📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা

📄 সংশ্লিষ্ট পরিভাষা


ক. الفلوس (আল-ফুলুস): ধাতব মুদ্রা
'ফুলুস' শব্দটি ফাল্স (فلس) শব্দের বহুবচন। এর অর্থ: স্বর্ণ-রৌপ্য ব্যতীত তামা বা এ জাতীয় অন্য যে-কোনো ক্ষুদ্র ধাতব টুকরো। এর শাব্দিক অর্থই এর পারিভাষিক অর্থ। নুকূদ (অর্থকড়ি)-এর মধ্যকার সম্পর্ক এভাবে ধর্তব্য যে, উভয়টিই পণ্য বিনিময়ের মাধ্যম।

খ. البر (আত-তিব্র)
মুদ্রা বা অলংকার প্রস্তুতকরণের পূর্বে স্বর্ণ বা রৌপ্য ভূগর্ভে যে অবস্থায় রক্ষিত থাকে তাকে তিবর বলে। অর্থাৎ স্বর্ণ-রৌপ্য পরিশোধন করার পূর্বে খনিতে যে অবস্থায় পাওয়া যায়; সে অবস্থাতে তাকে 'তিবর' বলা হয়। এ শব্দগত অর্থটিই এর পারিভাষিক অর্থ। নাকদ ও তিবর-এর মধ্যকার সম্পর্ক হচ্ছে, স্বর্ণ ও রৌপ্য (মুদ্রা) এর উৎস হচ্ছে তিবর।

গ. السّكّة (আস-সিক্কা): টাকশাল, টাকশালের ছাঁচ
সিক্কা বা মুদ্রা তৈরির ধাতব ছাঁচ বলতে মুদ্রা প্রস্তুতের জন্য খোদিত ছাঁচকে বুঝিয়ে থাকে। স্বর্ণ-রৌপ্যের মুদ্রা অথবা ধাতবমুদ্রা তৈরিতে এ ধরনের ছাঁচে ছাপ দেওয়া হয়। সিক্কাকে মাহুকুকাতও (المسكوكات) বলা হয়। সিক্কা বলতে কখনো মুদ্রার উপরে খোদাই করা লিখন ও অঙ্কনকেও বুঝিয়ে থাকে। টাকশালের ছাপ যুক্ত মুদ্রা রাষ্ট্রভেদে এমনকি একই রাষ্ট্রে সময় ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। সিক্কা শব্দটি কখনো ধাতব মুদ্রা নির্দেশ করে। সিক্কার শাব্দিক অর্থই এর পারিভাষিক অর্থ। নুকূদ ও সিক্কা-এর মধ্যকার সম্পর্ক হচ্ছে, সিক্কা শব্দ ও পরিভাষাটি নুকূদ শব্দটির তুলনায় ব্যাপক।

টিকাঃ
৮. আল-মুজামুল ওয়াসীত; আবু ইয়ালা কৃত আল-আহকামুস সুলতানীয়া, প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়া, পৃ. ১৭৯
৯. লিসানুল আরব; ইবনে আবেদীন, খ. ২, পৃ. ৩০
১০. লিসানুল আরব; আল-কামুসুল মুহীত; ইবনে আবিদীন, খ. ৩, পৃ. ৩৪০; খ. ৪, পৃ. ২১৮

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মুদ্রার মাধ্যমে লেনদেন শরীয়তসম্মত

📄 মুদ্রার মাধ্যমে লেনদেন শরীয়তসম্মত


ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে মুদ্রার মাধ্যমে পারস্পরিক লেনদেন ও পণ্য বিনিময় বৈধ ও বিধিবদ্ধ। এ বৈধতা ও বিধিবদ্ধতার পক্ষে কুরআনী দলিল হচ্ছে আল্লাহ তাআলার বাণী: "তাদের (কাহাফবাসীদের মধ্য থেকে) কেউ কেউ বললেন, তোমরা কতকাল (সময়) এখানে অবস্থান করেছ তা তোমাদের রব (পালনকর্তাই) অধিক জ্ঞাত রয়েছেন। এখন তোমাদের যে কোনো একজনকে তোমাদের (কাছে থাকা) এ মুদ্রাসহ শহরে প্রেরণ করো; প্রেরিত ব্যক্তিটি শহরের পবিত্র খাদ্যটি দেখে শুনে তা থেকে তোমাদের জন্য কিছু খাদ্য দ্রব্য নিয়ে আসুক...।"

ধারা পরম্পরা সূত্রে মহানবীর কথা-কর্ম, সমর্থন ও অনুমোদনের মাধ্যমে দীনার-দিরহাম মুদ্রার বিনিময়ে পণ্যের লেনদেনের বৈধতা সাব্যস্ত রয়েছে। যেমন: 'উরওয়া আল-বারিকী রা.-এর সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ স. নিজের জন্যে একটি ছাগল ক্রয়ের উদ্দেশ্যে আমার নিকট একটি দীনার-স্বর্ণমুদ্রা হস্তান্তর করলেন। আমি একটি দীনারের বিনিময়ে রাসূলুল্লাহ স.-এর জন্য দু'টি ছাগল ক্রয় করলাম এবং সে ছাগল দু'টির একটি এক দীনারে বিক্রয় করার পর একটি দীনার ও একটি ছাগলসহ আমি রাসূলুল্লাহ স.-এর কাছে এসে উপস্থিত হই। অতঃপর উরওয়া আল-বারিকী রা. রাসূলকে ক্রয়-বিক্রয়ের ঘটনা খুলে বললেন। শুনে রাসূলুল্লাহ স. তাকে দুআ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বলেন : "মহান আল্লাহ তোমার ডান হস্তের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত দান করুন।"

পারস্পরিক লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে মুদ্রাব্যবস্থা প্রচলনে বহুবিদ হিকমত ও কার্যকর উপকারিতা রয়েছে। এ কারণেই জ্ঞানীগণ তাদের যুগের অভিজ্ঞতার আলোকে মুদ্রাব্যবস্থাপনাকে পারস্পরিক লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এসব উপকারিতা ও কল্যাণের কারণে ইসলামী শরীয়তও মুদ্রাব্যবস্থাকে অনুমোদন দিয়েছে।

মুদ্রাব্যবস্থা সম্পর্কে ইমাম গাযালী রহ. বলেন: "স্বর্ণ-রৌপ্যকে (এগুলো দ্বারা নির্মিত মুদ্রাকে) মহান আল্লাহ এজন্যই সৃষ্টি করেছেন; যাতে এগুলো (পারস্পরিক লেনদেন ও কাজ-কারবারে) সহজে হস্তান্তর ও হাত-বদল হতে পারে এবং ন্যায়নীতির ভিত্তিতে এগুলো সম্পদের মধ্যে মূল্যমানের মানদণ্ড হতে পারে। এ ছাড়াও এগুলোকে মুদ্রাব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণের অন্য একটি হিকমত হচ্ছে, এগুলো অন্য সব বস্তুর মাধ্যম হওয়ার উপযুক্ত। বস্তুগতভাবে এ দু'টি ধাতু মূল্যবান (আকর্ষণীয়) এবং বস্তু হিসেবে এগুলোতে ভোগ্য চাহিদা নেই। এ দু'টি ধাতুর সাথে অন্য সব বস্তুর এক ও অভিন্ন সম্পর্ক। যেহেতু এ দু'টি ধাতু দ্বারা অন্য সব বস্তু সহজে আদান-প্রদান ও ক্রয়-বিক্রয় করা যায়। তাই যে কেউ এ দু'টি বস্তুর (এমনকি কোনো একটি ধাতুর) মালিক হওয়ার অর্থই হচ্ছে, ব্যক্তিটি সব বস্তুরই মালিক হওয়া।

ইবনু রুশদ রহ. বলেন, পারস্পরিক লেনদেনে ‘ইনসাফ’ (ন্যায়নিষ্ঠতা) হচ্ছে সমতাবিধান অথবা সমতার সর্বোচ্চ কাছাকাছি মূল্যমান নিশ্চিত করা। এ অবস্থায় বিভিন্ন পণ্যের মধ্যকার সত্তাগত সমতা বিধানের কষ্টকর অবস্থা নিরসনের প্রয়োজনে স্বর্ণ-রৌপ্যের ধাতব মুদ্রা দ্বারা এ সকল বস্তুর মূল্যমান নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেন, ‘দিরহাম ও দীনার হচ্ছে পণ্যসামগ্রীর মূল্য। বিনিময়মূল্য হচ্ছে বস্তুর মান নির্ধারক, তার দ্বারা বস্তুর মূল্যায়ন পরিপূর্ণ হয়। এ বিনিময়মূল্যটি এমন বস্তু হওয়া জরুরি; যা এক অবস্থায় সীমিত ও বিন্যস্ত হবে; যেটির দাম উঠানামা করবে না (পরিবর্তিত হবে না)। পণ্যের ন্যায় পণ্যের বিনিময়মূল্য উঠানামা করলে আমাদের কাছে এমন কোনো বিনিময়মূল্য বাকী থাকবে না; যা দিয়ে আমরা পণ্যসামগ্রীর সঠিক মূল্যায়ন করতে সক্ষম হবো। বরং এ অবস্থায় সবকিছুই পণ্যে পরিণত হবে। অথচ মানুষের জন্য পণ্য বিনিময়ে এমন একটি বিনিময়মূল্য (মুদ্রামান) নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ ও একান্ত জরুরি বিষয়; যার সাহায্যে জনসাধারণ পণ্যের সঠিক মূল্যায়ন করতে সক্ষম হবে। এ বিষয়টি কেবল তখনই সম্ভব হতে পারে; যখন বস্তুটির একটি দাম নির্ধারিত হয় এবং নির্ধারিত দামটি একই অবস্থায় বহাল থাকে এবং এ নির্ধারিত দাম (মুদ্রামান)টি অন্য বস্তুর দরদামে মূল্যায়িত হবে না। এ মুদ্রামান অন্য সব পণ্যের ন্যায় উঠানামা করলে মানুষের পণ্য বিনিময়ে এবং পারস্পরিক লেনদেনে বিঘ্ন ঘটবে এবং তাদের মধ্যে মতভেদ ও মতানৈক্য অনিবার্য হয়ে উঠবে।

ইবনে খালদুন রহ. বলেন, "মহান আল্লাহ স্বর্ণ-রৌপ্য নামক দু'টি ধাতব এ জন্যই তৈরি করেছেন, যাতে করে এ দু'টি ধাতু অন্য সব পণ্যের মূল্যমান (বিনিময়মূল্য) হতে পারে। এ দুটি ধাতুই হচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশ্ববাসীর সঞ্চয় ও সম্পদ এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় সংস্থান। যদিও কেউ কখনো এ দু'টি বস্তু ছাড়াই সন্তুষ্ট থাকে। এর অর্থ হচ্ছে, এ দু'টি বস্তু অর্জন করা সকলের কাঙ্ক্ষিত, যেহেতু এ দুটি বস্তুর দামদর সাধারণ নিয়মে অনেকটাই স্থির থাকে যদিও অন্য সব বস্তুর দরদামে পরিবর্তন হয়ে থাকে।

টিকাঃ
১১. সুরা আল-কাহাফ, আয়াত ১৯
১২. সহীহ বুখারী, (খ. ৬, পৃ. ৬৩২), সুনান তিরমিযী, (খ. ৩, পৃ. ৫৫০)
১৩. ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন, খ. ১২, পৃ. ২২২১
১৪. বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ. ২, পৃ. ৯৯
১৫. ইলামুল মুওয়াককি'য়ীন ‘আর-রাব্বিল ‘আলামীন, খ. ২, পৃ. ১৫৫
১৬. মুকাদ্দামা ইবনে খালদুন, পৃ. ৩৯১

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মুদ্রার প্রকারভেদ

📄 মুদ্রার প্রকারভেদ


মুদ্রা নিম্নোক্ত বিভিন্ন ধরনের হতে পারে:

প্রথম : সৃষ্টিজাত মুদ্রা (النُّقُوْدُ الْخَلْقِيَّةُ)
ইসলামী যুগসমূহে দু ধরনের সৃষ্টিজাত মুদ্রা প্রচলিত ছিল।
ক. দীনার (الدينار) : 'দীনার' শব্দটি ফার্সি ভাষা থেকে আরবী ভাষায় গৃহীত একটি শব্দ। শব্দটির অর্থ স্বর্ণমুদ্রা। দীনার শব্দের পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদানে ইবনে আবিদীন রহ. বলেন, 'দীনার' হচ্ছে এক মিছকাল পরিমাণ স্বর্ণের ছাঁচে ঢালা (টুকরা)। অর্থাৎ দীনারের ওজন হচ্ছে পূর্ণ এক মিছকাল। ফকীহগণ দীনারে মিছকালের ওজন (পরিমাণ) প্রসঙ্গে মতভেদ করেছেন।
খ. দিরহাম (الدرهم) : 'দিরহাম' মৌলিকভাবে ফার্সি ভাষার একটি শব্দ। পরবর্তী সময়ে শব্দটি আরবী ভাষায় গৃহীত হয়েছে। 'দিরহাম' শব্দটির অর্থ : রৌপ্য দ্বারা নির্মিত মুদ্রা। এ শাব্দিক অর্থে এর পারিভাষিক অর্থ গৃহীত হয়েছে। দিরহামের ওজন নিয়ে ফকীহগণ মতবিরোধ করেছেন।

দ্বিতীয় : ব্যবহারিক মুদ্রাসমূহ (النُّقُوْدُ الاصْطلاحِيَّةُ)
ব্যবহারিক মুদ্রাসমূহ নিম্নরূপ:
ক. ধাতব মুদ্রা (الْفُلُوْسُ) : স্বর্ণ-রৌপ্য ব্যতীত অন্যসব ধাতব মুদ্রা। এগুলোতে নিম্নোক্ত দু'টি অবস্থার যে কোনো একটি হতে পারে:
প্রথম অবস্থা: এগুলো সমাজে ও বাজারে প্রচলিত হবে। এ ধরনের মুদ্রার বিধান সম্পর্কে ফকীহগণের মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, এসব মুদ্রাতে স্বর্ণ-রৌপ্য মুদ্রার বিধানাদি কার্যকর হবে না। এজন্য এসব ধাতব মুদ্রা বৃদ্ধি করে বাকীতে ক্রয় বিক্রয়ে কোনো প্রকার সুদ সাব্যস্ত হবে না এবং এ ধরনের মুদ্রা ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে ব্যবহৃত না-হলে এগুলোর ওপর যাকাতের বিধানও কার্যকর হবে না। ফকীহগণের দ্বিতীয় দলের অভিমত হচ্ছে, এ জাতীয় ধাতবমুদ্রার দামদর ধরে স্বর্ণ-রৌপ্যের দামের হারে এগুলোতে যাকাতের হুকুম প্রযোজ্য হবে।
দ্বিতীয় অবস্থা: এগুলো সমাজে ও বাজারে অপ্রচলিত হবে। এ ধরনের মুদ্রার ব্যাপারে ফকীহগণের সর্বসম্মত অভিমত হচ্ছে, এগুলোতে স্বর্ণ-রৌপ্যের মুদ্রার বিধান কার্যকর হবে না।

খ. অধিক খাদযুক্ত রৌপ্যমুদ্রা (الدَّرَاهِمُ الْغَالَبَةُ الْعَشِّ) : এ ধরনের রৌপ্যমুদ্রায় রৌপ্যের তুলনায় অন্য নিম্নমানের ধাতুর পরিমাণ বেশি থাকে। হানাফী মাযহাবের ফকীহদের অভিমত অনুযায়ী খাদের আধিক্যের কারণে এসব মুদ্রায় স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিধান কার্যকর হবে না। হানাফী মাযহাবের বিপরীতে অন্য সব মাযহাবের অভিমত হচ্ছে, খাদযুক্ত এসব মুদ্রায় রৌপ্যের পরিমাণ নিশ্চিত করতে হবে। রৌপ্যের পরিমাণে স্বর্ণ-রুপার বিধান কার্যকর হবে।

গ. কাগজের মুদ্রা (النُّقُوْدُ الْوَرَقِيَّةُ) : বর্তমান যুগে কাগজি মুদ্রার প্রচলনই অধিক। এমনকি কাগজের মুদ্রাই দীনার ও দিরহামের স্থান দখল করে রয়েছে। ফলে বর্তমান যুগে দীনার দিরহামের স্থানে সারা বিশ্বে কাগজি মুদ্রাই বিরাজ করছে। স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার স্থলে কাগজে মুদ্রার প্রচলনের প্রতি ইঙ্গিত করে ইমাম মালেক রহ. তাঁর গ্রন্থে এমন সব বিষয় বাস্তবে রূপ লাভ করবে বলে আলোচনা করেছেন যেগুলো এখনো রূপ লাভ করেনি। তিনি তাঁর ফিকহী গ্রন্থে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় সংযুক্ত করে এ সম্পর্কিত বিধানও বর্ণনা করেছেন। তিনি অভিমত পেশ করেছেন, মানুষ চর্মকে মুদ্রা সাব্যস্ত করলে, এমনকি চামড়ার মুদ্রা তৈরিতে এবং টাকশাল নির্মাণে বৈধতা দান করলেও এ মুদ্রা দ্বারা স্বর্ণমুদ্রা রৌপ্যমুদ্রার ন্যায় পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করার বিধান প্রদানে আমাদের অপছন্দ থেকে যাবে।

অতীত যুগ থেকেই কাগজি মুদ্রার মাধ্যমে পণ্যসামগ্রীর আদান-প্রদানের প্রচলন ছিল। ইমাম মাকরীযী রহ. বর্ণনা করেন, তিনি যখন বাগদাদে ভ্রমণ করেন; তখন জনৈক ব্যবসায়ী তাকে এমন একটি কাগজ বের করে দেখান; যে কাগজটিতে মুঘল আমলের বিশেষ হরফে কিছু একটা লিখিত ছিল। ব্যবসায়ী লোকটি বর্ণনা করল, এসব কাগজ তুত পাতা থেকে তৈরি। এগুলো খুবই নরম ও কোমল। এসব কাগজ চীন দেশের খান বালেক অঞ্চলে পাঁচ দিরহামের বদলে অর্পণ করা হয়ে থাকে।

টিকাঃ
১৭. ইবনে আবিদীন, খ. ২, পৃ. ২৯
১৮. লিসানুল আরব; মিসবাহুল মুনীর
১৯. বাদায়েউস সানায়ে, খ. ৫, পৃ. ২২৩৬
২০. আল-মুদাওয়ানা, খ. ৩, পৃ. ৩৯৬
২১. মাকরীযী, ইগাছাতুল উম্মা, পৃ. ৬৮

📘 ইসলামের ব্যবসা ও বাণিজ্য আইন > 📄 মুদ্রাব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত বিধানাবলি

📄 মুদ্রাব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত বিধানাবলি


মুদ্রাব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত শরীয়ত নির্ধারিত বিভিন্ন বিধানাবলি রয়েছে যা নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00