ঋণদাতাকে ঠিক সে পরিমাণ দীনার-দিরহাম পরিশোধ করবে; দীনার-দিরহামের দাম এখন যা হয়েছে। তাতে পরিমাণ কম হোক না কেন। পক্ষান্তরে এসব মুদ্রা বাতিল হলে বা দুষ্প্রাপ্য হলে ঋণগৃহীতা ঋণদাতাকে এগুলোর মূল্য হিসাব করে সে পরিমাণ দীনার দিরহাম পরিশোধ করবে; তখন এগুলোর মূল্য ঋণ গ্রহণের ক্ষণে বা তলব করার মুহূর্তে থাকা মূল্য বিবেচনা করা হবে。
খ. দীনার-দিরহাম ব্যতীত অন্যসব ধাতব/অধাতব মুদ্রা এবং দীনার-দিরহামে অধিকমাত্রার খাদযুক্ত মুদ্রার বিধান তা অপ্রচলিত হওয়া, বাজারে না থাকা, মূল্য হ্রাস বা স্ফীতি হওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন অবস্থায় কী করণীয়, কী বিধান তা নিয়ে ফকীহগণের মধ্যে মতবিরোধপূর্ণ অভিমত রয়েছে।
টিকাঃ
৮২. ইবনে আবেদীন প্রণীত 'তামবীহুর রুকূদ 'আলা আহকামিন নূকুদ'; সুযুতী রহ. প্রণীত 'কাতউল মুজাদালা ইনদা তাগায়ূরিল মুয়ামালা, যা তার 'আল-হাবী ফীল ফাতাওয়া', খ. ১, পৃ. ১৫১ গ্রন্থে গ্রন্থিত রয়েছে; আল ফাতাওয়া আল হিন্দিয়্যা, খ. ৩, পৃ. ২২৫; তাকমিলাতু ফাতহিল কাদীর, খ. ৭, পৃ. ১৫৫ ও ১৫৬; আল মুদাওয়ানাতুল কুবরা, খ. ৩, পৃ. ৪৪৪; হাশিয়াতুর রাহুনী, খ. ৫, পৃ. ১২০; নিহায়াতুল মুহতাজ 'আলা শারহিল মিনহাজ, খ. ৩, পৃ. ৩৯৯; ইমাম নবভী রহ. প্রণীত আল-মাজমু', খ. ৯, পৃ. ২৮২; মিরদাবী রহ. প্রণীত আল-ইনসাফ, খ. ৫, পৃ. ১২৭; কাশশাফুল কিনা, খ. ৩, পৃ. ৩১৪; শারহুল মুফরাদাত, খ. ২, পৃ. ৩৯০