📘 ইসলামের শাস্তি আইন 📄 সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেয়া

📄 সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেয়া


তা'যীর হিসেবে অপরাধীকে কোন কোন নির্ধারিত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায়। যেমন- রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত করা, চাকুরীতে প্রমোশন স্থগিত করে রাখা বা ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করে দেয়া প্রভৃতি। ৩২

টিকাঃ
৩২. ইবনু তাইমিয়্যাহ, আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা, খ.৪, পৃ. ২১১-২; ইবনুল কাইয়িম, আত-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ, পৃ. ২২৭-৮; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়‍্যাহ, খ.১২, পৃ. ২৭২

📘 ইসলামের শাস্তি আইন 📄 কাজ-কারবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা

📄 কাজ-কারবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা


তা'যীর হিসেবে অপরাধীর কাজ-কারবার ও লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যেতে পারে। ৩৩

টিকাঃ
৩৩. আল-কারাফী, আনওয়ারুল বুরূক ফী আনওয়া'ইল ফুরূক, খ.৪, পৃ.২০৭

📘 ইসলামের শাস্তি আইন 📄 উপায়-উপকরণ ও সম্পদ নষ্ট করা

📄 উপায়-উপকরণ ও সম্পদ নষ্ট করা


যে সকল বস্তু পাপ ও অন্যায় কাজে সাহায্য করে কিংবা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সে সকল বস্তু ও সরঞ্জাম নষ্ট করে দেয়াও জায়িয। যেমন বাদ্যযন্ত্র ভেঙ্গে দেয়া এবং মদের পাত্র নষ্ট করা প্রভৃতি বৈধ। তদুপরি ভেজাল মিশ্রিত সম্পদও নষ্ট করে দেয়া জায়িয। যেমন দুধে পানি মিশ্রিত করে ভেজাল দিলে তা মাটিতে ফেলা দেয়া জায়িয হবে। তদ্রূপ খারাপ সূতা দিয়ে কাপড় বুনলে তাকে ছিঁড়ে ফেলে ও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া বৈধ। বর্ণিত রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদের পাত্রগুলো ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাছাড়া হযরত 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রা)-কে কসুম্বা রঙে রঞ্জিত দুটি কাপড় জ্বালিয়ে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। ৩৪
তবে আমি মনে করি, যে সকল বস্তু ব্যবহারের উপযোগী তা নষ্ট না করেই অভাবীদের মধ্যে বন্টন করে দেয়া বা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করাই উত্তম। হাম্বলীগণের মতে, সম্পদ নষ্ট করা জায়িয নয়। ৩৫ তবে যা ব্যবহারের উপযোগী নয়, তা জনস্বার্থে নষ্ট করে দেয়াই উত্তম। তাছাড়া বিচারক যদি কল্যাণকর মনে করেন, তাহলেও সম্পদ নষ্ট করা জায়িয হবে। বর্ণিত রয়েছে, হযরত 'উমার (রা) ও 'আলী (রা) দুজনেই মদের দোকান জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। ৩৬

টিকাঃ
৩৪. সহীহ মুসলিম, (কিতাবুল লিবাস), হা.নং: ২০৭৭
৩৫. আর-রুহায়বানী, মাতালিব... খ.৬, পৃ.২২৪
৩৬. ইবনুল কাইয়িম, আত-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ, পৃ. ২২৭

📘 ইসলামের শাস্তি আইন 📄 সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা

📄 সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা


তা'যীর হিসেবে অপরাধীর অর্থ-সম্পদ একটি নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত আটক করে রাখা যেতে পারে, যাতে সে পরিণাম বিবেচনা করে সংশোধন হতে পারে। অপরাধী সংশোধন হয়ে গেলে তার সম্পদ তাকে ফেরত দিতে হবে। সরকার তা রাজকোষে যোগ করতে পারবে না। কারণ কারো সম্পদ তার সম্মতি কিংবা আইনসম্মত পথ ছাড়া অন্য কোনভাবে ভোগ করা কারো জন্য বৈধ নয়। তবে অপরাধীর সংশোধন হবার ব্যাপারে বিচারিক বা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ নিরাশ হলে তার আটককৃত মাল জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা যাবে। ৩৭

টিকাঃ
৩৭. ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রা'ইক, খ.৫, পৃ.৪২; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.১২, পৃ. ২৭১-২

ফন্ট সাইজ
15px
17px