📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 রোযা ছেড়ে দেয়া

📄 রোযা ছেড়ে দেয়া


যে ব্যক্তি রোযার ফরযিয়‍্যাতকে অস্বীকার করে কিংবা তার ফরযিয়্যাতের প্রতি তাচ্ছল্য প্রদর্শন করে রোযা ছেড়ে দিল, তার ব্যাপারেও ইমামগণের সর্বসম্মত মত হলো, সে কাফির মুরতাদ হয়ে গেল। তার হদ্দ হল মৃত্যুদণ্ড। তবে তাকে এ শাস্তি কার্যকর করার আগে তিন দিন সুযোগ দেয়া হবে, যাতে সে এ সময়ের মধ্যে তাওবা করে ফিরে আসে।
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি অলসতা বশতঃ কিংবা হালকা মনে করে ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা ছেড়ে দেয় তার ব্যাপারে ইমামগণের সর্বসম্মত মত হল, সে কাফির হবে না এবং তাকে হত্যাও করা যাবে না; বরং তাকে কারাদণ্ড দেয়া হবে। কারাগারের মধ্যে তাকে দিনে পানাহার থেকে বারণ করা হবে, যাতে রোযার বাহ্যিক আকৃতিটা হলেও সে অর্জন করতে পারে। অনেক সময় দেখা যাবে, সে এমতাবস্থায় সত্যিকারভাবে রোযার নিয়াতও করে ফেলবে। মাওয়ার্দীর মতে, তাকে রোযার মাস পুরোই বন্দী করে রাখা হবে। ৮৩
রমযান মাসে যে মাদক সেবন করবে তাকে মাদক সেবনের জন্য হদ্দ হিসেবে ৮০টি বেত্রাঘাত তো করতেই হবে। এর পাশাপাশি রমযানের পবিত্রতা নষ্ট করার কারণে তাকে বন্দী করা হবে এবং অতিরিক্ত আরো ২০টি বেত্রাঘাত করা হবে। হযরত 'আলী (রা) থেকেও এধরনের মত বর্ণিত রয়েছে। ৮৪

টিকাঃ
৮৩. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়‍্যাহ, খ.১৬, পৃ.৩০৩; আল-মাওয়ার্দী, আল-আহকামুস সুলতানিয়‍্যাহ, পৃ.৭২-৩; আল-জসসাস, আহকামুল কুর'আন, খ.৩, পৃ.১২৩; ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.২, পৃ.৩১৮; ইবনু রুশদ, বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ.১, পৃ. ২৫০
৮৪. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৪, পৃ. ৩৩; ইবনুল হুমام, ফাতহুল কাদীর, খ.৫, পৃ. ৩৪৯

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 বিদ‘আত

📄 বিদ‘আত


যে বিদ'আতী লোকদেরকে বিদ'আতের প্রতি আমন্ত্রণ জানায়, তার ব্যাপারে হানাফী ইমামগণ সহ অধিকাংশ ইমামের অভিমত হল, প্রথমত তাকে তার এ প্রচারকর্ম থেকে বারণ করা হবে। যদি সে সহজে ফিরে না আসে, তা হলে ক্রমশ তাকে প্রহার করা হবে এবং প্রয়োজনে বন্দী করে রাখা হবে। তারপরও ফিরে না আসলে তাকে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে হত্যা করা জায়িয হবে। কেননা বিদ'আতী ব্যক্তি যে ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে, তা অন্য যে কোন ফিতনার চাইতে গুরুতর ও ব্যাপক। কেননা বিদ'আতের কারণে দীন বিকৃত হয়ে যায় এবং উম্মাতের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়। তবে ইমাম আহমাদের এক বর্ণনা মতে, তাকে বন্দী করে রাখা হবে, যতক্ষণ না সে তার অপপ্রচার থেকে বিরত থাকবে। প্রয়োজনে তাকে আমরণ কারাদণ্ড দেয়া যেতে পারে। তাকে হত্যা করা সমীচীন নয়। কোন কোন মালিকী ইমামও এমত পোষণ করেন।
তবে যে বিদ'আতী লোকদেরকে নিজের বিদ'আতের প্রতি আমন্ত্রণ জানায় না, তাকে বন্দী করে রাখা এবং উপদেশে কাজ না হলে প্রহার করাও জায়িয। এটাই হানাফী ও অধিকাংশ মালিকী ইমামের অভিমত। তবে অন্যান্যদের মতে, তাকে যে কোন রূপ তা'যীর করা যাবে। আবার কারো কারো মতে, সে যদি তাওবা করে ফিরে না আসে, তা হলে তাকে হত্যা করাও জায়িয। ১৮৫ বর্ণিত আছে, ছবীগ ইবনু 'আসল সাহাবা কিরামের অনুসৃত সুন্নাত ও তাঁদের কুর'আন ও সুন্নাহর ব্যাখ্যার তোয়াক্কা না করে দীনের মধ্যে বিদ'আতের ভিত্তি রচনা করার উদ্দেশ্যে কুর'আনের মুতাশাবিহ আয়াতগুলোর পেছনে লেগে থাকত। এ কারণে হযরত 'উমার (রা) তাকে বন্দীও করেছিলেন এবং কয়েকবার প্রহারও করেছিলেন। ১৮৬

টিকাঃ
৮৫. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.১৬, পৃ.২৮৯, ৩০২-৪
৮৬. আদ-দারিমী, সুনান (বাব: মান হাবাল ফুতয়া..), হা.নং: ১৪৪, ১৪৮

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 অযোগ্য লোকের ফতোয়াবাজি

📄 অযোগ্য লোকের ফতোয়াবাজি


প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও শিক্ষা-দীক্ষা ছাড়া কোন ব্যক্তি যদি ফাতওয়া দেয়, তাহলে মালিকী ইমামগণের মতে তাকে বন্দী করে রাখা এবং নীতি শিক্ষামূলক শাস্তি দেয়া বৈধ। ইমাম মালিক তাঁর শায়খ রবী'আ (রহ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন : بعض من يفتي ههنا أحق بالسجن من السراق এখানে এমন অনেক মুফতী আছেন, যারা বড় বড় চোরের চাইতেও অধিকতর কারাবাসের উপযোগী। "১৮৭

টিকাঃ
৮৭. 'উলায়শ, ফাতহুল 'আলী আল-মালিক, খ.১, পৃ.৮৬

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 কাফফারা আদায় না করা

📄 কাফফারা আদায় না করা


যে ব্যক্তি কাফফারা আদায় করা থেকে বিরত থাকে শাফি'ঈগণের পুরাতন মতানুযায়ী তাকে আটকে রাখা যাবে। মালিকীগণের মতে, তাকে আটকে রাখা যাবে না; তবে নীতিশিক্ষামূলক শাস্তি দেয়া যাবে। হানাফীগণের মতে, যিহারের ক্ষেত্রে নীতিমূলক শাস্তি দেয়ার পাশাপাশি যদি প্রয়োজন হয় (যেমন- স্বামী যদি কাফফারা আদায় করার আগেই স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করতে উদ্যত হয়), তাহলে যিহারকারীকে বন্দী করে রেখে কাফফারা আদায় করা যাবে। ৮৮

টিকাঃ
৮৮. ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৫, পৃ. ৩৭৮; 'উলায়শ, মিনহুল জলীল, খ.১, পৃ.৮৬; আল- মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.১৬, পৃ.৩০৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00