📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 যখমের প্রকারভেদ

📄 যখমের প্রকারভেদ


১. জা'ইফাহ )جائفة(: যে আঘাত দেহের অভ্যন্তরভাগ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। গলার নিম্নাংশ থেকে উরুসন্ধির মধ্যকার আঘাত জা'ইফার অন্তর্ভুক্ত। যেমন বক্ষদেশ, পেট, পিঠ, পার্শ্বদ্বয় এবং অণ্ডকোষ ও পাছার মধ্যবর্তীস্থান। দু'হাত, দু'পা, গলা ও ঘাড়ের যখম জা'ইফাহ রূপে গণ্য হবে না। ১০৬
২. গায়র জা'ইফাহ )غير جائفة( : যে আঘাত দেহের অভ্যন্তরভাগ পর্যন্ত পৌঁছে না। 'শিজাজ' ও 'জাই'ফাহ' বহির্ভূত দেহের অন্যান্য স্থানের আঘাত সাধারণত 'গায়র জা'ইফাহ'-এর অন্তর্ভুক্ত। দেহের গোশত ফেটে যাওয়া, হাড় অনাবৃত হয়ে পড়া বা ভেঙ্গে যাওয়া ইত্যাদি এ শ্রেণীভুক্ত। ১০৭

টিকাঃ
১০৬. আল-কাসানী, বদাই, খ.৭, পৃ. ২৯৬; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.৩৭০-১
১০৭. তদেব

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 জা‘ইফাহ-এর শাস্তি

📄 জা‘ইফাহ-এর শাস্তি


জা'ইফার ক্ষেত্রে কিসাস কার্যকর করা যাবে না। কেননা হাড়ের মতই এ ধরনের আঘাতেও কিসাস নিতে গেলেই সীমালঙ্ঘনের আশঙ্কা থাকে। তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, لا قود في المأمومة ولا الجائفة و .لا المنقلة - "মা'ম্‌মাহ, জা'ইফাহ ও মুনাক্কিলাহতে কিসাস নেই। " ১০৮
জা'ইফার শাস্তি হল 'আরশ'। এর পরিমাণ হল দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ। তাছাড়া বিচারক সুবিবেচনা অনুযায়ী তা'যীরের আওতায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসা খরচসহ অন্য যে কোন সাধারণ দণ্ড দিতে পারবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, .في الجائفة ثلث الدية - "জা'ইফার দিয়াত হবে পূর্ণ দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ। " ১০৯
প্রতিটি জা'ইফার জন্য পৃথক পৃথকভাবে এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। এমনকি এ জাতীয় একটি আঘাত দেহের অন্য অঙ্গে সংক্রমিত হলে তা দুটি জা'ইফাহ হিসেবে গণ্য হবে এবং দু-তৃতীয়াংশ দিয়াত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। এরূপ আঘাতের ফলে কেউ মারা গেলে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড হবে। ১১০

টিকাঃ
১০৮. ইবনু মাজাহ, (কিতাবুদ দিয়াত), হা.নং: ২৬৩৭
১০৯. ইবনু আবী শায়বাহ, আল-মুছান্নাফ, হা.নং: ২৭০৭৫; 'আবদুর রাযযাক, আল-মুছান্নাফ, হা.নং: ১৭৬১৯
১১০. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.৭৪-৫; আল-কাসানী, বদাই, খ.৭, পৃ.৩১৮-৯; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ. ৩৭০-১; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ.৮৪

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 গায়ের জা‘ইফার প্রকারভেদ

📄 গায়ের জা‘ইফার প্রকারভেদ


১. আদ-দামিয়াহ )الدامية(: যে আঘাতে দেহের চামড়া কেটে রক্ত নির্গত হয়।
২. আল-বাদি'আহ )الباضعة(: যে আঘাতে দেহের গোশত কেটে বা চিরে যায়; কিন্তু হাড় অনাবৃত হয় না।
৩. আল-মুতলাহিমাহ (المتلاحمة) : যে আঘাতে দেহের গোশত ছিন্ন হয়ে যায়।
৪. আল-মুদিহাহ (الموضحة) : যে আঘাতে দেহের গোশত কেটে হাড় অনাবৃত হয়ে যায়।
৫. আল-হাশিমাহ (الهاشمة) : যে আঘাতে দেহের হাড় ভেঙ্গে যায়; কিন্তু স্থানচ্যুত হয় না।
৬. আল-মুনাক্কিলাহ (المنقلة) : যে আঘাতে দেহের হাড় ভেঙ্গে স্থানচ্যুত হয়ে যায়। ১১১

টিকাঃ
১১১. বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন (সংকলন), খ.১, পৃ. ২৭৩

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 গায়ের জা‘ইফাহ-এর শাস্তি

📄 গায়ের জা‘ইফাহ-এর শাস্তি


গায়র জা'ইফার নিধারিত 'আরশ' নেই। তাই এ ক্ষেত্রে বিচারক তাঁর সুবিবেচনা অনুযায়ী দিয়াতের পরিমাণ ধার্য করবে এবং তা'যীরের আওতায় আঘাতের প্রকৃতি অনুযায়ী অপরাধীকে চিকিৎসা খরচ বহনসহ অন্য যে কোন সাধারণ দণ্ড দিতে পারবে। এটা হানাফীগণের অভিমত। তাঁদের মতানুযায়ী মুখমণ্ডল ও মাথা ছাড়া দেহের অন্য জায়গার আঘাতের জন্য কিসাস ওয়াজিব হবে না। শাফি'ঈগণের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী 'মুদিহাহ'র ক্ষেত্রে কিসাস ওয়াজিব হবে। তাঁদের মতানুযায়ী দেহের যে কোন স্থানের আঘাতের জন্য কিসাস প্রযোজ্য হবে, যদি আঘাত হাড় পর্যন্ত পৌঁছে থাকে; কিন্তু তা ভেঙ্গে যায়নি। মালিকীগণের মতে, বিপদের আশঙ্কা না থাকলে দেহের যে কোন আঘাতের জন্য কিসাস প্রযোজ্য হবে, এমনকি 'হাশিমাহ'র ক্ষেত্রেও অর্থাৎ হাড় ভেঙ্গে গেলেও। এ কারণে তাঁদের মতানুযায়ী বক্ষ, ঘাড়, পিঠ ও উরু প্রভৃতি অঙ্গের হাড়গুলোতে বদলা নেয়া যাবে না। অন্যান্য হাড় ভাঙ্গার জন্য কিসাস প্রযোজ্য হবে। ১১২

টিকাঃ
১১২. আল-মাওস্'আতুল ফিকহিয়‍্যাহ, খ.১৬, পৃ. ৮১-২; আদ-দাসুকী, আল-হাশিয়াতু.., খ.২, পৃ. ১১১-২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00