📄 আজীবন কারাদণ্ড
বিচারক কিংবা শাসক যদি প্রয়োজন মনে করেন, বিপজ্জনক দুরাচারী এবং দাগী সন্ত্রাসী ও অপরাধীকে আজীবন কারাদণ্ড দিতে পারেন। ১১৯ হযরত উ'সমান (রা) বনী তামীম গোত্রের ডাকাত দাবী' ইবন হারিছকে কারারুদ্ধ করে রেখেছিলেন এবং এ অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করেছিল। ১২০ হযরত 'আলী (রা) এমন এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেছিলেন, যে অপর ব্যক্তিকে এই জন্য ধরে রেখেছিল যে, অন্য জন এসে তাকে হত্যা করবে। ১২১ এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, (اقتلوا القاتل واصبروا الصابر)
"তোমরা হত্যাকারীকে বধ করো আর আটককারীকে আমৃত্যু বন্দী করে রাখ।"১২২ তাছাড়া পুরুষ সমকামী, বিদ'আতের প্রতি আহ্বানকারী, জালমুদ্রা প্রচলনকারী, দাগী অপরাধী ও জঘন্য সন্ত্রাসী প্রমুখকেও আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া যেতে পারে।
টিকাঃ
১১৯. ইবনু ফারহুন, তাবছিরাতুল হক্কাম, খ.২, পৃ. ১৫২, ১৮৩; আল-মাওয়াক, আত-তাজ.., খ.৬, পৃ. ৬১৫; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.১৬, পৃ.২৮৯
১২০. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.১৬, পৃ.২৮৯
১২১. আল-কুরতুবী, আকদিয়াতুর রাসূল, পৃ.৫-৬
১২২. আল-বায়হাকী, আস-সুনান আল-কুবরা, হা.নং: ১৫৮০৯
📄 অনির্দিষ্ট মেয়াদের কারাদণ্ড
নিয়ম হল, বিচারের সময় কারাবাসের মেয়াদ সুনির্দিষ্ট করে দেয়া। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে মেয়াদ অনির্দিষ্ট রেখে এবং তাওবা করে স্বাভাবিক ও পবিত্রভাবে জীবন যাপনের ফিরে আসার শর্ত জুড়ে দিয়ে সাজা দেয়াও জায়িয। যেমন মুসলিম মদবিক্রেতা, শত্রু পক্ষের মুসলিম গোয়েন্দা এবং দেশদ্রোহীদেরকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারাদণ্ড দেয়া জায়িয। যতক্ষণ না শাসকগণ তাদের বিশুদ্ধ তাওবা সম্পর্কে সুনিশ্চিত হবেন, ততদিন তাদেরকে কারাগারে বন্দী করে রাখতে পারবেন। অনুরূপভাবে চরম নেশাখোর ব্যক্তিকেও যে হদ্দের শাস্তি লাভ করার পর আর আবারও নেশা করে, তাকেও তাওবা করে নেশামুক্ত জীবনে ফিরে আসা পর্যন্ত অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারাদণ্ড দেয়া জায়িয। ১২৩
টিকাঃ
১২৩. ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রা'ইক, খ.৫, পৃ.৪৬
📄 কারাদণ্ড ও অন্য দণ্ডের সমাবেশ
বিচারক কিংবা শাসক যদি ব্যক্তির অবস্থা, অপরাধের মাত্রা ও পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনা করে অন্য যে কোন দণ্ডের সাথে কারাদণ্ড কার্যকর করা কল্যাণকর মনে করেন, তাহলে যে কোন ধরনের শাস্তির সাথে কারাদণ্ড দেয়াতে কোন অসুবিধা নেই। ১২৪ যেমন অবিবাহিত ব্যভিচারী পুরুষকে হদ্দ হিসেবে একশটি বেত্রাঘাত করার পর জনস্বার্থ ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে এক বছরের জন্য কারাদণ্ড দেয়া যেতে পারে। যে আঘাতের কিসাস নেয়া সম্ভব নয়; বিনিময় নেয়ার বিধান রয়েছে, তাতে বিনিময় নেয়ার পাশাপাশি কারাদণ্ডও দেয়া যেতে পারে। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সাথে যিহার করল, তাকেও কাফফারা আদায় না করা পর্যন্ত বন্দী করে রাখা যেতে পারে। তাছাড়া হাঙ্গামা ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদেরকে কারাগারে শিকল পরিয়ে রাখা, দায়গ্রস্ত আটক ব্যক্তিকে প্রহার করা, মিথ্যা সাক্ষ্যপ্রদানকারীকে মাথা মুণ্ডন করিয়ে দেয়া ও বন্দী করা, হত্যাকারীকে যদি নিহত ব্যক্তির অভিভাবকরা ক্ষমা করে দেয়, তাকে একশটি বেত্রাঘাত সহ কারাদণ্ড দেয়া প্রভৃতি বৈধ রয়েছে।
টিকাঃ
১২৪. যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ. ২১০; ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.৫, পৃ. ৩৫০; ইবনু ফারহুন, তাবছিরাতুল হুক্কাম, খ.২, পৃ. ২৯০
📄 কারাগার নির্মাণ
বন্দীদের রাখার জন্য পৃথক কারাগার নির্মাণ করা জায়িয; বরং মুস্তাহাব। কারাগার প্রশস্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়া বাঞ্ছনীয়। হযরত 'উমার (রা)-এর নির্দেশে তাঁর মক্কার গভর্ণর নাফি' ইবন 'আবদুল হারিছ সাফওয়ান ইবন উমাইয়্যা থেকে কারাগার হিসেবে ব্যবহারের জন্য একটি ঘর চার হাজার দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করেছিলেন। ১২৫ হযরত 'আলী (রা) ইসলামে সর্বপ্রথম কুফায় কারাগার তৈরি করেছিলেন। ১২৬
টিকাঃ
১২৫. সহীহ আল বুখারী, (কিতাবুল লুকতাহ) বাব নং ৭; ইবনু আবী শায়বাহ, আল-মুছান্নাফ, হা.নং: ২৩২০১
১২৬. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.১৬, পৃ.৩১৬