📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 মুদ্রাব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত বিধানাবলি

📄 মুদ্রাব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত বিধানাবলি


মুদ্রাব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত শরীয়ত নির্ধারিত বিভিন্ন বিধানাবলি রয়েছে যা নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 প্রথম : মুদ্রাব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত শরীয়ত নির্ধারিত বিধানসমূহ

📄 প্রথম : মুদ্রাব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত শরীয়ত নির্ধারিত বিধানসমূহ


যাকাতের নিসাব :
স্বর্ণমুদ্রায় যাকাতের নিসাব হচ্ছে ২০ দীনার এবং রৌপ্যমুদ্রায় যাকাতের নিসাব ২০০ দিরহাম। কোনো ব্যক্তি ২০ দীনার অথবা ২০০ দিরহামের মালিক হলে তার ওপর যাকাতের বিধান প্রযোজ্য হবে। এ পরিমাণ দীনার দিরহাম কারো নিকট না-থাকলে তার ওপর যাকাত ফরজ হবে না। এ-অভিমতটি হচ্ছে সর্বসম্মত অভিমত। পক্ষান্তরে এসব মুদ্রায় খাদের কোনো অংশ থাকলে বা উক্ত পরিমাণ খাদযুক্ত স্বর্ণ-রৌপ্য থাকলে এসব দীনার দিরহামে যাকাত প্রযোজ্য হবে কি-না? এ-ব্যাপারে ফকীহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

যাকাত ও লেনদেনে কতক মুদ্রা অন্য মুদ্রার স্থলাভিষিক্ত হওয়া :
যাদের অভিমত অনুযায়ী নগদ অর্থকড়ি এবং কাগজি মুদ্রায় যাকাত ফরজ হয়; তাদের নিকট এসব অর্থ-কড়ি ও কাগজি মুদ্রা দীনার দিরহামের সাথে যুক্ত করে এগুলোর যাকাতের নিসাব নির্ধারণ করতে হবে।

এ আলোচনায় মহর ও দিয়াত ইত্যাদি বিষয় রয়েছে, যথাস্থানে সেগুলো দেখা যেতে পারে।

টিকাঃ
২২. আল-মাউসূআহ আল-ফিকহিয়্যা কমিটির অভিমত হচ্ছে, কাগজি মুদ্রার পরিমাণ স্বর্ণ-রৌপ্যের নিসাব পরিমাণে পৌছুলে এগুলোর উপর যাকাত ফরজ হবে। কাগজি মুদ্রার টাকা পয়সা ব্যবসায়িক কাজে বিনিয়োগ করা হোক বা না হোক।

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 দ্বিতীয় : মুদ্রার তৈরি ও প্রকাশ

📄 দ্বিতীয় : মুদ্রার তৈরি ও প্রকাশ


মুদ্রা তৈরিকরণ বলতে বোঝায়, মুদ্রাকে টাকশালের মাধ্যমে ব্যবহারের উপযুক্ত করে প্রস্তুত করা। একটি লোহার ছাপে বা নকশায় (প্লেটে) ফেলে এভাবে মুদ্রাকে প্রস্তুত করা হয় যে, মুদ্রাতে নির্দিষ্ট কিছু নকশা, মনোগ্রাম ও মুদ্রার পরিমাণ লিখিত ও অঙ্কিত থাকে। (কাগজি মুদ্রার ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়াকে মুদ্রা ছাপানো বা মুদ্রণ বলা হয়।)

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন 📄 ক. মুদ্রা ইস্যুর অধিকার

📄 ক. মুদ্রা ইস্যুর অধিকার


কেবল রাষ্ট্রপ্রধান বাজারে স্বদেশীয় মুদ্রা ছাড়া বা চালু করার অধিকার সংরক্ষণ করে থাকেন। রাষ্ট্রপ্রধান এ ব্যাপারে এমন এক ব্যক্তিকে দায়িত্ব অর্পণ করবেন; যে আর্থিক লেনদেন ও মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে খাদযুক্ত মুদ্রা থেকে সঠিক খাদহীন মুদ্রা শনাক্ত করতে সক্ষম হবে, রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ক্ষমতা বলে মুদ্রাব্যবস্থাকে ভেজালমুক্ত করবে এবং মুদ্রায় জনগণের নিকট পরিচিত রাষ্ট্রপ্রধানের সীলস্বাক্ষর সংযুক্ত করবে। এ মুদ্রাব্যবস্থাপনায় প্রতিটি মুদ্রার আকার-ওজন-পরিমাণ ইত্যাদি সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আবশ্যক হবে; যেন এগুলোর সংখ্যা ও পরিমাণের আলোকে জনগণ পারস্পরিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারে। যেমন, উমাইয়া খলীফা আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান-এর আমলে মুদ্রাব্যবস্থার আকার, সংখ্যা ইত্যাদি প্রথমবারের মতো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় প্রধান ব্যতীত অন্য কারো পক্ষে মুদ্রা প্রস্তুত করা এবং ছাপিয়ে বাজারে তা চালু করা বৈধ নয়। তাই অন্য কেউ এ কর্মটি করলে ব্যক্তিটি রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধেই অন্যায় কর্ম সম্পন্ন করবে। কোনো ব্যক্তি কর্তৃক এ ধরনের অন্যায় কর্ম সংঘটিত হলে রাষ্ট্রপ্রধান দোষী ব্যক্তিকে উপযুক্ত শাস্তি বিধানের অধিকার সংরক্ষণ করেন। দোষী ব্যক্তিটি রাষ্ট্রপ্রধানের প্রবর্তিত মুদ্রার ব্যতিক্রম মুদ্রা চালু করার মাধ্যমে অন্যায় কর্ম সংঘটিত করুক অথবা রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক প্রবর্তিত মুদ্রার অনুরূপ অবিকল (জাল) মুদ্রা তৈরি করে বাজারে ছাড়ুক। উভয় অবস্থাতেই ব্যক্তিটি অন্যায়কারী হিসেবে শনাক্ত ও শাস্তিযোগ্য হবে। এমনকি কোনো নাগরিক প্রবর্তিত মুদ্রা থেকে উত্তম ও খাঁটি স্বর্ণ-রৌপ্যের মুদ্রা চালু করলেও এ কর্মটি অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত হবে।

জাফর বিন মুহাম্মদ রহ. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ. অভিমত ব্যক্ত করেছেন, সুলতান (রাষ্ট্রপ্রধান)-এর অনুমতি ক্রমে কেবল টাকশালে দিরহাম তৈরি করা হবে, অন্য কেউ কোনো মুদ্রা চালু করতে পারবে না। কেননা, প্রজাসাধারণকে এ বিষয়ে অনুমতি প্রদান করা হলে এতে তারা জঘন্য অন্যায় কর্মে (মুদ্রা জালকরণে) জড়িয়ে পড়বে। খ্যাতিমান বিচারক কাজী ইয়ালা রহ. বলেন, "রাষ্ট্রপ্রধানের অনুমতি ব্যতীত মুদ্রা চালু ও ছাড়ের ব্যবস্থাতে অন্যায় কর্ম সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা থাকার কারণেই প্রজাসাধারণকে মুদ্রা ছাড়ের বিষয়টি থেকে বিরত রাখা হয়েছে।"

রাষ্ট্রপ্রধানের এটিও একটি দায়িত্ব যে, তিনি এক 'দিরহাম' থেকে কম মূল্যমানের খুচরা পয়সাও প্রবর্তন করবেন; যাতে করে জনসাধারণ এসব খুচরা মুদ্রার মাধ্যমে ছোটখাটো আর্থিক লেনদেনও করতে পারে। এক্ষেত্রে প্রচলিত (উপযুক্ত) ব্যবস্থাটি হচ্ছে, এসব খুচরা মুদ্রা তামা অথবা এমন ধাতব পদার্থ হবে; যেগুলো সচরাচর ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, "রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য এটি একটি জরুরি বিষয় যে, তিনি তার অধীনস্থ প্রজাসাধারণের লেনদেনে সহজতার জন্য ন্যায়ভিত্তিক মূল্যমানের খুচরা মুদ্রা চালু করবেন।"

ন্যায়ভিত্তিক মূল্যমানের খুচরা মুদ্রার অর্থ হচ্ছে, এটি তামা বা এজাতীয় ধাতব বস্তুর সমমূল্য মানের হবে। ইবনে তাইমিয়া রহ. আরো উল্লেখ করেছেন, রাষ্ট্রপ্রধান তার প্রজাসাধারণের মধ্যে প্রচলিত খুচরা মুদ্রা বাতিল করে তদস্থলে নতুন মুদ্রা চালু করা উচিত হবে না। কেননা, এতে করে প্রজাসাধারণের নিকট প্রচলিত সংরক্ষিত মুদ্রার ধাতুটির মূল্যমান কমে গিয়ে তাদের আর্থিক ক্ষতি হবে। এ সম্পর্কে মহানবী সা.-এর হাদীস বর্ণিত রয়েছে: "তিনি মুসলিম জাতির মধ্যে প্রচলিত মুদ্রার ছাপ ভেঙ্গে বাতিল করা থেকে নিষেধ করেছেন। তবে বিশেষ কোনো প্রয়োজন হলে ভিন্ন কথা।" প্রয়োজন বলতে যেমনটি আল্লামা বুহুতী বলেছেন, কোনো মুদ্রার মূল্যমান উৎকৃষ্ট না নিকৃষ্ট তা জনসাধারণের কাছে সন্দেহযুক্ত হয়ে পড়ে; তখন ওই মুদ্রাকে অচল করে দেওয়া যাবে।

টিকাঃ
২৩. আল-ফুরুউ, খ. ২, পৃ. ৪৫১; কাশশাফুল কিনা', খ. ২, পৃ. ২৩২; নিহায়াতুল মুহতাজ ও হাশিয়াতুর রশীদী, খ. ৩, পৃ. ৮৭
২৪. সুনান আবু দাউদ, খ. ৩, পৃ. ৭৩০; সুনানে ইবনি মাজা খ. ২, পৃ. ৭৬১
২৫. কাশশাফুল কিনা', খ. ২, পৃ. ২৩২

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية