📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 দ্বিতীয় : মুদ্রার তৈরি ও প্রকাশ

📄 দ্বিতীয় : মুদ্রার তৈরি ও প্রকাশ


মুদ্রা তৈরিকরণ বলতে বোঝায়, মুদ্রাকে টাকশালের মাধ্যমে ব্যবহারের উপযুক্ত করে প্রস্তুত করা। একটি লোহার ছাপে বা নকশায় (প্লেটে) ফেলে এভাবে মুদ্রাকে প্রস্তুত করা হয় যে, মুদ্রাতে নির্দিষ্ট কিছু নকশা, মনোগ্রাম ও মুদ্রার পরিমাণ লিখিত ও অঙ্কিত থাকে। (কাগজি মুদ্রার ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়াকে মুদ্রা ছাপানো বা মুদ্রণ বলা হয়।)

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 ক. মুদ্রা ইস্যুর অধিকার

📄 ক. মুদ্রা ইস্যুর অধিকার


কেবল রাষ্ট্রপ্রধান বাজারে স্বদেশীয় মুদ্রা ছাড়া বা চালু করার অধিকার সংরক্ষণ করে থাকেন। রাষ্ট্রপ্রধান এ ব্যাপারে এমন এক ব্যক্তিকে দায়িত্ব অর্পণ করবেন; যে আর্থিক লেনদেন ও মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে খাদযুক্ত মুদ্রা থেকে সঠিক খাদহীন মুদ্রা শনাক্ত করতে সক্ষম হবে, রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ক্ষমতা বলে মুদ্রাব্যবস্থাকে ভেজালমুক্ত করবে এবং মুদ্রায় জনগণের নিকট পরিচিত রাষ্ট্রপ্রধানের সীলস্বাক্ষর সংযুক্ত করবে। এ মুদ্রাব্যবস্থাপনায় প্রতিটি মুদ্রার আকার-ওজন-পরিমাণ ইত্যাদি সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আবশ্যক হবে; যেন এগুলোর সংখ্যা ও পরিমাণের আলোকে জনগণ পারস্পরিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারে। যেমন, উমাইয়া খলীফা আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান-এর আমলে মুদ্রাব্যবস্থার আকার, সংখ্যা ইত্যাদি প্রথমবারের মতো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় প্রধান ব্যতীত অন্য কারো পক্ষে মুদ্রা প্রস্তুত করা এবং ছাপিয়ে বাজারে তা চালু করা বৈধ নয়। তাই অন্য কেউ এ কর্মটি করলে ব্যক্তিটি রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধেই অন্যায় কর্ম সম্পন্ন করবে। কোনো ব্যক্তি কর্তৃক এ ধরনের অন্যায় কর্ম সংঘটিত হলে রাষ্ট্রপ্রধান দোষী ব্যক্তিকে উপযুক্ত শাস্তি বিধানের অধিকার সংরক্ষণ করেন। দোষী ব্যক্তিটি রাষ্ট্রপ্রধানের প্রবর্তিত মুদ্রার ব্যতিক্রম মুদ্রা চালু করার মাধ্যমে অন্যায় কর্ম সংঘটিত করুক অথবা রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক প্রবর্তিত মুদ্রার অনুরূপ অবিকল (জাল) মুদ্রা তৈরি করে বাজারে ছাড়ুক। উভয় অবস্থাতেই ব্যক্তিটি অন্যায়কারী হিসেবে শনাক্ত ও শাস্তিযোগ্য হবে। এমনকি কোনো নাগরিক প্রবর্তিত মুদ্রা থেকে উত্তম ও খাঁটি স্বর্ণ-রৌপ্যের মুদ্রা চালু করলেও এ কর্মটি অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত হবে।

জাফর বিন মুহাম্মদ রহ. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ. অভিমত ব্যক্ত করেছেন, সুলতান (রাষ্ট্রপ্রধান)-এর অনুমতি ক্রমে কেবল টাকশালে দিরহাম তৈরি করা হবে, অন্য কেউ কোনো মুদ্রা চালু করতে পারবে না। কেননা, প্রজাসাধারণকে এ বিষয়ে অনুমতি প্রদান করা হলে এতে তারা জঘন্য অন্যায় কর্মে (মুদ্রা জালকরণে) জড়িয়ে পড়বে। খ্যাতিমান বিচারক কাজী ইয়ালা রহ. বলেন, "রাষ্ট্রপ্রধানের অনুমতি ব্যতীত মুদ্রা চালু ও ছাড়ের ব্যবস্থাতে অন্যায় কর্ম সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা থাকার কারণেই প্রজাসাধারণকে মুদ্রা ছাড়ের বিষয়টি থেকে বিরত রাখা হয়েছে।"

রাষ্ট্রপ্রধানের এটিও একটি দায়িত্ব যে, তিনি এক 'দিরহাম' থেকে কম মূল্যমানের খুচরা পয়সাও প্রবর্তন করবেন; যাতে করে জনসাধারণ এসব খুচরা মুদ্রার মাধ্যমে ছোটখাটো আর্থিক লেনদেনও করতে পারে। এক্ষেত্রে প্রচলিত (উপযুক্ত) ব্যবস্থাটি হচ্ছে, এসব খুচরা মুদ্রা তামা অথবা এমন ধাতব পদার্থ হবে; যেগুলো সচরাচর ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, "রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য এটি একটি জরুরি বিষয় যে, তিনি তার অধীনস্থ প্রজাসাধারণের লেনদেনে সহজতার জন্য ন্যায়ভিত্তিক মূল্যমানের খুচরা মুদ্রা চালু করবেন।"

ন্যায়ভিত্তিক মূল্যমানের খুচরা মুদ্রার অর্থ হচ্ছে, এটি তামা বা এজাতীয় ধাতব বস্তুর সমমূল্য মানের হবে। ইবনে তাইমিয়া রহ. আরো উল্লেখ করেছেন, রাষ্ট্রপ্রধান তার প্রজাসাধারণের মধ্যে প্রচলিত খুচরা মুদ্রা বাতিল করে তদস্থলে নতুন মুদ্রা চালু করা উচিত হবে না। কেননা, এতে করে প্রজাসাধারণের নিকট প্রচলিত সংরক্ষিত মুদ্রার ধাতুটির মূল্যমান কমে গিয়ে তাদের আর্থিক ক্ষতি হবে। এ সম্পর্কে মহানবী সা.-এর হাদীস বর্ণিত রয়েছে: "তিনি মুসলিম জাতির মধ্যে প্রচলিত মুদ্রার ছাপ ভেঙ্গে বাতিল করা থেকে নিষেধ করেছেন। তবে বিশেষ কোনো প্রয়োজন হলে ভিন্ন কথা।" প্রয়োজন বলতে যেমনটি আল্লামা বুহুতী বলেছেন, কোনো মুদ্রার মূল্যমান উৎকৃষ্ট না নিকৃষ্ট তা জনসাধারণের কাছে সন্দেহযুক্ত হয়ে পড়ে; তখন ওই মুদ্রাকে অচল করে দেওয়া যাবে।

টিকাঃ
২৩. আল-ফুরুউ, খ. ২, পৃ. ৪৫১; কাশশাফুল কিনা', খ. ২, পৃ. ২৩২; নিহায়াতুল মুহতাজ ও হাশিয়াতুর রশীদী, খ. ৩, পৃ. ৮৭
২৪. সুনান আবু দাউদ, খ. ৩, পৃ. ৭৩০; সুনানে ইবনি মাজা খ. ২, পৃ. ৭৬১
২৫. কাশশাফুল কিনা', খ. ২, পৃ. ২৩২

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 খ. মুদ্রা তৈরির বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ

📄 খ. মুদ্রা তৈরির বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ


মুদ্রা তৈরিতে পারিশ্রমিক প্রদান করা বৈধ। ইমাম বুহুতী তাঁর গ্রন্থে ইবনু তাইমিয়া রহ.-এর এ অভিমত সংকলন করেছেন যে, রাষ্ট্রপ্রধান মুদ্রা তৈরির সাথে জড়িত কর্মীদেরকে রাষ্ট্রীয় কোষাগার (বাইতুল মাল) থেকে পারিশ্রমিক প্রদান করবেন। রাষ্ট্রপ্রধানের নিকট সংরক্ষিত স্বর্ণ-রৌপ্যের দ্বারা তৈরি করা হলেও রাষ্ট্রপ্রধান এসব মুদ্রা তৈরির পারিশ্রমিক রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রদান করতে পারেন।

অতীতে এমন একটি সময় ছিল; যখন মুদ্রা নির্মাণকারীর (টাকশালে কর্মরত ব্যক্তির) নিকট স্বর্ণ-রৌপ্যের মালিকগণ মুদ্রা তৈরির জন্য গমন করতেন এবং তাদের নিজ থেকে মুদ্রা প্রস্তুত করে তাদেরকে পারিশ্রমিক প্রদান করতেন। এভাবে ব্যক্তিগত প্রয়াসে মুদ্রা তৈরি করার শরীয়তে বৈধতা রয়েছে। যদি যার স্বর্ণ-রৌপ্য দ্বারা মুদ্রা প্রস্তুত করে, টাকশালকর্মী তাকেই সরাসরি মুদ্রাটি অর্পণ করে। পক্ষান্তরে যদি হাতবদল করা হয়, তা হলে তা বৈধতা পাবে না। ইমাম গাযালী রহ. এ রদবদলের ব্যাপারে কড়া সতর্কতা প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন, ধাতু দিয়ে মুদ্রা তৈরির ক্ষেত্রে একজনের ধাতব নিয়ে অন্যজনকে মুদ্রা প্রদান, এধরনের বিনিময় বৈধ হবে না। বরং এ ধরনের হাতবদল থেকে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা, এতে 'রিবাল ফযল' (বৃদ্ধিজনিত সুদ) এমনকি 'রিবা নাসিয়া'তে (বিলম্বে প্রদান জনিত সুদ) পতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইবনুল কাইয়িম রহ.-এর অভিমত অনুযায়ী স্বর্ণ-রৌপ্যের গহনাদি নির্মাণে খরচের বিবেচনা করে সমধাতুর বিনিময়ে বাড়িয়ে ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয হলেও সমধাতুর মুদ্রাকে সমধাতুর বিনিময়ে মুদ্রা প্রস্তুতির পারিশ্রমিকের বিবেচনা করে বাড়িয়ে ক্রয়-বিক্রয় করাকে তিনি বৈধ বলে অভিমত প্রদান করেননি। সমধাতুর মুদ্রা ও সমধাতুর গহনার ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যকার বিধানগত ভিন্নতার কারণ এই যে, মুদ্রা নির্মাণের ছাঁচটি রাষ্ট্রপ্রধান জনসাধারণের কল্যাণ বিবেচনায় তৈরি করে থাকেন। এ অবস্থায় মুদ্রা প্রস্তুতকারী ব্যক্তি যদিও মুদ্রা বানিয়ে এর পারিশ্রমিক গ্রহণ করে, কিন্তু তাতে উদ্দেশ্য থাকে তা নিয়ে কেউ যেন ব্যবসা না করে।

এ ব্যাপারে মালেকী মাযহাবের অভিমতটি একটু ব্যতিক্রম। তারা একান্ত প্রয়োজনে বিশেষ অবস্থায় মুদ্রাকে বাড়িয়ে-কমিয়ে ক্রয়-বিক্রয় করা বৈধ বলে অভিমত প্রদান করেছেন। এ ব্যাপারে মালেকী মাযহাবের অন্যতম ফকীহ ইমাম নাফরাবী রহ. বলেন, কোনো পথিকের নিকট ছাপ দেওয়া মুদ্রা আকারে না থেকে বরং অন্যভাবে স্বর্ণ-রৌপ্য (সঞ্চিত) থাকলে এবং যেখানে সে যাচ্ছে সেখানে এগুলোর প্রচলন না থাকলে সে ব্যক্তির জন্য এমনটি করা জায়েয হবে যে, তার সাথে থাকা স্বর্ণ-রৌপ্যগুলো টাকশালে অর্পণ করে সে এগুলোর পরিবর্তে মুদ্রা গ্রহণ করতে পারবে এবং এক্ষেত্রে তার দেওয়া ধাতু দ্বারা মুদ্রা তৈরির পারিশ্রমিক প্রদান করা বৈধ হবে। যদিও এক্ষেত্রে পারিশ্রমিকসহ হিসেব করলে মুদ্রার মূল্য বেড়ে যাবে। এটি জায়েয হবে, কেননা এক্ষেত্রে কমিয়ে-বাড়িয়ে ক্রয়-বিক্রয় হয়নি। বরং মুদ্রা প্রস্তুতকারীকে পারিশ্রমিক হিসেবে তার দেওয়া মুদ্রার অতিরিক্ত দেওয়া হয়েছে মাত্র।

টিকাঃ
২৬. ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন, খ. ৪, পৃ. ৭৬৭
২৭. ইলামুল মুয়াক্কি'য়ীন, খ. ২, পৃ. ১৬৩
২৮. আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী, খ. ২, পৃ. ১১১
২৯. আশ-শারহুল কাবীর ও হাশিয়া দুসুকী; খ. ৩, পৃ. ৩৪

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 গ. মুদ্রাতে ইসলামের কোনো নিদর্শন খোদাই করা

📄 গ. মুদ্রাতে ইসলামের কোনো নিদর্শন খোদাই করা


ইমাম আল-মাকরীযী রহ. বলেন, উমর রা. তার খেলাফতকালে রৌপ্য মুদ্রাতে হুবহু কিসরার (পারস্য মুদ্রার) ছাপ দিয়েছিলেন। সেই সাথে তিনি এগুলোর কোনোটিতে ‘আলহামদু লিল্লাহ' (الْحَمْدُ لله), কোনোটিতে ‘রাসূলুল্লাহ' (আল্লাহর রাসূল) (رَسُول الله), আবার কোনোটিতে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (এক আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই) (لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ) আবার কোনোটিতে ‘উমর’ (عُمَرُ) ইত্যাদি শব্দ ও বাক্য বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে উসমান রা. খিলাফতে আসীন হয়ে রৌপ্য মুদ্রাসমূহে ‘আল্লাহু আকবার’ (اللهُ أَكْبَرُ) অঙ্কিত করেছিলেন। আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর রা. মক্কা ও এর আশপাশের অঞ্চলসমূহে খিলাফত কায়েম করে রৌপ্য মুদ্রাগুলোকে গোলাকার রূপ দান করেন এবং এগুলোর এক পিঠে ‘মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ' (مُحَمَّدٌ رَسُولِ الله), এবং অপর পৃষ্ঠে ‘আল্লাহ ওয়াদা পূর্ণ করা ও ন্যায়ানুগ থাকার ব্যাপারে আদেশ দান করেছেন' (أمر اللهُ بِالْوَفَاءِ وَالْعَدْلِ) খোদাই করে দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর রা. এবং তার ভাই মুসয়াব বিন যুবাইর রা.-এর শাহাদাতের পরে আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে মুদ্রাব্যবস্থাতে ওজন ও পরিমাণ স্থায়ীভাবে ঠিক করে দেন। তিনি নতুন ওজন পরিমাণে (বিশেষ আদলে) হিজরী ৭৬ (ছিয়াত্তর) সালে দীনার ও 'দিরহাম' প্রচলন করেছিলেন।

চলমান মুদ্রার বিপরীত মুদ্রাব্যবস্থায় এ আধুনিকায়নের কারণ ও প্রয়োজন ছিল এই, আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান রোমসম্রাটের বরাবরে প্রেরিত পত্রে (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ) 'বলো, তিনিই আল্লাহ; যিনি একক' এ আয়াতটি এবং মহানবী সা.-এর নাম ও পত্র লিখনের তারিখ উল্লেখ করেছিলেন। এ পত্রটির জবাবে রোমসম্রাট আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানকে লিখল, তোমরা চিঠিপত্রে এটা-ওটা ইত্যাদির নবপ্রচলন করছ। খলীফা আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান 'মহান আল্লাহ' নামাঙ্কিত দীনার ও দিরহাম চালু করেন।

খলীফা আব্দুল মালিক বিন মাওয়ায়ান হাজ্জাজ বিন ইউসুফের নিকট (ইরাকে) একটি মুদ্রা-ছাঁচ প্রেরণ করেন। মুদ্রার ছাঁচটিকে হাজ্জাজ তৎকালীন মুসলিম সাম্রাজের চতুর্দিকে দায়িত্বপ্রাপ্তগণের নিকট পাঠিয়ে দেন, যেন তারা 'দিরহাম'সমূহে এক ও অভিন্ন ছাপ দিয়ে এগুলোকে এক আদলে প্রস্তুত করে নিতে পারে। রৌপ্যমুদ্রার একদিকে قُلْ هُوَ اللهُ (বলো, আল্লাহ যিনি এক ও একক) এবং অপর পিঠে لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ (আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই) খোদিত করে দেন। দিরহামের চাকতিতে দুটি বেষ্টনী ছিল। একটিতে ছিল, 'এ মুদ্রাটি অমুক শহরে প্রস্তুতকৃত' (ضُرِبَ هَذَا الدِّرْهَمُ بِمَدِينَةِ كَذَا) এবং অন্যটিতে অঙ্কিত ছিল,
مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ أَرْسَلَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ

টিকাঃ
৩০. ইগাছাতুল উম্মা বি কাশফিল গুম্মা, পৃ. ৫১-৫৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00