📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 পাছার দিয়াত

📄 পাছার দিয়াত


পাছার গোশত সম্পূর্ণ তুলে নেয়া হলে তার আরশ হল একটির ক্ষেত্রে পূর্ণ দিয়াতের অর্ধেক এবং দুটির ক্ষেত্রে পূর্ণ দিয়াত। তবে গোশত সম্পূর্ণ তুলে না নেয়া হলে এবং ক্ষতির পরিমাণ জানা গেলে ক্ষতির অনুপাতে দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। অন্যথায় বিচারক সুবিবেচনা অনুযায়ী আরশ ধার্য করবেন। এটা অধিকাংশ ইমামের অভিমত। তবে মালিকী মাযহাবের ইবনুল কাসিম (রহ) ও ইবনু ওয়াহাব (রহ) প্রমুখ ইমামগণের মতে- পাছার জন্য নির্ধারিত দিয়াতের বিধান প্রযোজ্য নয়; বরং বিচারক তাঁর সুবিবেচনা অনুযায়ী আরশ ধার্য করবেন। ১০০

টিকাঃ
১০০. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.৩৫৯-৩৬০; ইবনু নুজায়ম, আল-বাহররু রা'ইক, খ.৮, পৃ.৩৫০; আলবাজী, আল-মুস্তকা, খ.৭, পৃ.৮৫; আল-মাওয়াক, আত-তাজ.., খ.৮, পৃ.৩৪২

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 চুলের দিয়াত

📄 চুলের দিয়াত


চুল মানুষের দেহের সৌন্দর্যবর্ধক। তা উৎপাটন করা হলে সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে চুলের উৎপাটনেও দিয়াত ওয়াজিব হবে। মাথার চুল বা দাড়ি উৎপাটন করা হলে এবং তা পুনরায় না গজালে পূর্ণ দিয়াত ওয়াজিব হবে। ভ্রুর চুল উৎপাটন করলে এবং তা পুনরায় না গজালে দু'ভ্রুর ক্ষেত্রে পূর্ণ দিয়াত এবং এক ভ্রুর ক্ষেত্রে অর্ধেক দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। তবে গোঁফ উৎপাটন করলে এবং তা পুনরায় না গজালে বিচারক সুবিবেচনা অনুযায়ী তার দিয়াত ধার্য করবেন। এটা হানাফী ও হাম্বলীগণের অভিমত। মালিকী ও শাফি'ঈগণের মতে- উপর্যুক্ত যে কোন স্থানের চুল উৎপাটনের ক্ষেত্রে বিচারক সুবিবেচনা অনুযায়ী তার দিয়াত ধার্য করবেন। ১০১

টিকাঃ
১০১. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.৭১-২; আল-বাবরতী, আল-ইনায়াহ, খ.১০, পৃ.২৮১-২; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.৩৪৬-৭; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ. ১৩৩; আল-আনসারী, আসনাল মাতালিব, খ.৪, পৃ.৫৩

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 ত্বকের দিয়াত

📄 ত্বকের দিয়াত


কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অপর কারো দেহের ত্বক এমনভাবে উৎপাটন বা কর্তন করল যে, তাতে তার মৃত্যু ঘটেনি এবং আক্রান্ত স্থানে লোমও গজায়নি, এ রূপ অবস্থায় বিচারক সুবিবেচনা অনুযায়ী তার দিয়াত ধার্য করবেন। তাছাড়া বিচারক প্রয়োজন মনে করলে অপরাধীকে তা'যীরের আওতায় অন্য যে কোন শাস্তিও দিতে পারবে। তবে মুখের ত্বক উৎপাটনের ক্ষেত্রে পূর্ণ দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। ১০২

টিকাঃ
১০২. গানিম, মাজমা'উ দিমানাত, পৃ.১৭০; আল-আনসারী, আসনাল মাতালিব, খ.৪, পৃ.৫৮

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 বোধশক্তি বিলোপ করার দিয়াত

📄 বোধশক্তি বিলোপ করার দিয়াত


বোধশক্তি বা চেতনা শক্তিই মানুষের আসল সম্পদ। যে ব্যক্তিকে বোধশক্তিহীন করা হয়েছে সে মূলত মৃতব্যক্তির মতই। তার কোন কিছু করার যোগ্যতা অবশিষ্ট থাকে না। তাই আঘাতের কারণে কিংবা অন্য যে কোন উপায়ে কোন ব্যক্তির বোধ শক্তি পুরো নষ্ট হয়ে গেলে অপরাধীর ওপর পূর্ণ দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, و في - العقل الدية "বোধ শক্তি বিলোপের জন্য পূর্ণ দিয়াত।" ১০০ তবে বোধ শক্তি পুরো নষ্ট না হলে ক্ষতির পরিমাণ অনুপাতে দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। যদি ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা দুরূহ হয়, তা হলে বিচারক তাঁর সুবিবেচনা অনুযায়ী আরশ ধার্য করবেন। ১০৪

টিকাঃ
১০৩. আল বায়হাকী, আস-সুনান আল-কুবরা, হা.নং: ১৬০০৪
১০৪. ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.১০, পৃ.২৮০-১; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.৩৬৩-৪; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ.৮৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00