📘 ইসলামের শাস্তি আইন 📄 সরকার বা রাষ্ট্রদ্রোহিতা

📄 সরকার বা রাষ্ট্রদ্রোহিতা


কিছু কিছু অবস্থায় সরকারদ্রোহী বা রাষ্ট্রদ্রোহীকে কারাদণ্ড দেয়া যাবে। যেমন-
ক. যদি বিদ্রোহীদেরকে এমন কিছু কাজ করতে দেখা যায়, যা থেকে বোঝা যায় যে, তারা সরকারের আনুগত্য থেকে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে। যেমন- অবৈধ অস্ত্র-শস্ত্র সংগ্রহ করা, বিপ্লব ঘটানোর জন্য মহড়া দেয়া ও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়া প্রভৃতি। এমতাবস্থায় সরকার তাদেরকে পাকড়াও করতে পারবে এবং বন্দী করতে পারবে, যদিও তারা আজো বাস্তবিকপক্ষে যুদ্ধ শুরু করেনি। কেননা যদি তাদেরকে বন্দী করা না হয়, তাহলে দেশে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টি করবে। তদুপরি সরকারের আনুগত্য অস্বীকার করা চরম অপরাধ, যার জন্য শাস্তি প্রদান করা সমীচীন।
খ. যদি বিদ্রোহীদেরকে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আটক করা হয়, তাহলে তাদেরকে বন্দী করা হবে, ছেড়ে দেয়া যাবে না, যদি এ আশঙ্কা থাকে যে, তারা অন্য বিদ্রোহী দলের সাথে গিয়ে মিলিত হবে কিংবা ফিরে আবার যুদ্ধ করবে। এ কারণ হল, যাতে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অন্যরা হতোদ্যম হয়ে পড়ে।
গ. লড়াইয়ের পর যদি তারা পালিয়ে বেড়ায়, তাহলে তাদেরকে খুঁজে বের করা এবং তাদেরকে আটক করা নিয়ে ইমামগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। মালিকী, শাফি'ঈ ও কতিপয় হানাফী ইমামের মতে, তাদেরকে খুঁজে বের করা এবং তাদেরকে আটক করা জায়িয, যদি তাদের পুনরায় মিলিত ও সংঘটিত হবার মত অনুসারী থাকে। তবে কারো মতে, তাদের অন্য কোন অনুসারী না থাকলেও তাদেরকে খুঁজে বের করা এবং তাদেরকে আটক করা জায়িয। এটি ইমাম আবূ হানীফা (রহ)-এর মতরূপে বর্ণিত রয়েছে। কতিপয় মালিকী ইমামও এ মত পোষণ করেন। ইমাম আবূ ইউসূফ ও হাম্বলী ইমামগণের মতে, যদি তাদের পুনরায় মিলিত হবার মত কোন অনুসারী না থাকে, তাহলে তাদেরকে খুঁজে বের করা এবং তাদেরকে আটক করা জায়িয নয়। কেননা উদ্দেশ্য তো হল তাদেরকে দমন করা। আর এ উদ্দেশ্য তো তাদের পরাজয় ও পলায়নের মাধ্যমে সফলই হয়ে গেছে। ১১৮

টিকাঃ
১১৮. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.১৪০; ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রা'ইক, খ.৫, পৃ. ১৫২; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.৯-১০; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.১৬, পৃ.৩১৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px