📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 বুদ্ধিমান শিশু-কিশোরদের কারাদণ্ড

📄 বুদ্ধিমান শিশু-কিশোরদের কারাদণ্ড


কোন কোন ইমামের মতে, শিশু-কিশোররা কোন অনৈতিক কিংবা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে তাদেরকে বন্দী করা সমীচীন নয়। আবার কারো মতে, এ ধরনের শিশু-কিশোরকে শাস্তি হিসেবে নয়; বরং নীতি ও শিষ্টাচারিতা শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে, বিশেষ করে যখন তাদেরকে মুক্ত ছেড়ে দেয়ার চাইতে বন্দী করে রাখাটাই তাদের জন্য অধিক কল্যাণকর ও উপকারী বিবেচিত হবে তখন তাদেরকে বন্দী করে রাখা জায়িয। অধিকন্তু, যে সব শিশু দেশে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও বিদ্রোহ সৃষ্টিতে ব্যবহৃত হয়, তাদেরকে দেশের অস্থিতিশীল ও নৈরাজ্যকর অবস্থা চলাকালীন সময়ে বন্দী করে রাখা একান্ত প্রয়োজন।
আর্থিক কারবারে কিংবা কারো কোন সম্পদ নষ্ট করে ফেললে শিশু-কিশোরদেরকে বন্দী করে রাখা জায়িয নয়; তবে নীতি শিক্ষামূলক অন্য যে কোন হালকা শাস্তি দিতে অসুবিধা নেই। এটাই অধিকাংশ ইমামের অভিমত। ইমাম সারাখসী (রহ)-এর মতে, অভিভাবকরা তাদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী হবে। শিশু-কিশোরদের আচরণের জন্য তাদেরকে বন্দী করা যাবে এবং তাদের থেকে শিশু-কিশোরদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।
কোন কোন হানাফীর মতে, আর্থিক কারবারের ক্ষেত্রেও শাস্তি দানের জন্য নয়; বরং নীতি শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে শিশু-কিশোরদেরকে বন্দী করা জায়িয, যাতে তারা আর অন্যের অর্থ-সম্পদের কোন রূপ ক্ষতি করতে উদ্যত না হয়। তা ছাড়া এ আটকাদেশের ফলে তাদের পিতামাতা কিংবা অভিভাবক এভাবে মর্মাহত হয়ে পড়তে পারে যে, ছেলেমেয়েদের পক্ষ থেকে তারা অপরের আর্থিক ক্ষতি পূরণ দিতে দ্রুত এগিয়ে আসবে।
শিশু-কিশোরদেরকে তাদের ঘরেই আটক করে রাখা সমীচীন। তবে কারাগারেও বন্দী করে রাখা জায়িয, যদি না তাতে তাদের নৈতিক কিংবা মানসিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। যদি কারাগারে বন্দী করে রাখার কারণে তাদের নৈতিক অধঃপতন কিংবা মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হবার আশঙ্কা থাকে, তাহলে কারাগারে বন্দী করে রাখা সমীচীন নয়; তাদের ঘরেই আটক করে রাখতে হবে। ১৩০

টিকাঃ
১৩০. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২০, পৃ.৯১, খ.২৬, পৃ...; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৩, পৃ.১০৮-৯; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.১৬, পৃ.৩১৭-৮

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 অভিযোগ আরোপিত এবং শাস্তিপ্রাপ্তদের কারাব্যবস্থা

📄 অভিযোগ আরোপিত এবং শাস্তিপ্রাপ্তদের কারাব্যবস্থা


অভিযোগ আরোপিত ব্যক্তিকে নিরেট প্রশাসনিক প্রয়োজন ও স্বার্থে কারাবাস দেয়া হয় আর শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিচারের মাধ্যমেই চূড়ান্তরূপেই কারাবাস ভোগ করে। তাই উভয়ের কারা অবস্থা ও সুযোগ-সুবিধা এক ধরনের হওয়া সমীচীন নয়। ১৩১

টিকাঃ
১৩১. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.১৬, পৃ.৩১৮-৯

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 একত্রে বাস ও একাকী বাস

📄 একত্রে বাস ও একাকী বাস


কয়েদীদেরকে একত্রে বাস করতে দেয়াই হল মূল বিধান। তবে ধারণ ক্ষমতার চাইতে বেশি লোককে এক জায়গায় জমায়েত করে কষ্ট দেয়া জায়িয নেই। কারাগার এতো প্রশস্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়া প্রয়োজন, যাতে কয়েদীরা স্বাভাবিকভাবে পৃথক হয়ে শুইতে পারে এবং গরম ও ঠাণ্ডায় ভীষণ কষ্ট না পায়। তাছাড়া কারাগারের মধ্যে কয়েদীদের জন্য জামা'আতের সাথে নামায পড়ার ও ওযু-গোসলের সুব্যবস্থা থাকা একান্ত প্রয়োজন। তবে বিচারক কিংবা শাসক কল্যাণকর মনে করলে যে কোন কয়েদীকে পৃথকভাবে কোন কক্ষে বাইর থেকে দরজা বন্ধ করে বন্দী করেও রাখতে পারেন। ১৩২

টিকাঃ
১৩২. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.১৬, পৃ.৩১৯

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 গৃহবন্দী

📄 গৃহবন্দী


কাউকে নিজের ঘরের মধ্যেও বন্দী করে রাখা জায়িয। ইমামগণ বলেছেন, যে অন্যায়ভাবে কাউকে প্রহার করল, তাকে তা'যীরী শাস্তি দেয়া যাবে এবং তাকে বন্দী করাও জায়িয। অন্ততপক্ষে তার ঘরে হলেও তাকে বন্দী করে রাখা যেতে পারে, যাতে সে বাইরে বের হতে না পারে। অনুরূপভাবে বদনজর দানকারীকেও সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে ঘরের মধ্যে বন্দী করে রাখা যাবে, যাতে সে লোকজনের সাথে মিশতে না পারে। ১৩০

টিকাঃ
১৩৩. ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৬, পৃ.৩৬৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00