📄 হাত-পায়ের আঙ্গুলের দিয়াত
হাত-পায়ের আঙ্গুল কর্তন কিংবা ভাঙ্গার ক্ষেত্রে কোন কারণে কিসাস কার্যকর করা সম্ভব না হলে তার আরশ হবে প্রতিটি আঙ্গুলের জন্য পূর্ণ দিয়াতের এক দশমাংশ (অর্থাৎ দশটি উট বা সমতুল্য মূল্য)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,.و في كل اصبع من أصابع اليد والرجل عشر من الإبل - "হাত ও পায়ের প্রতিটি আঙ্গুলের দিয়াত দশটি উট।" ৬৮
আঙ্গুল বিদ্যমান রেখে তার কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়া হলেও উপর্যুক্ত নিয়মে দ্বিয়াত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে।
হাত-বা পায়ের অতিরিক্ত আঙ্গুলের জন্য বিচারক তাঁর সুবিবেচনা অনুযায়ী দিয়াত ধার্য করবেন।
আঙ্গুলের প্রতিটি গিরার জন্য সংশ্লিষ্ট আঙ্গুলের দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ প্রদান বাধ্যতামূলক হবে; কিন্তু বৃদ্ধাঙ্গুলির প্রতিটি গিরার জন্য উক্ত আঙ্গুলের দিয়াতের অর্ধেক প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। ৬৯
টিকাঃ
৬৮. আল-হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, (কিতাবুয যাকাত), হা.নং: ১৪৪৭; ইবনু হিব্বان, আস-সহীহ, হা.নং: ৬৫৫৯; বায়হাকী, আস-সুনান আল- কুবরা, হা.নং: ১৫৯৭০
৬৯. আল-কাসানী, বড়াই, ৭.৭, পৃ.৩১৪; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ. ৩৬২২২
📄 চোখের দিয়াত
চোখ- ছোট হোক বা বড়, সুস্থ হোক বা অসুস্থ, সোজা হোক বা টেরা- উৎপাটনের ক্ষেত্রে কোন কারণে কিসাস কার্যকর করা সম্ভব না হলে তার আরশ হবে এক চোখের বেলায় পূর্ণ দিয়াতের অর্ধেক (অর্থাৎ পঞ্চাশটি উট বা তার সমতুল্য মূল্য) এবং দু'চোখের বেলায় পূর্ণ দিয়াত (অর্থাৎ একশতটি উট' অথবা তার সমপরিমাণ মূল্য)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন; و في العينين الدية " و فـ "দু'চোখের জন্য পূর্ণ দিয়াত। আর এক চোখের জন্য পঞ্চাশটি উট।" ৭০ و في العين خمسون. -
কানা কিংবা অকেজো চোখ উৎপাটনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দিয়াত প্রযোজ্য হবে না। এক্ষেত্রে বিচারক তাঁর সুবিবেচনা দিয়াত ধার্য করবেন। তবে কারো একটি চোখ আগে থেকেই অকেজো এবং অপর একটি চোখ ভাল ছিল, এ অবস্থায় সুস্থ চোখটির ক্ষতিসাধন করলে পূর্ণ দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। এটা অধিকাংশ ইমামের অভিমত। তবে হানাফীগণের মতে- এ ক্ষেত্রেও একটি চোখের জন্য অর্ধেক দিয়াতই প্রযোজ্য হবে।
চোখ বিদ্যমান রেখে তার কার্যক্ষমতা পুরো নষ্ট করে দেয়া হলেও উপর্যুক্ত নিয়মে দিয়াত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। চোখের কার্যক্ষমতা আংশিক নষ্ট হয়ে গেলে ক্ষতির অনুপাতে দিয়াত নির্ধারণ করা হবে। যদি ক্ষতির অনুপাত নির্ধারণ করা দুরূহ হয়, তাহলে বিচারক তাঁর সুবিবেচনা অনুযায়ী দিয়াত নির্ধারণ করবেন।
চোখের প্রান্তদেশ সম্পূর্ণরূপে কর্তন বা উৎপাটন করা হলে এবং তা পুনরায় গজিয়ে উঠার সম্ভাবনা না থাকলে তার আরশ হবে প্রতিটি প্রান্তদেশের জন্য পূর্ণ দিয়াতের এক-চতুর্থাংশ (অর্থাৎ পচিশটি উট বা তার সমতুল্য মূল্য) এবং চারটির জন্য পূর্ণ দিয়াত। এটা অধিকাংশ ইমামের অভিমত। তবে মালিকীগণের মতে- এক্ষেত্রে বিচারক তাঁর সুবিবেচনা অনুযায়ী দিয়াত ধার্য করবেন।
অক্ষিপক্ষ্ম বা চোখের পাতার লোম উৎপাটন করা হলে এবং তা পুনরায় না গজালে তার আরশ হবে প্রতিটি অক্ষিপক্ষের জন্য পূর্ণ দিয়াতের এক-চতুর্থাংশ (অর্থাৎ পাঁচশটি উট বা তার সমতুল্য মূল্য)। এটা হানাফী ও হাম্বলী ইমামগণের অভিমত। তবে শাফি'ঈ ও মালিকীগণের মতে- এক্ষেত্রে বিচারক তাঁর সুবিবেচনা অনুযায়ী দিয়াত ধার্য করবেন।
চোখের প্রান্তদেশ ও অক্ষিপক্ষ্মসহ চোখের পাতা উৎপাটন বা কর্তন করা হলে সবগুলোর জন্য একটি অঙ্গের দিয়াতই ওয়াজিব হবে। কেননা নাকের হাড় ও নরম অংশ মিলেই যেমন একটি অঙ্গ ধরা হয়, তেমনি চোখের প্রান্তদেশ ও পাতা মিলেও একটি অঙ্গই ধরা হবে। ৭১
টিকাঃ
১০. আল-হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, (কিতাবুষ যাকাত), হা.নং ১৪৪৭; ইবনু আবী শায়বাহ, আল-মুহান্নাফ, হা.নং: ২৬৮৬১, ২৬৮৬৩
৭১. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.৭০-১; আল-কাসানী, বদাই, খ.৭, পৃ.৩১৪, ৩২৩; যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৬, পৃ.১৩১-২; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ. ৩৪১-৪; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ.১৩২-৩; খ.৭, পৃ. ৩৩২
📄 নাকের দিয়াত
পূর্ণ নাক কিংবা নাকের নরম অংশ কর্তনের কিসাস কোন কারণে কার্যকর করা সম্ভব না হলে তার আরশ হবে পূর্ণ দিয়াত (অর্থাৎ একশতটি উট অথবা তার সমপরিমাণ মূল্য)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "فى الأنف إذا أوعب جدعه الدية مائة من الإبل" ﻭ দিয়াত অর্থাৎ একশতটি উট। ৭২
নাকের নরম অংশের আংশিক কর্তন করলে বা নাসারন্ধ্র কর্তন করলেও দিয়াত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। শাফি'ঈ ও হাম্বলীগণের মতে- নাকের নরম অংশের দুপার্শ্বে অবস্থিত দু'নাসারন্ধ্রের যে কোন একটি এবং মধ্যবর্তী অন্তরাল কর্তন করলে প্রত্যেকটির জন্য এক-তৃতীয়াংশ দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। ৭৩
অনুরূপভাবে নাক বিদ্যমান রেখে তার কার্যক্ষমতা অর্থাৎ ঘ্রাণশক্তি সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও পূর্ণ দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। নাকের কার্যক্ষমতা আংশিক নষ্ট হয়ে গেলে ক্ষতির অনুপাতে দিয়াত নির্ধারণ করা হবে। যদি ক্ষতির অনুপাত নির্ধারণ করা দুরূহ হয়, তাহলে বিচারক তাঁর সুবিবেচনা অনুযায়ী দিয়াত নির্ধারণ করবেন। ৭৪
টিকাঃ
৭২. আল বায়হাকী, আস-সুনান আল- কুবরা, হা.নং: ১৫৯৭০, ১৫৯৯৫; আল-হাকিম, আল- মুস্তাদরাক, (কিতাবুষ যাকাত), হা.নং: ১৪৪৭; ইবনু হিব্বান, আস-সহীহ, হা.নং: ৬৫৫৯
৭৩. তাদের কারো কারো মতে- প্রতিটি নাসারন্ধ্রের জন্য দিয়াত ওয়াজিব হবে। তবে মধ্যবর্তী অন্ত রালের জন্য বিচারকের সুবিবেচনা প্রসূত রায়ই কার্যকর হবে। (আল-মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, পৃ.৮৪)
৭৪. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.৬৮; আল-কাসানী, বদাই, খ.৭, পৃ. ৩২৩-৪; যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৬, পৃ.১২৯-১৩০; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ. ৩৪৭-৯; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ.১২৭-২৮; ইবনু মুফলিহ, আল-ফুরূ', খ.৬, পৃ.২৫
📄 কানের দিয়াত
কানের সমূলে উৎপাটন বা কর্তনের ক্ষেত্রে কোন কারণে কিসাস কার্যকর করা সম্ভব না হলে তার আরশ হবে এক কানের বেলায় পূর্ণ দিয়াতের অর্ধেক (অর্থাৎ পঞ্চাশটি উট বা তার সমতুল্য মূল্য) এবং দু'কানের বেলায় পূর্ণ দিয়াত (অর্থাৎ একশতটি উট অথবা তার সমপরিমাণ মূল্য)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, وفي الأذن خمسون من الإبل - "এক কানের দিয়াত পঞ্চাশটি উট।" ৭৫
কারো একটি কান আগে থেকেই অকেজো এবং অপর একটি কান ভাল ছিল, এ অবস্থায় সুস্থ কানটির ক্ষতিসাধন করলে পূর্ণ দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। কান বিদ্যমান রেখে তার কার্যক্ষমতা পুরো নষ্ট করে দেয়া হলেও উপর্যুক্ত নিয়মে দিয়াত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। কানের কার্যক্ষমতা আংশিক নষ্ট হয়ে গেলে ক্ষতির অনুপাতে দিয়াত নির্ধারণ করা হবে। যদি ক্ষতির অনুপাত নির্ধারণ করা দুরূহ হয়, তাহলে বিচারক তাঁর সুবিবেচনা অনুযায়ী দিয়াত নির্ধারণ করবেন। মালিকীগণের মতে- কান উৎপাটন বা কর্তনের কারণে কেবল শ্রবণশক্তি নষ্ট হলেই নির্দিষ্ট পরিমাণ দিয়াত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে এবং শ্রবণশক্তি নষ্ট না হলে বিচারক তাঁর সুবিবেচনা অনুযায়ী দিয়াত নির্ধারণ করবেন। ৭৬
টিকাঃ
৭৫. ইবনু হাজার আল আসকালানী, তালখীছ.., হা.নং: ১৭০৮; 'উমর আল-আনসারী, খুলাসাতুল বাদরিল মুনীর, হা.নং: ২২৫৭
৭৬. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ. ৩৪৪-৬; আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.৭০; আল-মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, পৃ. ৮২, ৮৭, ৯০-১; মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ.৫৬৩; আল-বাজী, আল-মুস্তকা, খ.৭, পৃ.৮৫