📄 পাগল হওয়া
অধিকাংশ ইমামের মতে, অপরাধ সংঘটনের পর কেউ যদি পাগল হয়ে যায়, তাহলে তার কারাদণ্ডের কার্যকারিতা মওকুফ হয়ে যাবে। কেননা পাগলদের ওপর শরী'আতের নির্দেশাবলী কার্যকরী করার বিধান নেই। তদুপরি তারা শাস্তি কিংবা শিক্ষা দেয়ার পাত্রও নয়। তবে হাম্বলীগণের মতে, পাগল হওয়ার কারণে যেহেতু তা'যীরী শাস্তি মওকুফ হয় না, তাই কারাদণ্ডও মওকুফ হবে না। তাদের বক্তব্য হল: কারাদণ্ডের উদ্দেশ্য হল অপরাধীকে শিক্ষা দান এবং অপরকে অপরাধ থেকে বারণ করা। পাগলদের ক্ষেত্রে যদিও শিক্ষা দানের ব্যাপারটি অকার্যকর হয়ে গেছে, তাই বলে অপরকে অপরাধ থেকে বারণ করার দিকটিকেও অবজ্ঞা করার যৌক্তিকতা নেই। সুতরাং অপরকে অপরাধ থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে পাগলকেও কারাদণ্ড দেয়া বাঞ্ছনীয়। ১৩৯
টিকাঃ
১৩৯. 'উলায়শ, মিনহুল জলীল, খ.৬, পৃ. ৫৯; ইবনুল খলীল, মু'ঈনুল হুক্কাম, খ.১৯৭; আল- মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.১৬, পৃ. ২৯০,৩২৮
📄 ক্ষমা
কারাদণ্ড থেকে রেহাই পাবার অন্যতম উপলক্ষ হল ক্ষমা। বিশেষ করে যদি কারাদণ্ড বান্দাহর কোন হকের কারণে হয়, তবে বান্দাহ নিজেই তা ক্ষমা করে দিলে তার কারাদণ্ড রহিত হয়ে যাবে। আর যদি আল্লাহর হক হয়, তাহলে অপরাধীর অবস্থা বিবেচনা করে শাসক ইচ্ছা করলে তার কারাদণ্ড মাফ করে দিতে পারেন। ১৪০
টিকাঃ
১৪০. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.১৬, পৃ. ২৯০
📄 তাওবা
কারাদণ্ড প্রাপ্ত অপরাধী যদি লজ্জিত হয়ে পূর্ণ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে তাওবা করে এবং তার তাওবার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলে কারাদণ্ড ক্ষমা করে দেয়া দূষণীয় নয়। তবে তাওবার বিষয়টি জানা ও নিশ্চিত হওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট কোন সময় নেই; বরং এমন একটি সময় অতিক্রান্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে ঐ সময়ের মধ্যে অপরাধী থেকে তাওবার কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং তার অবস্থার সার্বিক পর্যবেক্ষণ করে তার তাওবা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। এমন কিছু বড় বড় অপরাধও রয়েছে, যে সব ক্ষেত্রে দ্রুত তাওবার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যেমন মুরতাদদের বেলায় অধিকাংশ ইমামের মতে তাওবার সময় হল তিন দিন। এ সময়ের মধ্যে সে তাওবা না করলে তার ওপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। অনুরূপভাবে (হানাফীগণ ছাড়া অন্যান্য ইমামের মতে) নামায পরিত্যাগকারীদেরও তাওবার সময় হল তিন দিন। এ সময়ের মধ্যে সে তাওবা করে ফিরে না আসলে তাকেও হত্যা করা হবে।
কিন্তু অবিবাহিত ব্যভিচারীর ওপর হদ্দ কার্যকর করার পর যদি তাকে কারাদণ্ড দেয়া হয় এবং এক বছর শেষ হবার আগেই তার তাওবার বিষয়টি প্রকাশ পায়, তাহলেও তাকে মেয়াদ শেষ হবার আগে মুক্তি দেয়া যাবে না। কেননা মালিকীগণের মতে- এ কারাদণ্ড হদ্দের পর্যায়ভুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৪১
টিকাঃ
১৪১. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.১৬, পৃ. ২৯১
📄 সুপারিশ
সুপারিশের ভিত্তিতেও কারাদণ্ড মাফ করে দেয়া যেতে পারে, যদি কারাদণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তি মারাত্মক অপরাধী ও বিপজ্জনক না হয়। তবে বিচারক কিংবা শাসক যে কোন সুপারিশকে রদও করে দিতে পারবেন, যদি তাতেই তারা কল্যাণ দেখতে পান। ১৪২
টিকাঃ
১৪২. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.১৬, পৃ. ২৯০