📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 হুন্ডির পদ্ধতি

📄 হুন্ডির পদ্ধতি


হুন্ডির পদ্ধতি হচ্ছে কোনো প্রবাসী ব্যক্তি তার প্রবাসের মুদ্রা নিজ দেশে প্রেরণের ইচ্ছা করলে সে ঐ দেশের কোনো ব্যবসায়ীকে এ মুদ্রাগুলো হস্তান্তর করবে। এ ব্যবসায়ী ব্যক্তি প্রবাসীর নিকট থেকে মুদ্রাগুলো সংগ্রহ করে সে দেশ থেকে মালামাল ক্রয় করে এ দেশে নিয়ে আসবে এবং সমমূল্যমানের টাকা স্থানীয় মুদ্রায় প্রবাসীর মনোনীত প্রতিনিধিকে দেবে। অথবা ব্যবসায়ী প্রবাসে থাকাকালেই তার প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রবাসী ব্যক্তিকে স্থানীয় মুদ্রায় তার পাওনা পরিশোধ করবে। এ পদ্ধতিটি ঋণ অথবা বিনিময় হিসেবে গণ্য হয়। কোনো কোনো ফকীহ এ ধরনের কর্জ, কর্জ প্রদানকারীর জন্য লাভজনক থাকায় তা নাজায়েয হিসেবে ফাতওয়া দিয়েছেন। এ ধরনের লেনদেনে আর্থিক উপকার হচ্ছে পথের ঝুঁকিমুক্ত হওয়া। পক্ষান্তরে কোনো কোনো ফকীহ এ ধরনের আর্থিক লেনদেনকে কোনো পক্ষের কোনো ক্ষতির সম্ভবনা না থাকায় বরং উভয়ের উপকারের দিকটি বিবেচনায় বৈধ বলেছেন। এ সম্পর্কে বিস্তারিত অবগতির জন্য সুফতাজাহ (সফ্টাজাহ) অধ্যয়ন করা যেতে পারে।

টিকাঃ
৭০. রদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার, খ. ৪, পৃ. ১৭৪, ২৯৫; জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ৭৬; নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৪, পৃ. ২২৫; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ৩২০

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ষষ্ঠ : মুদ্রার মূল্যমানে যেসব পরিবর্তন আসে

📄 ষষ্ঠ : মুদ্রার মূল্যমানে যেসব পরিবর্তন আসে


স্বর্ণমুদ্রা ও রৌপ্যমুদ্রার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এসব মুদ্রার মূল্যমান অন্যসব মুদ্রার তুলনায় অনেকটা স্থায়ী হয়ে থাকে। যদিও ক্ষেত্রবিশেষে অবস্থা ও পরিস্থিতি পরিবর্তনের কারণে এসব মুদ্রাতেও মূল্যমানের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে থাকে। পক্ষান্তরে দীনার-দিরহাম ব্যতীত অন্যসব মুদ্রার মূল্যমানে দ্রুততম সময়ে কঠিনতম পরিবর্তন ঘটে যেতে পারে এবং ঘটে থাকে। যার দরুন রাষ্ট্রের সঞ্চিত অর্থে যেমন প্রভাব পড়ে জনগণের সঞ্চিত অর্থেও তেমনি তার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়, ঋণের মূল্যমানেও তা প্রভাব ফেলে।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মুদ্রার মূল্যমানে পরিবর্তন

📄 মুদ্রার মূল্যমানে পরিবর্তন


ক. মুদ্রার মূল্যবৃদ্ধি (اغلاء): মুদ্রার অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে, একদিক থেকে ক্রয়-বিক্রয় ও অন্য সকল আর্থিক লেনদেনে অধিক ব্যবহার, মুদ্রার অধিক মজুতদায়ী ইত্যাদি; অপর দিকে মুদ্রার ঊর্ধ্বমুখী মূল্যের অন্য কারণ হচ্ছে ধাতবমুদ্রা তৈরিতে সংশ্লিষ্ট ধাতবের স্বল্পতা, অথবা রাষ্ট্রযন্ত্র জনসংখ্যার চাহিদা অনুপাতে মুদ্রা তৈরিতে অক্ষমতা ইত্যাদি। মুকরীযী বলেন, বর্তমানে দীনার ও দিরহাম ব্যতীত অন্য ধাতব মুদ্রার ব্যবহার এতোটাই বেড়েছে যে, সকল পণ্যে তা দিয়েই মূল্য নির্ধারিত হচ্ছে, এমনকি দীনারের দামও তার মাধ্যমে স্থিরীকৃত হচ্ছে。

খ. মুদ্রার মূল্যহ্রাস (الرخص): মুদ্রার মূল্যমান বিভিন্ন কারণে নিম্নমুখী হয়ে থাকে। এসব কারণের মধ্যে : এগুলো সঞ্চয়ে সংগ্রহে অনাগ্রহ, মজুদদারী চাহিদা না থাকা, যে ধাতু দ্বারা মুদ্রা তৈরি হয় সে ধাতুর পর্যাপ্ততা ও কাঁচামালের আধিক্য ইত্যাদি। মুদ্রার অধোগতির অর্থ হচ্ছে মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া। মুদ্রার মূল্যমান কমে যাওয়া এবং এর ক্রয়ক্ষমতার নিম্নমুখিতার ব্যাখ্যাটি হচ্ছে, পূর্বে মুদ্রার মাধ্যমে যে পরিমাণ পণ্যসামগ্রী ক্রয় করা যেত; বর্তমানে সে মুদ্রা দিয়ে তা থেকে স্বল্প পরিমাণ পণ্য ক্রয় করতে পারা। মুদ্রার মূল্যমানের হ্রাস-বৃদ্ধির প্রমাণ ও প্রকাশটি দুটি নির্দিষ্ট সময়ের মূল্যমানে তুলনার মাধ্যমে অনুধাবন করা যায়。

গ. মুদ্রা অপ্রচলিত হয়ে যাওয়া: আল্লামা ইবনে আবেদীন রহ. বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, কোনো অঞ্চলে প্রচলিত মুদ্রা সম্পূর্ণভাবে অপ্রচলিত হয়ে যাওয়া। এর বিপরীত হচ্ছে, মুদ্রাটির ব্যবহার চালু থাকা。

ঘ. মুদ্রার অবসান/মুদ্রা না থাকা: মুদ্রার অবসান, যা প্রভাব সৃষ্টি করে তা হচ্ছে কোনো মুদ্রা বাজারে ব্যবসায়ীদের নিকট না থাকা; যদিও তা মুদ্রাব্যবসায়ী কিংবা মানুষের ঘরে মজুদ থাকে。

ঙ. রাষ্ট্রপ্রধানের নির্দেশে মুদ্রার লেনদেন নিষিদ্ধ (বাতিল) করে দেওয়া: এর অর্থ হচ্ছে জনসাধারণের প্রয়োজন ও কল্যাণে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান তার রাষ্ট্রে চলমান মুদ্রাকে বাতিল করে নতুন মুদ্রা চালু করা। ইবনুল হায়েম রহ. বলেন: রাষ্ট্রপ্রধান কোনো মুদ্রার প্রচলন বাতিল করলে তা ধর্তব্য হবে। জনসাধারণের জন্য তা মেনে নেওয়াটা একান্ত জরুরি হবে। মহান আল্লাহ বলেন: “হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ্র নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা রাষ্ট্রের কর্ণধার তাদের।”

চ. সরকার কর্তৃক কোনো মুদ্রার মূল্যমান কমিয়ে দেওয়া: ইবনু আবেদীন তার পুস্তিকাতে উল্লেখ করেছেন, আমাদের সময় বহুবার এরূপ ঘটনা ঘটেছে, রাষ্ট্রপ্রধান তার নির্বাহী আদেশে প্রচলিত মুদ্রার মূল্যমান কমিয়ে দিয়েছেন।

টিকাঃ
৭১. ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ২৪; ইবনে আবেদীন-এর তামবীহুর রুকূদ ইলা আহকামিন নুকুদ, পৃ. ১৭,১৮ প্রকাশক: মুহাম্মদ সালামত জাবর
৭২. ইবনুল হায়েম কৃত নুযহাতুন নুফুস ফী আহকামিত তাআমুল বিল ফুলুস, পৃ. ৬৩
৭৩. সূরা নিসা, আয়াত ৫৯
৭৪. রিসালা তামবীহুর রুকূদ, পৃ. ৩৮

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 বাতিল মুদ্রাকে পণ্যে পরিণত করা

📄 বাতিল মুদ্রাকে পণ্যে পরিণত করা


সরকারি সিদ্ধান্ত অথবা জনগণের ইচ্ছা ও চাহিদায়, যেভাবেই হোক, কোনো মুদ্রা বাতিল বলে গণ্য হওয়ার পর পরিত্যক্ত মুদ্রাগুলো পণ্যে পরিণত হবে, তখন এসব পণ্যে মুদ্রার বিধান প্রযোজ্য হবে না। তবে এ বিধান দীনার-দিরহাম ব্যতীত অন্যসব মুদ্রায় কার্যকর হবে। পক্ষান্তরে স্বর্ণমুদ্রা ও রৌপ্যমুদ্রা বদলিয়ে নিছক স্বর্ণ-রৌপ্য তৈরি করলেও এগুলোতে যাকাত ও সুদের বিধান পূর্বের ন্যায় কার্যকর থাকবে। স্বর্ণ-রৌপ্য এবং অন্য ধাতুতে পার্থক্য হলো, স্বর্ণ-রৌপ্য ব্যতীত অন্যসব ধাতবকে মুদ্রা হিসেবে তৈরি করলেই এগুলোর বিশেষ মূল্যমান নির্ধারিত হয়। কিন্তু এগুলোর মুদ্রা হিসেবে লেনদেনের বিষয়টি বাদ পড়লে এগুলোর পূর্বে থাকা মূল্যমানটিও বাতিল হয়ে যায়। এবং এগুলো সাধারণ পণ্যে পরিণত হয়。

ইমাম আবু হানিফা রহ. ও আবু ইউসুফ রহ. বলেছেন, দীনার-দিরহাম ব্যতীত অন্য মুদ্রা বাড়িয়ে বিক্রয় করা যাবে। যেমন একটি পয়সা/টাকাকে দুটি পয়সা/টাকার বিনিময়ে ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয আছে। তাদের এ বক্তব্য বিশ্লেষণ করে হানাফী আলেমগণ বলেন, যেহেতু এসব মুদ্রা রাষ্ট্রে প্রচলিত হওয়ার কারণে এগুলোর মূল্যমান নির্দিষ্ট হয়। এবং এসব মুদ্রা বাতিল হয়ে গেলে এগুলোর পূর্বকার মূল্যমানও বাতিল হয়ে যায়। তাই এভাবে বেচাকেনা করা যাবে। অপর দিকে ইমাম মুহাম্মদ রহ. বলেন, "দীনার-দিরহাম ব্যতীত অন্যসব ধাতব মুদ্রাও ততক্ষণ পর্যন্ত এভাবে লেনদেন (ক্রয়-বিক্রয়) বৈধ হবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত এগুলো বাজারে মুদ্রা হিসেবে প্রচলিত থাকবে।

টিকাঃ
৭৫. তাকমিলা ফাতহিল কাদীর, খ. ৫, পৃ. ২৮৮; দারুল ফিকর
৭৬. প্রাগুক্ত, খ. ৭, পৃ. ২০
৭৭. বর্তমানে টাকার বিনিময়ে টাকা কমবেশি করে কেনাবেচা করা যাবেনা। তবে টাকার বিনিময়ে বিদেশী মুদ্রার লেনদেন করা যাবে।-সম্পাদকানা পরিষদ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00