📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 উপদেশ বা তিরস্কার কিংবা ধমক দান

📄 উপদেশ বা তিরস্কার কিংবা ধমক দান


তা'যীর হিসেবে বিচারক অপরাধীকে তার দরবারে ডেকে এনে উপদেশ, তিরস্কার ও ধমক দিতে পারেন। যেমন কেউ যদি সাধারণ কোন ব্যক্তিকে এমন কোন নামে ডাকে যা সে অপছন্দ করে, (যেমন কুত্তা, গাধা, শালা, মিথ্যুক, ফাসিক, কাফির, জারজ সন্তান, মুনাফিক প্রভৃতি) তাহলে বিচারক তাকে ডেকে এনে উপদেশ দিতে পারেন কিংবা (অত্যাচারী, অভদ্র, জাহিল বা সামীলঙ্ঘনকারী প্রভৃতি শব্দ বলে) তিরস্কার করতে পারেন বা ধমকও দিতে পারেন। তাকে এজন্য বড় ধরনের অপমানিত করা কিংবা কারাদণ্ড দেয়া সমীচীন নয়। ২৩

টিকাঃ
২৩. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৬৪; আর-রুহায়বানী, মাতালিব..., খ.৬, পৃ.২২৩ বর্ণিত রয়েছে, একদা হযরত আবূ যার (রা) জনৈক ব্যক্তিকে তার মায়ের নাম ধরে গালি দিচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা শুনে তাকে বললেন, "يا أبا ذر ! عيرته بأمه ! إنك امرؤ فيك جاهلية "আবূ যার, তুমি তাকে মায়ের নাম ধরে অপমান করছো! তোমার মধ্যে তো দেখছি, জাহিলিয়‍্যাত (অর্থাৎ অভদ্রতা) রয়েই গেছে!” (সহীহ আল বুখারী, (কিতাবুল ঈমান), হা.নং: ৩০, (কিতাবুল আদাব), হা.নং: ৫৭০৩) এ হাদীস থেকে জানা যায়, অপরাধীকে শাস্তি হিসেবে তিরস্কার করতে কিংবা উপদেশ দিতে কোন অসুবিধা নেই। হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকেও বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরবারে এক মদ্যপায়ীকে হাজির করা হল। এ সময় তাকে বকাঝকা করার জন্য তিনি উপস্থিত লোকজনকে নির্দেশ দিলেন। তখন লোকেরা তাকে বলতে লাগলঃ ما اتقيت الله ! ما خشيت الله ! ما استحييت من رسول الله !"-তোমার কি আল্লাহর ভয় নেই! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি কি তোমার লাজ-শরম নেই!" এ হাদীস থেকে জানা যায়, অপরাধীকে তার কাজের জন্য তিরস্কার ও বকাঝকা করা যাবে। -আবূ দাউদ, (কিতাবুল হুদূদ), হা.নং: ৪৪৭৮

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 অপমান করা

📄 অপমান করা


তা'যীর হিসেবে বিচারক প্রয়োজন মনে করলে অপরাধীকে ছোট-খাট অপমানকর শাস্তিও দিতে পারেন। ২৪ যেমন কেউ যদি কোন পদস্থ ও সম্মানিত ব্যক্তিকে খারাপ নামে ডাকে, তাহলে বিচারক প্রয়োজন মনে করলে তাকে ছোট-খাট অপমানকর শাস্তি দিতে পারেন। যেমন কানধরে উঠাবসা করা, এক পায়ের ওপর অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থাকা প্রভৃতি। এ ধরনের অপরাধের জন্য কারাদণ্ড দেয়া সমীচীন নয়।

টিকাঃ
২৪. আল-বাবরতী, আল-'ইনায়াহ, খ.৫, পৃ.৩৪৪; আল-খারাশী, শারহু মুখতাছারি খলীল, খ.৮, পৃ.১১০

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 বয়কট

📄 বয়কট


বয়কট অর্থ সম্পর্ক ছিন্ন করা অর্থাৎ উঠাবসা না করা, কথাবার্তা বন্ধ করে দেয়া, লেনদেন করা থেকে বিরত থাকা প্রভৃতি। তা'যীর হিসেবে বিচারক অপরাধীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দিতে পারেন। ২৫ যে তিনজন সাহাবী তাবুক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ থেকে বিরত ছিলেন- তাঁদেরকে বয়কট করার জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ নির্দেশের কারণে আল্লাহর কাছে তাঁদের তাওবা কবুল হওয়া পর্যন্ত সাহাবীগণের মধ্যে কেউ তাঁদের সাথে কথা বলতেন না, কেউ তাঁদেরকে সালাম দিতেন না, কেউ তাঁদের সাথে উঠাবসা-মেলামেশা করতেন না। ২৬ হযরত 'উমার (রা) সবীগকে বসরায় নির্বাসন করার পর নির্দেশ দিয়েছিলেন, সবাই যেন তাকে বয়কট করে, কেউ যেন তার সাথে মেলামেশা না করে। ২৭ আমাদের সমাজে যে সব নারী-পুরুষ অবাধে মেলামেশা করে, তা'যীর হিসেবে তাদেরকে সমাজ থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বিচ্ছিন্ন করে রাখা যেতে পারে।

টিকাঃ
২৫. ইবনু ফারহুন, তাবছিরাতুল হুক্কাম, খ.২, পৃ.২৯১
২৬. সহীহ আল বুখারী, (কিতাবুল মাগাযী), হা.নং: ৪১৫৬
২৭. আদ-দারিমী, আস-সুনান, (বাবঃ মান হাবাল ফুতওয়া..), হা.নং: ১৪৮

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 ঢোল-শহরত, প্রচার ও মাইকিং প্রভৃতি

📄 ঢোল-শহরত, প্রচার ও মাইকিং প্রভৃতি


বিচারক সমীচীন মনে করলে তা'যীর হিসেবে মাইকিং, ঢোল-শুহরত, রেডিও, টিভি ও পত্রিকা প্রভৃতির মাধ্যমে অপরাধীর নাম লোকদের মধ্যে প্রচারের ব্যবস্থা করতে পারেন। বর্ণিত রয়েছে, কাযী শুরাইহ (রহ) মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারীর নাম বাজারে ঢোল মেরে প্রচার করতেন, বেত্রাঘাত করতেন না। ২৮ ইমাম আবূ হানীফার (রহ) মতে, মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারীকে বাজারে ঘুরিয়ে তার অপকর্মের কথা প্রচার করা হবে। যদি সে বাজারী লোক হয়। অন্যথায় গ্রামের মধ্যে আসরের নামাযের পরে যেখানে লোকজন জড়ো হয় সেখানে তাকে নিয়ে তার অপকর্মের কথা ঘোষণা করা হবে। তাকে কোন রূপ প্রহার করা বিধেয় নয়। তবে সাহেবাইনের মতে, তাকে বেত্রাঘাত ও বন্দী করতে হবে। ২৯ শাফি'ঈ, হাম্বলী ও কতিপয় মালিকী ইমামের মতে, মিথ্যা সাক্ষ্য দানকারীর ব্যাপারটি বিচারক কিংবা প্রশাসকের কাছে ন্যস্ত হবে। তিনি চাইলে তাকে বেত্রাঘাতও করতে পারেন, বন্দীও করতে পারেন কিংবা মাথা মুণ্ডিয়ে অপমানিতও করতে পারেন বা বাজারে তাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে প্রচারও করা যেতে পারে। ৩০

টিকাঃ
২৮. ইবনু হাজার আল আসকালানী, আদ-দিরায়াহ, খ.২, পৃ. ১৭৩
২৯ আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.১৬, পৃ.১৪৫; ইবনুল হুমام, ফাতহুল কাদীর, খ.৫, পৃ. ৪৭৫-৭
৩০. ইবনু ফারহুন, তাবছিরাতুল হুক্কাম, খ.১, পৃ.১৩০; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়‍্যাহ, খ.২৬, পৃ. ২৫৫-৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00