📄 দীনার-দিরহামের একটির স্থলে অন্যটি গ্রহণ
যে ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে ঋণ নিয়েছে দীনার, পাওনাদার এখন দেনাদার ব্যক্তির নিকট থেকে দিরহাম নিচ্ছে, অথবা দিরহামের পরিবর্তে দীনার নিচ্ছে, তাহলে সে তা নিতে পারবে। এমনটিই অভিমত দিয়েছেন হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবের বিশেষজ্ঞ ফকীহগণ, যা শাফেয়ী মাযহাবের নতুন (সর্বশেষ) অভিমত। তবে এ ব্যাপারে হাম্বলী মাযহাবের ফকীহগণের স্বতন্ত্র অভিমত রয়েছে। তা হচ্ছে, যেদিন মুদ্রা প্রদান করবে সেদিনের বাজারদরের হিসেবে একের বদলে অপরটি দেওয়া নেওয়া করতে হবে। তারা তাদের এ অভিমতের পক্ষে ইবনে উমর রা.-এর সনদে বর্ণিত নিম্নোক্ত মারফু হাদীসটিকে দলিল হিসেবে পেশ করেন। মহানবী স. বলেছেন: لَا بَأْسَ أَنْ تَأْخُذَهَا بِسِعْرٍ يَوْمِهَا “যে দিন তুমি নেবে সে দিনের দাম হিসাবে নিলে কোনো অসুবিধা নেই।
টিকাঃ
৪৮. ইবনু নুজাইম কৃত আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ের, পৃ. ৩৭৫; হাশিয়া ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ১১৫ এবং খ. ৩, পৃ. ২০০; আল-মুগনী, খ. ৪, পৃ. ২৫৭; রওযাতুত তালেবীন, খ. ৩, পৃ. ৪১৬-৪১৭; আদ-দুসূকী, খ. ৩, পৃ. ৮৯
৪৯. সুনান আবু দাউদ, খ. ৩, পৃ. ৫৬১। ইমাম বায়হাকী রহ. হাদীসটিকে ইবনে উমর রা.-এর ‘মাউকূফ’ হাদীস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
📄 সমজাতীয় আর্থিক ঋণে পারস্পরিক ছাড়
কোনো দু'ব্যক্তি একে অপরের নিকট ঋণে আবদ্ধ থাকা অবস্থায় এবং উভয় ঋণেই ঋণ পরিশোধের সময় এবং ঋণের ধরন ও বৈশিষ্ট্য এক ও অভিন্ন হলে, যেমন উভয় ঋণ দীনার বা দিরহাম হলে উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক ছাড় (clearing) পদ্ধতি কার্যকর হবে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত ও বিন্যস্ত অবগতির জন্য দেনা সম্পর্কিত আলোচনা দ্রষ্টব্য।
টিকাঃ
৫২. জাওয়াহিরুল ইকলীল, খ. ২, পৃ. ৭৬; শারহুল মিনহাজ, খ. ২, পৃ. ৩৩৬; দুসূকী 'আলাশ শারহিল কাবীর, খ. ৩, পৃ. ২২৭
📄 বকেয়া পন্থায় মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয়
মুসলিম ফকীহগণ সকলেই ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, বাকীতে দিরহামের বিনিময়ে দীনার অথবা দীনারের বিনিময়ে দিরহামের ক্রয়-বিক্রয় (লেনদেন) বৈধ হবে না। এভাবে বাকীতে ক্রয়-বিক্রয় করলে বিক্রয় চুক্তিটি ফাসেদ ও বাতিল হবে। তবে সালাম বিক্রি হিসাবে দীনার অথবা দিরহামের বাকী বিনিময়ে যে-কোনো পণ্য নগদ বিক্রয় করলে এধরনের ক্রয়-বিক্রয় মালেকী শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণের অভিমত অনুযায়ী বৈধ হবে। এ দীনার দিরহামের বিনিময়ে অন্যসব পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধতার কারণটি হচ্ছে এক্ষেত্রে মুদ্রার ওজন পরিমাণ ও গুণ বৈশিষ্ট্য নির্দিষ্টকরণ সম্ভব।
📄 ফুলুস বা ধাতব অর্থকড়িতে সালাম বিক্রয়
জাহির রিওয়ায়াত অনুযায়ী হানাফী মাযহাবের অভিমত হচ্ছে, সংখ্যা হিসেবে ফুলূসে (নগদ টাকায়) সালাম বিক্রি করা বৈধ। কেননা, এগুলোর মূল্য হওয়া বাধ্যতামূলক (স্থির) নয়, বরং এগুলোর দরদামে পণ্যের দরদামের ন্যায় উঠানামা ঘটে থাকে। এছাড়াও এসব অর্থকড়ির মূল্যমান প্রচলন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, আবার প্রচলন অনুযায়ী অকার্যকর হয়। মুদ্রা হিসেবে এগুলো মূল্য, তাই এগুলোতে সালাম বিক্রি ঠিক নয়, একথা জানার পরও এ ক্রয়-বিক্রয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা অগ্রসর হওয়া একথাই বোঝায়, তারা এ মুদ্রায় মূল্য হওয়ার বৈশিষ্ট্যটি বিবেচনা না করায় একমত। চুক্তি সংঘটিত হওয়ার পূর্বে মুদ্রার মূল্যমান বাতিল হবে, মুদ্রাগুলো বস্তু হিসেবে তাতে সালাম বিক্রি বৈধ হবে।
টিকাঃ
৫৬. বাদায়েউস সানায়ে', খ. ৫, পৃ. ২০৮; ইবনে আবেদীন, খ. ৪, পৃ. ২০৩; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া, খ. ৩, পৃ. ১৮৩