📄 একত্রে বাস ও একাকী বাস
কয়েদীদেরকে একত্রে বাস করতে দেয়াই হল মূল বিধান। তবে ধারণ ক্ষমতার চাইতে বেশি লোককে এক জায়গায় জমায়েত করে কষ্ট দেয়া জায়িয নেই। কারাগার এতো প্রশস্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়া প্রয়োজন, যাতে কয়েদীরা স্বাভাবিকভাবে পৃথক হয়ে শুইতে পারে এবং গরম ও ঠাণ্ডায় ভীষণ কষ্ট না পায়। তাছাড়া কারাগারের মধ্যে কয়েদীদের জন্য জামা'আতের সাথে নামায পড়ার ও ওযু-গোসলের সুব্যবস্থা থাকা একান্ত প্রয়োজন। তবে বিচারক কিংবা শাসক কল্যাণকর মনে করলে যে কোন কয়েদীকে পৃথকভাবে কোন কক্ষে বাইর থেকে দরজা বন্ধ করে বন্দী করেও রাখতে পারেন। ১৩২
টিকাঃ
১৩২. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.১৬, পৃ.৩১৯
📄 গৃহবন্দী
কাউকে নিজের ঘরের মধ্যেও বন্দী করে রাখা জায়িয। ইমামগণ বলেছেন, যে অন্যায়ভাবে কাউকে প্রহার করল, তাকে তা'যীরী শাস্তি দেয়া যাবে এবং তাকে বন্দী করাও জায়িয। অন্ততপক্ষে তার ঘরে হলেও তাকে বন্দী করে রাখা যেতে পারে, যাতে সে বাইরে বের হতে না পারে। অনুরূপভাবে বদনজর দানকারীকেও সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে ঘরের মধ্যে বন্দী করে রাখা যাবে, যাতে সে লোকজনের সাথে মিশতে না পারে। ১৩০
টিকাঃ
১৩৩. ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৬, পৃ.৩৬৪
📄 রোগীদের কারাবাস
রুগ্ন ব্যক্তিকেও অপরাধের দায়ে বন্দী করে রাখা জায়িয। তবে যদি তার জীবন নাশ বা অসুখ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় এবং কারাগারে তার উপযোগী চিকিৎসা ও সার্বিক পরিচর্যার ব্যবস্থা না থাকে, তবেই তাকে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিশেষ কারো দায়িত্বে কারাগারের বাইরে নিয়ে যেতে হবে। যদি কারাগারেই উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকে, তাহলে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবে না। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবার উদ্দেশ্যে ডাক্তার ও নার্সদেরকে কারাগারে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া জায়িয নয়। কেননা এতে অসুস্থ কারাবন্দীদের ক্ষতি ও মৃত্যুর আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। উত্তম ব্যবস্থা হল- কারাগারের মধ্যেই কারাবন্দীদের জন্য একটি চিকিৎসা কেন্দ্র থাকা, যাতে তাদের চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন না পড়ে। ১৩৪
টিকাঃ
১৩৪. শায়খী যাদাহ, মাজমা'.., খ.২, পৃ.১৬৩; ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৫, পৃ.৩৭৮