📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 কাজ-কারবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা

📄 কাজ-কারবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা


তা'যীর হিসেবে অপরাধীর কাজ-কারবার ও লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যেতে পারে। ৩৩

টিকাঃ
৩৩. আল-কারাফী, আনওয়ারুল বুরূক ফী আনওয়া'ইল ফুরূক, খ.৪, পৃ.২০৭

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 উপায়-উপকরণ ও সম্পদ নষ্ট করা

📄 উপায়-উপকরণ ও সম্পদ নষ্ট করা


যে সকল বস্তু পাপ ও অন্যায় কাজে সাহায্য করে কিংবা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সে সকল বস্তু ও সরঞ্জাম নষ্ট করে দেয়াও জায়িয। যেমন বাদ্যযন্ত্র ভেঙ্গে দেয়া এবং মদের পাত্র নষ্ট করা প্রভৃতি বৈধ। তদুপরি ভেজাল মিশ্রিত সম্পদও নষ্ট করে দেয়া জায়িয। যেমন দুধে পানি মিশ্রিত করে ভেজাল দিলে তা মাটিতে ফেলা দেয়া জায়িয হবে। তদ্রূপ খারাপ সূতা দিয়ে কাপড় বুনলে তাকে ছিঁড়ে ফেলে ও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া বৈধ। বর্ণিত রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদের পাত্রগুলো ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাছাড়া হযরত 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রা)-কে কসুম্বা রঙে রঞ্জিত দুটি কাপড় জ্বালিয়ে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। ৩৪
তবে আমি মনে করি, যে সকল বস্তু ব্যবহারের উপযোগী তা নষ্ট না করেই অভাবীদের মধ্যে বন্টন করে দেয়া বা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করাই উত্তম। হাম্বলীগণের মতে, সম্পদ নষ্ট করা জায়িয নয়। ৩৫ তবে যা ব্যবহারের উপযোগী নয়, তা জনস্বার্থে নষ্ট করে দেয়াই উত্তম। তাছাড়া বিচারক যদি কল্যাণকর মনে করেন, তাহলেও সম্পদ নষ্ট করা জায়িয হবে। বর্ণিত রয়েছে, হযরত 'উমার (রা) ও 'আলী (রা) দুজনেই মদের দোকান জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। ৩৬

টিকাঃ
৩৪. সহীহ মুসলিম, (কিতাবুল লিবাস), হা.নং: ২০৭৭
৩৫. আর-রুহায়বানী, মাতালিব... খ.৬, পৃ.২২৪
৩৬. ইবনুল কাইয়িম, আত-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ, পৃ. ২২৭

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা

📄 সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা


তা'যীর হিসেবে অপরাধীর অর্থ-সম্পদ একটি নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত আটক করে রাখা যেতে পারে, যাতে সে পরিণাম বিবেচনা করে সংশোধন হতে পারে। অপরাধী সংশোধন হয়ে গেলে তার সম্পদ তাকে ফেরত দিতে হবে। সরকার তা রাজকোষে যোগ করতে পারবে না। কারণ কারো সম্পদ তার সম্মতি কিংবা আইনসম্মত পথ ছাড়া অন্য কোনভাবে ভোগ করা কারো জন্য বৈধ নয়। তবে অপরাধীর সংশোধন হবার ব্যাপারে বিচারিক বা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ নিরাশ হলে তার আটককৃত মাল জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা যাবে। ৩৭

টিকাঃ
৩৭. ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রা'ইক, খ.৫, পৃ.৪২; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.১২, পৃ. ২৭১-২

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 আর্থিক দণ্ড

📄 আর্থিক দণ্ড


অধিকাংশ ইমামের মতে, তা'যীর হিসেবে কোন অপরাধের জন্য কাউকে আর্থিক দণ্ডে দণ্ডিত করা সঙ্গত নয়। এটাই হল ইমাম আবূ হানীফা (রহ) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ)-এর অভিমত। ইমাম শাফি'ঈ (রহ) প্রথমে জায়িযের মত পোষণ করলেও পরবর্তীতে সে মত থেকে ফিরে আসেন। তাঁর নতুন মত অনুযায়ী অর্থ জরিমানার শাস্তি প্রদান করা জায়িয নয়। হাম্বলী ইমামগণের মতে, অর্থ জরিমানা করা হারাম। অনুরূপভাবে শাস্তি হিসেবে সম্পদ নষ্ট করাও হারাম। তাঁদের কথা হল, এ বিষয়ে শরী'আতের নির্ভরযোগ্য কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ) ও অধিকাংশ মালিকী মতাবলম্বী ইমামের মতে, অর্থ জরিমানার শাস্তি প্রদান করা জায়িয, যদি তাতে কোন কল্যাণ নিহিত থাকে। ৩৮
ইবনু তাইমিয়্যা (রহ) ও ইবনুল কাইয়্যিম (রহ) প্রমুখের মতে, অর্থ জরিমানার শাস্তি প্রদান করা জায়িয। ৩৯ তাঁদের কথা হলো, অরক্ষিত সম্পদ কেউ যদি চুরি করে কিংবা এ ধরনের চুরি যাতে হদ্দ প্রয়োগ করা যায় না, তাতে দ্বিগুণ জরিমানার শাস্তি প্রদান করা যায়। বর্ণিত রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে গাছে ঝুলন্ত ফল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, من أصاب بفيه من ذي حاجة غير متخذ خبنة فلا شيء عليه ، و من خرج بشيء منه فعليه غرامة مثليه و العقوبة. মুখের কাছে পেয়ে যায়, কোন উপায়ে তা ছিঁড়ে নেয় নি, তা খেলে তাতে কোন অপরাধ হবে না। আর যে তা কোন জিনিসের সাহায্যে ছিঁড়ে নিয়ে খাবে, তাকে তার দ্বিগুণ জরিমানা দিতে হবে এবং তাকে শাস্তিও ভোগ করতে হবে।" ৪০ তাছাড়া খুলাফা রাশিদূন যাকাত অনাদায়কারীদের থেকে তাদের সম্পদের একটি অংশও জরিমানা হিসেবে নিয়ে নিতেন। ৪১ এ থেকেও প্রমাণিত হয় যে, অর্থ জরিমানা করা নিষিদ্ধ নয়।
আমি মনে করি, সাধারণ অবস্থায় অর্থ জরিমানার শাস্তি না দেয়াই হল মূল বিধান। কারণ, কারো সম্পদ তার সম্মতি কিংবা আইনসম্মত পথ ছাড়া অন্য কোনভাবে ভোগ করা কারো জন্য বৈধ নয়। তবে বিচারক প্রয়োজন মনে করলে বিশেষ কোন অপরাধের ক্ষেত্রে (যেমন চুরি, যাকাত দান থেকে বিরত থাকা প্রভৃতি) অর্থ জরিমানা প্রদান করতে পারে। তবে সরকার সে অর্থ রাজকোষে জমা করতে পারবে না এবং কোন সম্পদশালীকেও দিতে পারবেনা; বরং তা অভাবীদের মধ্যে বন্টন করে দেয়া যেতে পারে কিংবা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

টিকাঃ
৩৮. ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.৫, পৃ. ৩৪৫; ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ. ৬১; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়‍্যাহ, খ.১২, পৃ. ২৭১-২
৩৯. ইবনু তাইমিয়‍্যাহ, আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা, খ.৪, পৃ. ২১১-২; ইবনুল কাইয়িম, আত- তুরুকুল হুকমিয়্যাহ, পৃ. ২২৭-৮
৪০. আবূ দাউদ, (কিতাবুল লুকতাহ), হা.নং: ১৭১০, (কিতাবুল হুদূদ), হা.নং: ৪৩৯০; নাসাঈ, আস-সুনান আল-কুবরা, (কিতাবুল হুদূদ), হা.নং: ৭৪৪৬
৪১. ইবনুল কাইয়িম, আত-তুরুকুল হুকমিয়‍্যাহ, পৃ. ২২৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00