📄 ব্যভিচারের ত্রুটিপূর্ণ মিথ্যা অপবাদ
যে ব্যক্তি কারো প্রতি যিনার অপবাদ দিল এবং সে যদি একজন সাক্ষীই পেশ করে, তাহলে তাকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাক্ষী পেশ করার উদ্দেশ্যে আটক করে রাখা হবে। ৯১ অনুরূপভাবে কেউ যদি দাবী করে যে, কোন ব্যক্তি তার প্রতি যিনার অপবাদ আরোপ করেছে; তবে তার সাক্ষী এলাকার বাইরে গেছে, তাহলে সাক্ষী হাজির করার জন্য বিচারকের এজলাসে উপবিষ্ট থাকা পর্যন্ত বিবাদীকে আদালতে আটক করে রাখা যাবে। ৯২
টিকাঃ
৯১. আবুল কাসিম আল-মালিকীর মতে, যিনার অভিযোগকারী যদি একজন সাক্ষীই পেশ করতে পারে, তাহলে তাকে বেত্রাঘাত করা যাবে না; তবে তাকে কারাদণ্ড দেয়া যাবে, যতক্ষণ না সে এ মর্মে শপথ করবে যে, তার কথার উদ্দেশ্য তাকে অপবাদ দেয়া নয়; বরং গালমন্দ করা। আবার কারো মতে, তাকে এক বছরের জন্য কারাদণ্ড দিতে হবে। আবার কারো মতে, তার ওপর হদ্দই কার্যকর করতে হবে। (আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.১৬, পৃ.৩০৫)
৯২. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৬, পৃ.৫৬ খ.৯, পৃ.১০৬; মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ.৪৮৯
📄 পুনঃ পুনঃ মদ সেবন
মালিকীগণের মতে, মদ্যপায়িতায় অভ্যস্ত ব্যক্তির ওপর হদ্দ কায়িম করার পর তা'যীর হিসেবে তাকে কারাদণ্ড দেয়াও জায়িয। ৯৩ বর্ণিত রয়েছে, হযরত 'উমার (রা) আবূ মিহজন আছ-ছাকাফীকে মদ্যপায়িতার জন্য আটবার বেত্রাঘাত করেছিলেন। তারপর তাকে বন্দী করার নির্দেশ দেন। এ নির্দেশের প্রেক্ষিতে তাকে কাদেসিয়ার যুদ্ধের সময় বন্দী করা হয়। পরে অবশ্যই তাওবা করে ফিরে আসার পর তাকে মুক্ত করে দেয়া হয়। ৯৪
টিকাঃ
৯৩. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.১৬, পৃ.৩০৬
৯৪. আবদুর রাযযাক, আল-মুছান্নাফ, হা.নং: ১৭০৭৭; ইবনু আবী শায়বাহ, আল-মুছান্নাফ, হা.নং : ৩৩৭৪৬
📄 অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া
অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিকেও কারাদণ্ড দেয়া যেতে পারে, যতক্ষণ না তারা বিশুদ্ধ তাওবা করে সুন্দর ও পবিত্র জীবন যাপনে ফিরে আসবে। এ কারণে কোন পুরুষ যদি কোন বেগানা মহিলাকে চুমো দেয়, কিংবা জড়িয়ে ধরে বা কামভাব সহকারে স্পর্শ করে অথবা যৌনসঙ্গম ছাড়া পরস্পর জড়াজড়ি করে, তাহলে তাদেরকে বন্দী করে রাখা যাবে। অনুরূপভাবে দেহ প্রদর্শনকারিণী মহিলাদেরকেও বন্দী করে রাখা যাবে। ৯৫
টিকাঃ
৯৫. ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রা'ইক, খ.৫, পৃ.৪৬; ইবনু ফারহুন, তাবছিরাতুল হুক্কাম, খ.২, পৃ.১৬৫; ইবুন তাইমিয়্যাহ, আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা, খ.৩, পৃ.৪১২
📄 মেয়েলিপনা
হানাফীগণের মতে, মেয়েলী পুরুষ অর্থাৎ যে পুরুষ নারীদের মতো চলাফেরা করে এবং বেশভূষা ধারণ করে, তাকেও কারাদণ্ড দেয়া যেতে পারে, যতক্ষণ না সে বিশুদ্ধ তাওবা করে সুন্দর ও পবিত্র জীবন যাপনে ফিরে আসবে। ইমাম আহমাদ (রহ)-এর মতে, এ ধরনের লোকের দ্বারা যদি সমাজের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবেই তাকে বন্দী করা যাবে। ৯৬
টিকাঃ
৯৬. ইবনুল হুমام, ফাতহুল কাদীর, খ.৫, পৃ.৩৫২; ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রাইক, খ.৫, পৃ.৪৬; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.১৬, পৃ.৩০৬