📄 অভিভাবক কর্তৃক ক্ষমা প্রদর্শিত ইচ্ছাকৃত হত্যা
অধিকাংশ ইমামের মতে, ইচ্ছাকৃত হত্যাকারীকে যদি নিহত ব্যক্তির অভিভাবকরা ক্ষমা করে দেয়, তা হলে তাকে কারাদণ্ড দেয়া সমীচীন নয়। তবে সে যদি কুখ্যাত সন্ত্রাসী হয়, তা হলে শাসক কিংবা বিচারক অবস্থানুপাতে তাকে যে কোন শাস্তি দিতে পারবে। তবে মালিকীগণের মতে, তাকেও একশতটি বেত্রাঘাত ও এক বছরের কারাবাসের দণ্ড দেয়া হবে। ৬৬
টিকাঃ
৬৬. আল-বাজী, আল-মুস্তকা, খ.৭, পৃ.১২৪; ইবনু ফারহুন, তাবছিরাতুল হুক্কাম, খ.২, পৃ.২২৯; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.১৬, পৃ.২৯৮
📄 হত্যাকাণ্ডে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করা
অধিকাংশ ইমামের মতে, যে ব্যক্তি কাউকে আটকে রাখল যাতে অন্য জন এসে তাকে হত্যা করে, তাহলে আটককারী ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেয়া যেতে পারে। তবে মালিকীগণের মতে, আটককারী ব্যক্তিকেও হত্যাকারীর মতোই কিসাস হিসেবে হত্যা করা হবে। কেননা সেও হত্যাকর্মে শরীক রয়েছে। তবে যদি আটককারী না জানে যে, লোকটি এসে তাকে হত্যা করবে, তবেই তাকে একশতটি বেত্রাঘাত ও এক বছরের কারাবাস দণ্ড দেয়া হবে। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি কাউকে রশি দিয়ে পেছনে হাত বেঁধে শ্বাপদ সংকুল অরণ্য কিংবা সর্পাঞ্চলে ফেলে রাখল, এর পর হিংস্র প্রাণি কিংবা সাপ এসে তাকে মেরে ফেলল, তাহলে তাকে অধিকাংশের মতে, কারাদণ্ড দিতে হবে। কোন কোন হানাফীর মতে, তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডও দিতে হবে। ৬৭
টিকাঃ
৬৭. শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ.৪০; যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৬, পৃ. ১৫৩; ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৬, পৃ.৬২৪; আল-বাজী, আল-মুস্তকা, খ.৭, পৃ.১২১-২
📄 ইচ্ছাকৃত হত্যা, যদি কিসাস নিতে দেরি হয়
কিসাসের বিধান হিসেবে যাকে হত্যা করার কিংবা কোন অঙ্গ কেটে নেয়ার ফায়সালা দেয়া হয়েছে তাকে শাস্তি কার্যকর করা পর্যন্ত বন্দী করে রাখতে হবে, যাতে সে পালিয়ে যেতে না পারে। অনুরূপভাবে নিহত ব্যক্তির অভিভাবকরা অনুপস্থিত থাকলে তাদের উপস্থিত হওয়া পর্যন্তও হত্যাকারীকে বন্দী করে রাখা প্রয়োজন। শাফি'ঈ ও হাম্বলীগণের মতে, অভিভাবকরা ছোট হলে বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত এবং পাগল হলে সজ্ঞান হওয়া পর্যন্তও হত্যাকারীকে বন্দী করে রাখা প্রয়োজন। ৬৮
টিকাঃ
৬৮. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ. ১০৫-৬, ১৭৮; ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৬, পৃ.৫৬৮-৯; আর-রামালী, নিহায়াতুল মুহতাজ, খ.৭, পৃ.২৯৯; আর-রুহায়বানী, মাতালিব.., খ.৬, পৃ.৪৪
📄 অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর আঘাত হানা
যে ব্যক্তি কারো দেহের কোন অঙ্গে এমনভাবে আঘাত করল বা ক্ষতি সাধন করল, যে রূপ আঘাত বা ক্ষতির কিসাস নেওয়া সম্ভব নয়, তাহলে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং অপরাধের শাস্তি হিসেবে কারাদণ্ড দেয়া হবে। ৬৯
টিকাঃ
৬৯. আল-বাজী, আল-মুস্তকা, খ.৭, পৃ.১২১-২; আল-মাওসৃ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.১৬, পৃ.২৮৯, ২৯৮