📄 নারী-পুরুষদের জন্য পৃথক পৃথক কারাগারের ব্যবস্থা
নারী-পুরুষদের জন্যও পৃথক পৃথক কারাগারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ১২৮ যদি পৃথক কারাগারের ব্যবস্থা না-ই থাকে, তাহলে একই কারাগারে নারীদের জন্য পৃথক আবাসস্থলের ব্যবস্থা করা একান্ত প্রয়োজন। একই কারাগারে যেমন এক সাথে তাদেরকে রাখা জায়িয নেই, তেমনি একই কারাগারের ভিন্ন ভিন্ন প্রকোষ্ঠে রাখাও সমীচীন নয়, যদি পরস্পরের দেখা-সাক্ষাত করার ও মিলিত হবার সুযোগ থাকে।
উল্লেখ্য যে, মহিলাদের দেখাশুনা করার জন্য কারারক্ষীও মহিলা হওয়া বাঞ্ছনীয়। যদি মহিলা কারারক্ষী পাওয়া দুষ্কর হয়, তবেই একজন পরীক্ষিত সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ পুরুষকে তাদের দেখাশুনা ও হিফাযতের জন্য নিয়োগ দেয়া জায়িয হবে।
টিকাঃ
১২৮. ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৫, পৃ.৩৭৯; আদ-দাসূকী, আল-হাশিয়াতু.., খ.৩, পৃ.২৮০-১; 'উলায়শ, মিনহুল জলীল, খ.৬, পৃ.৫৬
📄 হিজড়াদের জন্য পৃথক কারাগারের ব্যবস্থা
নারীদের মতো হিজড়াদের জন্যও আলাদা কারাগারের কিংবা একই কারাগারে সম্পূর্ণ পৃথক ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পুরুষদের সাথে যেমন তাদের থাকার ব্যবস্থা করা সমীচীন নয়, তেমনি নারীদের সাথেও তাদের থাকার ব্যবস্থা করা উচিত নয়। ১২৯
টিকাঃ
১২৯. আর-রু'আয়নী, মাওয়াহিব.., খ.৬, পৃ.৪৩৩; আদ-দাসূকী, আল-হাশিয়াতু.., খ.৩, পৃ.৩১০; 'উলায়শ, মিনহুল জলীল, খ.৯, পৃ. ৭১৮
📄 বুদ্ধিমান শিশু-কিশোরদের কারাদণ্ড
কোন কোন ইমামের মতে, শিশু-কিশোররা কোন অনৈতিক কিংবা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে তাদেরকে বন্দী করা সমীচীন নয়। আবার কারো মতে, এ ধরনের শিশু-কিশোরকে শাস্তি হিসেবে নয়; বরং নীতি ও শিষ্টাচারিতা শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে, বিশেষ করে যখন তাদেরকে মুক্ত ছেড়ে দেয়ার চাইতে বন্দী করে রাখাটাই তাদের জন্য অধিক কল্যাণকর ও উপকারী বিবেচিত হবে তখন তাদেরকে বন্দী করে রাখা জায়িয। অধিকন্তু, যে সব শিশু দেশে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও বিদ্রোহ সৃষ্টিতে ব্যবহৃত হয়, তাদেরকে দেশের অস্থিতিশীল ও নৈরাজ্যকর অবস্থা চলাকালীন সময়ে বন্দী করে রাখা একান্ত প্রয়োজন।
আর্থিক কারবারে কিংবা কারো কোন সম্পদ নষ্ট করে ফেললে শিশু-কিশোরদেরকে বন্দী করে রাখা জায়িয নয়; তবে নীতি শিক্ষামূলক অন্য যে কোন হালকা শাস্তি দিতে অসুবিধা নেই। এটাই অধিকাংশ ইমামের অভিমত। ইমাম সারাখসী (রহ)-এর মতে, অভিভাবকরা তাদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী হবে। শিশু-কিশোরদের আচরণের জন্য তাদেরকে বন্দী করা যাবে এবং তাদের থেকে শিশু-কিশোরদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।
কোন কোন হানাফীর মতে, আর্থিক কারবারের ক্ষেত্রেও শাস্তি দানের জন্য নয়; বরং নীতি শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে শিশু-কিশোরদেরকে বন্দী করা জায়িয, যাতে তারা আর অন্যের অর্থ-সম্পদের কোন রূপ ক্ষতি করতে উদ্যত না হয়। তা ছাড়া এ আটকাদেশের ফলে তাদের পিতামাতা কিংবা অভিভাবক এভাবে মর্মাহত হয়ে পড়তে পারে যে, ছেলেমেয়েদের পক্ষ থেকে তারা অপরের আর্থিক ক্ষতি পূরণ দিতে দ্রুত এগিয়ে আসবে।
শিশু-কিশোরদেরকে তাদের ঘরেই আটক করে রাখা সমীচীন। তবে কারাগারেও বন্দী করে রাখা জায়িয, যদি না তাতে তাদের নৈতিক কিংবা মানসিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। যদি কারাগারে বন্দী করে রাখার কারণে তাদের নৈতিক অধঃপতন কিংবা মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হবার আশঙ্কা থাকে, তাহলে কারাগারে বন্দী করে রাখা সমীচীন নয়; তাদের ঘরেই আটক করে রাখতে হবে। ১৩০
টিকাঃ
১৩০. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২০, পৃ.৯১, খ.২৬, পৃ...; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৩, পৃ.১০৮-৯; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.১৬, পৃ.৩১৭-৮
📄 অভিযোগ আরোপিত এবং শাস্তিপ্রাপ্তদের কারাব্যবস্থা
অভিযোগ আরোপিত ব্যক্তিকে নিরেট প্রশাসনিক প্রয়োজন ও স্বার্থে কারাবাস দেয়া হয় আর শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিচারের মাধ্যমেই চূড়ান্তরূপেই কারাবাস ভোগ করে। তাই উভয়ের কারা অবস্থা ও সুযোগ-সুবিধা এক ধরনের হওয়া সমীচীন নয়। ১৩১
টিকাঃ
১৩১. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.১৬, পৃ.৩১৮-৯