📄 কানের দিয়াত
কানের সমূলে উৎপাটন বা কর্তনের ক্ষেত্রে কোন কারণে কিসাস কার্যকর করা সম্ভব না হলে তার আরশ হবে এক কানের বেলায় পূর্ণ দিয়াতের অর্ধেক (অর্থাৎ পঞ্চাশটি উট বা তার সমতুল্য মূল্য) এবং দু'কানের বেলায় পূর্ণ দিয়াত (অর্থাৎ একশতটি উট অথবা তার সমপরিমাণ মূল্য)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, وفي الأذن خمسون من الإبل - "এক কানের দিয়াত পঞ্চাশটি উট।" ৭৫
কারো একটি কান আগে থেকেই অকেজো এবং অপর একটি কান ভাল ছিল, এ অবস্থায় সুস্থ কানটির ক্ষতিসাধন করলে পূর্ণ দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। কান বিদ্যমান রেখে তার কার্যক্ষমতা পুরো নষ্ট করে দেয়া হলেও উপর্যুক্ত নিয়মে দিয়াত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। কানের কার্যক্ষমতা আংশিক নষ্ট হয়ে গেলে ক্ষতির অনুপাতে দিয়াত নির্ধারণ করা হবে। যদি ক্ষতির অনুপাত নির্ধারণ করা দুরূহ হয়, তাহলে বিচারক তাঁর সুবিবেচনা অনুযায়ী দিয়াত নির্ধারণ করবেন। মালিকীগণের মতে- কান উৎপাটন বা কর্তনের কারণে কেবল শ্রবণশক্তি নষ্ট হলেই নির্দিষ্ট পরিমাণ দিয়াত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে এবং শ্রবণশক্তি নষ্ট না হলে বিচারক তাঁর সুবিবেচনা অনুযায়ী দিয়াত নির্ধারণ করবেন। ৭৬
টিকাঃ
৭৫. ইবনু হাজার আল আসকালানী, তালখীছ.., হা.নং: ১৭০৮; 'উমর আল-আনসারী, খুলাসাতুল বাদরিল মুনীর, হা.নং: ২২৫৭
৭৬. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ. ৩৪৪-৬; আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.৭০; আল-মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, পৃ. ৮২, ৮৭, ৯০-১; মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ.৫৬৩; আল-বাজী, আল-মুস্তকা, খ.৭, পৃ.৮৫
📄 ওষ্ঠের দিয়াত
ওষ্ঠ কর্তনের বেলায় কোন কারণে কিসাস কার্যকর করা সম্ভব না হলে তার আরশ হবে এক ওষ্ঠের বেলায় পূর্ণ দিয়াতের অর্ধেক এবং দু ওষ্ঠের বেলায় পূর্ণ দিয়াত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, وفي الشفتين الدية - "দু ওষ্ঠের জন্য পূর্ণ দিয়াত।” ৭৭ ওষ্ঠ-উপরের হোক বা নিম্নের, ছোট হোক বা বড়- দুটিই সমান। তবে সা'ঈদ ইবনুল মুসায়্যাব (রহ) ও যুহরী (রহ) প্রমুখের মতে- উপরের ওষ্ঠের চাইতে নিচের ওষ্ঠের উপকারিতা ও কার্যকারিতা যেহেতু বেশি, তাই উপরের ওষ্ঠের জন্য এক-তৃতীয়াংশ এবং নিচের ওষ্ঠের জন্য দু-তৃতীয়াংশ দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। ৭৮
টিকাঃ
৭৭. আল-হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, (কিতাবুষ যাকাত), হা.নং: ১৪৪৭; ইবনু হিব্বান, আস-সহীহ, হা.নং: ৬৫৫৯; বায়হাকী, আস-সুনান আল- কুবরা, হা.নং: ১৬০৪৫
৭৮. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.৩৪৯; আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.৬৮-৯; ইবনুল হুমام, ফাতহুল কাদীর, খ.১০, পৃ. ২৭৯-২৮১
📄 দাঁতের দিয়াত
দাঁত উৎপাটন বা ভাঙ্গার ক্ষেত্রে কিসাস কার্যকর করা সম্ভব না হলে তার আরশ হবে প্রতিটি দাঁতের জন্য পূর্ণ দিয়াতের বিশ ভাগের একভাগ (অর্থাৎ পাঁচটি উট বা সমতুল্য মূল্য)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, و في السن خمس من الإبل - “প্রতিটি দাঁতের দিয়াত পাঁচটি উট।” ৭৯ কারো ৩২টি দাঁতই উৎপাটন করা হলে তার আরশ হবে ১.৬ দিয়াত (অর্থাৎ একটি পূর্ণ দিয়াত এবং অতিরিক্ত পাঁচভাগের তিনভাগ)। দাঁত বিদ্যমান রেখে তার কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়া হলেও উপর্যুক্ত নিয়মে দিয়াত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। কারো ৩২-এর অধিক দাঁত থাকলে ঐ অতিরিক্ত দাঁতের জন্য বিচারক তাঁর সুবিবেচনা অনুযায়ী দিয়াত ধার্য করবেন। ৮০
টিকাঃ
৭৯. মালিক, আল-মু'আত্তা, (কিতাবুল 'উকূল), হা.নং ১৫৫৫; বায়হাকী, আস-সুনান আল-কুবরা, হা.নং: ১৫৯৭০
৮০. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.৩৫৩-৪; আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.৭১-২; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ.১৩৫-৬
📄 জিহ্বার দিয়াত
যদি কোন কারণে জিহ্বায় কিসাস কার্যকর করা সম্ভব না হয়, তা হলে তার আরশ হবে পূর্ণ দিয়াত অর্থাৎ একশতটি উট অথবা তার সমপরিমাণ মূল্য। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, و في اللسان الدية - “জিহ্বাতেও পূর্ণ দিয়াত।” ৮১ জিহ্বা আংশিক কর্তন করলে এবং এর ফলে জিহ্বার কার্যক্ষমতা (অর্থাৎ স্বাদ আস্বাদন শক্তি বা কথা বলার শক্তি) পুরো নষ্ট হয়ে গেলেও পূর্ণ দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। তবে জিহ্বার অংশবিশেষ কর্তন করার ফলে জিহ্বার কার্যক্ষমতার আংশিক নষ্ট হয়ে গেলে কিংবা জিহ্বা বিদ্যমান রেখে তার কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়া হলে ক্ষতির পরিমাণ অনুপাতে দিয়াত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। যদি ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা দুরূহ হয়, তা হলে বিচারক তাঁর সুবিবেচনা অনুযায়ী দিয়াতের পরিমাণ ধার্য করবেন। ৮২ উল্লেখ যে, জিহ্বা কর্তনের ফলে স্বাদ আস্বাদন শক্তি ও বাকশক্তি- দুটিই নষ্ট হয়ে গেলে প্রত্যেকটির জন্য পৃথক পৃথক পূর্ণ দিয়াত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। ৮৩
টিকাঃ
৮১. আল-হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, (কিতাবুয যাকাত), হা.নং: ১৪৪৭; ইবনু হিব্বান, আস-সহীহ, হা.নং: ৬৫৫৯; বায়হাকী, আস-সুনান আল-কুবরা, হা.নং: ১৫৯৭০
৮২. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.৩৪৯-৫২; আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.৭১-২; ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৬, পৃ.৫৭৯
৮৩. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.৬৯; ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৬, পৃ.৫৭৬; ইবনু নুজায়ম, আল-বাহররু রা'ইক, খ.৮, পৃ.৩৭৭