📄 হদ্দ বা কিসাস জাতীয় অপরাধে সাক্ষী-প্রমাণের যথার্থতা নিরূপণ
যে সব অপরাধে শাস্তি হিসেবে হদ্দ বা কিসাসের বিধান রয়েছে, সে সব ক্ষেত্রে আদালতের কাছে সাক্ষীদের গ্রহণযোগ্যতা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণিত হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটকে রাখা যাবে। যেমন কেউ যদি কারো বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ করে, তাহলে আদালতের নিকট সাক্ষীদের ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণিত হওয়া পর্যন্ত বিবাদীকে আটকে রাখা যাবে। ১১০
টিকাঃ
১১০. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ. ১০৬-৭, ১৭০-১; মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ. ৫২৭, ৬৪৬
📄 সাধারণ অপরাধে সাক্ষী-প্রমাণের যথার্থতা নিরূপণ
যে সব অপরাধের শাস্তি হদ্দ বা কিসাস নয়, সে সব ক্ষেত্রেও বিচারক অপরাধের গুরুতরতা ও ব্যক্তির অবস্থা বিবেচনা করে প্রয়োজন মনে করলে সাক্ষীদের গ্রহণযোগ্যতা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণিত হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কারাদণ্ড দিতে পারবেন। ১১১
টিকাঃ
১১১. আল-ফাসী, আল-ইতকান ওয়াল ইহকাম.., খ.১, পৃ. ১২৮
📄 হয়রানী বা ষড়যন্ত্র মূলক মামলা দায়ের করা
যে ব্যক্তি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কাউকে হয়রানি কিংবা অপমানিত করার জন্য কোন মামলা দায়ের করে এবং বিচারকের কাছে যদি প্রমাণিত হয় যে, বাদী অসৎ উদ্দেশ্যে মামলা দায়ের করেছে, তাহলে বিচারক তাকে নীতি শিক্ষাদানমূলক যে কোন শাস্তি দান করবেন। আর এ ধরনের শাস্তিসমূহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের শাস্তি হল কারাদণ্ড। এ ধরনের শাস্তির কারণ হল, যাতে সমাজে অসৎ ও মতলববাজ লোকদের এ ধরনের মামলা দায়েরের প্রবণতা বেড়ে না যায়। ১১২
টিকাঃ
১১২. ইবনু ফারহুন তাবছিরাতুল হুক্কাম.., খ.২, পৃ.৩০০
📄 মিথ্যা সাক্ষ্য দান করা
মিথ্যা সাক্ষ্যদাতাকে প্রহার করা যাবে এবং দীর্ঘ মেয়াদী কারাদণ্ড দেয়া যাবে। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যা (রহ) বলেন, যে ব্যক্তি (উকিল হোক কিংবা অন্য কেউ) অপরকে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার শিক্ষা দান করবে তাকেও প্রহার করা এবং বন্দী করা জায়িয। ১১৩ হযরত 'উমার (রা) ও 'আলী (রা) প্রমুখ প্রসঙ্গে বর্ণিত রয়েছে, তাঁরা উভয়ে মিথ্যা সাক্ষ্যদাতাকে প্রহার করতেন, মাথা মুড়িয়ে দিতেন, চেহারায় কালি মেখে দিতেন এবং নির্দেশ দিতেন, যাতে বাজারে তাকে ঘুরানো হয়। এর পর তাকে দীর্ঘ দিন বন্দী করে রাখতেন। ১১৪
টিকাঃ
১১৩. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.১৬, পৃ. ১৪৫; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.১৬, পৃ. ৩১৪
১১৪. ইবনু হাজার আল আসকালানী, আদ-দিরায়াহ, খ.২, পৃ.১৭২; যায়ল'ঈ, নাসবুর রায়াহ, খ.৪, পৃ.৮৮